Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 52

সিলেট বিমানবন্দর থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কামরুল হক আটক

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুল হককে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ গণমাধ্যমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হক। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আটক হন। পরে বিয়ানীবাজার থানায় তার মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কামরুল হকের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামে। কামরুল হক পেশায় একজন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। সে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা ও ঢাকার ট্রাভেল ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের ভাতিজা ও সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য খসরুল হকের ভাই।

সিলেটে বেপরোয়া বাসের কান্ড : একে একে ৩টি গাড়িকে ধাক্কা, আহত ৪

সিলেটে বেপরোয়া গতির একটি বাস একে একে ৩টি গাড়িকে ধাক্কা দিয়েছে। এতে গাড়িগুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এই ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোটাটিকর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িগুলো জব্দ করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ থেকে একটি বাস সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের সামনে প্রথমে একটি টমটমকে ধাক্কা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে আসতে থাকে। এরপর একে একে আরেকটি টমটম ও সিএনজি অটোরিকশাকেও ধাক্কা দেয়।

এতে গাড়ি গুলো দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ৩টি গাড়ির ৩ জন চালক ও একজন নারী যাত্রী আহত হন। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

রাত সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থল থেকে মোগলাবাজার থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. আলিফ জানান, ২টা স্পটে এই ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িগুলো জব্দ এবং আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, বাস চালক পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।

সিলেটে সেনাবাহিনীর হাতে ২ কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আটক

‘সেনাবাহিনী ধারালো দা সহ দুইজনকে আটক করে শাহপরান থানায় হস্থান্তর করেছে। দৌঁড়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

সিলেট নগরীতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নিজদলের প্রতিপক্ষকে হামলার সময় দুই কলেজ ছাত্রদল সভাপতিকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে টিলাগড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

আটককৃতরা হলেন- গ্রীনহিল স্টেট কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন(২৭) ও শাহজালাল সিটি কলেজের সভাপতি মোরসালিন আহমদ আসপিয়া(১৯)। এই সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের শাহপরান থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মিনহাজ শিকদার টিলাগড় পয়েন্টে টিলাগড় মসজিদ মার্কেটের ২য় তলায় সরকারি কলেজের জুনিয়রদের দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করার জন্য বৈঠক করেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই নিজ দলের প্রতিপক্ষের লোকজন মিনহাজ শিকদারকে আক্রমণ করে মরধর করে। তখন তিনি মোবাইলে কল করে নিজ গ্রুপের কর্মীদের আসার আহ্বান জানান।

তখন সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক দুইজন হাতে দা নিয়ে মিনহাজ শিকদারকে উদ্ধারের জন্য যাওয়ার পথে সেনাবাহিনী দেখে দৌড়ে পালানোর সময় মোরছালিন আহমেদ আসপিয়া পড়ে গিয়ে তার বাম পা ভেঙে যায় এবং অপরজন রাস্তার ওপর পরে গেলে সেনাবাহিনী টিলাগড় পয়েন্টে উভয়কে দাসহ আটক করে শাহপরান থানায় নিয়ে যায়। উভয়কে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসএমপির মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দৈনিক নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সেনাবাহিনী ধারালো দা সহ দুইজনকে আটক করে শাহপরান থানায় হস্থান্তর করেছে। দৌঁড়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তথ্য সূত্র: নয়া দিগন্ত

স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বেঁচে ‘পরকীয়ায় জড়ালেন’ স্বামী!

ভালোবাসলে মানুষ অন্ধ হয়— যুগ যুগ ধরে সমাজে এ কথা প্রচলিত। ভালোবাসার মানুষের জন্য আত্মত্যাগের অসংখ্য গল্পও ছড়িয়ে আছে। ৩৫ বছর বয়সী নারী উম্মে সাহেদীনা টুনির গল্প যেন এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। যিনি নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন, সেই স্বামী সুস্থ হয়ে জড়িয়ে পড়লেন পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায়। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি।

অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের কলমা এলাকায়। অকৃতজ্ঞ স্বামী তারেকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন টুনি। তারেক গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।

