ভারতের কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)-এর নেত্রী ফাতেমা তাহলিয়া।
সোমবার (৪ মে) ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে সিপিআই(এম)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কোঝিকোড় জেলার পেরামব্রা আসনে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) কনভেনার টি পি রামকৃষ্ণানকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
এ জয়ের মাধ্যমে তাহলিয়া আইইউএমএল-এর ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন।
ফাতেমা তাহলিয়া পেশায় একজন আইনজীবী এবং কোঝিকোড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাউন্সিলর। তার এই ঐতিহাসিক জয়কে ‘জায়ান্ট কিলিং’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারণ ১৯৮০ সাল থেকে পেরামব্রা আসনটি টানা সিপিআই(এম)-এর দখলে ছিল। দীর্ঘ চার দশকের সেই আধিপত্য ভেঙে দিয়ে তাহলিয়া ইউডিএফ (ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) শিবিরে আনন্দের জোয়ার এনেছেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ইউডিএফ অভিযোগ করেছিল, তাহলিয়ার বিরুদ্ধে এলডিএফ সাম্প্রদায়িক প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল।
লিঙ্গ সমতা ও রাজনৈতিক লড়াই
আইইউএমএল এবার মোট ২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র দুই জন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছিল, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন তাহলিয়া। এর আগে দলটির ইতিহাসেই মাত্র দুই জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউ জয়ী হতে পারেননি।
উল্লেখ্য, তাহলিয়া কেবল বিরোধী পক্ষের সঙ্গেই লড়াই করেননি, বরং দলের ভেতরেও সংস্কারবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২২ সালে তিনি দলের অভ্যন্তরে নারী অধিকার এবং লিঙ্গ সমতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী শাখা ‘হারিতা’-র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি ছিলেন।
দলে নারী অধিকার প্রসঙ্গে ফাহিমা তাহলিয়া বলেন, ‘এটি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না, বরং রাজনীতিতে নারীদের মর্যাদা ও স্থান নিশ্চিত করার লড়াই ছিল।’
অবশ্য তাহলিয়ার রাজনৈতিক জীবন অতটা সহজও ছিল না।
এমএসএফ-এর সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলায় এবং সেই বিষয়ে মুখ খোলায় তাকে এমএসএফ-এর জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ‘হারিতা’ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবুও তিনি পিছু হটেননি। বর্তমানে তিনি মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাহলিয়ার এই বিজয় কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একজন তরুণ, সুবক্তা এবং নির্ভীক নেত্রী হিসেবে তার উত্থান আইইউএমএল-এর ভেতরে নারী প্রতিনিধিত্ব ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




