Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 5

সিলেটে প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যার ‘দায় স্বীকার’ তামান্নার

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)।
পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় নিজের শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) কে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তামান্না আক্তার (২২)

মঙ্গলবার তামান্না আক্তার হবিগঞ্জের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া।

এরআগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার পরকীয়া প্রেমিক ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসীকে হত্যা করে ঘটনাটি চুরি বলে চালিয়ে দিতে তামান্নাকেও বেঁধে রেখে যায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ তামান্না আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার মধ্যসমেত গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই স্থান থেকে একইভাবে বাঁধা অবস্থায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিয়ের সময় পাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার শাশুড়ি ফেরদৌসী চৌধুরীর কাছে রাখা ছিল। এ নিয়ে তামান্নার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর মধ্যেই শিপন মিয়া নামে এক টিকটকারের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।

রোববার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে দুই সহযোগীকে নিয়ে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে আসেন শিপন।

পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরদৌসী বাধা দিলে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি চুরি হিসেবে দেখাতে তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয়।

মঙ্গলবার নিহতের ভাই এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তামান্নাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

দিনদিন সিলেট বিভাগে বাড়ছে ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি-র্যা-ত-ন

সিলেট বিভাগে বাড়ছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ৫৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরো ১১২ জন নারী। ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নারীরা। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৪৭৬টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৫৪ জন নারী। ২০২৪ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১ হাজার ৩৩০টি। তিন বছরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ছয় শয্যার একটি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু রয়েছে। সেখানে পাঁচজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, চারজন পুলিশ, একজন আইনজীবী এবং ডিএনএ ল্যাবে তিনজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আরডব্লিউডিও–এর স্বাধীনতা প্রকল্পের ভলান্টিয়ার নাফিসা তানজীন বলেন, “যারা প্রকৃতপক্ষে নির্যাতনের শিকার হন, তাদের অনেকেই আইনের দ্বারস্থ হন না। এটি একটি বড় কারণ। ফলে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ অনেক সময় সঠিকভাবে হয় না।”

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেক অপরাধী শাস্তি থেকে বেঁচে যান। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসেই সেখানে ভুক্তভোগী নারীদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। সেবা দিতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. মুস্তাফা আল্লামা তালুকদার পিয়াল বলেন, “ভুক্তভোগীদের আমরা চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় শিশু বা নারীকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হয়।”

তিনি জানান, আগে একটি প্রকল্পের আওতায় এ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সীমিত জনবল ও সুযোগ–সুবিধা নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। নতুন করে প্রকল্প চালু করা গেলে সেবার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।

ওসিসির আইন কর্মকর্তা পান্না সমাদ্দার বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মামলার বাইরে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে আপস করা হয়। এতে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়। যার কারণে তারা আবারো একই ধরনের অপরাধ করার সাহস পায়।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রয়েছে, তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।”

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় যেসব ঘটনা ঘটে, সেসব বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ঘটনা ঘটার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হই।”
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি.কম

সিলেটের কানাইঘাটে ঝড়ে ঘর হারিয়ে দিশেহারা শিশু সন্তান

সিলেটে গত দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে কান্না শুরু করে হান্নান হোসেন (৫) নামে এক শিশু। শনিবার (১৪ মার্চ) মধ্যরাতে ব্যাপক ঝড় ও মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি হয়। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ ২য় খন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শনিবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দেয়।

জানা গেছে, ঝড়ের কবলে হান্নান হোসেনের ঘরের চাল উড়ে গেলে সে পাশে থাকা চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিতে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি বৃদ্ধি হলে আতঙ্কিত হয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে খুঁজে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

হান্নান হোসেনের চাচা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘রাতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের ঘরের চাল উড়ে যায়। তখন আমরা সবাই ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় ঘরের ভেতরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা সহ আমাদের পরিবারে সাতজন সদস্য রয়েছে। তখন পাশের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবাই ছুটাছুটি করছিলাম। ভিডিওটি আমি আমার ফেসবুকে দিলে সেটি ভাইরাল হয়। আমাদের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের এই খারাপ অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও দেখে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকেই সাহায্য করার কথা বলছেন।’

