ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন সিলেট-১। রাজনৈতিক দলগুলো এই আসনে খুবই হিসাব-নিকাশ করে প্রার্থী দিয়ে থাকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতসহ ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
এ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বাছাইয়ে বাতিল এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হক আপিলে ভোটের মাঠে ফিরেছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা ও নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিয়েছেন। হলফনামার তথ্যমতে, কোটিপতি দুই প্রার্থী বিএনপির খন্দকার মুক্তাদির ও জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় সর্বোচ্চ এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নির্বাচন ব্যয় মেটাবেন দানের টাকায়।
আর মাওলানা হাবিবুর রহমান নির্বাচনী তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহ করবেন-উভয়ে এমনটি উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।
স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগ্নের টাকায় নির্বাচন করবেন মুক্তাদির:
হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নির্বাচনে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। উৎস হিসেবে দেখান স্ত্রীর হাতে থাকা নগদ অর্থ ও কোম্পানি থেকে পাওয়া সম্মানী বাবদ ১৫ লাখ এবং ব্যবসায়ী ভগ্নিপতির কাছ থেকে নেবেন ১০ লাখ টাকা। এছাড়া চাকরিজীবী ভাগ্নের কাছ থেকে আরও দানের ৫ লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন।
মুক্তাদির তার গৃহসম্পত্তি ব্যতীত ময়মনসিংহ, গাজীপুর, সিলেট ও ঢাকায় ১ হাজার ৯৩৮ দশমিক ৫ শতক অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪০ টাকা। অন্যান্য সম্পদের মধ্যে আছে ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ও কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ৭ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৪ টাকা। সর্বসাকুল্যে ২৫ কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩৪ টাকার মালিক তিনি। পক্ষান্তরে ব্যাংকে দেনা দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮ হাজার ৫১১ টাকা। তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ৩৯ লাখ ২১ হাজার ৯২২ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় উল্লেখ করেছেন ২৯ লাখ ৩৭ হাজার ১৮৬ টাকা।
হলফনামায় ১০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেখিয়েছেন নিজের নামে এবং স্ত্রীর নামেও রয়েছে ৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও শেয়ার। শেয়ার থেকে নিজের আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ২১ হাজার ৯২২ টাকা, স্ত্রীর নামে ৫৮ হাজার ৪১৫ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে নিজের ৩০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা আয় দেখান হলফনামায়।
অস্থাবর সম্পত্তি নিজ নামে নগদ ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮১ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ১৯৩ টাকা, স্ত্রীর নামে ৬২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে (কন্যা) ৩৩ হাজার ৮৭৭ টাকা।
নিজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ সর্বমোট ৭ কোটি ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ব্যবসায় বিনিয়োগ মোট ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর নামে আছে ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩৯ টাকা। নিজ নামে যানবাহন রয়েছে ৬২ লাখ ২২ হাজার ২৬ টাকার। স্বর্ণালংকার নিজ নামে ৫০ ভরির দাম দেখিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর ৫০ ভরি স্বজনদের উপহারের। ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র নিজ নামে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার। রেমিট্যান্স দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৯ হাজার ৬২৩ টাকা।
স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন-কৃষিজমি ৭৯২ শতক (১ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৯০ টাকা) এবং অকৃষি ১,১৩৮ দশমিক ৫০ শতক (১ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ৪০০ টাকা)। সর্বমোট অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ২ কোটি ৭৮ লাখ ৯২ হাজার ২৯০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
নিজ নামে সর্বমোট ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ৭৯৮ টাকার সম্পদ দেখান। তবে তার নামে দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকে দেনা দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার ৫১১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৩ হাজার ৭১০ টাকা। প্রদর্শিত আয়ের বিপরীতে আয়কর রিটার্নও দেখিয়েছেন তিনি।
কোটিপতি হাবিবুর, স্ত্রী নিঃস্ব!
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজ তহবিল থেকে ৩০ লাখ টাকায় নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন। স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ ও নগদ অর্থ নেই। নিজের নামে স্বর্ণালংকারের মূল্য দেখালেও স্ত্রী যেন সবকিছুতেই নিঃস্ব।
হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, নগরের সুবহানীঘাটে অবস্থিত ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তিনি বছরে মোট আয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪৭ টাকা এবং ব্যয় দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৮ টাকা।
অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সিসিক এলাকায় এক একর ৪১ শতক জমির মূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ২০ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ টাকা। শহরতলীর খাদিমনগরে ৩টি দোকানের দাম ১৯ লাখ টাকা এবং শেয়ার ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। পৈতৃক সম্পদ ব্যতীত অন্যান্য স্থাবর সম্পদের মধ্যে নগরের লামাপাড়া মোহিনী-১০৪/খ বাসার মূল্য ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৬ টাকা উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।
অন্যদিকে, কামিল পাস জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের। পেশা ব্যবসা থেকে আয় বছরে ২০ লাখ ৫২ হাজার ২৮০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে নগদ ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ৩২৯ টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪ লাখ ৯০ হাজার ৩৭৬ টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ১৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। যানবাহন আছে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকার, স্বর্ণালংকার রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার এবং ইলেকট্রিক পণ্যসামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার। তবে স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদের তথ্য নেই হলফনামায়।
এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে অকৃষি জমি ১০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকার এবং ভবনের দাম দেখিয়েছেন ১৯ লাখ টাকা, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট ৬২ লাখ ৮৬ হাজার ১৬১ টাকা এবং অন্যান্য সম্পদ ৪৮ হাজার ৭৭৩ টাকার। ব্যাংকে নেই দায়দেনা এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেখিয়েছেন এই প্রার্থী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ



