Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 48

জসিমের মতোই আচমকা মৃত্যুর খবর এলো ছেলের

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর, হঠাৎই এক খবরে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এলো শোকের ছায়া। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন সে সময়ের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন (নায়ক জসিম)।

মাত্র ৪৮ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি ভক্তরা। শোনা যায়, সে সময় এফডিসিতে জসিমকে শেষবারের মতো দেখার জন্য ভিড় জমান লাখো মানুষ।

জসিম ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ধারার প্রবর্তক। ক্যারিয়ারে প্রায় ২০০’র বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এছাড়াও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন তিনি।

জসিমের মৃত্যুর খবর যেমন চমকে দিয়েছিল ভক্তদের, ঠিক একইভাবে তার ছেলে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওইনডের ভোকালিস্ট ও ফ্রন্টম্যান এ কে রাতুলের মৃত্যুও চমকে দিল সকলকে।

আজ (শনিবার) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি জিমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রয়াত চিত্রনায়ক জসিমের ছেলে এ কে রাতুল।

ব্যান্ডের গীতিকার সিয়াম ইবনে আলম জানান, উত্তরার একটি জিমে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাতুল। সেখান থেকে তাকে দ্রুত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র একদিন আগেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব থাকতে দেখা গেছে রাতুলকে। সুস্থ-স্বাভাবিকই ছিলেন তিনি। তবে শনিবার বিকেলেই জিমে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এই যুবক। তার এই অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ভক্তরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, জসিম বেঁচেছিলেন মাত্র ৪৮ বছর। তার সন্তান বাবার বয়সটুকুও পেলেন না!

শুধু তাই নয়, জসিমের আচমকা মৃত্যুর খবর যেমন চমকে দিয়েছিল সকলকে, রাতুলের মৃত্যুর খবরও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তার গানের ভক্তদের। অনেকেই গায়ককে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করছেন ফেসবুকে।

প্রসঙ্গত, নায়ক জসিমের তিন ছেলের একজন এ কে রাতুল। বাবার পথ ধরে অভিনয়ে নাম লেখাননি তারা, কাজ করেছেন সংগীতজগতে। তিনজনই যুক্ত ব্যান্ডের সঙ্গে।

এর মধ্যে রাহুল ‘ট্রেনরেক’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ‘পরাহো’ ব্যান্ডের ড্রামার, রাতুল ও সামী যুক্ত ছিলেন ‘ওইনড’ ব্যান্ডের সঙ্গে। রাতুল ওইনডের ভোকালিস্ট ও বেজিস্ট, সামী ড্রামার।

জাফলংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর পর্যটকের লাশ উদ্ধার

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে পানিতে ডুবে মুকিত আহমদ (১৮) নামের নিখোঁজ পর্যটকের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে জাফলংয়ের বল্লাঘাট এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে জাফলংয়ের বল্লাঘাট এলাকায় পর্যটক মুকিত আহমদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিখোঁজ মুকিতের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার মো. তোফায়েল আহমদ জানান, রোববার সকালে মুকিতের মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতী চলছে।

নিহত মুকিত আহমদ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার রায়নগর এলাকার শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তারা বর্তমানে সিলেটের মাছিমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো।

এরআগে, গত শুক্রবার জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নামলে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। ঘটনার তিনদিন পর জাফলংয়ের বল্লাঘাট এলাকায় তার লাশ ভেসে উঠে।

মুকিতসহ তারা ২৮ জনের একটি টিম বাসে করে শুক্রবার সকালে জাফলংয়ে বেড়াতে আসে। দুপুরের দিকে তারা সবাই নদীর পাড়ে ফুটবল খেলতে নামে। খেলা শেষে তারা তিনজন নদীর পানিতে নামলে স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। বাকি দু’জন তীরে উঠলেও স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় মুকিত।

খবর পেয়ে স্থানীয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবুরীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।

ওবায়দুল কাদেরকে পালাতে সহায়তা করার দাবি, সেই যুবদল নেতা আটক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ভারতে পালাতে সহায়তার দাবি করে আলোচনায় আসা যশোর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ইস্কান্দার আলী ওরফে জনিকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেতের তালের টেক থানার দক্ষিণ নামাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল হক ভূঁইয়া।

