সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)।
পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় নিজের শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) কে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তামান্না আক্তার (২২)
মঙ্গলবার তামান্না আক্তার হবিগঞ্জের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া।
এরআগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার পরকীয়া প্রেমিক ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসীকে হত্যা করে ঘটনাটি চুরি বলে চালিয়ে দিতে তামান্নাকেও বেঁধে রেখে যায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ তামান্না আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার মধ্যসমেত গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই স্থান থেকে একইভাবে বাঁধা অবস্থায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিয়ের সময় পাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার শাশুড়ি ফেরদৌসী চৌধুরীর কাছে রাখা ছিল। এ নিয়ে তামান্নার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর মধ্যেই শিপন মিয়া নামে এক টিকটকারের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।
রোববার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে দুই সহযোগীকে নিয়ে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে আসেন শিপন।
পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরদৌসী বাধা দিলে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি চুরি হিসেবে দেখাতে তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয়।
মঙ্গলবার নিহতের ভাই এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তামান্নাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।



