Saturday, April 4, 2026
Home Blog Page 6

সিলেটে আরও ৩ ‘ছিনতাইকারী’ গ্রেপ্তার

সিলেট নগরীর ছড়ারপাড় ও বন্দরবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী অভিযোগে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার এসব তথ্য জানায় সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, ছড়ারপাড় এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহেদ (৪০), এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের আনিছ মিয়ার ছেলে শরিফ আহমদ (৩২) ও একই জেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে জালালা আহমদ (৩৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ছড়ারপাড়ের শাহেদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও দ্রুত বিচার আইনে ৫টি মামলা রয়েছে। আর সুনামগঞ্জের শরিফ আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও মাদক সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে। শরীফ দিরাই থানার ২টি মামলায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার জামাল আহমদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা রয়েছে। জামাল জালালাবাদ থানার ১ টি জিআর মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

সিলেটে অপহরণকারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার, ভিকটিম উদ্ধার

সিলেট নগরে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের জিন্দাবাজার তাতীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসএমপি পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় নগরের তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে এবং বর্তমানে নগরের গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুহেল সরকারকে (২২) জোরপূর্বক অপহরণ করে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত। অপহরণের পর তাকে নগরের তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়।

অপহরণকারীরা ধারালো ছুরি ও কাঁচি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে ভিকটিমকে উলঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

অভিযানে তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন, নগরের গোটাটিকর এলাকার মো. সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), শাহজালাল উপশহর এলাকার মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর গ্রামের ফয়জুল করিমের ছেলে এবং বর্তমানে হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর এলাকার আব্দুল মন্নানের ছেলে এবং বর্তমানে শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রায়সত্তরপুর গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮), হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।

অভিযানকালে তাদের হেফাজতে থাকা আরেক ভিকটিম প্রবাসী জাহিদ আহমদকে (৪২) উদ্ধার করা হয়। জাহিদ আহমদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিন দশকের আইনি লড়াই, ব্রিটেনে সিলেটের মুন্নার ঐতিহাসিক বিজয়

দীর্ঘ ২৮ বছরের এক অনিশ্চিত যাত্রা আর রুদ্ধশ্বাস আইনি লড়াই শেষে অবশেষে ব্রিটিশ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে দেশটিতে থাকার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ৪৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মুন্না মিয়া। সিলেটের এই ব্যক্তির এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য একটি ‘নতুন উদাহরণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকায় ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ির মধ্যে এই রায় অ্যাসাইলাম প্রত্যাশী ও অভিবাসন আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

সিলেট থেকে ১৯৯৮ সালে অত্যন্ত সংগোপনে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মুন্না মিয়া। দীর্ঘ ১২ বছর তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে লন্ডনে বসবাস করেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি যুদ্ধ।

ব্রিটিশ হোম অফিস দাবি করেছিল, মুন্না ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং এর আগের কোনও প্রমাণ নেই। তবে আপার টিয়ার ট্রাইব্যুনাল সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে মুন্নার দীর্ঘ ২৮ বছরের বসবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। আদালত স্বীকার করেছে যে, প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রামাণ্য দলিল জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব, যা এই মামলায় মুন্নার পক্ষে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।

মুন্না মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন সক্রিয় কর্মী এবং বাংলাদেশে ফিরলে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হবেন। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ায় তার এই যুক্তি আইনিভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কথা ছিল। কারণ, নিজের দল ক্ষমতায় থাকলে ‘রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের ভয়’ সাধারণত ধোপে টিকে না।

কিন্তু এখানেই মুন্নার আইনজীবীরা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় বিলেতে বসবাসের ফলে সামাজিক একীভূতকরণ এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের পদ্ধতিগত ভুলগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রায় প্রমাণ করলো যে, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাজ্যে বসবাস এবং পারিবারিক জীবন এখন অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক অবস্থার চেয়ে শক্তিশালী আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০২৪ সালের ১৬ মে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্য একটি ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করেছিল। সেই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ব্যর্থ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ছাড়াই দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। মুন্নার আইনজীবীরা সেই চুক্তিজনিত আশঙ্কার জটিলতাগুলো এড়িয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে এই বিজয় ছিনিয়ে আনেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুন্নার এই বিজয় ব্রিটিশ সরকারের ‘অটোমেটেড’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতির মুখে একটি বড় আইনি বাধা।