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা তাদের খোঁজ নেননি বলে জানান তিনি। সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো পার্শবর্তী ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে আছি।’

সিলেটে মরা গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন শমসুল, অতঃপর…

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করা হয়। একই সময় দোকানে থাকা একটি জীবিত গরু নিলামে বিক্রি করা হয়।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার হেমু বেলুপাড়া এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শমসুল মিয়া (৫০) তার দোকানে মৃত গরুর মাংস বিক্রি করছেন এমন খবর স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাজারের পরগনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন মাওলানা এমাদ উদ্দিন গরু জবেহ করে থাকেন। তবে সোমবার কোনো গরু জবাই না করেই শমসুল মিয়া তার দোকানে মাংস বিক্রি শুরু করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিস পলি রাণী দেব ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দোকান থেকে একটি গরু চিতরা প্রায় ৯০ কেজি মাংস, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা এবং দুইটি ফ্রিজে রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাংস জব্দ করা হয়।

এসময় দোকানে থাকা আরেকটি জীবিত গরু ৭৩ হাজার টাকায় জনৈক আব্দুল হান্নানের কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়। জব্দকৃত মাংস ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, হরিপুর বাজারের একটি মাংসের দোকানে মৃত গরুর মাংস বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।

সিলেটে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার ধলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই জেলের নাম রাম চন্দ্র তালুকদার (৫৫)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মহানন্দ তালুকদারের ছেলে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার একটি কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রাম চন্দ্র তালুকদারসহ সুনামগঞ্জের কয়েকজন মৎস্যজীবী নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ধলাই নদীতে জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। রোববার সন্ধ্যার পর রাম চন্দ্র একাই একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যান। এই সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৯টার দিকে নদীতে থাকা অবস্থায় তিনি বজ্রপাতে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সিলেট নগরীর শারদা স্মৃতি ভবনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের উদ্যোগে মহানগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের উন্নয়নে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির কারণে যাতে ইমামদের চাকরি না হয় কিংবা চাকরি হারাতে না হয়, সে জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি তারা যাতে চার-ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন, সেভাবে সম্মানী নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

সব উন্নয়ন কাজের স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং জনগণের আস্থা বাড়ে।

সিসিকের বর্তমান প্রশাসকের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একজনকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছি, যার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। তার নেতৃত্বে আগামীতে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে সম্মানী পান তা অপ্রতুল। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিসিকের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সামান্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নগর উন্নয়নে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘আগে সিলেট সিটি করপোরেশনে ছিল ২৭টি ওয়ার্ড, এখন হয়েছে ৪২টি। এত বড় নগরের সব সমস্যা একা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি না নগরবাসী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। ইমামগণ যদি জুমার খুতবায় নগরবাসীকে সচেতন করেন, তবে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে।’

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার পরই সিলেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়তে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট গড়ে তুলতে পারব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

অনুষ্ঠানে সিলেট নগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২০১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী বিতরণ করা হয়।

সিলেটে রেকর্ড বৃষ্টি, ঝড়ে লন্ডভন্ড জনপদ

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি প্রবল ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে গাছের ডালপালা। ফলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগে মারাত্মক বিঘ্ন হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় ৭১ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী তিন ঘণ্টায় আরও ১২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে অনেক পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। ভিজে নষ্ট হয়েছে ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র। বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় যোগাযোগ ও সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরীর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাইঘাট উপজেলার একটি ভিডিওতে ঝড়ে ঘরের টিন উড়ে যাওয়ার পর এক শিশুর আতঙ্কিত হওয়ার দৃশ্য জনমনে নাড়া দিয়েছে। এছাড়া নগরীর চৌকিদেখি এলাকায় ট্রান্সমিটারের পাশে গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেট জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হলেন বিয়ানীবাজারের আবুল কাহের শামীম

সিলেট জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাঁর এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

নবনিযুক্ত প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম সিলেটের রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সরকার একযোগে ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা এবং স্থবির হয়ে পড়া প্রকল্পগুলোকে গতিশীল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা পরিষদগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষে এই রদবদল করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ উঠেছিল, নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই দায়িত্বে আনায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নতুন প্রশাসকদের হাত ধরে জনসেবা আরও সহজতর হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সিলেটে নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধ

পারিবারিক ও সামাজিক সুদৃঢ় বন্ধনে সিলেটের সুখ্যাতি রয়েছে। অতিথিপরায়ণ হিসেবেও সিলেটবাসীর সুনাম দেশজুড়ে। কিন্তু গত দেড়মাসে হঠাৎ শান্তির জনপদে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে অপরাধ। সেই সাথে সিলেট হয়ে উঠেছে রক্তাক্ত।

পুলিশের ওপর হামলা, অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, চোরাচালান, মাদকসেবীদের দৌরাত্ম ও মাদক কারবারিদের তৎপরতার পাশাপাশি সিলেটে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। একই সাথে স্বজনরাই যেন হয়ে উঠেছেন ‘ঘাতক’। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সিলেটে বেড়েছে খুনাখুনি।

সিলেট বিভাগে গত দেড় মাসে অন্তত ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রাণহানির বেশির ভাগই ঘটেছে তুচ্ছ ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ায় দিনদিন এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে বাড়ছে লোভ, স্বার্থপরতা। কমছে পরমতসহিষ্ণুতা। এজন্যই ছোটখাটো ঘটনায়ও স্বজনের প্রাণ কেড়ে নিতে মানুষ দ্বিতীয়বার ভাবছে না।

এদিকে, সিলেট মহানগরী এলাকায় গত দেড়মাসে অপরাধীরা যেন নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়েছিলো। অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলো পুলিশ। তবে এবার অপরাধীদের জগতকে কামিয়ে দিচ্ছে পুলিশের সাড়াশি অভিযান। নিয়মিত পুলিশের অভিযানে অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছে অপরাধীরা। তবুও পুলিশ তাদেরকে ধরতে গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে চালিয়ে যাচ্ছে অভিযান।

গত বুধবার (১১ মার্চ) রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাবনা এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন এএসআই (নিঃ) অরুন চন্দ্র কৈরী।

এসময় তাকে পিকআপ চালক জুয়েল আহমদ থাপ্পড় দেন। ফেসবুকে থাপ্পড় দেয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে এ ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় জুয়েলকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় ‘সিনেমাটিক স্টাইলে’ কর কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার নামের এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই করে ছয়জন।

এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে ‍পুলিশ। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইয়াসমিন আক্তারের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া ছিনতাই জগতের হোতা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য রশিদ আহমদ ওরফে রশিদকে সিলেটের কানাইঘাট এলাকা থেকে বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে তাকে গ্রেফতার করে।

ওই ঘটনার সাথে জড়িত আরও ৫জন ছিনতাইকারী এখনও লাপাত্তা রয়েছে। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ৫ মার্চ সকালে নগরীর সাগরদীঘিরপাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন এক কলেজছাত্রী। সেই ভিডিও আগের মতো ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা যায়নি। অপরদিকে সিলেটের কুমারগাঁও এলাকায় অপু আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ২টার দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ধরে।

এসময় হেলমেট ও মাস্ক পরা ছিনতাইকারীরা অপু ও তার চাচাতো ভাইয়ের গলায় রামদা ঠেকিয়ে সঙ্গে থাকা সবকিছু দিতে বলে। প্রাণভয়ে ওই ব্যবসায়ী তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ছিনতাইকারীরা নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী অপু কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ‘নাজমা নিবাস’ নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।

