Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 53

এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে যেভাবে নিখোঁজ হলেন মাহিরা

এইচএসসি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মাহিরা বিনতে মারুফ পুলি। পরে প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা পর তাকে সাভার থেকে উদ্ধার করে র‍্যাব।

জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হন মাহিরা। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে খোঁজ নিলে জানা যায়, মাহিরা ওইদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিতই হননি। পরে মাহিরার পরিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪।

মাহিরা র‍্যাবের কাছে দাবি করেন, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর এক নারীর খপ্পরে পড়েন তিনি। তার নাকে কিছু একটা ছোঁয়ানোর পরে তিনি জ্ঞান হারান। এরপর তাকে সাভারের নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় থাকার পরে তার জ্ঞান ফেরে। এরপর পরনের ড্রেস পরিবর্তনের জন্য মাহিরাকে একটি পোশাক দেওয়া হয়। এই সুযোগে তিনি ওই স্থান থেকে বেরিয়ে আসেন। 

এরপর জঙ্গল দিয়ে দৌড়াতে থাকেন এই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। একটা পর্যায়ে রাস্তায় তিনি র‌্যাব-৪ এর একটি গাড়ি দেখতে পান এবং তাদের কাছে ঘটনা খুলে বললে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতে তাদের হাতে মাহিরাকে তুলে দেয় র‍্যাব। 

ভুক্তভোগী মাহিরার দেওয়া বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি র‍্যাব।

নিজ গ্রামে শায়িত হলেন মনু মিয়া, তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়েছেন যিনি

পারিশ্রমিক ছাড়াই পাঁচ দশক ধরে মানুষের কবর খুঁড়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আগলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া (৬৭) শেষবারের মতো নিজেই পাড়ি জমালেন নাফেরার দেশে। আজ শনিবার (২৮ জুন ২০২৫) সকাল ৯টায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শুধু গ্রাম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনু মিয়াকে যারা চিনতেন, তারাও এই খবরে মর্মাহত।

সাধারণ একজন মানুষ হয়েও মনু মিয়া হয়ে উঠেছিলেন ব্যতিক্রমী মানবিকতার প্রতীক। জীবদ্দশায় বিনা পারিশ্রমিকে তিনি প্রায় ৩ হাজার ৫৭টি কবর খুঁড়েছেন। যাদের কবর খুঁড়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর দিন-তারিখ নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন। তার ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, ১৬/১৭ বছর বয়স থেকেই এই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্থিকভাবে খুব একটা স্বচ্ছল ছিলেন না মনু মিয়া। নিজের সামান্য ধানি জমি আর জয়সিদ্ধি বাজারের তিনটি দোকানঘরের ভাড়ায় চলতো তার সংসার। নিঃসন্তান মনু মিয়া তার স্ত্রী রহিমা বেগমকে নিয়ে ছিলেন পরিশ্রমী ও সহজ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। জীবনের শেষ সময়ে ডায়াবেটিস ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। ছয় দিন আগে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন।

কবর খুঁড়তে গিয়ে সময়মতো পৌঁছাতে নিজের জমি বিক্রি করে এক সময় একটি ঘোড়া কিনেছিলেন মনু মিয়া। সেই ঘোড়াই ছিল তার যাত্রার সঙ্গী। কিন্তু দুর্বৃত্তরা অসুস্থ অবস্থায় থাকা অবস্থায় তার সেই ঘোড়াটিকে মেরে ফেলে। এই খবর মনু মিয়াকে শুরুতে জানানো হয়নি। পরে তিনি নিজেই বিষয়টি জেনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এই ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই তাকে সাহায্য করতে চাইলেও মনু মিয়া বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু সবার কাছে নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন, যেন আবারও মানুষের কবর খুঁড়তে পারেন।

মনু মিয়া বলতেন, “আমার কোনো সন্তান নেই, আমি যা করছি তা শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য। দুনিয়ায় আমার চাওয়ার কিছু নেই।”

লন্ডনপ্রবাসী কিশোরগঞ্জের সন্তান, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী ড. আনিছুর রহমান আনিছ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনু মিয়ার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে জানান, “এই মানুষটি ছিলেন নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন প্রকৃত খেদমতগার মানুষকে হারালাম।”

মনু মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দোয়া করছেন—এই নিঃস্বার্থ ও আল্লাহপ্রেমিক মানুষকে মহান আল্লাহ যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন।

হরিপুরে সেনাবাহিনীর ‍উপর হামলা: উপজেলা বিএনপি’র সভাপতিসহ ৯ জন কারাগারে

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ ৯ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার সকালে আসামিরা সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে বিচারক শেখ আশফাকুর রহমান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চি তরে জানান, আসামিরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোববার তারা আদালতে হাজির হন।

