Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 7

বিয়ানীবাজারে চালকের হাত-পা বেঁধে সিএনজি ছিনতাই: ৪ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

বিয়ানীবাজারে চালকের হাত-পা বেঁধে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনার পাঁচদিন পর চারজনকে আটক করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

আটকরা হলেন- বিয়ানীবাজারের মাথিউরা ইউনিয়নের পূর্বপার গ্রামের সমছ উদ্দিনের ছেলে রাজন আহমদ (৩৫), জকিগঞ্জের নিজগ্রাম এলাকার মখলিছুর রহমানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সরোয়ার (২৮), একই উপজেলার শাহগলি নিদপুর এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে সালেহ আহমদ সুলতান (৩৫) এবং চাঁদপুরের মতলবের জহিরাবাদ এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মাহমুদ হোসেন জাহিদ (৩৫)।

পুলিশ জানায়, যাত্রী সেজে সিএনজি ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে জকিগঞ্জ থেকে বিয়ানীবাজারের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় গ্যাস নিতে আসা এক সিএনজি চালককে বিয়ানীবাজার থেকে নিদনপুর যাওয়ার কথা বলে যাত্রী সেজে ভাড়া নেন তারা। পরে উপজেলার লাসাইতলা হাওরের মাঝখানে নিয়ে চালকের হাত-পা বেঁধে মারধর করে সিএনজিটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় চক্রটি।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং ছিনতাই হওয়া সিএনজিটি উদ্ধার করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সিলেটে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাক, তেল বিক্রি বন্ধ

কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে অপ্রীতিকর ঘটনার পর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন সিলেটের সিএনজি রিফুয়েলিং ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা।

দুই দফা দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে সোমবার রাতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

সিএনজি রিফুয়েলিং ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ জানান, আজ (সোমবার) আমার পাম্প, চৌকিদিখি এলাকার আরেকটি পাম্পসহ সিলেটের কয়েকটি পাম্পে অপ্যতিকর ঘটনা ঘটেছে। তেল না পেয়ে বিভিন্ন পাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মোদের পাম্প চালু রাখা সম্ভব না।

তিনি বলেন, আমরা ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল সরবরাহ পাচ্ছি না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো তেল দিতে পারছি না।

তিনি বলেন, দুই দফা দাবিতে আমরা আজ রাত থেকে আমরা সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মঙ্গলবার দুপুর ২টার মধ্যে পেট্রোল পাম্পে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল সরবরাহের দাবি আমাদের।

এরআগে সোমবার (৯ মার্চ) ইফতারের পূর্বে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার মেসার্স উত্তরা পেট্রোলিয়ামে সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মীচারীকে ছুরিকাঘাত করেছেন এক গ্রাহক। আহত কর্মচারী মিঠু গোয়ালা মালিনীছড়া চা-বাগানের বিজয় গোয়ালার ছেলে।

মেসার্স উত্তরা পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার মারুফ আহমদ চৌধুরী বলেন, তেল নিতে আসা এক ব্যক্তিকে সিরিয়াল মেনে আসার অনুরোধ করা হলে তিনি তা অমান্য করেন। এই নিয়ে পাম্প কর্মীদের সাথে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি চলে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে ছুরিকাঘাত করে চলে যায়।

এ ব্যাপারে সিলেট এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত তাকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাত : পাম্প মালিকদের ধর্মঘটের ডাক

সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাম্পকর্মীর নাম মিঠু গোয়ালা। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র।

এদিকে পাম্পকর্মীকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন। মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেটের সকল পাম্পে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান জানান, সরকারী সিস্টেমের কারণে পাম্প মালিক-শ্রমিক কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছেন। আমাদের একজন কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এভাবে হামলা মেনে নেয়া যায়না। আমরা মঙ্গলবার বেলা ২ টা পর্যন্ত কর্মবিরতির ডাক দিয়েছি। এরপর পরবর্তী কর্মসূচী নির্ধারণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের প্রায় দুই মিনিট আগে চৌকিদেখী এলাকার উত্তরা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা এক গ্রাহকের সঙ্গে পাম্পকর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইফতার শেষে ওই গ্রাহক আবার পাম্পে এসে মিঠু গোয়ালা নামের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করে। পরে সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র বলেন, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটে আরও ৩ ‘ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তার