৪২ বছর বয়সী ইস্কান্দার আলী ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। যশোর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, তিনি জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক কামরুল ইসলামের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এছাড়া, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

জনি সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, ওবায়দুল কাদের যশোর সেনানিবাসে অবস্থানকালে তাকে ভারতে পালাতে সাহায্য করেছিলেন তৎকালীন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক। তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

তবে যশোর জেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এই বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সেনাবাহিনী ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একাধিক মামলা করা হয়।

আত্মগোপনে থাকা জনিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে আটক করে ডিবি। আজ (২৬ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বেশি ঢুকতে পারবে না শাহজালাল বিমানবন্দরে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন থেকে যাত্রীর সঙ্গে দুজনের বেশি ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবে না। আগামী রোববার (২৭ জুলাই) থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

যাত্রীবরণ ও বিদায় জানাতে আগতদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা জারি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাত্রীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন ব্যক্তি ডিপারচার ড্রাইভওয়ে ও এরাইভাল ক্যানোপি এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখা, বিমানবন্দর এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। প্রতিদিন পরিচালিত হয় ১৪০ থেকে ১৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। যাত্রী চাপ বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্দেশনাটি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মেয়েকে না পেয়ে পরা ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন মা

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখনও খোঁজ মেলেনি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম উম্মে আফিয়ার (৯)। নিখোঁজ মেয়ের খোঁজে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল পৌনে ১১টার দিকে স্কুলে ছুটে আসেন তার মা তামিমা উম্মে ও স্বজনরা।

প্রিয় সন্তানের সন্ধানে স্বজনদের সঙ্গে স্কুল চত্বরে প্রবেশ করলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়েছে পোড়া স্কুল ব্যাগ হাতে। দুপুর ১২টার দিকে কান্না জড়িত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন তামিমা। এ সময় স্বজনদের হাতে আফিয়ার পোড়া স্কুল ব্যাগটি দেখা যায়, যা উদ্ধার করা হয়েছে বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে।

আফিয়ার মামা সাব্বির জানান, ‘ভাগ্নির শোকে আমার বোন প্রায় পাগল হয়ে গেছেন। তিনি শারীরিকভাবে এতটাই অসুস্থ যে এখন ঠিকমতো কথা বলতেও পারছেন না। আমাদের বাসা তুরাগের চন্ডালভোগে।’

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত, আহত ও নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে একটি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। নিখোঁজ আফিয়ার তথ্য দিতেই সেখানে এসেছিলেন তামিমা ও তার স্বজনরা।

ছোট ভাই নিখোঁজ, বোনকে খুঁজে পেয়েছেন মা

একইভাবে এই স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়াকে স্কুল থেকে নিতে এসেছিলেন তার মা হাসিনা ও সাত বছর বয়সী ভাই হাসান। সোমবার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে তিনজনই স্কুল চত্বরে ছিলেন। বিস্ফোরণের পরপরই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। পরে রাবেয়া ও মা হাসিনার সন্ধান মিললেও এখন পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি হাসানের।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) হাসানের সন্ধানে আবারও স্কুলে ছুটে আসেন স্বজনরা। হাসিনার খালাতো বোন সামিয়া ইসলাম বলেন, ‘বিমান বিধ্বস্তের দিন হাসান তার মায়ের সঙ্গে স্কুলে এসেছিল। দুর্ঘটনার পর মা ও বোনকে পাওয়া গেলেও হাসানের কোনও খোঁজ নেই। আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেছি, কোথাও তাকে পাইনি।’

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশ ধরলো নারীসহ ৬জনকে

সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সিলেট নগরীর তালতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মো. আফতাব উদ্দিন (৪৫), কয়েছ উদ্দিন (২০), মো. ফয়জুল ইসলাম (৪৩), মো. পারভেজ মিয়া (২৪), মোছা. মাহিনুর আক্তার (১৯), রোকেয়া বেগম (৪০)।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় ‘ছাদী গেষ্ট হাউস’আবাসিক হোটেল এর ২য় তলার ৬০৬ নং কক্ষে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান পরিচালনা করে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার নন এফআইআর নং- ৩০৮, তারিখ-২৪/০৭/২০২৫ খ্রিঃ ধারা-সিলেট মহানগরী পুলিশ আইন, ২০০৯ এর ৭৭ রুজু হয়।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সিলেট নগরীর তালতলা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী-পুরুষসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার নন এফআইআর নং- ৩০৮, তারিখ-২৪/০৭/২০২৫ খ্রিঃ ধারা-সিলেট মহানগরী পুলিশ আইন, ২০০৯ এর ৭৭ রুজু হয়। আসামীকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

