Thursday, April 9, 2026
Home Blog

নানা অনিয়মে সিলেটের দুই হাসপাতালকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

নানা অনিয়মের অভিযোগে সিলেটের দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ অভিযানে নগরের লামাবাজার এলাকার আয়েশা মেডিকেয়ার ও মিরের ময়দান এলাকার শাহজালাল মেডিকেলকে এ জরিমানা করা হয়।

এরমধ্যে আয়েশা মেডিকেয়ারকে ৮০ হাজার টাকা ও শাহজালাল মেডিকেলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার কারণ সম্পর্কে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসাইন সজিব সিলেটটুডেকে বলেন, আয়েশা মেডিকেয়ারের লাইসেন্স নেই। এছাড়া তাদের ওপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসা সামগ্রী পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, ওই হাসপাতালে ২০১৯ সালের পর থেকে আর কোনো লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।

শাহজালাল মেডিকেয়ারে জরিমানা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা হয়েছে। তবে এ হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নার্সের কাজ করানো হচ্ছে, যা বেআইনী। এছাড়া এখানে অপারেশনের পূর্ব এনেসথেসিয়া যথাযথভাবে দেয়া হচ্ছে না।

এমন নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এ দুটি হাসপাতালকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসাইন সজিব।

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহতরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের মো. হীরামন, তার ছেলে নাজমুল রোবেল এবং নাজমলের বন্ধু ফাহিম আলিম। আহত হয়েছেন হীরামনের বড় মেয়ে রত্না ও নাতনী ইকরা। দুর্ঘটনা সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আলবানি এলাকার রুট ৯-এইচ সড়কের ভ্যান ওয়াইক লেনে ঘটে।

প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ও আহতরা প্রাইভেট কারে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন নাজমুল রোবেল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউন গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। আহতদের বর্তমানে আলবানি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জোহরের নামাজের পর বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে এবং পরে নিউ জার্সির মার্লবুরো মুসলিম সিমেটেরিতে দাফন করা হবে। এই দুর্ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিলেটে কুশিয়ারার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ৫০০ বছরের পুরনো মাজার

সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার সংলগ্ন মসজিদটি কুশিয়ার নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে আজ হুমকির মুখে। ইতিমধ্যেই মাজার ও মসজিদের সীমানা প্রাচীরের বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। মাজারে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিও বিলীন হয়ে গেছে। শিগগিরই নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঐতিহ্যবাহী এই মাজারটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুধু এই মাজার ও মসজিদই নই আশপাশের নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

জানা যায়, উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের পনাইচক গ্রামে অবস্থিত শাহ সৈয়দ শদাই (রহ.) মাজার ও মাজার সংলগ্ন মসজিদটি দীর্ঘদিন থেকেই কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে ছিল। সম্প্রতি কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মাজারের সীমানা প্রাচীরের বড় একটি অংশ ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও দেখা দিয়েছে বড় ধরনে ভাঙ্গন।

মাজারের খাদিম শামসুল ইসলাম গেদাই জানান, মাজার ও মসজিদ ভাঙ্গনের বিষয়ে অনেকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এই স্থানটি পরিদর্শন করেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প পাস হলেও ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কিছুই রক্ষা করা যাবে না।

কুশিয়ারা এলাকার সন্তান জেড রহমান জুনু বলেন, এই মাজার শুধু আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির স্থান নয়, এটি আমাদের এলাকার বহু পুরনো ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। কিন্তু এখন আমরা অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছি—মনে হচ্ছে চোখের সামনে ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে।”

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প গ্রহণ করেছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শাহ সৈয়দ শদাই (রা.)-এর মাজার আমাদের অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় কাজের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। খুব দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় যেসব পরিবারের বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষের জীবন রক্ষা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা কাজ করছি।”

