একটা সময় দেশের বৈদিশ মুদ্রা আয়ের প্রধান তিনটি খাত হচ্ছে পাট চা ও চামড়া। কিন্তু সেই দিন আর নেই। চা তার অবস্থান কিছুটা হলেও ধরে রাখতে পেরেছে। পাটের বৈদিশিক বাজার বলতে গেলে অনেক আগেই শেষ। চামড়ার বাজারও প্রায় ধ্বংসের মুখে।
এ অবস্থায় এবার সরকারের উদ্যোগে চামড়া শিল্পের সুদিন ফিরে আসার একটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আর এতেই আশার আলো দেখছেন সিলেটের চামড়া শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
একটা সময় কোরবানীর ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই চামড়া সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হতো। বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, গরুর চামড়া ছাড়ানোর লোকজন- এরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতেন। তারপর সেই চামড়া বিভিন্ন ট্যানারিতে পৌঁছে দিতেন, ভালো একটা দামও পাওয়া যেত।
এমনকি অনেক সময় গৃহস্তরা কোরবানীর পশুর চামড়া পাইকারি দরে বিক্রি করেও একটা ভালো পরিমাণ টাকা পেতেন, যা তারা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দান বা খরচ করতেন।
কিন্তু অন্তত গত ৮/১০ বছরে দেশের চামড়া শিল্পটাকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সঠিক কোনো ব্যবস্থাপনা না থাকায় কোরবানীর পশুর চামড়া নিয়ে অনেক সময় বিপদে পড়তেন কোরবানীদাতারা।
উপয়ান্তর না পেয়ে হয় নদীতে ভাসিয়ে দিতে হতো অথবা গর্ত খুঁড়ে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হতো। একসময় পশুর চামড়ার লোভে ছাল ছাড়ানো থেকে মাংস কাটার কাজ পর্যন্ত যারা রতে দিতেন সেই তারাই শুরু করলেন, নগদ টাকায় কাজ। চামড়ার কোনো চাহিদা তাদের ছিলনা।
তবে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে সবসময় চাহিদার তুঙ্গে থাকা এই চামড়া সংগ্রহ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিক্রি পর্যন্ত সব কাজেই তারা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
পর্যাপ্ত লবন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেশের সর্বত্র। সিলেট জেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৪৫ টন লবণ।
সরকারের এমন তৎপরতায় চামড়া শিল্পের সাথে জড়িতরা আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। আর মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের ঘোষণায় তারা আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
ডিসি সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পশুর চামড়া কোনো অবস্থাতেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবেনা। এটা জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করতে হবে। যথাসময়ে চামড়া বিক্রি করতে হবে। যদি চামড়া বিক্রি না হয়, তাহলে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তারাই সেই চামড়া সংগ্রহ করবেন। ন্যায্য মূল্যের আশ্বাসও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
তার এমন ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন সিলেটের কাওমি মাদরাসাগুলোর সংগঠন, কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছিল আগেই। তবে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের ঘোষণার পর তারা সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান বলেছেন, জেলা প্রশাসক ন্যায্য মূল্য দেওয়ার আশ্বাস, পরিবহণ ও দক্ষ কর্মী দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও সিদ্ধান্ত বদলেছি। আমরা চামড়া সংগ্রহ করবো। তবে শিক্ষার্থীরা ছুটিতে চলে যাওয়ায় আমাদের কিছু সমস্যা হবেই।
আর তাই তিনি নগরীর কোরবানীদাতাদের তাদের চামড়া নিকটস্ত মাদরাসায় পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে চামড়া শিল্পের সোনালী দিনের ব্যবসায়ী দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার আব্দুল কুদ্দুস (৬২) বলেন, খুশি লাগের। আবার ব্যবসা করতাম পারমু! সরকার চাইলে সবতাউ পারে। আগর সরকারে ই শিল্প ধ্বংস করছে। আবার সুদিন আইলে লাভতো আমরারউ। লগের দেশোরও। খালি আমি নায়, আমার হুরুতাও খুব খুশি।



