Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 69

উপশহরে গার্ডেন টাওয়ারে পাঁচ নারীর সাথে আটক হলেন এক যুবক

সিলেট নগরীর উপশহরস্থ গার্ডেন টাওয়ারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গার্ডেন টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে পাঁচ নারীর সাথে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক পাঁচজনই অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আটককৃতরা হলেন- শামীম আহমদ (৩৪), আয়েশা আক্তার (৪০), সুপ্রিয়া চৌধুরী (২২), জারা আহমদ (১৮), তানিশা বেগম (২৩) ও জাহানারা বেগম (৪০)।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার দিবাগত রাতে গার্ডেন টাওয়ারের ১২ তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় সোবহানীঘাট ফাঁড়ির একদল পুলিশ। এসময় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়।

তাদেরকে বিরুদ্ধে এসএমপি অ্যাক্টের ৭৭ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

রোজাদারদের জন্য লাভ ছাড়াই দুধ বিক্রি করছেন অভিজিৎ ঘোষ

সেখানে রোজার একমাস লাভ ছাড়াই বিশেষ মূল্যছাড়ে দুধসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন সনাতন ধর্মের ব্যবসায়ী অভিজিৎ ঘোষ। এতে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী অভিজিৎ ঘোষ (৪০)। তিনি নড়িয়া বাজারের চাকধ রোডে ‘মিষ্টি কানন’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। তার দোকানে পাওয়া যায় রসগোল্লা, রসমালাই, সন্দেশসহ অন্তত ২৪ প্রকারের মিষ্টি। গতবছর রমজান মাসে হঠাৎ করে দ্রব্যমূল্যের দাম অনেক বেড়ে যায়। নিন্মআয়ের মানুষ খাবার কিনে খেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তাদের এই দুরবস্থা দেখে নিজ দোকানের সব পণ্যে মূল্যছাড় দিয়ে বিক্রি শুরু করেন তিনি। তার এমন উদ্যোগে প্রশংসা করেছিলেন অনেকে।

মানুষের মধ্যে সাড়া ও ভালোবাসা পেয়ে এই রমজানেও রোজাদারদের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন অভিজিৎ ঘোষ। সিদ্ধান্ত নেন বিনালাভে দুধ বিক্রি করবেন। সেই থেকে রমজানের প্রথম থেকে বাজার থেকে পাইকারি দামে দুধ কিনে এনে লাভ ছাড়াই বিক্রি শুরু করেন। এতে বাজার থেকে ১০-১৫ টাকা কমে দুধ কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা লাভের আশায় থাকেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। সেখানে রোজার একমাস লাভ ছাড়াই বিশেষ মূল্যছাড়ে দুধসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন
রোজাদারদের জন্য লাভ ছাড়াই দুধ বিক্রি করছেন অভিজিৎ ঘোষ
এখানেই শেষ নয়, দুধের সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘসময় সংরক্ষণ ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে দেড়লাখ টাকা খরচে কেনেন অত্যাধুনিক এক মেশিন। এতে ক্রেতারা তাদের সময় অনুযায়ী তার থেকে দুধ নিতে পারছেন। তার এমন উদ্যোগ খুশি স্থানীয় ও ক্রেতারা।

সজিব বেপারী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ‘রমজান এলেই বেশিরভাগ ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। এখানে এসে দেখলাম উল্টো।অভিজিৎ দাদা লাভ ছাড়াই দুধ কিনে বিক্রি করছেন। অন্যান্য জিনিস সুলভ মূল্যে পেয়ে ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছেন। তার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা লাভের আশায় থাকেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। সেখানে রোজার একমাস লাভ ছাড়াই বিশেষ মূল্যছাড়ে দুধসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন

জানতে চাইলে মিষ্টি কাননের স্বত্বাধিকারী অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘কোনো উদ্দেশ্য নয়, মানুষের ভালোবাসা পেতে এই উদ্যোগ নিয়েছি। মুসলিম ভাইয়েরা যেন এই রোজার মধ্যে আমার কাছ থেকে বাজারের চাইতে কম টাকায় দুধ পান। তাছাড়া আমি আমার দোকানের সব পণ্যে রোজাদারদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছি। আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই।’

অভিজিৎ ঘোষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নড়িয়া বণিক সমিতির সহ-সভাপতি শামীম বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে রোজাদারদের জন্য অভিজিৎ বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছেন। এটি অবশ্যই ভালো কাজ। আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, সবার উচিত অভিজিৎ ঘোষকে অনুকরণ করা।’

কুরআনে হাফেজ জমজ ভাই, একজন বুয়েটে অন্যজন চুয়েটে

কুরআনের হাফেজ জমজ দুই ভাই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বুয়েট ও চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সুযোগ পেয়েছেন হাফেজ মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন হাফেজ মো. আজহারুল ইসলাম।
এ দুই ভাই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার তারা উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের হাফেজ বাড়ির হাফেজ মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

চার ভাইয়ের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম এবং আজহারুল ইসলাম সবার ছোট। এরইমধ্যে বড় ভাই মোস্তফা আমির ফয়সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছেন। তারপরের জন চট্টগ্রামে থেকে এমবিএ করছেন।

তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম জানান, তার জমজ দুই সন্তান ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি মাদরাসা থেকে কুরআন মুখস্থ শেষে হাজীগঞ্জ আহমদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে গতবছর দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। পরে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়।

মেধার দিক থেকেও তারা অভিন্ন। ফলে এই কলেজ থেকে জিপিএ -৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। তারপর তারা দুজনেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধে অংশ নেন। এতে একপর্যায়ে মো. মুজাহিদুল ইসলাম বুয়েটে এবং আজহারুল ইসলাম চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাই তারা চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তির যোগ্যতায় সাফল্য অর্জন করেন।

অবশেষে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেলেন ‘সিলেটি শামীমা’

অবশেষে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছেন সিলেটি বংশোদ্ভূত নারী শামীমা বেগম। দুই ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব ফেরত পাওয়ার মামলার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট শামীমা ও অন্য আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেন। ব্রিটিশ মানবাধিকার সংগঠন ইউকে হিউম্যান রাইটস ব্লগ এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে।

শামীমার পিতার বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামে।

এন ৩ ও জেডএ বনাম যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (২০২৫) ইউকেএসসি-৬ মামলায় শামীমার পক্ষে রায় দেন আদালত। এই মামলাটি ছিল মূলত—জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় এ দুই ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল সম্পর্কিত আদেশ নিয়ে। বিবাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছিল যে, এই সিদ্ধান্ত (নাগরিকত্ব বাতিল) তাদের রাষ্ট্রহীন করে তুলবে না। কারণ, তাঁরা ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী।

এই মামলায় পরে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই আদেশ প্রত্যাহারের ফলে আপিলকারীদের পুরো সময়জুড়ে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবেই গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, শামীমা অতীতে ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম ২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে যখন যুক্তরাজ্য ছাড়েন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সিরিয়ায় যাওয়ার পর তিনি ইসলামিক স্টেটের ডাচ সদস্য ইয়াগো রিয়েডিকে বিয়ে করেন। সেখানে তাঁর তিনটি সন্তান হয়, যাদের সবাই মারা যায়। এরপর স্বামী রিয়েডিও এক কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।

সেই ঘটনাপ্রবাহের পর শামীমা যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান। কিন্তু ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তি দিয়েছিল, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের মূল কারণ ছিল জাতীয় নিরাপত্তা।

নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ২০২৩ সালে ২৪ বছর বয়সী শামীমার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেছিলেন। আপিল আদালতের তিনজন বিচারক সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের আবেদন খারিজ করে দেন।

২০১৯ সালে আইএস পরাজিত হওয়ার পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল–রোজ শিবিরে শামীমার সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি এখনো সেখানেই আছেন। শামীমার আইনজীবীরা বলছেন, সেই শিবিরের অবস্থা করুণ! সেখানে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। রোগবালাই নিত্যকার ঘটনা। সেখানে শামীমাকে অন্য ব্রিটিশ নারী ও শিশুদের সঙ্গে নির্বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে সেখানে।

শামীমা বেগম জেনেশুনে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগদানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এই কাজের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত। তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার যুক্তরাজ্যের সুরক্ষা এবং তা বজায় রাখা। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত রক্ষার্থে আমরা অটল থাকব।’