বিয়ের দুই বছরের মাথায় দুঃসংবাদ পান টুনি
বিয়ের মাত্র দুই বছরের মাথায় টুনি জানতে পারেন— তার স্বামী মোহাম্মদ তারেকের দুটি কিডনি প্রায় অচল। তাকে বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অথচ এর মাত্র এক বছর আগে সন্তানের মা হয়েছেন টুনি, সংসার জীবনেরও সবে দুই বছর পার হয়েছে। এমন সময়ে এই দুঃসংবাদ তার জীবনের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়।

তবে, ভালোবাসার বাঁধন বড়ই শক্ত। টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে ধরেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিকল্পনামাফিক ভারতেই শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা। কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তখন স্ত্রী টুনিই এগিয়ে আসেন। নিজের কিডনি দিয়ে তিনি স্বামীকে প্রাণে বাঁচান। টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে তারেকের কর্মকাণ্ড। সুস্থ হয়েই তারেক জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে।

যেই স্ত্রীর কারণে তিনি নতুন জীবন ফিরে পেলেন, একসময় তাকেই মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে গিয়ে ওঠেন।

মায়ের পেনশনের টাকায় স্বামীর চিকিৎসা

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে কলেজেপড়ুয়া তরুণী উম্মে সাহেদীনা টুনির সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তারেক ও টুনির সংসার আলো করে আসে একটি পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় আজমাইন দিব্য। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক। চিকিৎসকেরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অচল। রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করাতে হবে।
স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বেঁচে ‘পরকীয়ায় জড়ালেন’ স্বামী!
তবে, স্বামীর ডায়ালাইসিসে রাজি ছিলেন না টুনি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে ভারতে নিয়ে যাবেন। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। তামিলনাড়ুর বিখ্যাত সিএমসি হাসপাতালে শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা।

চিকিৎসকেরা জানান, তারেকের দুই কিডনি মিলিয়ে ২৪ পারসেন্ট সচল রয়েছে। এক্ষেত্রে মেডিসিনের মাধ্যমে আরও ১০ বছর তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু এরপর কিডনি প্রতিস্থাপন করতেই হবে।

এ অবস্থার মধ্যেও সদ্য সন্তানের মা হওয়া টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে চেপে ধরেন। অভয় দেন, এই লড়াইয়ে কখনো হাত ছেড়ে দেবেন না। যেই কথা সেই কাজ। ঢাকায় ফিরে নিজ বাড়িতেই খোলেন হোম বিউটি পার্লার, পাশাপাশি বুটিকসের কাজ শুরু করেন। মাস শেষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। আর পুরো টাকাটা ব্যয় করতেন তারেকের চিকিৎসায়। এভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। নিজের জমানো টাকা, বিয়ের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যান তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শমতে, টুনিকে বছরে তিনবার অসুস্থ তারেককে নিয়ে ভারতে যেতে হতো। প্রতিবার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হতো। যা পুরোটাই আসত নিজের আয় ও স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকা থেকে।

অপরদিকে, অসুস্থ তারেক কোনো কাজকর্ম করতে পারতেন না। সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়ায় একটা সময় পরিবারও তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কেবল স্ত্রী টুনি ও একমাত্র সন্তানই তার পাশে ছিল। একপর্যায়ে খরচ সামলাতে না পেরে নিজের মায়ের পেনশনের টাকাও স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেন টুনি। ২০০৮ থেকে ২০১৮— ১০ বছর ভারতেই চলল তারেকের চিকিৎসা। ২০১৯-এর শুরুতে চিকিৎসকরা জানালেন, এবার তারেককে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। নয়তো ডায়ালাইসিস করেই বাকিটা জীবন বাঁচতে হবে।

পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে টেস্টে মিললেও কেউ কিডনি দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্ত্রী টুনি সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের কিডনি দিয়ে হলেও স্বামীর প্রাণ বাঁচাবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসক কৈলাশ নাথ সিং (কেএন সিং)-এর তত্ত্বাবধানে টুনি ও তারেকের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।

অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর কাছ থেকে কিডনি পেয়েই নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন তারেক। এরপর বের হয়ে আসতে থাকে তার ভয়ংকর রূপ। শুরু করেন টুনির ওপর নির্যাতন।

সুস্থ হয়ে অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন তারেক
স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণে বেঁচে ‘পরকীয়ায় জড়ালেন’ স্বামী!
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে টুনি বলেন, তারেককে কিডনি দেওয়ার পর আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে চলে যায়। সাতদিন আইসিইউতে রাখা হয়। আইসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে আসার পরই যেন অন্য এক তারেককে আবিষ্কার করলাম। যেই মানুষটার জন্য আমার সবকিছু ত্যাগ করেছি, নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে বাঁচাতে চেয়েছি; সেই কিনা কিডনি পেয়ে সুস্থ হয়েই হাসপাতালে আমার সঙ্গে চিৎকার করতে শুরু করল, মারতে উদ্যত হলো। আমার এক খালা কেন অপারেশনের আগে টাকা পাঠাতে দেরি করেছিল— এমনটা বলে চিল্লাচিল্লি করল।

সেদিন তারেকের এমন কর্মকাণ্ড দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও অবাক হন। টুনির কথায়, “এরপর আমাদের দুজনকে সেই চিকিৎসক তার চেম্বারে ডেকে নেন, যিনি অপারেশনটা করেছিলেন। সেখানে তারেককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যদি তোমার মা হয় তোমার জন্মদাতা, এই নারী তোমার জীবনদাতা। এর কারণে তুমি পুনরায় জীবন পেয়েছ, সুস্থতা ফিরে পেয়েছ। তার সঙ্গে কীভাবে এমন দুর্ব্যবহার করতে পারলে।’ এরপর চুপ হয়ে যান তারেক। পরে আমরা দেশে ফিরে আসি।”

ঢাকায় ফেরার পরই টুনির জীবনে নেমে আসে নরক। টুনির ভাষ্য অনুযায়ী— সুস্থ হয়ে তারেক নতুন কোনো চাকরি কিংবা ব্যবসা শুরু তো দূরের কথা উল্টো স্ত্রীকে চাপ দেন উপার্জনের সব টাকা তার হাতে তুলে দিতে এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও টাকা নিয়ে আসতে। একপর্যায়ে অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে তারেক। যেই স্ত্রীর জন্য নিজের জীবন ফিরে পেলেন, তার গায়ে হাত তুলতে শুরু করেন।

টুনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কাজের অজুহাতে ঢাকায় গিয়ে সময় কাটাত তারেক। একসময় জানতে পারি, তাহমিনা নামের একজন ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত সে। তারেকের মোবাইল ঘেঁটে এসবের প্রমাণও পাই। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে পুরো বাড়ি তার নামে লিখে দিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।’

থানায় অভিযোগের পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাভার থানায় গিয়ে তারেকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন টুনি। কিন্তু এরপরই আবারও নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন ধূর্ত তারেক। টুনিকে বুঝিয়ে একদিন পরেই (৪ ফেব্রুয়ারি) থানায় মুচলেকা দিয়ে সেই অভিযোগ তুলে ফেলেন তিনি।

বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পর এবার নির্যাতনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায় তারেকের। একপর্যায়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে ওঠেন টুনি। এরপর ২২ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন তারেক। এক মাস কারাগারে থাকার পর গত ৪ জুন জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়েই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তারেক। সেখান থেকেই স্ত্রীকে চাপ দেন ডিভোর্স দিয়ে বাড়িটা তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য।

এ প্রসঙ্গে টুনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে আমি সবসময় ফেরেশতার মতো মনে করতাম। ভাবতাম, তিনি কখনোই মিথ্যা বলেন না। তবে, আমার পরিবারের মানুষ ধাপে ধাপে সতর্ক করেছিল। কারো কথা কানে নিইনি। বরং তারেকের কথায়, অনেক সময় পরিবারের মানুষদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছি। অথচ সেই মানুষটা আজ আমার সব কেড়ে নিল। তাকে কিডনি দেওয়ার পরে আমার শারীরিক অবস্থাও দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরাও নানাভাবে সতর্ক করেছেন।’