সিলেটে প্রাইভেটকারে করে ছাগল ‘চুরি’, অতঃপর যা হলো

সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে চুরির ছাগল সন্দেহে ৩টি ছাগলসহ একটি প্রাইভেটকার আটক করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে তাজপুর ডিগ্রি কলেজের সামনে ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করা হয়। তবে জনতা গাড়িটি ঘেরাও করার আগেই চালকসহ গাড়িতে থাকা ৩ জন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ১৯ মাইল বাজার এলাকায় গোয়ালাবাজার লাইটেস স্ট্যান্ডের একটি গাড়িকে উল্টো পথে (রং সাইড) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওভারটেক করে চলে যায় সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি। গাড়িটির বেপরোয়া গতি দেখে সন্দেহ হলে লাইটেস চালক তাৎক্ষণিকভাবে গোয়ালাবাজার স্ট্যান্ডে কল করে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাজপুর ডিগ্রি কলেজের সামনে ওত পেতে থাকেন। গাড়িটি সেখানে পৌঁছালে সেটিকে গতিরোধ করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে গাড়িতে থাকা চালক ও অন্য দুই ব্যক্তি দ্রুত গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা গাড়ির ভেতর তিনটি ছাগল দেখতে পান। তবে আটককৃত ছাগলগুলোর প্রকৃত মালিকের কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আটককৃত গাড়ি ও ছাগলগুলো ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এবিষয়ে গোয়ালাবাজার লাইটেস স্টান্ডের সভাপতি কাইয়ুম গজনভী বলেন, আমার স্টান্ডের একটি গাড়িকে ওই গাড়িটি রোডে ধাওয়া করে। পরে আমার ড্রাইভার কল দিয়ে জানালে আমরা আটক করতে গিয়ে দেখি গাড়িতে তিনটি ছাগল আর চালক ও আরোহীরা পালিয়ে যায়।

ওসমানীনগর থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ছাগল গুলো চুরির। প্রকৃত মালিক পেলে ছাগলগুলো হস্তান্তর করা হবে।

সিলেটে হাম আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক

সিলেটে হাম আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দু’দিন আগে হাম ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে শিশুটিকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলার পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন রোগী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০১ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ল্যাব পরীক্ষায় বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন রোগীর হাম সনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া ওসমানী হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোরেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। সোমবার থেকে ১০ শয্যার এই ইউনিট চালু করা হয় বলে জানান ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।

সিলেটে দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, অকটেন ২৫ শতাংশ উৎপাদন হয়

দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে। আর অকটেন হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারিতে গ্যাসের সাথে পাওয়া কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি উৎপাদন হয়।

জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের সাথে কনডেনসেট (উপজাত) পাওয়া যায় তা থেকেই উৎপাদন হয় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন ও কিছু এলপিজি।

বাংলাদেশের মূল চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, ২০/২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন হয়।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি ফ্যাকচুনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এগুলোর প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার বারেল উপজাত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের মতো কনডেনসেট বরাদ্ধ পাচ্ছে। এ কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন ও কিছু ডিজেল উৎপাদন হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু
বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

“দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। ”

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন
বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

“প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।”

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

“রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।”

“আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।”‘

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মধ্যরাতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে আগুন লেগেছে। রোববার রাত ১১ টার পরে সার্ভার রুমের দুতলায় হঠাৎ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিক আহমদ রাত সাড়ে ১২ টায় সিলেটটুডেকে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনো ধোঁয়া রয়েছে।
মধ্যরাতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে এতে ফ্লাইটে কোন ব্যাঘাত হয়নি।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুবউদ্দিন জানান, তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা না গেলেও প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিয়ানীবাজারে ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ

স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা। এতে গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে আঘাত করা ১৫ মিনিটের ঝড়ের ধাক্কা দুই দিনেও সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি।