বোনের পর চলে গেলো ভাই নাফিও

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বোন নাজিয়ার পর মৃত্যু হয়েছে তার ভাই নাফির (৯)। সে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

মঙ্গলবার(২২ জুলাই)দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে(আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

নাজিয়া ও নাফি বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় থাকত। নাজিয়া তৃতীয় শ্রেণীতে আর নাফি প্রথম শ্রেণীতে পড়ত।

রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, “উত্তরা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ নাফি রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে মারা যায়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ ফ্লেইম বার্ন হয়েছিল। এর আগে গতকাল রাত তিনটার দিকে তার বোন নাজিয়া মারা যায়। তার শরীরের ৯০ শতাংশ বার্ন হয়েছিল। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ১১ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষক মারা গেলো। এছাড়া ঢাকা মেডিকেলের বার্নে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিক্ষিকা মাসুকা। ভোর রাতের দিকে ৯ বছরের শিশু বাপ্পি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইতে মারা যায়। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। মধ্যরাতে আরও চার শিক্ষার্থী মারা যায়। এই চারজনের মধ্যে এরিকসন শরীরের ১০০ শতাংশ, আরিয়ানের শরীরের ৮৫ শতাংশ, নাজিয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ এবং সায়ান ইউসুফ এর শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আফনান ফাইয়াজ, মাইলস্টোনের প্রাইমারি সেকশনের হেড কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চৌধুরী ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সামিন মারা যায়।

অবশেষে সেই রাইসার খোঁজ মিলেছে, সে আর বেঁচে নেই

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাইসা মনি নিখোঁজ ছিল। তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে ও হাসপাতালে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে রাইসার সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। সে আর বেঁচে নেই।

হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবরের পর ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে তার মরদেহের সন্ধান মিলেছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহত রাইসা মনির চাচা ইমদাদুল শেখ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিকেলে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে নিহত রাইসার মরদের শনাক্ত করেন তার বাবা শাহাবুল শেখ।

রাইসা মনি ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, কোড- ২০১০, সেকশন-স্কাই।

নিখোঁজ রাইসা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া গ্রামের শাহাবুল শেখের মেয়ে।

রাইসার চাচাতো ভাই তারিকুল শেখ গণমাধ্যমকে জানান, রাইসা মনির খোঁজ পাওয়া গেছে। তবে সে আর পৃথিবীতে জীবিত নেই। তার বাবা নিজে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

তিনি আরো জানান, রাইসা মনি ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বড় বোন ও ছোট একটি ভাই রয়েছে। রাইসার মরদেহ খুঁজে পেয়ে তার পরিবারে মাতম চলছে।

চাচা ইমদাদুল শেখ বলেন, ‘রাইসা মনি আর বেঁচে নেই। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

পেটের ওপর থেকে মাথা পর্যন্ত বেশি পুড়েছে। তবে তার মুখমণ্ডল দেখে তার বাবা মেয়ে রাইসা মনিকে শনাক্ত করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিএনএ নমুনা টেস্ট দেওয়ার জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ডিএনএ টেস্টের নমুনা রেখে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে আজই গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। এখানেই তার মরদেহ দাফন করা হবে।’

সিলেটে ‘সরি’ না বলায় ডাক্তারকে ছু রি কা ঘা ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

রোগী দেখানোর সিরিয়াল নিয়ে তর্কাতর্কির পর ‘সরি’ না বলায় কর্তব্যরত চিকিৎসককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ শহরের হাছাননগরের আনিসা হেলথকেয়ার অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রায়হান উদ্দিন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়। তার বাসা ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন কালিবাড়ি এলাকায়। তার সহযোগী ছাত্রদল নেতার নাম শাহনেওয়াজ মুবিন। তার বাসা শহরের বড়পাড়া এলাকায়।

