Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 41

গোলাপগঞ্জে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে তরুণীর টিকটক, অতঃপর…

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে এক তরুণী টিকটক ভিডিও ধারণ করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ওই তরুণী তার টিকটক আইডিতে ভিডিওটা ছাড়েন। এতে দেখা যায় তরুণী ওই অফিসের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে একটি গান বাজিয়ে টিকটক ভিডিও করছেন। এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ধারণকৃত টিকটক ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পেছনের দেয়ালে লাগানো বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা চেয়ারম্যানদের নাম ও মেয়াদকাল লেখা একটি নামফলক। পাশেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগোর নিচে লেখা- চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, গোলাপগঞ্জ সিলেট। তবে এই তরুণীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

একটি সূত্র থেকে জানা যায়, টিকটক করা এই তরুণী জন্মনিবন্ধনের কাজে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কার্যালয়ে এসেছিল। এক পর্যায়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান অফিসে যায়। পরে সে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে তার সঙ্গে থাকা আরেকজন মেয়ের সহযোগিতায় এই টিকটক ভিডিও ধারণ করে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই তরুণীর বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় জিডি করেছি। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আমরা ৩ জনকে শোকজ করছি। এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের জায়গায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

লন্ডনে বোরকা পরে চুরির সময় ধরা ভারতীয় নাগরিক লক্ষ্মণ লাল

লন্ডনে মুসলিম নারীর ছদ্মবেশ ধরে দোকান থেকে চুরি করার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম লক্ষ্মণ লাল। তিনি বোরকা ও নিকাব পরে ছদ্মবেশে দোকানে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, লক্ষ্মণ লাল মূলত দোকানদার ও পথচারীদের সন্দেহ এড়াতে নারীর পোশাক পরেছিলেন। সম্পূর্ণ কালো বোরকা ও নিকাব পরা অবস্থায় তিনি দোকানে প্রবেশ করেন। তবে তার চলাফেরার ভঙ্গি ও আচরণ স্থানীয়দের কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর দোকানের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত কয়েকজন মানুষ তাকে ঘিরে ধরেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা ও নিকাবে ঢাকা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছে কয়েকজন মানুষ। হৈচৈয়ের মধ্যে একজন তার নিকাব টেনে খুলে ফেলেন। তখনই সবাই অবাক হয়ে দেখেন, ছদ্মবেশে থাকা ব্যক্তি আসলে একজন পুরুষ।

খবর পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে জানা যায়, ওই ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক, নাম লক্ষ্মণ লাল।

ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, এমন ঘটনা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বোরকা ও নিকাব যেহেতু মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাক, তা ব্যবহার করে অপরাধ করলে মুসলিম সম্প্রদায় অযথা হয়রানির শিকার হতে পারে। অন্যদিকে অনেকেই লক্ষ্মণ লালের এ আচরণকে প্রতারণার এক অদ্ভুত ও নিন্দনীয় কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, পুলিশ এখনো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সিলেটে বালু-পাথর উত্তোলন নিয়ে জেলা প্রশাসকের আদেশ

সিলেটে বালু পাথর উত্তোল নিয়ে এক সরকারি আদেশ জারি করেছেন নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

বুধবার (২৭ আগস্ট) জানা যায় যে, মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রশাসনের সীমান্ত শাখা থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু পাথর উত্তোলন কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তার আদেশে লেখেন, যেহেতু সিলেট জেলা সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনায় এলাকা থেকে কতিপয় ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন, সংরক্ষন, পরিবহন, লুন্ঠন ও পাচারের সাথে জড়িত রয়েছেন এবং যেহেতু প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারসমুহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সেহেতু সিলেট জেলা অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন সংরক্ষণ পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিকৃত সেই পোস্টারই হয়ে উঠল তামান্নার হাতিয়ার, শেয়ার করে যা লিখলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের প্রচারণা বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রচারণার বোর্ডে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী সাবিকুন নাহার তামান্না ছবি বিকৃত করা হয়। এবার সেই ছবি দিয়েই নিজের প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ফেসবুকে নিজ আইডিতে সেই ছবিটি শেয়ার করে এ প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামব না। সাথে নিজের নাম সাবিকুন নাহার তামান্না লিখে তুলে ধরেন নিজের ব্যালট নম্বর (২০৪)। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী তামান্না। কবি সুফিয়া কামাল হলের এই ছাত্রী এবার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পরে আরেকটি পোস্টে তামান্না লিখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে কমনরুম ফ্যাসিলিটি অত্যন্ত অপ্রতুল। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুম থাকলেও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুম নেই। প্রয়োজনের আলোকে কমনরুমের সংখ্যাও নগন্য। কমনরুম কেন্দ্রীক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান, এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোন সমস্যাই সমাধান হয়নি। কমনরুমকেন্দ্রিক যে ফ্যাসিলিটিগুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন: ১.ডিপার্টমেন্ট ও জোনভিত্তিক কমনরুম স্থাপন; ২. শিক্ষার্থী সংখ্যার অনুপাতে কমনরুমের আয়তন সম্প্রসারণ; ৩.কমনরুমে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে; ৪.কমনরুমে পুরুষ কর্মচারীর প্রবেশ সীমাবদ্ধ করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৫.কমনরুম পর্যাপ্ত আলো বাতাস সম্পন্ন হতে হবে।

তামান্না লিখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থায় প্রশাসন যেমন নিয়মিত নয়,তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা কম। অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টে একের অধিক মেইল ও ফিমেইল ওয়াশরুম নেই, একটি ওয়াশরুম কোনভাবে নষ্ট হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বীনের ময়লা সময় মতো ফেলা হয় না, ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, স্যানিটেশন উপকরণ পর্যাপ্ত নেই, হ্যান্ডওয়াশ রিফিল করা না, হ্যান্ড টাওয়েল পরিবর্তন করা হয় না, মোটকথা তদারকি বিহীন স্যানিটেশনের ভুক্তভোগী আমরা সকলে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ ক্লাসরুম, কমনরুম,টয়লেটে প্রয়োজনের আলোকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করতে হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।

সবশেষে তামান্নার বক্তব্য, ক্যাম্পাসকে শিক্ষাবান্ধব করতে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি, সক্ষমতার আলোকে ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৩০ কোটি টাকার কোকেন জব্দ, বিদেশি নাগরিক আটক

সোমবার দিবাগত রাত ২:৩০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ৬ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে যুক্ত হওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তথ্য অনুযায়ী ৩০এ সিটের যাত্রী মিস. ক্যারেন পেটুলা স্টাফেলকে শনাক্ত করেন।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৮.৬৬ কেজি কোকেনসহ এক বিদেশি যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, দোহা থেকে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে একজন যাত্রী মাদক চোরাচালান করতে পারেন—এমন একটি গোপন সংবাদ তাদের কাছে আসে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আসা সংবাদের পর যুগ্ম পরিচালকের নির্দেশনায় এয়ারপোর্টে কাস্টমস গোয়েন্দাদের একটি দল সতর্ক অবস্থান নেয়।

সোমবার দিবাগত রাত ২:৩০ মিনিটে ফ্লাইটটি ৬ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে যুক্ত হওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তথ্য অনুযায়ী ৩০এ সিটের যাত্রী মিস. ক্যারেন পেটুলা স্টাফেলকে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে, ওই যাত্রীকে ভিসা অন অ্যারাইভাল থেকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করিয়ে তার লাগেজসহ গ্রিন চ্যানেলে আনা হয়। সেখানে স্ক্যানিং শেষে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার মালামাল পরীক্ষা (ইনভেন্ট্রি) করা হয়।

এ সময় তার লাগেজের ভেতর থেকে প্লাস্টিকের তিনটি জার উদ্ধার করা হয়, যার ভেতরে ফয়েল পেপারে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির ২২টি প্যাকেটে কোকেন পাওয়া যায়। এসময় যাত্রীর এয়ারওয়েজ মেনিফেস্ট, পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস এবং সংশ্লিষ্ট লাগেজ টোকেন মিলিয়ে দেখা হয়।

