Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 46

বড়লেখায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, যুবক গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় শরীফ আহমেদ (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ আগস্ট) রাতে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া ৮ হাজার টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার শরীফ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার বৈরাগীবাজারের খাশিবরন হাতির টিলা এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই বড়লেখা পৌরসভার তেলীগুল এলাকার ব্যবসায়ী শামীম আহমদের ছেলে কানাডা প্রবাসী সাকিব আহমদের বৌভাত উপলক্ষে পরিবারের সবাই স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানে যান। এ সময় দোতলা বাড়ির প্রতিটি কক্ষে তালা লাগানো ছিল। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে চোরের দল তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দুটি স্বর্ণের বালা, একটি জোড়া কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি ব্রেসলেট, নগদ এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ও ৫০০ মার্কিন ডলারসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নেয়।

পরিবারের সদস্যরা দুপুর আড়াইটার দিকে বাসায় ফিরে পেছনের ফটক ও ঘরের দরজার তালা ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামীম আহমদ বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর বড়লেখা থানার এসআই রতন কুমার হালদার, এসআই দেবল চন্দ্র সরকার ও এএসআই ফজলে আজিম সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ শরীফ আহমেদের অবস্থান শনাক্ত করে এবং রোববার রাতে দোয়ারাবাজার থানার সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বড়লেখা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা সোমবার বিকেলে জানান, “গ্রেপ্তার শরীফের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মদিনাকে ‘স্বাস্থ্যকর শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

পবিত্র নগরী মদিনাকে ‘স্বাস্থ্যকর শহর’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মুসলিমদের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর এবং মসজিদে নববীর আবাসস্থল এই শহরটি ডব্লিউএইচও-এর নির্ধারিত ৮০টি মানদণ্ড পূরণ করে এই মর্যাদা অর্জন করেছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল জালাজেলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সনদ গ্রহণ করেন মদিনা অঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স সালমান বিন সুলতান।

অনুষ্ঠানে যুবরাজ সালমান বলেন, “মদিনার এই স্বীকৃতি দেশের নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ও প্রচেষ্টারই ফল। এটি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অন্যতম উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, মদিনার চলমান রূপান্তর আজ একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ‘শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন মডেল’-এ পরিণত হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, ডব্লিউএইচও-এর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কোনো শহরকে অবশ্যই নির্ধারিত ৮০টি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জনস্বাস্থ্যের জন্য উন্মুক্ত পার্ক, হাঁটার উপযোগী স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবামূলক অবকাঠামো।

ডব্লিউএইচও এর আগেও সৌদি আরবের অন্তত ১৪টি শহরকে ‘স্বাস্থ্যকর শহর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: তায়েফ, তাবুক, আদ-দিরিয়া, উনাইজা, জালাজেল, আল-মান্দাক, আল-জুমুম, রিয়াদ আল-খুবরা এবং শরুরাহ।

স্বাস্থ্যবান, সবুজ ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে মদিনার এ স্বীকৃতিকে সৌদি সরকারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ৭২ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নকালে বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকা ফেরত যেতে উড্ডয়ন প্রস্তুতিকালে রানওয়েতে একটি কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে এয়ারএস্ট্রা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের।

শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটা এ ঘটনায় ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে যাত্রা স্থগিত করে নিরাপত্তাজনিত পর্যবেক্ষণে নেয়া হয়। তবে পাইলট ও গ্রাউন্ড টিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি ৭২ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে সফলভাবে উড্ডয়ন করে। অল্পের জন্য ফ্লাইটটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়ে সংশ্লিষ্টরা যে যার মতো শোকরিয়া জ্ঞাপন করছেন।

সূত্র মতে, বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সমন্বিত দল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রানওয়ে থেকে মৃত কুকুরটিকে সরিয়ে নেয়। এরপর ফ্লাইটটির পাইলট ও গ্রাউন্ড ক্রু বিমানের ‘থ্রো-চেক’ সম্পন্ন করে নিশ্চিত হন, এতে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে ফ্লাইটটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটে থাকা ৭২ যাত্রী নিরাপদে ঢাকা পৌঁছান।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গোলাম মর্তুজা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফ্লাইটের ধাক্কায় কুকুরটি মারা গেছে। তবে যাত্রীরা নিরাপদে ছিলেন এবং ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবে উড্ডয়ন করে একঘণ্টা পর ঢাকায় অবতরণ করেছে।

গোলাম মর্তুজা আরও জানান, দিনের বেলায় কুকুরের তেমন উপদ্রব না থাকলেও সন্ধ্যার পর রানওয়ে এলাকায় কুকুরের বিচরণ বেড়ে যায়। আলো কম থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ১৮৯ জন আনসার সদস্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না।