মুন্না মিয়ার মামলাটি এখন পুনরায় শুনানির জন্য ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য যে নতুন আশ্রয় নীতি ঘোষণা করেছে। এতে প্রতি ৩০ মাস অন্তর শরণার্থী স্ট্যাটাস পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। মুন্নার মামলাটি সেই নীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে লন্ডনের চ্যান্সেরী সলিসিটর্সের কর্ণধার ব্যারিস্টার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারের কঠোর বহিষ্কার নীতি থাকলেও দীর্ঘ সময় বসবাসের শক্ত প্রমাণ থাকলে আইনি পথে বিজয় সম্ভব।

সৌজন্যে: বাংলাট্রিবিউন

বিয়ানীবাজারে রুপিতে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা, শেওলা স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাক জব্দ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে অবৈধভাবে ভারতীয় রুপি দিয়ে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টার অভিযোগে একটি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও ট্রাকটি এখনো বিজিবির জিম্মায় রয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটক ভারতীয় ট্রাকচালকের নাম শ্রী নিখিল দাস। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কালাইন থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত জলধার দাস।

নিখিল দাসের পাথরবাহী ট্রাক বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) অধীন শেওলা আইসিপি দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাথর নিয়ে আসে। পাথর আনলোড করার পর ট্রাকটি ভারতে ফেরার পথে জ্বালানি সংকটে পড়ে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে অবস্থিত নাদিয়া স্টোর নামের একটি দোকান থেকে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে ডিজেল কেনার চেষ্টা করেন।

এ সময় সরাইল রিজিয়নের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও জোরদার গোয়েন্দা নজরদারির কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করে ট্রাকটি জব্দ করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

৫২ বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুই দেশের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জ্বালানী তেল পাচাররোধে সিলেট সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

সিলেট সীমান্ত দিয়ে জ্বালানী তেল পাচাররোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। নজরদারির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

শনিবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শূন্যরেখা থেকে ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকা এবং বিভিন্ন স্থলবন্দর, এলসিপি (ল্যান্ড কাস্টমস পয়েন্ট) ও আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজিবি জানায়, স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট, নদীপথ ও চিহ্নিত রুটগুলোতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রম মনিটরিং এবং সন্দেহভাজন রুটে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, কাস্টমস, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য পাচার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট নগর থেকে একদিনে ৮ ছিনতাইকারীসহ ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক অভিযানে একদিনে ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিনতাইকারী, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদককারবারী, মাদকসেবী, সন্দেহজনক ও চোরাচালানকারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে সেব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলঅ হয়, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত পৃথক ও বিশেষ অভিযানে মোট ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮ জন ছিনতাইকারী, ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসহ ১০ জন, মাকদসেবী ৫ জন, অবৈধ ভারতীয় মালামাল চোরাচালানে অভিযুক্ত ২৬ জন রয়েছেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকা হতে ১৯ জন সন্দেহজনক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জাাংয়, অভিযানকালে ৩৯ লাখ ৩০,১৬০ টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটে ছিনতাই নিয়ে আতঙ্ক

সিলেটে হঠাৎ করে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিশেষ করে সম্প্রতি জেলায় নয় দিনে দুটি স্থানে নারীরা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার ঘটনা বেশি আলোচিত হচ্ছে। এ দুই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নাগরিকদের মধ্যে ছিনতাই আতঙ্ক বেড়েছে।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরের সাগরদিঘিরপার এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী এসে অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে ওই নারীর গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগ ছাড়তে রাজি না হলে হাতে থাকা লম্বা অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন একজন। এক পর্যায়ে লোকজনের উপস্থিতির টের পেয়ে মোবাইল ও ব্যাগ না নিয়েই পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা।

এর ঠিক নয়দিন আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টার দিকে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় এক নারী কর কর্মকর্তা ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছিনতাইকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে নারীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারপর জোরপূর্বক তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।

দুটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ এখনো কাউকে ধরতে পারেনি।

হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোবাশ্বিরকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ওসি বদল হলেও ছিনতাইয়ের সুরাহা হয়নি এখনো। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী রনেন সরকার রণি বলেন, ছিনতাই হঠাৎ করে বাড়ছে। বিশেষ করে দিনদুপুরে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

এ দুটি ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এটা দুঃখজনক।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই!