প্রসঙ্গত গত ২৭ মার্চ রাত ১২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ভারতীয় চোরাই মহিষ জব্দ করে। এসব চোরাই পণ্য ক্যাম্পে নিয়ে আসার পথে একদল লোক সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন সেনা সদস্য আহত হন। এসময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার পরদিন জৈন্তাপুর মডেল থানায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

সৌদিতে শতাধিক প্রবাসীর বেতন আত্মসাৎ করে উধাও প্রতারক বাংলাদেশি

সৌদি আরবে কর্মরত শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন গোপালগঞ্জের এক প্রতারক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামুন নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দিয়ে কাজ করিয়ে বেতন না দিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা ভিডিও বার্তায় দেশে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অভিযুক্ত মামুন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব নিজড়া গ্রামের হান্নান শেখের ছেলে। সৌদিতে তিনি ‘সাগর’ ও ‘আব্দুল্লাহ’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি AGC ও ACT নামের দুটি সাপ্লাইয়ার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি। শ্রমিকদের মাসের পর মাস কাজ করিয়ে মূল কোম্পানির কাছ থেকে বেতন আদায় করলেও তা কর্মীদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রবাসীরা জানান, প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও মাস শেষে বেতন না পেয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ বাসা ভাড়া ও খাবারের খরচ জোগাতে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিতে বাধ্য হচ্ছেন। গোপালগঞ্জের শফিকুল ইসলাম জানান, মামুন তার তিন মাসের প্রায় ৯ হাজার সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ লাখ) বেতন আত্মসাৎ করেছেন।

প্রবাসীদের অভিযোগ, মামুন একা নন—তার সঙ্গে এই প্রতারণায় যুক্ত ছিলেন তার স্ত্রী রিতু, বোনজামাই আল-আমিন (সোহেল), ভাই সোহাগ ও শ্বশুর মনির মোল্লা। তারা জানান, আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়েই মামুন ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেছেন। মামুনের পাসপোর্ট নম্বর EM0326785, যাতে ঠিকানা টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি সদর উপজেলার পূর্ব নিজড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বর্তমানে মামুন মদিনায় আত্মগোপনে আছেন বলে প্রবাসীদের দাবি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মামুন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি মামুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে গভীর অপরাধ।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা প্রবাসীদের আস্থায় ধাক্কা দিতে পারে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

‘খেজুর’ নিয়ে বিরোধ, শারজায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর হামলায় আরেক প্রবাসী নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় ‘খেজুর খাওয়া’ নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাংলাদেশি রুমমেটের হাতে নিহত হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি তরুণ। লোহার রডের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর মৃত্যু হয় মোহাম্মদ আরিফ (২৪) নামের ওই যুবকের। পরে তার লাশ ১৬ দিন সংরক্ষিত ছিল আবুধাবির কেন্দ্রীয় হিমঘরে।

নিহত আরিফ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছোট ছেলে।

পরিবারের আর্থিক চাপে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই দশ মাস আগে তিনি ভিজিট ভিসায় আমিরাতে পাড়ি জমান। রামু সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। ভিসা নবায়নে জটিলতার কারণে বৈধতা হারান এবং কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত হতে পারেননি।

আরিফের বন্ধু ও প্রতিবেশী প্রবাসী মোহাম্মদ সরওয়ার জানান, গত ২৭ মে সকালে শারজার ১০ নম্বর সানাইয়ার একটি বাসায় ‘খেজুর খাওয়া’ নিয়ে রুমমেট মোহাম্মদ ওসমানের সঙ্গে আরিফের বিতণ্ডা হয়।

সরওয়ার বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত আগের রাতে। বাংকবেডের ওপর তলায় বসে খেজুর খাওয়ার সময় আরিফের ফেলা বিচি নিচের তলায় থাকা ওসমানের মুখে পড়ে যায়। এতে ওসমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

ঘটনার দিন সকালে রুম খালি পেয়ে ওসমান আবার আরিফের ওপর চড়াও হন এবং লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।’

রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে শারজার আল কাসেমি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে টানা ১৩ দিন কোমায় থাকার পর গত ৯ জুন মারা যান আরিফ।

আইনি প্রক্রিয়া ও কনস্যুলেট-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার কারণে তার লাশ আরও ১৬ দিন সংরক্ষিত থাকে আবুধাবির কেন্দ্রীয় হিমঘরে।

বুধবার আরিফের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। একই দিন তাকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওসমান বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঝ আকাশ থেকে ফিরে এলো বিমান, জানা গেল নেপথ্য কারণ