৩৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক নারীসহ ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে পৌনে ৭টায় একটি বিশেষ সামরিক বিমানে (সি-১৭) করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার অবর্ণনীয় ক্লান্তি আর যাত্রাশেষে ঢাকার মাটিতে পা রাখেন তারা কেউ বিমর্ষ, কেউ বাকরুদ্ধ। দেশে ফেরার পর ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাদের পরিবহন সহায়তা দেওয়া হয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

ফেরত আসা বাংলাদেশিদের অভিযোগ, দীর্ঘ বিমান যাত্রার পুরোটা সময় তাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়। ফেরত আসা একজন বলেন, আমরা অপরাধী নই, আমরা তো আশ্রয় চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে বন্দিদের মতো আচরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, আমরা যতটা জেনেছি ঘরবাড়ি বিক্রি করেছেন, ধার-দেনা করে এরা কেউ ৩০ লাখ, কেউ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে মেক্সিকো বা দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে অনিয়মিত পন্থায় পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর আশ্রয় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।

বড়লেখায় দিনদুপুরে ছিন তা ই য়ে র ঘটনায় গ্রে প্তা র ২, টাকা ও মোবাইল উ দ্ধা র

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দিনদুপুরে এক ব্যবসায়ী ও তার মেয়ের গলায় দা ধরে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও রুপার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে সিলেটের টিকরপাড়া (পীরের বাজার) এলাকা থেকে শাহপরাণ থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড়লেখা থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা, একটি স্যামসাং স্মার্টফোন, ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার মৃত চান মিয়ার ছেলে সেলিম আহমদ ওরফে অনিক ওরফে বটলা সেলিম (৩৫) এবং সিলেট জেলার শাহপরান থানার মীরমহল্লা এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে সাকিব আহমদ (২৫)।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ খসরু তার মেয়ে সুহাদা বেগম ও ছেলে সিয়াম আহমদকে সঙ্গে নিয়ে বড়লেখা পৌরশহরের পূবালী ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। শিমুলিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে। এরপর তাদের গলায় দা ধরে সুহাদার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

ব্যাগে নগদ ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং স্মার্টফোন, দুই ভরির একটি রুপার চেইন এবং ভিকটিমের জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল। এই ঘটনায় ওইদিনই ভুক্তভোগী বড়লেখা থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার পরই বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লার তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান, এসআই রতন কুমার হালদার, এসআই সুব্রত চন্দ্র দাস ও অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে সিলেটের টিকরপাড়া (পীরের বাজার) এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী সেলিম আহমদ ও সাকিব আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা শনিবার বিকেলে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীরা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে এবং পলাতক আরও দুই সহযোগীর নামও প্রকাশ করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সিলেটের সাদাপাথরে বন্ধুকে নিয়ে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত

সিলেট নগরীর বড়শালা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. জিসান আহমদ (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বন্ধু মো. হাসান (২৪)।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জিসান ও হাসান মোটরসাইকেলে করে বিশ্বনাথ থেকে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়শালা এলাকায় আসার পর তাদের মোটরসাইকেলটি সড়কের ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই জিসানের মৃত্যু হয় এবং হাসান গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসান বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুই বন্ধু সাদাপাথর এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়শালা এলাকায় মোটরসাইকেলটি ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

খাবারের জন্য খালি পায়ে ১২ কিমি হেঁটে আসা ছোট্ট আমিরকেও ছাড়েনি ইসরাইল!

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, অ্যান্থনি আগুইলার নামে সাবেক ওই সেনা সদস্য তার সাক্ষ্যে গত ২৮ মে তারিখের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন, যেদিন খাবারের জন্য গিয়ে নিহত হয় আমির।

অ্যান্থনির বিবরণ মতে, খালি পায়ে এবং রোগা অবস্থায় প্রচণ্ড রোদের নিচে ১২ কিলোমিটার হেঁটে এসেছিল আমির। আশা ছিল, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও যদি খাওয়ার কিছু মেলে।

আরও পড়ুন: লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালালো ইসরাইল

তবে ছোট্ট আমির সংগ্রহ করতে পেরেছিল কেবল এক মুঠো চাল এবং ডাল, যা পড়েছিল মাটিতে।

গভীর আবেগঘন মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবেক মার্কিন ওই সেনা বলেন, শিশুটি তার কাছে এসে তার জিনিসপত্র রেখেছিল, তার হাতে চুম্বন করেছিল এবং ইংরেজিতে তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল।

ছেলেটি এরপর তার জিনিসপত্র তুলে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে চলে যায়। কয়েক মিনিট পরে, যখন সে অন্যান্য বেসামরিক লোকদের সাথে চলে যাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালায় এবং এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আমিরের।

