Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 112

গণভবনে ছাত্র-জনতার নামাজ আদায়

কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। এর পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।

সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে গণভবন থেকে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার। এর পর গণভবনে প্রবেশ করেন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার একটি দল।

সেখানে প্রবেশের পর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার একটি অংশ নামাজ আদায় করেন। আবার আন্দোলনকারীদের অনেককে গণভবনের সুইমিংপুলে গোসল করতে দেখা গেছে।

এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। বেলা আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে তিনি উড্ডয়ন করেন। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।

শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি সে সুযোগ পাননি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তারা হেলিকপ্টারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

‘শ্রীলঙ্কান স্টাইলে’ গণভবন দখল, সংসদে ঢুকে উল্লাস জনতার

আওয়ামী সরকারের পতনের পর ভুয়া ভুয়া স্লোগানে গণভবনে প্রবেশ করেছেন হাজারো ছাত্র-জনতা। গণভবনের প্রতিটি আসবাব যেমন লেপ, কাঁথা, বালিশ ও চেয়ার থেকে শুরু করে যে যা পাচ্ছে ভাগ করে নিচ্ছেন। যে যা পারছেন নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।

‘শ্রীলঙ্কান স্টাইলে’ গণভবন দখলের এমন দৃশ্য দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই জাতীয় সংসদ ভবনেও তাদের প্রবেশ করে উল্লাস করতে দেখা যায়। এসময় কেউ সংসদ সদস্যদের চেয়ারে বসে উল্লাস প্রকাশ করছেন তো কেউ স্পীকারের আসনের সামনে উপবিষ্ট আসনগুলোতে আরাম করছেন।

সোমবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমন চিত্র দেখা যায়।

এর আগে দুপুরের দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছাড়েন সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনা উড্ডয়ন করেন। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ফলে আওয়ামী সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে ওঠে। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

এরপর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এসময় তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হবে, প্রতিটি অন্যায়ের বিচার হবে। আপনাদের (জনগণ) সব দাবি পূরণ করা হবে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে ঘরে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টা থেকে বিমানবন্দর দিয়ে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রয়েছে।

বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি বলেন, “সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার পর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। ফ্লাইট চালুর বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। পরবর্তীতে নির্দেশনা পাওয়া গেলে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে। আমি জনগণের জানমালের দায়িত্ব নিয়েছি। আপনারা আশাহত হবেন না। আপনাদের সব দাবি পূরণ করা হবে।”

সেনাপ্রধান বলেন, “আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। প্রতিটি অন্যায়ের বিচার হবে।”

এর আগে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপর লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসা। তারা উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ সময় গণভবনে ঢুকেও লুটপাট করা হয়।

বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ভাঙচুরবিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ভাঙচুর রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সেখান দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এর আগে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হচ্ছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদল মানুষকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
তথ্যসূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

পথে পথে ছাত্র জনতার উল্লাস

শেখ হাসিনা দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারা দেশে উল্লাস শুরু হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উল্লাস করছেন সাধারণ মানুষ। পথে পথে ছাত্রজনতার সঙ্গে উল্লাসে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

সোমবার বেলা আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা হেলিকপ্টারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা গণভবন থেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি সেই সুযোগ পাননি।

এর আগে বেলা ২টার দিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সেনাসদর দপ্তরে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠক করছেন বলে জানা যায়।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সেনাপ্রধানের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ডাক পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালালেন ‘রাফসান দ্য ছোটভাই’

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে টিএসসি থেকে পালালেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘রাফসান দ্য ছোটভাই’। শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) থেকে তাকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাফসান দ্য ছোটভাই তার নিজ গাড়িতে করে এলে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা তাকে ঘিরে ধরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরে বাধ্য হয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এসময় আন্দোলনকারীরা তার গাড়িতে হামলা করতে গেলেও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সহায়তায় তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, সে এতদিন পর অ্যাটেনশন নিতে এসেছে। আমরা তার কাছে কৈফিয়ত চেয়েছি এতদিন পর কি করতে এসেছেন?

বৃষ্টিতে ভিজে মিছিলের মাঝে নামাজ আদায়

পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনর ডাকে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় জেলা শহরের চৌড়ঙ্গী মোড় এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি চৌড়ঙ্গী মোড়ে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের দুপুরের জোহরের নামাজ বৃষ্টিতে ভিজেই আদায় করতে দেখা গেছে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন, জবাব চাই’, ‘ছাত্র সমাজের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘রক্তের সাথে সমাঝোতা হবে না’, শহীদের রক্তের বদলাসহ হত্যাকারীদের বিচার ও সরকারের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, ব্যবসায়ী জামিলুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলন একটি যৌক্তিক আন্দোলন ছিল। সেই আন্দোলন এখন গণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোথাও কোন ঘটনা না ঘটলেও শহরের সাধারণ মানুুষের মধ্যে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

ধাক্কামারা রুহিয়া মোড় থেকে তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বাস চলাচল করছে না। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল করছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।

বিটিভিতে গিয়ে তারকাদের কান্না, লজ্জার বললেন সাদিয়া আয়মান

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে চলমান উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তারকাদের মাঝেও বিভেদ দেখা গেছে। একপক্ষ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে, অপরপক্ষ সহিংসতায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এরই মধ্যে গত ১ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে সমাবেশ করেছেন দৃশ্যমাধ্যমের শিল্পীরা। যেখানে নাট্যঙ্গন থেকে শুরু করে সিনেমাঙ্গনের তারকারাও উপস্থিত ছিলেন। ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকারের কঠোর দমনপ্রক্রিয়া ও গুলিতে ছাত্র-জনতা হত্যার’ প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ থেকে হত্যার বিচার চেয়েছেন তারা।

একইদিনে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) পরিদর্শন করেছেন চলচ্চিত্র, নাটক ও সংগীতাঙ্গনের শিল্পী-পরিচালকেরা। এ সময় বিটিভিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা।

যেখানে ছিলেন সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবাসহ আরও অনেকে।

হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ, একজন নিহত

হবিগঞ্জে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মোস্তাক মিয়া (২৪)। তিনি পেশায় শ্রমিক।

মোস্তাকের সঙ্গে কাজ করেন মারুফ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মোস্তাক এখানে জুতা কিনতে এসেছিল। এসে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

জানতে চাইলে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মঈন উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মোস্তাকের হাতে বড় ধরনের আঘাত ছিল। সেটা গুলি কি না, পরে জানানো যাবে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’–এর অংশ হিসেবে জুমার নামাজের পর হবিগঞ্জে শহরের বোর্ড মসজিদের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের বোর্ড মসজিদ এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে পূর্ব টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন জেলা ছাত্রদল ও অন্য দলের নেতা-কর্মীরা।

এরপর মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে টাউন হল এলাকায় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে সেখানে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ সময় পুলিশ সেখানে এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুই দিক দিয়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে আসতে থাকেন।
তথ্যসূত্র : প্রথম আলোর

রণক্ষেত্র সিলেট, দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০

গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অভিভাবকরাও। এতে পুলিশ বাধা দিরে দফায় দফায় ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকেলে নগরীর আখালিয়া এলাকায় মাউন্ট এডোরার সামনে হাজারও ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করে।

এ দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আখালিয়ার সুরমা গেট এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জড়ো হতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা মিছিল শুরু করলে বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছোড়ে।

পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পুলিশ পাঁচ জন, এক সাংবাদিকসহ বাকিরা হলেন শিক্ষার্থী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৮ জনকে।’

ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে বিটিভিতে ফেরদৌস, রিয়াজ, নিপুণরা

ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে বিটিভি ভবনে গিয়েছিলেন অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ, অভিনেত্রী নিপুণ আক্তারসহ আরও অনেকে। বিটিভি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শোকাবহ আগস্ট মাসের প্রথম দিন বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গনে হাজির হয়েছিলেন সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। ‘সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা’ স্লোগান ব্যানারে ধারণ করে বিটিভি প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাদের মত প্রকাশ করেন শিল্পীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই বিকেলে বিটিভি কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। পরে তারা সেখানকার দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। আজ পুড়ে যাওয়া বিটিভি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন শিল্পী। তাদের মধ্যে ছিলেন সুজাতা, ফেরদৌস, রিয়াজ, অরুণা বিশ্বাস, নিপূণ আক্তার, শমী কায়সার, আজিজুল হাকিম, রোকেয়া প্রাচী, সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, চন্দন রেজা, সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এ হক অলিক, খোরশেদ আলম খসরু প্রমুখ।

বিটিভির ধ্বংসযজ্ঞ কেন, এর পেছনে কারা? এমন প্রশ্ন রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান শিল্পীরা। পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমি দেখেছি, ছাত্ররা যে কোটার আন্দোলনে নেমেছিল সে কোটার পক্ষে আমরা সকলেই ছিলাম, কিন্তু আন্দোলনে এই ছাত্রদেরকে ঢাল করে একদল মানুষরূপী পশু জালিয়ে-পুড়িয়ে ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ছারখার করে দিয়েছে আমাদের দেশটিকে। দেশটি হয়তো আবার আমরা কষ্ট করে ঠিক করে ফেলবো, কিন্তু যে প্রাণগুলো ঝরে গেল, সেগুলো আর আমরা কোনোদিন ফিরে পাবো না। আজ আমরা বিটিভিতে এসেছি, আমাদের সংস্কৃতির অস্তিত্বের একটি জায়গা এটি। সেই বিটিভিতে আগুন কেন? এ অগ্নিসন্ত্রাসী কারা? তাদের খুঁজে বের করতে হবে। যতগুলো প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, আপনারা যদি দেখেন, বাচ্চারা যদি দেখে, বুঝতে পারবে সুপরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে। তাদের বিচার চাই। আজ আমরা সকল অঙ্গনের শিল্পীরা এখানে একত্র হয়েছি সংহতি প্রকাশ করার জন্য। সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা।’
ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে বিটিভিতে ফেরদৌস, রিয়াজ, নিপুণরা
শমী কায়সার বলেন, ‘সকল সংস্কৃতি কর্মীরা দাঁড়িয়েছি আজ শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে। আগস্ট মাস আমাদের একটি প্রতিবাদের মাস। যে মাসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাসকে হত্যা করা হয়েছে। সেরকম একটি মাসে আমরা আবারো দাঁড়াবো এই বাংলাদেশ টেলিভিশন চত্বরে সেটা আমাদের কখনো ভাবিনি। আজ আমরা ব্যথিত, ক্ষুব্ধ, মর্মহত। কারণ যে বাংলাদেশ টেলিভিশন বাঙালির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছে, সেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে এসে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত হয়েছি। এখানে আমরা বেড়ে উঠেছি, শিল্পী হিসেবে এই প্রাঙ্গনে বড় হয়েছি। এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সকলের বিচার চাই। বাংলাদেশে এ রকম নৃশংসতা, এমন ধ্বংসযজ্ঞ, এত প্রাণহানি আমরা আর চাই না।’

আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের ওপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যে সকল প্রাণ আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।’

সুজাতা বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের খুঁজে বের করে এর বিচার হোক। আমরা শিল্পীরা যেন ঐক্যবদ্ধ হই এবং যেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। যখন দেশটা উন্নতির দিকে তখনই শত্রুরা আঘাত হানে, ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে দেশকে। আমরা শিল্পীরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকবো। দেশজুড়ে জ্বালাও, পোড়াও সন্ত্রাস আমরা চাই না, আমরা মানি না।’

বিটিভিসহ সরকারি স্থাপনায় সহিংসতার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, হৃদি হক, সোহানা সাবা, সাজু খাদেম, অরুণা বিশ্বাস, নিপুণ প্রমুখ।