ছোটবেলায় অনেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখেন। কেউ সেই স্বপ্ন পূরণ করে পাইলট হন, আবার কারও স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রিয় মানুষকে নিয়ে উড়ার ইচ্ছা। এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট তনিশ আরোরার দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সম্প্রতি। প্রথমবার নিজের পরিচালিত উড়োজাহাজে মাকে যাত্রী হিসেবে নিয়ে উড়েছেন তিনি।
শনিবার (১ আগস্ট) ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক আবেগঘন ভিডিওতে জীবনের বিশেষ এই মুহূর্তটি তুলে ধরেন দিল্লির বাসিন্দা তনিশ। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়- ডিউটিতে যাওয়ার আগে তিনি পাইলটের ইউনিফর্ম পরছেন। এরপর জানান- পাইলট হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পর এই প্রথম তার মা এমন একটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করছেন, যার দায়িত্বে আছেন তিনি নিজেই।
ভিডিওতে মা-ছেলেকে একসঙ্গে ক্যাবে করে বিমানবন্দরে যেতে দেখা যায়। পথে তনিশ মায়ের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি খুবই উচ্ছ্বসিত। বিমানবন্দরে পৌঁছে বোর্ডিংয়ের আগের মুহূর্তগুলোও ভিডিওতে ধরা পড়ে। টার্মিনাল দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত একসঙ্গে যান তারা। তবে বিমানে ওঠার আগে ফ্লাইট প্রস্তুতির জন্য তনিশকে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিতে হয়।
বিমানের দিকে যাওয়ার আগে তিনি মাকে জিজ্ঞেস করেন, উড্ডয়নের আগে কোনো কথা বলতে চান কি না। জবাবে মা শুধু বলেন, “ভালোভাবে এবং নিরাপদে উড়াও।”
এই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তনিশ বলেন, ছোটবেলায় মা তার হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিলেন। বহু বছর পর সেই তিনিই মাকে নিরাপদে আকাশে উড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
ফ্লাইট শেষে মায়ের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলের পরিচালিত বিমানে প্রথমবার ভ্রমণ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ভিডিওর শেষাংশে তনিশ লেখেন, জীবনে তিনি হয়তো হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়বেন, কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় যাত্রী সবসময়ই থাকবেন তার মা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মা-ছেলের এই আবেগঘন মুহূর্তকে স্বপ্নপূরণের গল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বিমান চলাচল খাতে কর্মরত একজন মানুষের জন্য নিজের পরিবারের কাউকে বহন করা সবচেয়ে বিশেষ অনুভূতিগুলোর একটি।
আবার অনেক অভিভাবকও এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, একদিন তার মেয়েও যেন তাকে নিজের পরিচালিত বিমানে যাত্রী হিসেবে নিয়ে উড়তে পারে- এটাই তার সবচেয়ে বড় আশা।