বিমানবন্দরে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইউনিট প্রাথমিক পরীক্ষায় এগুলোকে কোকেন হিসেবে শনাক্ত করে। মালামাল পরীক্ষার সময় বিমানবন্দর থানার দুজন এএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জব্দকৃত কোকেনের মোট ওজন ৮.৬৬ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

ওই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগে ফৌজদারি ও কাস্টমস আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, তাদের তৎপরতার কারণে দেশে মাদকের এই বিশাল চালান প্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

সিলেটে ‘অপারেশনের ভয়ে’ হাসপাতাল থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যুবকের মৃ’ত্যু

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ম তলা থেকে লাফ দেওয়ার পর আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

নিহত ফয়েজ আহমদ (৩০) সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। রবিবার (২৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূত্রথলি ও মূত্রনালীর সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ফয়েজ আহমেদ। আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) তার অপারেশন হ‌ওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অপারেশনের ভয়ে রবিবার (২৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ম তলার সিড়ির জানালার খোলা অংশ দিয়ে লাফ দেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হলে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অপারেশনের ভয়ে রবিবার রাতে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ম তলা থেকে লাফ দিয়ে ফয়েজ আহমেদ আহত হন। পরে হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক সাড়ে ৩ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

সিলেটে সুরমায় নারীর ঝাঁপ, অতঃপর……..

সিলেটের চাঁদানিঘাট থেকে এক নারী সুরমায় ঝাঁপ দিয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপর পুলিশের ফোন পেয়ে তার স্বামীও থানায় উপস্থিত হয়েছেন। বর্তমানে উভয়েই থানায় রয়েছেন। আইনী প্রক্রিয়া মেনে তাদের ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার নাম তানজিলা খানম (৩২)। তার স্বামী বেরকারি চাকরিজীবী রাসেল শিকদার। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়া থানার সোনাহাড় গ্রামে। বাবার নাম কাজি আব্দুল মজিদ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরের দিকে সুরমার উত্তরপ্রান্তে চাঁদনিঘাটের সিঁড়ি থেকে এক যুবতি নদীতে ঝাঁপ দেন। তিনি স্রোতের টানে ভেসে যেতে থাকেন।

এরপর কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে উদ্ধার করেন। ততক্ষনে ওই নারী ও উদ্ধারকারীরা কোতোয়ালী থানার সামনের ঘাটে পৌঁছে যান।

উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, তার স্বামী রাসেল শিকদারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। পরে তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হলে তিনি পুলিশের কাছেও একই অভিযোগ করেন।

পুলিশ তার স্বামী রাসেল শিকদারকে থানায় ডেকে পাঠালে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি থানায় উপস্থিত হন।

সিলেটভিউর সঙ্গে মোবাইলে আলাপকালে তিনি বলেন, তানজিলা গত প্রায় দেড় দুই বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তাকে বরিশালে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছে। কিছু বললেই রেগে যায়।

তিনি বলেন, তার এই রোগের কারণে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। আজও তাকে সাংসারিক কাজের ব্যাপারে একটু রেগে কথা বলেছিলাম। এরপর কাউকে কিছু না বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

তিনি জানান, কোনো একজন অভিভাবক নিয়ে গেলে পুলিশ তাদের ছেড়ে দিবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, আমি থানায় নেই। বাইরে আছি। তবে ঘটনাটি শুনেছি। বলে দিয়েছি, কোনো অভিযোগ না থাকলে যেন তাদের আইনী প্রক্রিয়া মেনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি : বিয়ানীবাজারে সিলেটের নবাগত ডিসি

সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বীরদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সকালের প্রথমেই তিনি কাকুরার মান্দার গ্রামে গিয়ে শহীদ সুহেল আহমদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর শহীদ তারেক আহমদ ও ময়নুল হোসেনের কবর জিয়ারত করেন তিনি। সর্বশেষ শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের কবর জিয়ারত শেষে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং খোঁজখবর নেন।

শহীদ পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কাছে আমরা ঋণী। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি। যে চেতনা নিয়ে তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই চেতনা সমুন্নত রাখতে আমরা সবাই দায়বদ্ধ।”

তিনি আরও আশ্বাস দেন, প্রশাসন সর্বদা শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে এবং তাঁদের প্রতি সম্মান ও যত্নের কোনো ঘাটতি থাকবে না।

বিমানে ঘুমন্ত কিশোরীকে পাশে পেয়ে সংযম হারালেন ভারতীয় ব্যবসায়ী, অতঃপর…

ন্যাক্কারজনক এক ঘটনা ঘটে গেছে মুম্বাই থেকে সুইজারল্যান্ডগামী বিমানের একটি ফ্লাইটে। আকাশপথেই ঘুমন্ত এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় কারাদণ্ড না হলেও সুইজারল্যান্ড থেকে বহিষ্কার করে ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৫ বছরের এক মেয়েকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেছেন। মুম্বাই থেকে জুরিখের ৯ ঘণ্টার ফ্লাইটে কিশোরিটি তার পাশে ঘুমিয়ে ছিল। কিশোরীটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে তিনি ‘সংযম রাখতে পারেননি’ বলে আদালতে দাবি করেছেন।

ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ মার্চ। আদালতের নথি অনুসারে, ঘুমিয়ে পড়ার আগে কিশোরীটি লোকটির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেছিল।

জুরিখের পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস ফর সিরিয়াস ভায়োলেন্ট ক্রাইমের দায়ের করা অভিযোগ অনুসারে, লোকটি তার হাত দিয়ে মেয়েটির গায়ে জড়িয়ে বারবার স্পর্শ করেছিলেন। এতে শিশুটি ‘হতবাক’ হয়ে পড়ে, সে কথা বলতে বা প্রতিরোধ করতে পারেনি। সুযোগ পেয়ে লোকটি তার ঘৃণ্য কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। মেয়েটি যখন ঘটনাটি বুঝতে পারছিল, তখন সে সাহসের সঙ্গে একজন বিমান পরিচারিকাকে ঘটনাটি জানায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। মেয়েটিকে অন্য একটি আসনে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং লোকটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিমানটি জুরিখে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই লোকটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচার চলাকালীন লোকটি দোষ স্বীকার করে বলেন, তিনি মেয়েটির বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। ‘স্বীকারোক্তিতে’ লোকটি বলেছেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’

এদিকে ভারতীয় ওই ব্যবসায়ীকে সুইজারল্যান্ডে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নাবালিকাদের সঙ্গে জড়িত যে কোনো কর্মসূচী বা কার্যকলাপে আজীবনের জন্য অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। তাকে ৮ হাজার ২০০ পাউন্ড আইনি খরচও দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে লোকটিকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য সুইস মাইগ্রেশন অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেটে দাফনের ১৭ দিন পর জীবীত উদ্ধার

সিলেটে নিখোঁজের পর লাশ শনাক্ত করে দাফন করা হলেও রবিউল ইসলাম নাইম (১৪)কে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকার গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম নাইম (১৪) নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার লাশ শনাক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গোয়ালাবাজার সংলগ্ন ব্রাহ্মণগ্রাম সুপ্রিম ফিলিং স্টেশন মার্কেটের বগুড়া রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিল রবিউল। গত ২৬ জুলাই রেস্টুরেন্ট থেকে সে নিখোঁজ হয়। এরপর ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে রবিউলের পরিবার লাশটি তাদের ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

এসময় রবিউলের পরিবার অভিযোগ করে, বগুড়া রেস্টুরেন্টের মালিক বুলবুল মিয়া রবিউলকে হত্যা করে কুলাউড়ায় লাশ ফেলে রেখেছেন। পরে লাশ উদ্ধারের পর ওসমানীনগর ও কুলাউড়া থানায় মামলা করতে চাইলে প্রথমে দুটি থানাই গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

অবশেষে শুক্রবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় তার নানার বাড়ি। পরিবারের লোকজনই তাকে খুঁজে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে কুলাউড়া থানাপুলিশ রবিউলকে হেফাজতে নিয়ে শনিবার মৌলভীবাজার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠায়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, রবিউল আত্মগোপনে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাকে পেয়ে খবর দেওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি বলেন, আগের লাশ উদ্ধার ও দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।