সিলেটে নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার। বিশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
শনিবার সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১২ কেজির সিলিন্ডার ভোক্তা পর্যায়ে ১৯০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ৩৫ কেজি সিলিন্ডার ভোক্তা পর্যায়ে ৫৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানি থেকেই বেশি দামে ক্রয় করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে এলপিজির দাম বেড়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় যোগান কমেছে। এতে করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার দিতে পারছেন না তারা। সরকারি দামের চেয়ে বেশি দরে যেখানে কোম্পানি থেকে কিনতে হয়, সেক্ষেত্রে ভোক্তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয় তাদের। তাই সরকারের সাথে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে একটি সমঝোতার দাবি ব্যবসায়ীদের।
আর ক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে দাম বাড়ায় বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় প্রভাব পড়বে।
নগরের মিরাবাজারের কর্ণফুলী গ্যাস হাউজের প্রোপ্রাইটর মো. মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, চাহিদার তুলনায় সাপ্লাই খুবই কম। এই কারণে দাম বেশি। কোম্পানির দাম আর সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে গরমিল রয়েছে। তাই ভোক্তাদের সাথে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা হয়। চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানি সাপ্লাইও দিতে পারছে না। কোম্পানির সাথে সরকার যদি বসে সমঝোতা করে, তাহলে সরকারি দামে বিক্রি করা যাবে।
নগরের হোটেল ব্যবসায়ী রুমন আহমদ বলেন, এলপিজির দাম বাড়ার কারণে হোটেলে খাবারের দাম বাড়াতে হবে। আগের গ্যাস থাকায় বাড়তি দামে এখনো না কিনলেও শিগগিরই কিনতে হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী মহসিন রনি বলেন, সরকারি দামের চেয়ে ভোক্তা পর্যায়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তদারকি অনেক বেশি প্রয়োজন। গ্যাসের দাম বাড়ার দুঃখে আমি নিজে বাসা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছি। লাইনের গ্যাসের বাসায় শিফট হব আগামী মাসে৷ কারণ স্বল্প আয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনা প্রায় অসম্ভব।
দক্ষিণ সুরমা এলাকার যুবক রশিদ মিয়া বলেন, সর্বশেষ ১৬৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছি। হঠাৎ দাম বেড়ে ১৯০০ টাকা হয়ে গেছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন হিসেবে পরিবারে অনেক প্রভাব পড়বে। তাই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অল্প লাভে গ্যাস বিক্রি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমার এলাকায় লাইনের গ্যাস নেই, অনেক কষ্ট করে সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হয়।
প্রসঙ্গত, ১ এপ্রিল ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি।


