Monday, April 20, 2026

Top 5 This Week

Related Posts

কেন বন্ধ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল ফার্মেসি, যা জানা গেলো

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। রোববার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। এটি বন্ধ হওয়ার পেছনে নানা কারণের কথাও বলছেন কেউ কেউ।

একটি পারিবারিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হয়েও সিলেটের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে হয়ে ওঠেছে এই ফার্মেসি। ফলে এটি বন্ধ হওয়ার খবরে ব্যথিত হয়েছেন দেশ বিদেশে বসবাসরত সিলেটের বাসিন্দারা। তাদের স্মৃতি আর বেড়ে ওঠার অংশ হয়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ফেসবুকে। এটি পুণরায় চালুরও দাবি ওঠেছে।

সেন্ট্রাল ফার্মেসি পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে- এই বন্ধ সাময়িক।

এ ব্যাপারে রোববার রাতে সেন্ট্রাল ফার্মেসি পরিবারের সদস্য লিপি অন্যুথা ফেসবুকে দেওয়া এক স্টাটাসে লিখেন- ‘সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে —আমাদের সেন্ট্রাল ফার্মেসী বন্ধ রাখা বা খোলা রাখা সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত। পরিবারের সকলের সম্মতিক্রমে পরিচালনা/ ব্যবস্থাপনাগত সাময়িক সংকটের জন্য আপাতত এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পেছনে কোনো রহস্য নেই, কোনো নাটক নেই।’

ফার্মেসি বন্ধ নিয়ে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে তিন আরও লিখেন- ‘অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে লক্ষ্য করছি যে, কিছু সুবিধাবাদী ও কুচক্রী মহল এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আজেবাজে গুজব ছড়াচ্ছে। তারা তথাকথিত ‘পারিবারিক কলহ’ বা ‘আজগুবি খবর’ ছড়িয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সবার অবগতির জন্য বলছি: যারা এই ধরণের মিথ্যাচার করছে, তারা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী তো নয়ই, বরং সরাসরি শত্রু। পারিবারিক বিষয়ে নাক গলানো এবং সম্মানহানি করা কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়!’

সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ১৯৪৫ সালে যাত্রা শুরু করে সেন্ট্রাল ফার্মেসি। চালুর পরর থেকে এটি হয়ে ওঠে সিলেটের মানুষদের সব ধরণের ওষুধের ভরসাস্থল। দুতিন ধরে এটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাই ব্যতিত করেছে সকলকে।

এটি বন্ধের কারণ জানিয়ে প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক ইব্রাহিম চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন- সেন্ট্রাল ফার্মেসি—সিলেট শহরের এক ঐতিহ্যবাহী ও আইকোনিক প্রতিষ্ঠান। শহরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটির সূচনা হয়েছিল অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের সময়ে। সিলেট অঞ্চলের এমন খুব কম পরিবারই আছে, যারা কোনো না কোনো সময় এই ফার্মেসির সেবা গ্রহণ করেনি। ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে যে পরিবারটি রয়েছে, তারা সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ পরিবারগুলোর একটি।

এই পরিবারের অন্তত তিন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে—কেউ আমাদের বাবা-চাচার বন্ধু, কেউ আমাদের সহপাঠী, আবার কেউ অনুজ প্রজন্মের সঙ্গী। বিনয়, পেশাদারিত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য এই পরিবারটি শহরে বিশেষ সম্মান অর্জন করেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ করেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে সেন্ট্রাল ফার্মেসি বন্ধ হয়ে গেছে, এবং এর পেছনে “পারিবারিক কলহ”কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—যার কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছিল না।

বাস্তবতা ভিন্ন। পরিবারের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফার্মেসিটি বন্ধ হওয়ার পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ নেই। বরং সময় ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে আপাতত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পরিবারের অনেক সদস্য এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। সিলেট শহরের মূল্যবান ওই সম্পত্তিতে বসবাসকারী সদস্যদের সংখ্যাও কমে গেছে।

দেশে থেকে ব্যবসার তদারকি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরেই কিছু বাস্তব সংকট চলছিল। তাছাড়া পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের অনেকেই শারীরিকভাবে আর সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনার অবস্থায় নেই।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের জন্য যেমন আবেগের বিষয়, তেমনি সিলেটবাসীর জন্যও একটি বেদনাদায়ক খবর। তবে এটি কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্বের ফল নয়—বরং সময়ের পরিবর্তন ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই “পারিবারিক কলহ”-এর মতো ভিত্তিহীন কারণ ছড়িয়ে পড়া শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের জন্য কষ্টদায়ক ও বিব্রতকরও বটে।

Popular Articles