‘আমি জানি, সুস্থভাবে হয়তো বেশিদিন আর বাঁচতে পারব না। তবুও যেই মানুষটার কষ্ট কখনো নিজের চোখে দেখতে পারতাম না, যার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছি, সেই কিনা আমাকে এভাবে ঠকাল! আমার পেটে অপারেশনের জায়গাতে লাথি মারল…! আমি চাই না, আমার মতো পরিণতি আর কোনো মেয়ের হোক। আর কোনো মেয়ে যেন ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে নিজের জীবনকে এমন অন্ধকারে না ঠেলে দেয়।’

যা বলছেন দম্পতির প্রতিবেশী ও টুনির মা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারেক-টুনির এক প্রতিবেশী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই দেখেছি— টুনি আপা তার স্বামীর জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তার যখন বিয়ে হয়, তখন বয়স ছিল ১৬-১৭ বছর। দুই বছরের মাথায় জানতে পারেন স্বামীর দুটি কিডনি অচল। তবুও স্বামীকে ফেলে রেখে যাননি। নিজের বাড়িতেই বিউটি পার্লার দিয়েছেন, বুটিকসের কাজ করেছেন। যা আয় করেছেন, তা দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়েছেন। পরে যখন চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে, তখন নিজের কিডনি দিয়ে তারেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। অথচ, সুস্থ হওয়ার পর প্রায়ই দেখতাম, টুনি আপাকে নির্যাতন করত। পরে জানতে পারলাম— তিনি পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। টুনি আপাকে মারধর করত টাকা ও বাড়িটা লিখে দেওয়ার জন্য।’

টুনির মা বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমাদের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল। তারেকের চিকিৎসায় প্রতি বছর গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হতো। সেই টাকা টুনি কখনো আমাদের থেকেও নিয়ে যেত। আমার পেনশনের পুরো অর্থ তারেকের চিকিৎসায় খরচ করেছি। একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে টুনিদের থাকার জন্য বিল্ডিং তুলে দিয়েছিলাম। সেই বাড়ির অর্ধেক মেয়ের নামে আর বাকি অর্ধেক তারেকের নামে। অথচ আজ সেই বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করছে, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে থাকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তারেকের প্রতারণার কঠিন শাস্তি চাই। যেন আমার মেয়ের মতো কোনো মেয়ের জীবন এভাবে ধ্বংস না হয়।’

শুধু নারী নির্যাতন নয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনেও মামলার পরামর্শ

মামলা প্রসঙ্গে টুনির আইনজীবী নেহার ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দিনের পর দিন আমার বাদীকে নির্যাতন করে গেছেন তারেক। একটা মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ হলে, যার দয়ায় আজ তিনি বেঁচে আছেন, তার সঙ্গেই এমন করতে পারেন? আমরা এখনো মামলার চার্জশিট হাতে পাইনি। চার্জশিট হাতে পেলেই তারেকের জামিন বাতিলের আবেদন করব। আমার বিশ্বাস, এই ঘটনায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন আদালত।’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান টুনি-তারেকের এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘যেই নারী তারেককে প্রাণে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়েছেন, বিয়ের দুই বছর পর স্বামীর এমন অবস্থা আবিষ্কার করেও হাত ছেড়ে যাননি, অথচ সুস্থ হয়ে কিনা তার ওপরই নির্যাতন শুরু করেছেন। এ ধরনের প্রতারকদের কারণে স্বামী-স্ত্রীর সত্যিকারের ভালোবাসার প্রতিও মানুষের অবিশ্বাস তৈরি হয়।’

ইশরাত হাসান বলেন, ‘কেবল নারী নির্যাতন নয়, টুনির উচিত মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনেও তারেকের বিরুদ্ধে মামলা করা। কারণ, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি স্ত্রীর কিডনি নিয়েছেন, পরে তার ওপর নির্যাতন শুরু করেছেন। এমনকি বিয়ের এত বছরেও স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাননি, সেই ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারেন। এসব ঘটনায় একজন আসামির দ্বারা বাদীর ক্ষতি সাধনেরও শঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে টুনির উচিত হবে আদালতের কাছ থেকে সুরক্ষা আদেশ নেওয়া। যেন তিনি নিজ বাড়িতে সুরক্ষিত থাকতে পারেন।’