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিঙ্গাপুরগামী একটি ফ্লাইটের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। ২৫০০ ফুট উপরে ওঠার পর ফ্লাইটটি আবারও বিমানবন্দরে ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, উড্ডয়নের পরপরই এটির ইঞ্জিনে পাখি আঘাত (বার্ড হিট) হানে। এ ঘটনায় ফ্লাইটটির ইঞ্জিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এর পরই মাঝ আকাশ থেকে বিমানটি ফেরত এসেছে।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিমানের একটি সূত্র জানায়, সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে ফ্লাইট বিজি ৫৮৪ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৫৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু নিয়ে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পরপরই ৮টা ৩৭ মিনিটে ফ্লাইটটিতে পাখির আঘাত আসে। পরে এটি বুঝতে পেরে মাঝ আকাশ থেকে ক্যাপ্টেন ফ্লাইটটিকে আবার শাহজালাল বিমানবন্দরেই অবতরণ করান।

সূত্র আরও জানায়, পাখির আঘাতের ফলে ফ্লাইটির ইঞ্জিনের সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে ১৪ নম্বর বে-তে বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে সেটির মেরামতের চেষ্টা চলছে।

এদিকে বিমান সূত্র আরও জানায়, যাত্রীরা বিমানবন্দরেই রয়েছে। দুপুরের দিকে অন্য একটি ফ্লাইটে করে তাদের সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হবে।

হঠাৎ মায়ের স্ট্রোক, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেও বসা হলো না এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিনে সাধারণ ৯ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬০৫টি কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই দিনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আয়েশা আজ পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সরকারি বাংলা কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে পৌঁছানোয় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তাকে প্রবেশে বাধা দেন।

আয়েশার সঙ্গে আসা তার খালা গণমাধ্যমকে জানান, আয়েশার বাবা নেই এবং আজ সকালেই তার মা স্ট্রোক করেছেন। মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আয়েশার পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হয়।

কেন্দ্রের বাহিরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবকরা জানান, মানবিক দিক বিবেচনার মেয়েটিকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া উচিত ছিল। তার মা স্ট্রোক করেছেন এমন জরুরি পারিবারিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর প্রতি কিছুটা নমনীয়তা দেখানো যেত।

প্রসঙ্গত, এ পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮১ হাজার ৮৮২ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৯৩ জন।

সিলেটে জাল প্রবেশপত্রে পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রী আটক

সিলেট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে এক ছাত্রী আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর পূর্বে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় দুই ছাত্রীর হাতে একই নম্বরের প্রবেশপত্র দেখতে পান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দুজনেই সিলেটের মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। পরে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সিলেট শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন মোছা. তাহমিনা আক্তার নামের ছাত্রীটির প্রবেশপত্রটি জাল। অন্যদিকে আসল প্রবেশপত্রধারী ফয়জিয়া আক্তারকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

আটক তাহমিনা বলেন, আমার বোন জামাই একজন দালালের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেন এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে এসে জানতে পারি, সেটি ভুয়া। আমি কিছুই জানতাম না। আমার বোন জামাই বিষয়টি করেছেন। সে বর্তমানে অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। এ সময় ভুয়া প্রবেশপত্রধারী ছাত্রীটি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সিলেট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ জেড এম মাঈনুল হোসেন বলেন, জাল এডমিট কার্ড তৈরির পেছনে ওই ছাত্রী বা তার পরিবারের হাত থাকলে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত। আমরা ইতোমধ্যে পুলিশ ও তার পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, যদি তারা প্রতারণার শিকার হন, তাহলে যে দালালের মাধ্যমে বিষয়টি ঘটেছে তার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

সিলেট বন্দরবাজার হোটেল থেকে ২ তরুণীর সাথে ৮ পুরুষ আটক

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে চলছে অনৈতিক কাজ। এবার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে ধরা পড়েছেন ৮ পুরুষের সাথে দুই নারী।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাত পৌণে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্দরবাজারের সিটি হার্ট আবাসিক হোটেল থেকে তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন, মো. ওয়াজিদুর রহমান (৪৭), রাহুল কুড়ি (২২), মো. রিফাত ইসলাম (২৩), পলাশ (২২), সজিব আহম্মদ রাহি (১৯), হাসান আহম্মদ (২৪), মো. নুরুল ইসলাম (২৮). মো. আব্দুস শুক্কুর (৩০). আনিকা আক্তার রূপা (২২) ও আফসানা বেগম (২৩)।

তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম।

সিলেট থেকে অপহৃত কিশোরী বড়লেখায় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

সিলেট থেক অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীেকে বড়লেখা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শাহপরান থানার গুচ্ছগ্রাম বাহুবলের মৃত আব্দুল কাইয়ুমের দুই ছেলে তুহিন আহমদ (২৫) ও তোফায়েল আহমদ (২৬)।

সিলেট মহানগর পুলিশ জানায়, সোমবার সিলেটের সুরমা বাইপাস এলাকা থেকে তোফায়েলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানার পানিধার এলাকা থেকে অপহৃতা কিশোরীকে উদ্ধার করে। একইসময়ে তুহিন আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তোফায়েল ও তুহিনকে আদালতে সপোর্দ করা হয়েছে বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম।

এরআগে গত ১৪ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী অপহৃত হন বলে জানায় তার পরিবার।