সিলেট মহানগরের ঐতিহ্যবাহী ‘কিনব্রিজের’ একাংশ আড়াল করে ‘আই লাভ সিলেট’ নামে একটি সাইনেজ নির্মাণকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সিলেটবাসী অভিযোগ করেন, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে সিলেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নান্দনিকতা ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
প্রায় ১০০ বছর আগে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত কিনব্রিজকে সিলেটের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক সপ্তাহ ধরে ব্রিজের উত্তর অংশের বাঁ পাশে নদীতীরে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ নির্মাণের কারণে ব্রিজটির একটি অংশ আড়ালে চলে গেছে
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট সার্কিট হাউসের বিপরীতে সুরমা নদীর তীরে জায়গা উঁচু করে পাকা ভিত্তির ওপর আলোকসজ্জিত সাইনেজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাইনেজে ‘আই লাভ সিলেট’ লেখার পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশন ও একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লোগো আছে।
এ নিয়ে ফেসবুকে নাট্যকর্মী ডিএক্সএন মাসুম খান লিখেছেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ব্রিজ ঢেকে এই বিশ্রী জিনিস স্থাপনের আগে একবারও কি কারও মতামত নেওয়া দরকার ছিল না?’
লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জালাল জয় দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ‘কিনব্রিজ’ সিলেটের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু নতুন সাইনেজটি স্থাপনের পর পরিকল্পনায় সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, ‘সাইনেজটি এমনভাবে স্থাপন করা উচিত ছিল, যাতে ছবি তুললে একই সাথে ‘কিনব্রিজ ও সাইনেজ’—দু’টিই স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এতে ঐতিহ্যও ফুটে উঠত, আবার নতুন স্থাপনাটির উদ্দেশ্যও পূরণ হতো।’
এ বিষয় নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার পর তা ভাইরাল হয়েছে।
নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয় স্থান তৈরির উদ্দেশ্যে সাইনেজটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানায় সিটি করপোরেশন। এ জন্য কেবল স্থান ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় বহনের পাশাপাশি তত্ত্বাবধান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সিটি করপোরেশন কোনো অর্থ নেয়নি।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নগরের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও নান্দনিকতা অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়নকাজের চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরবাসীর রুচি ও প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিনব্রিজের সৌন্দর্য যেন আড়াল না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে সাইনেজের স্থানও পরিবর্তন করা হবে।’