সিলেট নগরীর ছড়ারপাড় ও বন্দরবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী অভিযোগে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার এসব তথ্য জানায় সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, ছড়ারপাড় এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহেদ (৪০), এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের আনিছ মিয়ার ছেলে শরিফ আহমদ (৩২) ও একই জেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জালালা আহমদ (৩৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ছড়ারপাড়ের শাহেদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও দ্রুত বিচার আইনে ৫টি মামলা রয়েছে। আর সুনামগঞ্জের শরিফ আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও মাদক সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে। শরীফ দিরাই থানার ২টি মামলায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার জামাল আহমদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা রয়েছে। জামাল জালালাবাদ থানার ১ টি জিআর মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

সিলেটে অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার, ভিকটিম উদ্ধার

সিলেট নগরে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের জিন্দাবাজার তাতীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসএমপি পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় নগরের তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে এবং বর্তমানে নগরের গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুহেল সরকারকে (২২) জোরপূর্বক অপহরণ করে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত। অপহরণের পর তাকে নগরের তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়।

অপহরণকারীরা ধারালো ছুরি ও কাঁচি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে ভিকটিমকে উলঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

অভিযানে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, নগরের গোটাটিকর এলাকার মো. সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), শাহজালাল উপশহর এলাকার মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর গ্রামের ফয়জুল করিমের ছেলে এবং বর্তমানে হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর এলাকার আব্দুল মন্নানের ছেলে এবং বর্তমানে শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রায়সত্তরপুর গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮), হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।

অভিযানকালে তাদের হেফাজতে থাকা আরেক ভিকটিম প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়। জাহিদ আহমদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিন দশকের আইনি লড়াই, ব্রিটেনে সিলেটের মুন্নার ঐতিহাসিক বিজয়

দীর্ঘ ২৮ বছরের এক অনিশ্চিত যাত্রা আর রুদ্ধশ্বাস আইনি লড়াই শেষে অবশেষে ব্রিটিশ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে দেশটিতে থাকার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ৪৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মুন্না মিয়া। সিলেটের এই ব্যক্তির এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য একটি ‘নতুন উদাহরণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকায় ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ির মধ্যে এই রায় অ্যাসাইলাম প্রত্যাশী ও অভিবাসন আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

সিলেট থেকে ১৯৯৮ সালে অত্যন্ত সংগোপনে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মুন্না মিয়া। দীর্ঘ ১২ বছর তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি যুদ্ধ।

ব্রিটিশ হোম অফিস দাবি করেছিল, মুন্না ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং এর আগের কোনও প্রমাণ নেই। তবে আপার টিয়ার ট্রাইব্যুনাল সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে মুন্নার দীর্ঘ ২৮ বছরের বসবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। আদালত স্বীকার করেছে যে, প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রামাণ্য দলিল জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব, যা এই মামলায় মুন্নার পক্ষে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।

মুন্না মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সক্রিয় কর্মী এবং বাংলাদেশে ফিরলে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হবেন। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ায় তার এই যুক্তি আইনিভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কথা ছিল। কারণ, নিজের দল ক্ষমতায় থাকলে ‘রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ভয়’ সাধারণত ধোপে টিকে না।

কিন্তু এখানেই মুন্নার আইনজীবীরা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় বিলেতে বসবাসের ফলে সামাজিক একীভূতকরণ এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের পদ্ধতিগত ভুলগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রায় প্রমাণ করলো যে, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাজ্যে বসবাস এবং পারিবারিক জীবন এখন অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক অবস্থার চেয়ে শক্তিশালী আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০২৪ সালের ১৬ মে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্য একটি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করেছিল। সেই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ব্যর্থ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। মুন্নার আইনজীবীরা সেই চুক্তিজনিত আশঙ্কার জটিলতাগুলো এড়িয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে এই বিজয় ছিনিয়ে আনেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুন্নার এই বিজয় ব্রিটিশ সরকারের ‘অটোমেটেড’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতির মুখে একটি বড় আইনি বাধা।

মুন্না মিয়ার মামলাটি এখন পুনরায় শুনানির জন্য ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য যে নতুন আশ্রয় নীতি ঘোষণা করেছে। এতে প্রতি ৩০ মাস অন্তর শরণার্থী স্ট্যাটাস পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। মুন্নার মামলাটি সেই নীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে লন্ডনের চ্যান্সেরী সলিসিটর্সের কর্ণধার ব্যারিস্টার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারের কঠোর বহিষ্কার নীতি থাকলেও দীর্ঘ সময় বসবাসের শক্ত প্রমাণ থাকলে আইনি পথে বিজয় সম্ভব।

সৌজন্যে: বাংলাট্রিবিউন

বিয়ানীবাজারে রুপিতে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা, শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাক জব্দ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে অবৈধভাবে ভারতীয় রুপি দিয়ে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টার অভিযোগে একটি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও ট্রাকটি এখনো বিজিবির জিম্মায় রয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক ভারতীয় ট্রাকচালকের নাম শ্রী নিখিল দাস। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কালাইন থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত জলধার দাস।

নিখিল দাসের পাথরবাহী ট্রাক বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) অধীন শেওলা আইসিপি দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাথর নিয়ে আসে। পাথর আনলোড করার পর ট্রাকটি ভারতে ফেরার পথে জ্বালানি সংকটে পড়ে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে অবস্থিত নাদিয়া স্টোর নামের একটি দোকান থেকে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে ডিজেল কেনার চেষ্টা করেন।

এ সময় সরাইল রিজিয়নের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও জোরদার গোয়েন্দা নজরদারির কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করে ট্রাকটি জব্দ করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

৫২ বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুই দেশের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জ্বালানী তেল পাচাররোধে সিলেট সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

সিলেট সীমান্ত দিয়ে জ্বালানী তেল পাচাররোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। নজরদারির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

শনিবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শূন্যরেখা থেকে ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকা এবং বিভিন্ন স্থলবন্দর, এলসিপি (ল্যান্ড কাস্টমস পয়েন্ট) ও আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি জানায়, স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট, নদীপথ ও চিহ্নিত রুটগুলোতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রম মনিটরিং এবং সন্দেহভাজন রুটে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট নগর থেকে একদিনে ৮ ছিনতাইকারীসহ ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে একদিনে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিনতাইকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদককারবারী, মাদকসেবী, সন্দেহজনক ও চোরাচালানকারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে সেব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলঅ হয়, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত পৃথক ও বিশেষ অভিযানে মোট ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮ জন ছিনতাইকারী, ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসহ ১০ জন, মাকদসেবী ৫ জন, অবৈধ ভারতীয় মালামাল চোরাচালানে অভিযুক্ত ২৬ জন রয়েছেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকা হতে ১৯ জন সন্দেহজনক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জাাংয়, অভিযানকালে ৩৯ লাখ ৩০,১৬০ টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটে ছিনতাই নিয়ে আতঙ্ক

সিলেটে হঠাৎ করে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিশেষ করে সম্প্রতি জেলায় নয় দিনে দুটি স্থানে নারীরা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার ঘটনা বেশি আলোচিত হচ্ছে। এ দুই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নাগরিকদের মধ্যে ছিনতাই আতঙ্ক বেড়েছে।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরের সাগরদিঘিরপার এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে ওই নারীর গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগ ছাড়তে রাজি না হলে হাতে থাকা লম্বা অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন একজন। এক পর্যায়ে লোকজনের উপস্থিতির টের পেয়ে মোবাইল ও ব্যাগ না নিয়েই পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা।

এর ঠিক নয়দিন আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টার দিকে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছিনতাইকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারপর জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।

দুটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ এখনো কাউকে ধরতে পারেনি।

হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বিরকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওসি বদল হলেও ছিনতাইয়ের সুরাহা হয়নি এখনো। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী রনেন সরকার রণি বলেন, ছিনতাই হঠাৎ করে বাড়ছে। বিশেষ করে দিনদুপুরে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

এ দুটি ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এটা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।