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়ন চক্র পরিচালনার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক জোবাইদুল আমিনকে মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, ২০২২ সাল থেকে পলাতক থাকা এই আসামীকে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোবাইদুলকে বর্তমানে আলাস্কায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নরত অবস্থায় ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে ফাঁদে ফেলতেন। তিনি শিশুদের যৌনতামূলক ছবি ও ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে মার্কিন ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও তাকে শিশু পর্নোগ্রাফি রাখা ও তৈরির দায়ে অভিযুক্ত করে। গত ৪ মার্চ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়া থেকে মার্কিন হেফাজতে স্থানান্তরিত করা হয়।

জোবাইদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও পর্নোগ্রাফি তৈরিতে বাধ্য করার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

২০২২ সাল থেকে আত্মগোপনে থাকা এই বাংলাদেশি যুবককে ধরতে এফবিআই ও মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে আসছিল।

৫ মার্চ জোবাইদুলকে আলাস্কার আদালতে হাজির করার কথা ছিল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

মার্কিন বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে জোবাইদুলের ২০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

এফবিআই পরিচালক এই সফল অভিযানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সিলেটে আবারও প্রকাশ্যে ছিনতাই, আবারও ফুটেজ ভাইরাল, এবার কী ধরা পড়বে ছিনতাইকারীরা

সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার সাগরদিঘিরে পাড় এলাকায় প্রায় একই কায়দায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। হাউজিং এস্টেটের মতো সাগরদিঘির পাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনারও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আর ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ শুক্রবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনায়ই এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলি।

সাগরদিঘির পাড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনার ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক নারীকে পালসার মোটরসাইকেল করে আসা দুই যুবক ঘেরাও করে। যুবকদের হাতে ছিলো দেশিয় অস্ত্র। তারা ওই নারীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করার চেষ্টা করে তারা।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, ওই নারী ব্যাগ-মোবাইল- অলংকার দিতে রাজী হচ্ছেন না। ছিনতাইকারীদের সাথে টানাটানি করছেন। এসময় ছিনতাইকারীরা নারীর হাতে অস্ত্র দিয়ে কয়েকবার আঘাতও করে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ছিনিয়ে না নিলেও হাতঘড়ি নিয়ে দ্রুত বাইক সনিয়ে চলে যায় ছিনতাইকারীরা।

ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল বেলা ঘটনা ঘটেছে। রাতে ফুটেজ দেখার পর ভোর রাত তিনটার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও ওসি তদন্তকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়৷

তিনি বলেন, আমরা ভুক্তভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি৷ ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশের আইপি ক্যামেরায় দেখা হচ্ছে- কখন কারা ঘটিয়েছে এমন ঘটনা।

দিন দুপুরে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের টহল এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পায়নি পুলিশ।

এরআগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ওই সিসিটিভি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি অটোরিকশা যাচ্ছিলো। তিনটি মোটর সাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজচন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটিরিকশার ভেতরে থাকা ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। কিছুক্ষণ টানাহ্যাঁচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা চলে যায়। এসময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারী চৎিকার করতে দেখা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ওই নারী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা ব্যাগে থাকা তার টাকা ও চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা ছিনিয়ে নেয়।

৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফা প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নগরবাসী।

হাউজিং এস্টেটের ঘটনার ব্যাপারে সম্প্র্রতি মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা নগরের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

সিলেটে সরকারি কাজে চাঁদা দাবি: ছাত্রদল নেতা কারাগারে, বহিষ্কার

সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারি বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে মাটিবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা দাবি ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতাকে কারগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।

গ্রেপ্তার হওয়া রহমত মারুফ জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বিরাখাই ইউনিয়নের হাটিরগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ট্রাক শ্রমিক মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে রহমত মারুফকে প্রধান আসামি করে তার বাবা জামাল আহমেদসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “বৃহস্পতিবার দুপুরে খাল খননের মাটি ট্রাকে করে বেড়িবাঁধ এলাকায় নেওয়ার সময় উপজেলার হাটিরগ্রাম এলাকায় রহমত মারুফের বাড়ির সামনে ট্রাকগুলোর গতিরোধ করা হয়।

এ সময় রহমত মারুফের বাবা জামাল আহমদসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন যুবক ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এ সময় প্রকল্পের কাজ চালাতে হলে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করেন রহমত মারুফ।

ট্রাকচালক মাহফুজুর রহমান ও প্রকল্প ম্যানেজার ফারুক আহমেদ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং ট্রাকের গ্লাস ও বডি ভাঙচুর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতরা চিকিৎসা নেন।

এছাড়া প্রকল্প ম্যানেজারের কাছে থাকা নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ওসি বলেন, মামলার পর রহমত মারুফকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর রহমত মারুফকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমেদ জুবের ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, “জৈন্তাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রহমত মারুফ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

এ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রদল নেতা রহমত মারুফ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”