আহত চিকিৎসক গোলাম রব্বানী সোহাগকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা ও পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিকালে নিজের অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে আলট্রাসনোগ্রাম করতে আনিসা হেলথকেয়ার অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন স্বেচ্ছাসেক দল নেতা রায়হান উদ্দিন। পরে সিরিয়াল ভেঙে স্ত্রীকে আলট্রাসনোগ্রাম করতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম রব্বানী সোহাগ সম্মত হননি।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে মালিকপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাটের পর স্ত্রীকে আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন।

ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল ৪টা ৩ মিনিটের দিকে ছাত্রদল নেতা মুবিনকে সঙ্গে নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দিকে আগাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেক দল নেতা রায়হান উদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর অপেক্ষারত রোগী ও তাদের স্বজনদের দৌড়ে বের হতে দেখা যায়।

আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের আয়া পপি বেগম বলেন, বিকাল ৪টার দিকে দু’জন যুবক ডাক্তারের কক্ষে ঢুকার পর চেয়ারে বসেন। পরে শুনেছি তাদের একজনের নাম রায়হান। এ সময় অপর যুবক ডাক্তারকে বলেন, আপনে যদি আমার ভাইরে সরি বলেন, তাহলে ঘটনা শেষ।

পপি বেগম আরও বলেন, এ সময় ডাক্তার বলেন, তার সঙ্গে আমি কোনও অপরাধ করিনি, সরি বলব কেন?

ডাক্তার সরি বলবেন না বলার পর পর দুজন চেয়ার থেকে ওঠে ডাক্তারকে ধরে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ডাক্তারের মাথায় ধরে দেওয়ালের সঙ্গে আঘাতের পর আঘাত করতে থাকেন তারা। তখন রুম ভেতর থেকে লাগানো। ডাক্তার ছাড়া ভেতরে একজন অন্তঃসত্তা রোগী ও আমি ছিলাম।

ডাক্তারকে ছুরিকাঘাত করতে দেখে ওই রোগী বিছানা থেকে ওঠে দরাজা খুলে বের হয়ে যান। পরে শুরগুল শুনে হাসপাতালের ম্যানেজার, মালিকপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা এসে তাদের হাত থেকে ডাক্তারকে উদ্ধার করেন।

ক্লিনিকের অন্যতম মালিক শামসুল আলম জুয়েল বলেন, আমি শুরগুল শোনে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দিকে গিয়ে দেখি রায়হান ও তার সঙ্গের এক যুবক ডাক্তারকে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করছেন। অনেক কষ্টে উনাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। তারা ডাক্তারকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দুটি কম্পিউটারও ভাঙচুর করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুনাজ্জির হোসেন বলেন, যেটুকু শুনেছি, সেটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ঘটনাটি তিনি ব্যক্তিগত কারণে করেছেন। আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছি। জেলা বিএনপির অভিভাবকদের জানিয়েছি। এই ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করা হবে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে যাই। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: সিলেটভিউ২৪ডটকম

মাইলস্টোনে মেয়েকে বাঁচাতে প্রাণ দিলেন মা

রাজধানী ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন মেহেরপুরের গাংনীরে মেয়ে রজনী। বিমান বিধ্বংস হওয়ার পর শিশু কন্যাকে বাঁচাতে শ্রেণী কক্ষের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তার আগেই তার কন্যা শিশু স্কুলের বাইরে বের হয়ে যায়। 

এতে শিশুটি রক্ষা পেলেও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা সিএমএস হাসপাতালের বার্ন ইউনিটি ইউনিটে মারা যান রজনী। রজনী ভেবেছিলেন তার বাচ্চা শ্রেণিকক্ষেই রয়েছে। 

নিহত রজনী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাওট গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে।

রজনীর স্বামী জহিরুল ইসলামের ব্যবসায়িক সূত্রে তিন সন্তান নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করতেন। জহিরুলের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামে। সেখানেই তার মরদেহ দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। 

এই ঘটনায় রজনীর পিতার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে বইছে শোকের ছায়া।