শনিবার দুপুরের পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও অধিকাংশ এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয় নেমে আসে। একই সঙ্গে গতকাল রোববার বিদ্যুৎ সমস্যা থাকায় পৌর শহরের ব্যাংক, বীমা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার পর ঝড় শুরু হয়। এরপর রাত ২টার দিকে ঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উপজেলার মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর ও বিয়ানীবাজার এবং বিয়ানীবাজার-সারপার আঞ্চলিক সড়কের শতাধিক এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরদিন ভোর ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের একাধিক টিম দিনভর কাজ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস-১ সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে চারটি পুল (খুঁটি) ভেঙেছে এবং ১৯টি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্রিড স্টেশন ও চারখাই গ্রিড স্টেশনের ৩২ হাজার কেভি সঞ্চালন লাইন এবং পুরো উপজেলার ৩৩ কেভি ও এক হাজার ১০০ কেভি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ১২টি টিম গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচটি সাব-স্টেশনের ১৯ ফিডারের মধ্যে ১২টি চালু করতে পেরেছে। অবশিষ্ট সাতটি ফিডার রাত ১২টার মধ্যে চালু করতে কাজ করছেন বিদ্যুৎ শ্রমিকরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়ন। চলাচলের সব সড়কে গাছ ও বাঁশঝাড় উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো উপজেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সব ধরনের প্রশাসিনক ও বাণিজ্যিক কাজে দায়িত্বশীলরা বিড়ম্বনায় পড়েন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। কোথায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি।

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের একটি ঝড়ে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য সবাই যেন আদিম যুগে ফিরে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ ও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এক ধরনের ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে এখনও। জেনারেটর দিয়ে কিছু ব্যাংকে সকালে লেনদেন চালু রাখলেও জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় সে ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। অপর ব্যবসায়ী ফারুক উদ্দিন বলেন, শহরের ২৮টি ব্যাংকের মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ব্যাংকের ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকায় তাদের লেনদেন স্বাভাবিক ছিল।

পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস-১ এর সহব্যবস্থাপক (এজিএম) এ এফ এম মাহমুদুল হাসান বলেন, চারটি পুল ভেঙে গেছে, পাঁচটি সাব-স্টেশনের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন এবং গ্রিড স্টেশনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাভাবিক করতে সময় লাগছে। শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সোমবার (আজ) দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়ন। আশপাশের এলাকায় ঝড়ের বেশ প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকার সড়কে গাছপালা উপড়ে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সিলেটের শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় দেশের সারকারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জ্বালানির রেশনিং বা নিয়ন্ত্রিত বন্টন পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য ফেঞ্চুগঞ্জের শাহাজালাল সার কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জরুরি সভায় দেশের বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী আগামী ৩ মাস (এপ্রিল-জুন) রেশনিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ৩ এপ্রিল ফেঞ্চুগঞ্জের শাহাজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড একমাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জরুরি সভায় গৃহীত সিন্ধান্তের আলোকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ ও অনিশ্চিয়তা বিবেচনায় দেশের সার উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে মে ও জুন মাসে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড এ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জি এম এডমিন সাজ্জাদুর রহমান জানান, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে শাহজালাল সারকারখানার উৎপাদন গত ৩ এপ্রিল দুপুরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সিলেটে দিনদুপুরে আবারও ছিনতাই: ছেলের গলায় ছুরি ধরে শিক্ষকের টাকা লুট

সিলেটে দিন দুপুর ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। তার সাথে থাকা তিন বছরবয়সী ছেলের গলায় চাকু ধরে পকেট থেকে নগদ বিশ হাজার টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে ছিনতাইকারী।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরের আম্বরখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বেলা ৩ টার কিছু পর আম্বরখানা থেকে থেকে শাহী ঈদগাহ যাওয়ার জন্য তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন বালাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা সাহিত্যের প্রভাষক ওহি আলম রেজা।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটিতে আগেই চালকের সঙ্গে একজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর আরও একজন যাত্রী সেখানে ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে ওই যাত্রী তার সন্তানের দিকে চাকু ধরে তাকে চুপ থাকতে নির্দেশ দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর পকেট হাতড়ে ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

ওহী আলম রেজা আরও অভিযোগ করেন, নির্ধারিত গন্তব্য শাহী ঈদগাহে নামিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অটোরিকশা চালক আরও কিছু দূর গিয়ে হঠাৎ থেমে তাদের নামিয়ে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

ঘটনার পর ওহি আলম রেজা বিষয়টি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।