সিলেটে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আরও একটি ইটভাটা

সিলেট সদর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত ‘মেঘনা ব্রিকস’র স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার হাজিরাই মৌজার মুরাদপুর পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ব্রিকসফিল্ডের সব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবল ইসলাম। তাকে শাহপরান থানার পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সহায়তা করেন।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিলো মেঘনা ব্রিকস। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ ওই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেইসাথে ওই ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কৃষি জমির টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

বায়ুত্যাগের শব্দ শুনে আ. লীগ নেতাকে ধরল পুলিশ

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির বাথরুমের ওপরের স্টোররুমে লুকিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। তবে শেষরক্ষা হয়নি তার।

ওই নেতার বায়ুত্যাগের শব্দ শুনে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে ওই স্টোররুম থেকে নামিয়ে আনে পুলিশ।

রবিবার (৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের কয়েকজন সদস্য ওই নেতার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে স্টোররুম থেকে নেমে আসতে বলছেন। পুলিশ সদস্যদের নির্দেশে তিনি ওই রুমের ঢাকনা খুলে নিচে নেমে আসেন।

পরে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি চট্টগ্রামের বলে জানা গেছে।

লন্ডনে বাংলাদেশি দম্পতিকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি সোফিনা বেগম (৫২) ও আমিনুর রহমানকে (৫৫) ৯২ হাজার পাউন্ডেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৫ মার্চ ভোরে পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েল এলাকায় ওই ফ্ল্যাটে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মিজানুর রহমান নামে ৪১ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।

শ্যাডওয়েলের ম্যাডক্স হাউজ নামক ভবনে অবস্থিত দুই বেড রুমের এই ফ্ল্যাটে তিনজন থাকার অনুমতি থাকলেও সেখানে ২৩ জন বসবাস করতেন বলে জানা যায়। ফ্ল্যাটটিতে ১৮টি বিছানা ছিল, যেখানে কেউ কেউ বাংক বেড ভাগ করে ঘুমাতেন, আবার অনেকেই মাটিতে শুয়ে থাকতেন।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই মামলার রায় ঘোষণা রা হয়। এতে দম্পতি সোফিয়া বেগম ও আমিনুর রহমানকে পৃথক ধারায় ৯২ হাজার পাউন্ডেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
লন্ডনে বাংলাদেশি দম্পতিকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা
বিচারক এমা স্মিথ এই দম্পতিকে আবাসন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, বাড়িওয়ালারা আইন এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা দেখিয়েছেন। তারা কেবল নিজেদের আর্থিক লাভের জন্য মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

কোর্ট সেফিনা বেগমকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা, দুই হাজার পাউন্ড প্রসিকিউশন খরচ এবং প্রাণনাশের অপরাধের জন্য ৭৮ হাজার ৪৯ পাউন্ড বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন। আমিনুর রহমান, ‘অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অসচ্ছল’ বলে আদালতে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, তাকে দুই হাজার পাউন্ড জরিমানা এবং মাত্র ১.০১ পাউন্ড বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করা গেমা গিলেট আদালতে বলেন, এটি স্পষ্ট যে ফ্ল্যাটটি দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহভাবে গাদাগাদি ছিল। সেখানে ২৩ জন বসবাস করছিলেন, যার মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, কিছু বাড়িওয়ালা এখনও ভাড়াটিয়াদের শোষণ করে চলেছে, নিরাপত্তা নিয়ম উপেক্ষা করছে এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে—এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি সরকারকে জাতীয় পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নিজের তৈরি বিমানে আকাশে উড়লেন জুলহাস মোল্লা

নিজের তৈরি আরসি বিমানে আকাশে উড্ডয়ন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্ভাবক জুলহাস মোল্লা।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানটি উড়ায়। এর আগে সোমবার যমুনার চরে তার বিমানটি প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠতে সক্ষম হয়।

জুলহাস মোল্লার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া এলাকায় হলেও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে তার পরিবার বর্তমানে শিবালয় উপজেলার ষাইটগর তেওতা এলাকায় বসবাস করছে।

ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জুলহাস পঞ্চম। ২০১৪ সালে জিয়নপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তবে অর্থাভাবে পড়ালেখা আর চালিয়ে যেতে পারেননি। বর্তমানে ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করছেন ২৮ বছরের এই তরুণ।