‘আমি মনে করি তারেক স্ত্রীর সঙ্গে যে অন্যায় করেছেন, তার এমন শাস্তি হওয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার কথা দুঃস্বপ্নেও না ভাবতে পারেন।’

জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে তারেক

এদিকে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তারেকের খোঁজ নেই। তিনি নিজের নম্বরও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। ফলে তার সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তার আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকেও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, তারেকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ছাত্র-জনতার ধাওয়ায় ডোবায় ঝাঁপ দিলেন সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি

যশোরের কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলামকে ধরে পুলিশে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। বুধবার বেলা ৩টার দিকে পৌর শহরের ভবানীপুর এলাকায় একটি বাড়িতে ঘেরাও করে রাখে ছাত্রজনতা। পরে থানা ছাত্রজনতার ভয়ে পালাতে যেয়ে একটি ডুবাতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় জনতা ধরে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ যেয়ে তাকে উদ্ধার করে একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গতবছর ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রফিকুল ইসলাম তার বাড়ি ভবানীপুর মোড়লপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার দুপুরের দিকে তার বাড়িটি স্থানীয় ছাত্র জনতা ঘিরে রাখে। বিষয়টি বুঝতে পেরে রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার আরিফুর রহমান মিলনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে ছাত্র-জনতার ভয়ে পালাতে একটি ডোবা পুকুরে ঝাঁপ দেন রফিকুল।
পুলিশ জানতে পেরে রফিকুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রজনতা তাকে সাবেক মেয়রকে ঘিরে রাখে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে কেশবপুরে ত্রাস সৃষ্টি করতেন জামাল বাহিনী। সেই জামাল বাহিনীর পরিচালনা করতেন সাবেক মেয়র রফিকুল। একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

দাঁড়িয়ে থাকা বোয়িং বিমানে আঘাত করলো লাগেজ ট্রলি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পার্কিংয়ে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজে আঘাত করেছে একটি লাগেজ খাঁচা ট্রলি। এতে উড়োজাহাজটির বাইরের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ সময় বিমানের ভেতরে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৯ ফ্লাইটটি। নির্ধারিত পার্কিং বেতে থামার পর যাত্রী নামিয়ে নেওয়া হয় এবং লাগেজ সংগ্রহের জন্য আনা হয় খাঁচা ট্রলি।

ঘটনার সময় কাছেই পার্কিংয়ে থাকা একটি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ অভ্যন্তরীণ রুটে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটির পাখার সৃষ্ট বাতাসে লাগেজ ট্রলিটি সরে গিয়ে পার্কিংয়ে থাকা বোয়িং ৭৩৭-এ ধাক্কা দেয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর বলেন, ট্রলিটি চলমান ছিল না, সেটি স্থির অবস্থায় ছিল। ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজের পাখার বাতাসে সেটি সরে গিয়ে বোয়িং প্লেনটিকে আঘাত করে। তবে ঘটনাটি যাত্রীশূন্য অবস্থায় ঘটায় বড় ধরনের কোনো বিপদ ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, বিমানের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণের জন্য কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিয়ানীবাজারে তরুণীর আত্মহত্যা, খবর শুনে হার্ট অ্যাটা কে মারা গেলেন চাচীও!

বিষপানে ভাতিজির আত্মহত্যার খবর শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আপন চাচীর মৃত্যু হয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলার মুল্লাপুর ইউনিয়নের কাছাটুল গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। একই পরিবারে দুই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে অজ্ঞাত কারণে বিষপানে আত্মহত্যা করেন সেলিম উদ্দিনের মেয়ে শিপা বেগম (২২)। এ ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহবল চাচী ফুলেছা বেগম-এর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় দ্রুত তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার স্বামীর নাম ছমির উদ্দিন। কি কারণে শিপা বেগম বিষপান করেছে তা জানা যায়নি।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা: দেবদুলাল ধর বলেন, বিষপানে ওই যুবতীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ উজ্জামান জানান, ময়না তদন্তের জন্য শিপার লাশ থানায় রাখা হয়েছে। বুধবার তার লাশ মর্গে প্রেরণ করা হবে। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে।

সিলেটে ট্রাক-মাইক্রোবাসের সং ঘ র্ষে ২ জনের মৃ ত্যু : আ হ ত ৪

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী যাত্রী এবং ওই মাইক্রোবাসের চালক। এসময় আরো ৪ জন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শেরপুর এলাকায় নবীগঞ্জ থানাধীন মডেল বাজারে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহত হয়।

নিহত নারী যাত্রীর নাম আনোয়ারা বেগম। তার বাড়ি পাবনায়। আর চালক নাঈম আহমদ জয় (২৭) সিলেট নগরীর সুবিদবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক উপ-কমিটির সদস্য।

জানা যায়, সিলেট থেকে বাসা পরিবর্তন করে ঢাকায় স্থানান্তর হচ্ছিলেন আনোয়ার বেগম ও তার পরিবার। আজ ভোরে তারা নাঈম আহমদ জয়ের গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে মডেল বাজারে একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল দেব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ মোট ৬ জন ছিলেন। এরমধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি যাত্রীরা আহত। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জকিগঞ্জে প্রভাবশালীর দেয়ালে অবরুদ্ধ অসহায় পরিবার

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌর এলাকার বিলেরবন্দ গ্রামের এক অসহায় পরিবারকে দুই মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এক বিত্তশালী পরিবার। অসহায় পরিবারটির বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার একমাত্র রাস্তাটি দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

এ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। সোমাবার ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায়ও আলোচনা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে জেসিমন আক্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে প্রতিবেশী প্রভাবশালী লোকজন দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়ে তার স্বামী লিটন আহমদ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছেন। সংসার চালানোর জন্য তিনি নিজে গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিদিন এসএমসি কোম্পানির ওরস্যালাইন বিক্রি করেন। এই আয়েই পরিবারের ভরনপোষণ, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ও স্বামীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করেন। অসহায় এই পরিবারের বাড়ির জায়গা জমির ওপর পার্শ্ববর্তী বাড়ির বিত্তশালী বাসিন্দাদের চোখ পড়েছে।

জেসমিন আরও উল্লেখ করেন, আমাদের বাড়ির কিছু জায়গা আমাদের মালিকানাধীন এবং কিছু জায়গা জরিপের সময় প্রভাবশালীরা ডিসির খতিয়ানভুক্ত করিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে ডিসির খতিয়ানের জায়গার বাৎসরিক খাজনা দিয়ে আমরা উপস্বত্ব ভোগ করছি। কিন্তু আমার স্বামী মানসিক রোগী হওয়ার সুযোগে আশপাশের প্রভাবশালী লোকজন আমাদের জায়গা জমি আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে আমার পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করতে নানাভাবে আমাদেরকে চাপে রেখেছে। প্রায় প্রায় দুই মাস পূর্বে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মৃত আব্দুল আজিজ আজই মিয়ার ছেলে জকিগঞ্জ শহরের আজিজিয়া কমিউনিটি সেন্টারের মালিক প্রভাবশালী এমাদ উদ্দিন ও তার ভাই এনাম আহমদ পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়ির সীমানা ঘেঁষা চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির প্রবেশমুখে প্রায় ৫ ফুট উচ্চতার একটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন।

ফলে আমরা লোক সমাজ থেকে চরমভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির প্রবেশমুখে থাকা উক্ত রাস্তাটি বহু বছর ধরে জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, রাস্তাটি বিলেরবন্দ-জকিগঞ্জ বাজারমুখী সরকারি পাকা সড়কে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। যা বিত্তশালীরা বন্ধ করে আমাদের পরিবারকে কার্যত একঘরে অবস্থায় দেয়ালে আবদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করায় চারটি সন্তানেরা নিয়মিত স্কুল, মসজিদে যেতে পারছেনা। প্রায় সময় ক্লাসে উপস্থিত হতে স্কুল থেকে শিক্ষকরা খবর পাঠালে সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার সময় দেয়াল টপকে চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়। এমনকি দেয়ালের ওপর টপকে চলাচলের সময়ও প্রভাবশালীরা গালিগালাজ করেন। জেমসিন আক্তারের বড় মেয়ে আগামি বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট আরো তিনটি সন্তান স্কুলে লেখাপড়া করে।

