বিয়ানীবাজার উপজেলায় তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে নানা বাড়িতে পিতার দায়ের কোপে রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) নামে এক বিবাহিত তরুণী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, জুম্মার নামাজের সময় রিয়া থালাভাসন নিয়ে পুকুরে যায়। এর একটু পরে তার পিতা আবু বক্কর পুকুর ঘাটে নিজের মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে রিয়ার মৃত্যু ঘটে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দায়ের কোপে রিয়ার ডান হাতে কবজি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার ঘাড়সহ শরীরের বেশ কিছু জায়গা কোপের চিহ্ন রয়েছে। পুকুর ঘাটের সিঁড়িতে রিয়ার নিথর দেহের আশপাশে ছড়ানো রয়েছে থানাভাসন।
জানা যায়, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবককে ভালবেসে এক বছর পূর্বে ঘর থেকে পালিয়ে যান। একমাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। গত পরশু প্রেমিকে সাথে যোগাযোগ করে আবার পালানো চেষ্টা করে রিয়া। খবর পেয়ে তিাসহ পরিবারের লোকজন তাকে আটকায়। এ ঘটনায় পিতা আবু বক্করসহ পরিবারের লোকজন রিয়ার উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। রিয়ার বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড়ে হলেও সে বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের মশাহিদ আলীর নাতনি। প্রেমিকের সাথে পালানোর পর থেকে সে নানা বাড়িতে থাকতো। তাঁর পিতা আবু বক্কর গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর রায়গড় এলাকার বিলাল আহমদের পুত্র। পেশা তিনি অটোরিক্সা চালক।
এ ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি বিয়ানীবাজার থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছুবেদ আলী বলেন, বিষয়টি প্রেম ঘটিত ঘটনার জের থেকে পিতার দায়ের কোপে সে খুন হয়। মেয়েটি এক বছর পূর্বে তার প্রেমিকে সাথে পালিয়ে গিয়ে একমাস ছিল। তার পরিবারের অভিভাবকরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এরপর গত পরশু আবার সে পালানোর চেষ্টার সময় পিতা তাদের গাড়ি আটক করে মেয়েকে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মরদেহ=হের সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য সিলেট প্রেরণ করা হবে।