এসময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সুহেল সরকার বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করার ধারালো চাকু, কেচি, লোহার রড ও স্টিক উদ্ধার করে। এরআগে ওই বাসায় জিম্মী ছিলেন সুহেল সরকার (২২)। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মৌলভীবাজার সদরে শিশুদের নিয়ে ঝগড়ার জেরে ছুরিকাঘাতে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে মৌলভীবাজার শহরতলীর সার্কিট হাউস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম তামিম আহমেদ (১৬)। তিনি ওই এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত হানিফ মিয়া (৩৫) তামিমের আপন বড় ভাই।

তামিম তার বড় ভাই হানিফের ছেলেকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে বড় ভাই হানিফ ধারালো ছুরি দিয়ে তামিমকে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তামিমের মৃত্যু হয়।

গত ১২ মার্চ রাত ১২টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাটে সুমন মিয়া নামের এক কিশোরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের তয় খন্ড গ্রামের একটি মুরগির খামারটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন মিয়া (১৫) উপজেলার ফতেহপুর তয় খন্ড গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। সুমনের মুখ বাঁধা ছিল এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কাটা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের পাশেই একটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহটি গুম করার পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের।

এছাড়া পরকিয়ার জেরে গত ১০ মার্চ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর রিপন মিয়া (২৭) নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চক সালন বাঘেরটেকি এলাকায় মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ঢালের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা হানু মিয়ার ছেলে। রিপন মিয়াকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ আলীনগর গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে সাকিবকে গ্রেফতার করেছে। সে নিহত রিপনের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। সেই সুবাদে নিহত রিপনের বাড়িতে আসা যাওয়া ছিল। নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সাকিব।

সিলেট মহানগর কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সিলেট মহানগরী এলাকায় অপরাধীদের তৎপরতা রোধে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে। সেই সাথে বেড়েছে পুলিশের নজরদারি। মাঠ পর্যায়ের পুলিশের পাশাপাশি মহানগরীতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কেউ কোন অপরাধ করলে কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি জানান, সিলেটে প্রকাশ্যে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আমরা ছিনতাই রোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের ‍মূল উদ্দেশ্য নগরবাসীকে শান্তিতে রাখা। শুধু ছিনতাই প্রতিরোধ নয়, সব ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন টিমের পাশাপাশি দু-একদিনের মধ্যে রাতের নগরী ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আমরা যা করছি তার সফলতা জনগণ বলতে পারবে।
তথ্যসূত্র: সিলেটভিউ২৪ডটক

সিলেটে এবার গলায় রামদা ঠেকিয়ে দুই লক্ষ টাকা ছিনতাই

সিলেটে এবার ব্যবসায়ীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে দুই লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়াও ছিনতাইকারীরা ব্যবসায়ীর নগদ টাকাসহ তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এর আগে সিলেট নগরীতে আরো দুটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ২টার দিকে নগরীর কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ছিনতাইয়ের শিকার অপু ফ্লেক্সিলোড ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রির ব্যবসা করেন। ব্যবসায়ী অপু শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও ‍পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন ছিনতাইকারী অপুকে ঘিরে ধরে। এ সময় হেলমেট ও মাস্ক পরা ছিনতাইকারীরা অপু ও তার চাচাতো ভাইয়ের গলায় রামদা ঠেকিয়ে সঙ্গে থাকা সবকিছু দিতে বলে। প্রাণভয়ে ওই ব্যবসায়ী তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দেন। মুর্হুতের মধ্যেই ছিনতাইকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। অপরাধীদের সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’

এরও আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর অভিজাত হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক নারী ছিনতাইয়ের শিকার হন। সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার নয়দিন পর গত ৫ মার্চ সকালে নগরীর সাগরদিঘীর পাড় এলাকার ৩ নম্বর সড়কে এক কলেজছাত্রী ছিনতাইয়ের শিকার হন। ওই ঘটনারও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।