সিলেটে দীর্ঘদিন পর সরকারি উদ্যোগে বড় পরিসরে আরেকটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যেখানে সিলেটের প্রবাসীদের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ থাকবে।
সিলেটে সরকারি উদ্যোগে বর্তমানে দুটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যা শাহজালাল উপশহর ও হাউজিং এস্টেট নামে পরিচিত। এরমধ্যে হাউজিং এস্টেট ১৯৬৪ সালে গড়ে তোলা হয় আর উপশহর গড়ে ওঠে আশির দশকে।
এই দুটি আবাসনই দীর্ঘদিন আগে গড়ে তোলা হয়েছিলো। এগুলোতে বর্তমানে কোন প্লট খালি নেই। তবে এই সময়ে সিলেটের জনসংখ্যা অনেকগুণ বেড়েছে। ফলে আবাসন সমস্যায় পড়তে হয় নগরবাসীকে।
দীর্ঘদিন পর অবশেষে নতুন একটি আবাসন প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সরকারি উদ্যোগে সিলেটে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার তথ্যটি প্রথম সামনে আসে শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের একটি বক্তব্যে।
শনিবার নগরের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘প্রবাসী সম্মাননা ২০২৫ অনুষ্ঠানে’ এ তথ্য জানান সারওয়ার আলম। এ অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, আশা করছি, ছয় মাসের মধ্যে এই কাজটি শুরু হবে।
এই খবর জানার পর থেকেই অনেকেই প্রশ্ন করছেন, নতুন আবাসন প্রকল্পটি কোথায় হচ্ছে?
এ ব্যাপারে রোববার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নতুন আবাসন প্রকল্প কোন স্থানতে হচ্ছে তা জানাতে চাননি।
জেলা প্রশাসক বলেন, সঙ্গত কারণেই আমি জায়গার নাম বলছি না। কারণ নাম বললেই দেখা যাবে একটি গোষ্ঠী জমির দাম বাড়িয়ে দেবে। জমি কেনাবেচা শুরু হয়ে যাবে।
তবে সারওয়ার আলম বলেন, এটি হবে সিলেট শহরের কাছেই। উপশহরের মতো। প্রায় তিন হাজার বিঘা জায়গা নিয়ে। এটা এখনও প্ল্যানিং পর্যায়ে আছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমোদন পেলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
নতুন আবাসন প্রকল্পে প্রবাসীদের জন্য কিছু প্লট বরাদ্দ থাকবে জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তাসহ সব সুযোগসুবিধা এখানে নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি এখন আন্ডার প্রসেসে আছে।
এরআগে শনিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের উদ্দেশে সারওয়ার আলম বলেছিলেন, আপনারা জেনে শুনে খুশি হবেন, ইতোমধ্যে সিলেট শহরের সাথেই শুধুমাত্র প্রবাসীদের জন্য প্রায় তিন হাজার একর জায়গা নিয়ে একটি নতুন শহর গড়ার কাজ হাতে নিয়েছি। এখানে কেবল প্রবাসীরাই থাকবেন। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে একটি নতুন শহরের জন্ম হবে। যেখানে প্রবাসীরা ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে পৃথিবীর যত সুযোগ সুবিধা আছে তারা এখানে পাবেন। প্রবাসীরা যখন দেশে আসেন তারা যেন সেইফলি এখানে থাকতে পারেন। এখানে তাদের কোন সমস্যা হবে না।
এতে সিলেটের জেলা প্রশাসক আরও বলেছিলেন, সরকারের যারা এই কাজটি করছেন তারা ইতোমধ্যে এসে জায়গা দেখে গেছেন। জরিপ চলছে। এটি অনেকটি এগিয়ে গেছে। আশা করছি, ছয় মাসের মধ্যে এই কাজটি শুরু হবে।




