Wednesday, April 8, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

বিয়ানীবাজারে ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ

স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা। এতে গোটা উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে আঘাত করা ১৫ মিনিটের ঝড়ের ধাক্কা দুই দিনেও সামলে ওঠা সম্ভব হয়নি।

শনিবার দুপুরের পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও অধিকাংশ এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয় নেমে আসে। একই সঙ্গে গতকাল রোববার বিদ্যুৎ সমস্যা থাকায় পৌর শহরের ব্যাংক, বীমা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন।

উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার পর ঝড় শুরু হয়। এরপর রাত ২টার দিকে ঝড়টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উপজেলার মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর ও বিয়ানীবাজার এবং বিয়ানীবাজার-সারপার আঞ্চলিক সড়কের শতাধিক এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পরদিন ভোর ৬টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের একাধিক টিম দিনভর কাজ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস-১ সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে চারটি পুল (খুঁটি) ভেঙেছে এবং ১৯টি ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্রিড স্টেশন ও চারখাই গ্রিড স্টেশনের ৩২ হাজার কেভি সঞ্চালন লাইন এবং পুরো উপজেলার ৩৩ কেভি ও এক হাজার ১০০ কেভি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ১২টি টিম গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচটি সাব-স্টেশনের ১৯ ফিডারের মধ্যে ১২টি চালু করতে পেরেছে। অবশিষ্ট সাতটি ফিডার রাত ১২টার মধ্যে চালু করতে কাজ করছেন বিদ্যুৎ শ্রমিকরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়ন। চলাচলের সব সড়কে গাছ ও বাঁশঝাড় উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো উপজেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সব ধরনের প্রশাসিনক ও বাণিজ্যিক কাজে দায়িত্বশীলরা বিড়ম্বনায় পড়েন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। কোথায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি।

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের একটি ঝড়ে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য সবাই যেন আদিম যুগে ফিরে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ ও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এক ধরনের ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে এখনও। জেনারেটর দিয়ে কিছু ব্যাংকে সকালে লেনদেন চালু রাখলেও জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় সে ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। অপর ব্যবসায়ী ফারুক উদ্দিন বলেন, শহরের ২৮টি ব্যাংকের মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ব্যাংকের ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকায় তাদের লেনদেন স্বাভাবিক ছিল।

পল্লী বিদ্যুৎ বিয়ানীবাজার জোনাল অফিস-১ এর সহব্যবস্থাপক (এজিএম) এ এফ এম মাহমুদুল হাসান বলেন, চারটি পুল ভেঙে গেছে, পাঁচটি সাব-স্টেশনের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন এবং গ্রিড স্টেশনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাভাবিক করতে সময় লাগছে। শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সোমবার (আজ) দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার মাথিউরা ও মুড়িয়া ইউনিয়ন। আশপাশের এলাকায় ঝড়ের বেশ প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকার সড়কে গাছপালা উপড়ে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Popular Articles