জুলহাসের বাবা জলিল মোল্লা বলেন, জুলহাস ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্লাস্টিকের জিনিস কাটাকাটি করে কিছু একটা বানাতে চাইতো। জিজ্ঞেস করলে বলতো, একদিন দেখবে কী বানিয়েছি। গত চার বছর ধরে সে বিমান বানিয়ে উড্ডয়নের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু সফল হতে পারছিল না। তবে এবার সফল হয়েছে। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, জুলহাসের গবেষণা কাজে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রাথমিকভাবে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করে তাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে তারাবির নামাজরত অবস্থায় মুসল্লির মৃত্যু

সিলেটে নামাজরত অবস্থায় এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) রাতে পশ্চিম তেররতন মুসলিম শাহ (রহ.) জামিয়া মসজিদে তারাবির নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মুরশেদ মিয়া (৬৫)। তিনি সিলেট নগরীর পশ্চিম তেররতন এলাকার একটি কলোনীতে ভাড়া থাকতেন ও তার নিজের বাড়ি চট্টগ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সিলেট নগরীর পশ্চিম তেররতন মুসলিম শাহ (রহ.) জামিয়া মসজিদে সোমবার এশার জামাত শেষে তারাবির নামাজের প্রথম রাকাতেই মুরশেদ মিয়া (৬৫) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে তাকে অন্য মুসল্লিরা সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এলাকার বাসিন্দা সামাদ খান বলেন, তারাবির নামাজের প্রথম রাকাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে মসজিদের অন্য মুসল্লিদের সহযোগীতায় তার আত্মীয় স্বজনরা হাসপাতালে যায়। সেখানে দায়িত্বর চিকিসৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা দেন।

অবৈধভাবে ইসরাইল প্রবেশের চেষ্টা, গুলিতে নিহত ভারতীয়

জর্ডান থেকে বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলে ঢোকার সময় জর্ডান সেনার গুলিতে প্রাণ হারালেন এক ভারতীয়। নিহতের নাম থমাস গ্যাব্রিয়েল পেরেরা। তিনি ভারতের কেরালা রাজ্যের থুম্বার বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে ১০ ফেব্রুয়ারি। যদিও কেন তিনি ইসরাইলে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য জানা যায়নি।

জর্ডানের ভারতীয় দূতাবাস গতকাল রোববার (২ মার্চ )বিষয়টির কথা জানিয়েছে। একটি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে ওই ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে জর্ডানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে। এ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে দূতাবাস।

পরিবারের কাছে দেহ ফেরানোর জন্য জর্ডানের প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।পেশায় মৎস্যজীবী ও রিকশাচালক থমাস চলতি মাসে তিন বন্ধু মিলে পর্যটক ভিসা নিয়ে জর্ডানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার ৫ দিন পর, থমাস ও তার এক বন্ধু এডিশন অবৈধভাবে ইসরাইলে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় থমাসের। পাশাপাশি আহত হয়ে দিনদুয়েক আগে কেরালায় ফিরেছেন থমাসের বন্ধু এডিশন।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জর্ডানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি চিঠি আসে। যেখানে বলা হয়, থমাস ও অন্য একজন বন্ধু কারকাক জেলা দিয়ে অবৈধভাবে ইসরাইলে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে তাদের সতর্ক করা হয়। তারপরও সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলি চালায় পুলিশ। থমাসের মাথায় গুলি লাগায় সেখানেই মৃত্যু হয় তার। থমাসের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দূতাবাসের তরফে হাসপাতালে যাওয়া হবে।

সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। থমাসের পরিবারের কাছে তার পরিচয়পত্রও চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অ-আবাসিক কেরালাইটস অ্যাফেয়ার্স (NORKA) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অজিথ কোলাসেরি বলেছেন এটি একটি অবৈধ অভিবাসনের ঘটনা। বৈধ চাকরির ভিসা ছাড়াই তারা ইসরাইলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সমাজের নিম্নস্তরের নিরীহ মানুষ অসাধু রিক্রুটিং এজেন্টদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে। NORKA -কে এ ধরনের নিয়োগের বিষয়ে কখনই অবহিত করা হয় না। ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে চলছে অবৈধ নিয়োগ। লোকেরা যখন সমস্যায় পড়ে তখনই আমরা বিশদ বিবরণ পাই।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস