Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 13

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তার দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

জামায়াত আমির আক্ষেপ করে বলেন যে সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলেও এখান থেকে সরাসরি পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় না। অধিকাংশ প্রবাসী সিলেটিদের ঢাকা হয়ে যাতায়াত করতে হয় যা অত্যন্ত ভোগান্তির। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে সরাসরি সিলেটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে প্রবাসীদের অধিকার ও সম্মানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন যে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত।

বিদেশের মাটিতে কোনো প্রবাসীর মৃত্যু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে যে ভোগান্তি পোহাতে হয় তা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জামায়াত আমিরের মতে রাষ্ট্র নিজ দায়িত্ব ও খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসবে এবং কোনো প্রবাসী শ্রমিক কর্মস্থলে মারা গেলে তার পরিবারের সম্পূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দেশে চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রের কোষাগারে পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে এবং তা দিয়ে সহজেই এসব জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন করা যাবে।

মৌলভীবাজারের এই জনসভায় তিনি চা শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কথাও বলেন। নিজে এই অঞ্চলের সন্তান হিসেবে চা শ্রমিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধাবী সন্তানদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। আগামী ১২ তারিখের ভোটকে পরিবর্তনের ভোট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তার মতে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি আর ‘না’ ভোট মানে গোলামী। এছাড়া কুলাউড়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সায়েদ আলীর পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন যে এই আসনে তিনি নিজেও ছায়া প্রার্থী হিসেবে জনগণের পাশে থাকবেন।

সিলেটে পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল চালকের

সিলেটের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুম আহমদ(২১)নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের তালেরতল নামক স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মাসুম উপজেলার তাজপুর ইউপির দুরাজপুর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা ও শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজার হতে গোয়ালাবাজার যাবার পথে মহাসড়কের তালেরতলে একজন পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে মহাসড়কে ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাসুম।

ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা ও হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সিলেটের মোড়ে মোড়ে ফেস্টুন- ‘আওয়ার দাদু ইজ কামিং

গত দুদিন ধরে সিলেট নগরের বিভিন্ন মোড়ে ঝুলছে অদ্ভূত ধরণের ফেস্টুন। ফেস্টুনে লেখা রয়েছে- ‘আওয়ার দাদু ইজ কামিং’। এতে জামায়াত ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি যুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের জিন্দাবাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে, চৌহাট্টা পয়েন্টের স্থাপনাসহ বিভিন্ন জায়গায় এই ফেস্টুন ঝুলে থাক দেখা গেছে।

টেলিভিশের জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’–এর সুপরিচিত একটি সংলাপ, ‘উইন্টার ইজ কামিং।’ ২০১১ সালে সিরিজের শুরুতেই শেষ সময়ের সতর্কবার্তা ও বিপদের প্রতীক ইঙ্গিত করে দেওয়া হয় এই সংলাপ। ওই টেলিভিশন সিরিজের স্লোগান পাল্টে ‘আওয়ার দাদু ইজ কামিং’ স্লোগান লেখা হয়েছে ফেস্টুনে। ছবিতে জন স্নোর তলোয়ারের আদলে দাঁড়িপাল্লা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ডা. শফিকুর রহমানকে। পুরো ব্যানারের পটভূমিতে তুষার ও নেকড়ের ছবি রয়েছে।

আগামী শনিবার নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে সিলেট আসছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওইদিন বিকেলে নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। ওই জনসভা সফলে সিলেটজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। নগরজুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন বিলবোর্ড।

এর মধ্যে ওই অদ্ভূত ফেস্টুন নগরের বিভিন্ন মোড়ে টানানো রয়েছে। এতেও ৭ ফেব্রুয়ারির আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের কথা উল্লেখ রয়েছে। আর নিচে লেখা রয়েছে- ‘দাদু ফ্যা্ন ক্লাব’।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ফেস্টুনের ব্যাপারে তারা অবগত নন। কারা এটি টানিয়েছে তাও তারা জানেন না।

‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের শুরুতে দর্শকদের পরিচয় করানো হয় এমন এক জগতের সঙ্গে, যেখানে শীতের রুক্ষতা ও ভয়ংকর বিপদের ছায়া বিরাজ করছে। এই বিপদের মূল রহস্যময় শক্তি হলো হোয়াইট ওয়াকারস। সিরিজের মূল ক্ষমতার লড়াই আটটি প্রধান হাউস বা পরিবারকে কেন্দ্র করে। এই আট পরিবারের একটি স্টার্ক পরিবার। তাদেরই মূলমন্ত্র ছিল ‘উইন্টার ইজ কামিং’। এর অর্থ কঠিন সময় আসছে, সতর্ক হও।

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে সংঘর্ষে পাঁচ গ্রামের মানুষ

সিলেটে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। বুধবার মধ্যরাতে তেমুখী এলাকয় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরাধ করে সংঘর্ষে জড়ান ৫ গ্রাম বাসী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের তেমুখী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের জালালাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, জালালাবাদ থানার অধীন তেমুখী এলাকার পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে কুমারগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে নাজিরেরগাঁও এবং সাহেবেরগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁওয়ের লোকজন যুক্ত হন। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় ওই সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। তবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রা ১ টার দিকে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়েপরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কেউ কেউ সংঘর্ষের ঘটনাটি রাজনৈতিক বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরকম কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত শিমুদের ঝগড়া থেকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সিলেটে লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যা: ‘মোটরসাইকেলে বসা যুবককে’ খুঁজছে পুলিশ

সিলেটের জকিগঞ্জের একটি হাওর থেকে বুরহান উদ্দিন শফি (৫৪) নামে এক যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত বুরহান উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শফি প্রায় ২৫ বছর ধরে সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করতেন। গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। ৩০ জানুয়ারি কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বজনরা। যেদিন শফি নিখোঁজ হন ওই দিন রাতে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। শফি নিজেই মোটরসাইকেল চালাক ছিলেন। পেছনে বসা ছিলেন এক যুবক। যে যুবককে শফির পরিবার আগে কখনও দেখেননি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এ দৃশ্যটি ধরা পড়ার পর নতুন করে মোড় নিয়েছে তদন্তে। সেই যুবককে শনাক্ত করতে পারলেই শফি হত্যার রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই যুবকের খোঁজে মাঠে নেমেছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি-বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, মরদেহটি আগুনে পোড়া ছিল। একটি পায়ে দড়ি বাঁধা ও গলায় কাপড় বাঁধা অবস্থায় ছিল। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া গেছে।

জকিগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

সিলেটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল কর্মী খুন

সিলেটের কানাইঘাটে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল (২১) নামে এক তরুণ খুন হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাবিল কানাইঘাট সরকারী কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী বলে জানা গেছে।

ছুরিকাঘাতে নাবিল হত্যার তথ্য নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচাতো ইসলাম হোসেনের ছুরিকাঘাতে ইসমাইল হোসেন নাবিল খুন হয়।

তিনি বলেন, নিহত ও অভিযুক্ত দুজনই একই বাড়ির বাসিন্দা। সকালে বাড়ির বাথরেমে মাটি ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাবিলকে ছুরিকাঘাত করেন ইসলাম।

বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী জানান, ছুরিকাহত নাবিলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান ওসি।

পর্তুগালে মাথার ওপর সিমেন্টের বস্তা পড়ে সিলেটি যুবক নিহত

পর্তুগালে মাথার ওপর সিমেন্টের বস্তা পড়ে বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদেইরা শহরে কর্মরত অবস্থায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুল ইসলাম সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হরিয়রপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে একটি সিমেন্টের বস্তা হঠাৎ চিটকে পড়ে তার মাথায় আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সহকর্মী ও প্রবাসী বন্ধুদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর তিনি সম্প্রতি বৈধ আবাসনের অনুমতিপত্র (রেসিডেন্সি কার্ড) পান। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ আর বাস্তবায়ন হলো না। হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে তার পরিবার, স্বজন ও গ্রামের মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন পর্তুগালে বাংলাদেশি কমিউনিটি সর্ববৃহৎ সংগঠন কাজা দো বাংলাদেশসহ প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুমের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেছেন।

বোর্ডিং পাস জটিলতায় সিলেটে আটকা পড়ছেন লন্ডনগামী যাত্রীরা

ভিসা, টিকেটসহ আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র থাকার পরও বোর্ডিং পাস না পাওয়ায় সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যগামী বেশ কিছু যাত্রী বিমানবন্দর থেকে ফেরত যাচ্ছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন অনেকে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪ জন যাত্রী ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এমন সমস্যায় পড়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন সিলেটে বিমান বাংলাদেশের স্টেশন ম‌্যা‌নেজা‌র শাকিল আহমদ।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা গত বুধবার থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ সমস্যায় পড়তে শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিমানের ওই স্টেশন ম‌্যা‌নেজা‌র বলেন, যুক্তরাজ্য যেতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে যাত্রীদের ইউকেভিআই (ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন) এর ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট আপডেট করতে হয়। অনেক যাত্রী সেটা জানেন না। যাত্রীরা বিমানবন্দরে গিয়ে বোডিং পাস নেওয়ার সময় দেখতে পান তাদের পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে দেখাচ্ছে না। এ কারণে তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে।
বোর্ডিং পাস জটিলতায় সিলেটে আটকা পড়ছেন লন্ডনগামী যাত্রীরা
“আমরা লন্ডনে কথা বলেছি, তারা বলেছে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে। যেকোনো কিছু ডিজিটালাইজেশন চললে একটু সমস্যা হতে পারে, তাদের ওয়েবসাইট আপডেট চলছে বলে জেনেছি।”

তিনি বলেন, ২৮ জানুয়ারি থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। তারা সবাই হিথ্রো বিমানবন্দর যাওয়ার জন্য এসেছিলেন।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটা সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশের কোনও সমস্যা নয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অনেক যাত্রীর ক্ষেত্রেই সিস্টেমে সমস্যা হচ্ছে।

“চেক-ইনের সময় ব্রিটিশ হোম অফিসের সার্ভার থেকে ক্লিয়ারেন্স না আসায় তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

বিমা‌ন বাংলাদেশ বলছে, অনেক যাত্রীর ক্ষে‌ত্রে ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে তাদের তথ্য না থাকায় বোর্ডিং পাস দেওয়া যাচ্ছে না। ফ‌লে বাধ‌্য হ‌য়ে বিমান‌কে ওই যাত্রীকে টিকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও ভ্রমণ করতে দেওয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার বিষয়ে বিমান ও বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের তরফে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় ‘ডিজিটালাইজেশন’ বা ই-ভিসা পদ্ধতিতে রূপান্তরের কারণেই মূলত এ জটিলতা। দেশটি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন- বিআরপি (বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট) কার্ড বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘ই-ভিসা’ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্টের তথ্য তাদের ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাকাউন্টে আপডেট করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে যখন হোম অফিসের ডেটাবেসে যুক্ত করা হচ্ছে, তখন সেখানে ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা এরর দেখাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ সিস্টেম ব্যবহার করে। অনেক সময় যাত্রীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার জটিলতায় এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে সেই তথ্য পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা ভুল তথ্য দেখায়। এ কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এমন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ হোম অফিসের ন্যাশনালিটি টিম বলছে, ফ্লাইটের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে যাত্রীদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ‘লাইভ’ বা ‘অ্যাক্টিভ’ এর বিষয়টি নিশ্চিত হতে বলেছে। একই সঙ্গে পাসপোর্টের নম্বরটি ই-ভিসা বা ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিংক করা আছে কিনা, তা যাচাই করতে বলেছে। নতুন পাসপোর্ট করলে তা অবশ্যই সিস্টেমে আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে আগুনে পোড়ানো নিখোঁজ লন্ডন প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাওর থেকে উদ্ধার হওয়া আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়িবাঁধা অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় সনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

নিহত ব্যক্তি বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ৩৪/৪১ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফির পিতার নাম মৃত সমছু মিয়া। তিনি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ৩০ জানুয়ারী সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার মধ্যবর্তী কোনারবন্দ হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি হাওরে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে জকিগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদশী জানান, মরদেহটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়ানোর স্পষ্ট চিহ্ন ছিল এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় সনাক্ত করে। পরে নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

ওসি আব্দুর রাজ্জাক আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা কোন থানায় দায়ের করা হবে সে বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ চলছে।

সিলেটে জামায়াতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা জাকির

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সিলেট-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের এক নির্বাচনী সভায় তিনি বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে জামায়াতে যোগদান করেন।

জাকির হোসেন ২০১৫ সালে উপজেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক কমিটির ৭নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন করায় তাকে ৩ বার জেলে যেতে হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় ভোলাগঞ্জ ভোট কেন্দ্রের সামন থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ। একই বছর উপজেলা সদরে ছাত্র দলের মিছিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অন্য একটি রাজনৈতিক মামলায়ও তিনি কারাভোগ করেছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ২০২৪ এর ছাত্র জনতার আন্দোলনেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাকির হোসেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা আন্দোলনের জন্য সংগঠিত হতে থাকে। পরে সেখান থেকে ছাত্র জনতার ব্যানারে দিনে মিছিল ও সন্ধ্যায় মশাল মিছিল শুরু হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলনে অন্যান্যরাও যোগ দেন।

জাকির হোসেন জামায়াতে যোগদানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ভিডিওতে জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী সুশৃঙ্খল দল। এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধের দল। আমি গত ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতি করে দেখেছি আমার নীতি ও আদর্শের সাথে তাদের মিলেনি। আমি জুলাইয়ের সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছি। উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তাদের কথা শুনে আমি বুঝেছি বিএনপির সাথে আমার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। আমি আজ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মি হিসেবে যোগদান করলাম।

জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনেকেই এখন বিএনপির নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। আওয়ামী সৈরাচারী আমলে কাউকে আন্দোলনে পাইনি। আমি বুকচিতিয়ে বিএনপির জন্য আন্দোলন করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পরে এলাকার বিএনপির রাজনীতিকরা লোকদের সাথে আমার আদর্শের মিল হয়নি। সেদিক দিয়ে জামায়াতের নীতি আদর্শ এবং দলীয় শৃঙ্খলা দেখে আমি তাদের সাথে যুক্ত হয়েছি।