এদিকে অমানবিক এমন ঘটনার খবর শুনে সোমবার বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকরা অসহায় পরিবারটিকে দেখতে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, অসহায় জেসমিন আক্তারের বাড়ীটি দেয়াল দিয়ে ঘেরা। দেয়ালের পাশ দিয়েই একটি বড় রাস্তা রয়েছে। কিন্তু বিত্তশালীরা রাস্তাটি তাদেরকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এতে পরিবারটি অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন যাপন করছে। দেয়াল টপকে সাংবাদিকরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে পরিবারটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে পরিবারটি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রভাবশালী এমাদ উদ্দিন ও এনাম আহমদ যে রাস্তাটি বন্ধ করেছেন এ রাস্তা দিয়েই জেসমিন আক্তারের পূর্বপুরুষরাও যাতায়াত করেছেন। গ্রামবাসী বিষয়টি সমাধানের চেষ্ঠা করলেও প্রভাবশালীরা মানেনি। এমনকি জেসমিন আক্তারের স্বামী লিটন আহমদ ঘটনাটি নিয়ে মসজিদে মহল্লাবাসীর কাছে নালিশ দিলেও উল্টো প্রভাশালীদের হুমকির মূখে পড়েন।

উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সাংবাদিক কেএম মামুন জানান, উপজেলা আইন শৃঙ্খলার মাসিক সভায় জকিগঞ্জে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটিকে বিত্তশালীরা দেয়ালে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এ বিষয়টি তিনি উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাটির ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে বলেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জকিগঞ্জের আজিজিয়া সেন্টারের মালিক এমাদ উদ্দিন বলেন, আমরা উক্ত রাস্তার জায়গা খরিদ করে দেয়াল দিয়ে নিরাপদ করেছি, অন্য কারো জায়গা দখল করিনি। দেয়াল নির্মাণ করায় জেসমিন আক্তারের পরিবার অবরূদ্ধ হয়েছে স্বীকার করে বলেন, আমার রাস্তায় তাদের কোন জায়গা নেই। রাস্তার জায়গাটি আমার ব্যক্তিগত। কোনভাবেই তিনি জেসমিন আক্তারের পরিবারকে রাস্তা দিতে পারবেন না বলে জানান। তবে আগে এ জায়গার ওপর দিয়ে জেসমিনের পরিবার চলাচল করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, এ ব্যাপারে বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাঝআকাশে কেবিনে গরম, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের জরুরি অবতরণ কলকাতায়

জাপানের হানেদা বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট, মাঝআকাশে বিমানের কেবিনে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। পরে পাইলটরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিমানটিকে দিক পরিবর্তন করে কলকাতার উদ্দেশে নিয়ে যান।

রোববার (২৯ জুন) এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ৩৫৭ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। পরে কলকাতার দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।

জানা যায়, ৩৫৭ নম্বর বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা বিমানের কেবিনে অস্বস্তিকর তাপমাত্রা অনুভব করতে থাকেন। ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ককপিটে সংকেত পৌঁছালে পাইলটরা দ্রুত বিকল্প সিদ্ধান্ত নেন। নিরাপদে কলকাতায় অবতরণের পর বিমানটিকে নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান্ত্রিক পরীক্ষা শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

এয়ার ইন্ডিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, কেবিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি টের পেয়েই পাইলটরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরে যাত্রীদের নিরাপদে দিল্লিতে পৌঁছে দিতে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে বিমানটির কারিগরি পরীক্ষা চলছে।

বিমানটি ঠিক কবে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

কিছুদিন আগেই আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। বিমানবন্দর ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়। ওই ফ্লাইটে ছিলেন ২৪২ জন। তার মধ্যে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

সম্প্রতি একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যা ও নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক হতে হচ্ছে।