অ্যান্থনি আগুইলারের ভাষ্য, ‘গাজার অন্যান্য দিনগুলোর থেকে ওই দিনটি আলাদা ছিল না — তবে মৃত্যু এসেছিল দ্রুত।’

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নিউইয়র্কে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধায় কুলাউড়ার দিদারুলকে শেষবিদায়, পুলিশের ‘গার্ড অব অনার’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে (৩৬) শোক-শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেষবিদায় জানিয়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্ক শহরের পার্চেস্টার এলাকায় দিদারুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষবিদায় জানানো হয়। দিদারুলের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়।

শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় দিদারুলকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তাঁকে মরণোত্তর ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

দিদারুলের বীরত্বের স্বীকৃতি দিতে, তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা দেখাতে এ আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনারসহ হাজারো কর্মকর্তা। এ আনুষ্ঠানিকতায় হাজারো সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সবাই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-শোকে অবনতমস্তকে দিদারুলকে শেষবিদায় জানান।

অনুষ্ঠানে এনওয়াইপিডির কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, দিদারুল নিজের জীবন দিয়ে অন্যদের রক্ষা করেছেন। তিনি এক নিঃস্বার্থ বীর।

‘গার্ড অব অনার’-এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজার জন্য দিদারুলের মরদেহ পার্চেস্টার জামে মসজিদে নেওয়া হয়। তাঁর জানাজায় হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে নিউজার্সির টোটোওয়া ইসলামিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সময় গত সোমবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন দিদারুল। পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে ঢুকে রাইফেল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন এক তরুণ। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে দিদারুল নিহত হন।

দিদারুলের পরিবারকে সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলে এরই মধ্যে ৬৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

ম্যানহাটানে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত
বাংলাদেশে দিদারুলের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। ২০০৯ সালে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিদারুল।

সিলেট বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজের চাকা ফেটে তরুণের মৃত্যু

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজের (বিমানে উঠার সিড়ি) চাকা ফেটে গুরুতর আহত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরে নিয়মিত মেরামত কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুম্মান আহমদ টেকনিশিয়ান হিসেবে আউট সোর্সিংয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে কাজ করতেন। তিনি সিলেটের বিমানবন্দর থানার খাদিমনগর ইউনিয়নের লুসাইন গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুইজন কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হন বলে নিশ্চিত করেন বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ। এনামুল নামে গুরুতর আহত অপরজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের পরিচালক জানান, এটি একটি রুটিন কাজ ছিল। হঠাৎ দুর্ঘটনায় দুজন আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলেও একজনকে বাঁচানো যায়নি। তবে এ দুর্ঘটনায় বিমানবন্দর কিংবা বিমানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

নিহত রুম্মানের চাচা আব্দুল কাইয়ুম জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রুম্মানের আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেখানে আইসিইউর সিট খালি না পাওয়ায় তাকে নিয়ে যাওয়ায় হয় রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, রুম্মান আর বেঁচে নেই।

ফ্লাইটের ব্যাগেজে তেলাপোকা পোকামাকড়ের দুর্গন্ধ, ৪ ঘণ্টা আটকে থাকল বিমান

বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটের ব্যাগেজ থেকে দুর্গন্ধ, তেলাপোকা ও পোকামাকড় পাওয়া যাওয়ায় ফ্লাইটটি প্রায় ৪ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখে ইতালির রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি মঙ্গলবারের (২৯ জুলাই)।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, এদিন রোমের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় বিমানের বিজি-৩৫৫ ফ্লাইটটি অবতরণ করে। যাত্রী ব্যাগেজ দেওয়ার সময় ১০ নম্বর লাগেজ বেল্টে অসংখ্য তেলাপোকা, পোকামাকড় ও তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যাগেজ ডেলিভারি স্থগিত করে। এরপর বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল জীবাণুনাশ কার্যক্রম শুরু করে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে প্লেনের ব্যাগেজ কন্টেইনার পোকামাকড় মুক্ত না করে নির্ধারিত সময়ে প্লেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়তে দেয়নি তারা।

পরে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের পরিবর্তে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

রোম বিমানবন্দরের পরিস্থিতি এবং বিষয়টি অবগত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রোম স্টেশন ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকায় বিমানের সব দপ্তরে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে যাত্রী ও ব্যাগেজ গ্রহণের সময় আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

চিঠিতে তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে খাবারের ধরন, দুর্গন্ধযুক্ত আইটেম, উপযুক্ত প্যাকেজিং ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে ব্যাগেজ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাগেজ সার্ভিস ইউনিট থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ব্যাগ লোডিংয়ে আরও বেশি যত্নবান হওয়া হয়। কারণ ফুমিশিনো বিমানবন্দর বিমানের প্রতিটি ফ্লাইটেই এমন অবস্থা পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে।