Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 14

সিলেটে ডিবি পরিচয়ে মহিষ লুটের চেষ্টা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গণপিটুনি

সিলেটের ওসমানীনগরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মহিষ বোঝাই পিকআপ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক টিটন মল্লিক। গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জেরে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের তেরমাইল এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা মহিষ বোঝাই একটি পিকআপকে (ঢাকা মেট্রো ন-১১-৭০২৩) দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকা থেকে অনুসরণ করছিল একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ-১৩-৪১৬০)।

তেরমাইল এলাকায় পৌঁছামাত্র মাইক্রোবাসটি পিকআপের গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পিকআপ চালককে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং গাড়িটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা এগিয়ে এসে তাদের ঘেরাও করেন। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে গেলেও টিটন মল্লিক ও আব্দুর রশিদ নামে দুইজনকে স্থানীয়রা ধরে ফেলেন।

এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিলে তারা মহিষ ছিনতাইয়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেন। ওই সময় টিটন মল্লিক নিজেকে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও মহিষের পিকআপটি থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে গণপিটুনিতে আহত দুইজনকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর অবস্থানে গেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। আজ সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিদ্ধান্তে টিটন মল্লিককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গনি স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সু-স্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক টিটন মল্লিককে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তাঁর সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ সড়কের চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এক সড়ক দূর্ঘটনায় বাঁধন (১৮) নামে এক তরুণ ফুটবলারের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বাঁধন এ সময় মোটর সাইকেল চালিয়ে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নোহা গাড়ির সাথে তার চালিত মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহত তরুণ চারখাই নোয়াখানি গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় মাহিন (১৮) নামের আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক জানান, চারখাই ফাঁড়ির পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সিলেটে পা হারানো যুবককে কৃত্রিম পা উপহার দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন সেলিম উদ্দিন

একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানো গোলাপগঞ্জের যুবক শিপন আহমদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর আমীর জননেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

দুর্ঘটনার পর তিনি শিপনকে দেখতে যান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সম্প্রতি তিনি শিপক আহমদকে কৃত্রিম পা উপহার দিয়েছেন। এতে যুবকটির জীবনযাত্রায় নতুন আশা ও স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে।

জানা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিপন আহমদ কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গত নভেম্বর মাসে বোরহানউদ্দিন রোড কান্দিগাঁও এলাকায় সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। এতে তার হাঁটু থেকে একটি পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে শিপনকে দেখেন এবং মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে তিনি কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেন।

এই মানবিক কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি এমন সমাজসেবামূলক উদ্যোগ অনুকরণীয়। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের এই কর্মকাণ্ড গণমানুষের কল্যাণে তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াচ্ছে।

সিলেটে পুলিশ পরিচয়ে মহিষের গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক ৬

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাম্মণশাসন এলাকায় একটি পিকআপ গাড়িতে দুটি মহিষ নিয়ে যাওয়ার পেথে সেই গাড়িটি ছিনতাই চেষ্টা অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এসময় ছিনতাইয়ে জরিত থাকা আরো চারজন পালিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে আটক ২জনসহ আটকৃতদের কাছ থেকে একটি নোহা গাড়ি (ঢাকা মেট্রো চ- ১৩-৪১৬০) জব্দ ও মাহিষ বোঝাই পিকআপটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- শাহ পড়ান থানার শৈলেন মল্লিকের পুত্র টিটন কুমার মল্লিক (৪৩) ও জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল এলাকার মৃত. গিয়াস উদ্দিনের পুত্র আঃরশিদ (৫২)।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর থেকে মহিষ বোঝাই পিকআপটি নারায়নগঞ্জ যাওয়ার পথে রবিবার দুপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাম্মণশাসন এলাকায় পৌছলে সিলেট থেকে পিছু নিয়ে ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মহিষের গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এসময় পিকআপ গাড়িটি থামালে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে পিকআপের চালক ও হেলপারকে মারধর করে ছিনতাইকারীরা। এসময় স্থানীয় জনতার সন্দেহ হলে নোহা গাড়িটি আটক করেন। এসময় নোহা গাড়িতে থাকা আরো ৪জন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।

এদিকে, ছিনতাইকারীদের হামলায় পিকআপের চালকও হেলপার গুরুত্বর আহত হলে স্থানীয়রা তাদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আরো চারজনকেও আটক করে। তাৎক্ষনিক আটকৃতদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, আটককৃদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন। চুরি ছিনতাই রোধে থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সিলেটে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা, কানাডা দিবে মাত্র ৫১২ কোটি

সিলেট বিভাগের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র ছাতকের টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায় অবশেষে আসছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের (ইকসিড) রায়ে বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রার বর্তমান মূল্যে ৫১২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ক্ষতিপূরণ দেবে কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছিল ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের একটি সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি জানা গেছে। তবে রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পুরো রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারের পরামর্শ নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চালাতেও অনেক খরচ হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৩ সালে নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ২০০৭ সালে বাংলাদেশের আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় নাইকোর কাছে থাকা ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বিল পরিশোধ। নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা পরে হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি

লন্ডনে দুর্ঘটনায় ছেলে নিহতের খবরে সিলেটে বাবার মৃত্যু

লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় নাফিজুল হক শাকিলের নিহতের খবরে অসুস্থ হয়ে পড়া তার বাবা ফজলুল হক মারা গেছেন। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা ফজলুল হক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যান।

মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফজলুল হকের আরেক ছেলে মো. কামরান।

তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘আব্বা আর নাই। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান।’

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন শাকিলের বাবা ফজলুল হক। তাঁর চিকিৎসাও চলছিলো। গত ১৪ জানুয়ারি লন্ডনে অবস্থানরত সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী সন্তান নাফিজুল হক শাকিল সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। পূর্ব লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। এ সংবাদ বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের লোকজনকে জানানো হয়। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে আবারও হৃদরোগ আক্রান্ত হন বাবা ফজলুল হক। দ্রুত তাকে সিলেট নগরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ছিলেন ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে সন্তানের জনক।

এদিকে, লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া পুত্র নাফিজুল হক শাকিলের মরদেহ এখনো রয়েল লন্ডন হসপিটালের করোনার কোর্টে রয়েছে। সেখানে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন।

অপরদিকে, বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুর সংবাদে পরিবারসহ সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে লন্ডনের সর্ববৃহৎ ডেলিভারি ড্রাইভারদের সংগঠন ‘বেথনালগ্রীণ রাইডার গ্রুপ’ সহ বিভিন্ন সংগঠন ঘোষণা দিয়েছে।

বেথনালগ্রীণ রাইডার গ্রুপের এডমিন দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘আমরা শাকিলের মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাকরুদ্ধ হই। আমাদের গ্রুপের মেম্বার ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেই। আমরা শিগগিরই শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদান প্রেরণ করবো।’

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শানাজ আহমদ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার শানাজ আহমদ সিলেট শহর থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে একটি দাওয়াতে যান। দাওয়াত শেষে তিনি অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

পথিমধ্যে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে শানাজ আহমদ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর পাশে পড়ে যান। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) নম্বরের একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে আগুন

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোনো অঘটন ঘটেনি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে হঠাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়।

এসময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ছুটাছুটি করতে থাকেন। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানানোও হয়। তারাও ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

তারা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেটের নীলনদের চোরাবালীতে প্রাণ গেল শাবি শিক্ষার্থীর

সিলেটর জৈন্তাপুরের নীলনদ খ্যাত সারী নদীর সাহেবমারা ড্রয়ারের চোরাবালিতে আটকা পড়ে ১ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার নীলনদ খ্যাত সারী নদীর নীল জলরাশির সাহেবমারা ড্রয়ার নামক স্থানের চোরাবালিতে তলিয়ে যান শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মুসআব আমীন।

সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও জৈন্তাপুর মডেল থানাপুলিশের দুটি টিম ঘটনান্থলে পৌঁছে তল্লাসী অভিযান পরিচালনা করে বিকাল ৪টায় নিখোঁজ ছাত্রের নিথর লাশ উদ্ধার করে।

মো. মুসআব আমীন (২৮) গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো. শহিদুর রহমানের ছেলে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ তিন ঘন্টা তল্লাসী চালিয়ে নিখোঁজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। আমরা সুরতহাল প্রস্তুত পূর্বক মৃতদেহটি মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।

২০,৫০০ টাকায় সৌদি আরব থেকে ঢাকায় ফেরার সুযোগ প্রবাসী কর্মীদের

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসার একমুখী টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থায় মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। মদিনা–ঢাকা–মদিনা এবং জেদ্দা–ঢাকা–জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা।

তিনি জানান, বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ থেকে ফেরার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে চলতি বছরের ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি এ পদক্ষেপ নেওয়ায় উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় অনেক ইতিবাচক উদ‍্যগো নেওয়া হলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছুদিন পর তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’