Sunday, April 19, 2026
Home Blog Page 86

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন বাতিল করছেন ট্রাম্প, দুশ্চিন্তায় অভিবাসীরা

প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়ার দিনই এ সংক্রান্ত আইন বাতিলে নির্বাহী আদেশ দিতে পারেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রানিং মেট জেডি ভ্যান্সের যৌথ ওয়েবসাইটে এ বিষয়ক নির্বাহী আদেশের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশ যদি বাস্তবায়িত হয় তবে কেবল যারা অবৈধ অভিবাসী তাদের সন্তানই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ হারাবে না। পাশাপাশি, যারা নাগরিক হওয়ার প্রাথমিক ধাপ ‘গ্রিন কার্ড’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারাও প্রভাবিত হবেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হবে যে, অনাগত সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হওয়ার জন্য পিতা-মাতার অন্তত একজনকে মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

ট্রাম্প-ভ্যান্সের নির্বাহী আদেশের খসড়ায় বলা হয়েছে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করেন, এটি ঠিক নয়। তারা বলছেন, নির্বাহী আদেশ এই আইন পাস হলে তারা বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন।

নির্বাহী আদেশের পর এটি আইন হিসেবে পাস হলে, তা বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হয়ে দেখা দেবে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চের বিশ্লেষণ অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৮ লাখ ভারতীয় আমেরিকান আছে। যাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ বা ১৬ লাখ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে। নতুন আইন হলে, এই অভিবাসীদের অনেকেই আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিক হতে পারবেন না।

অভিবাসন সংক্রান্ত ট্রাম্পের এ পরিকল্পনার কারণে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন দেশটির বৈধ কাগজপত্র বিহীন অর্ধলক্ষাধিক বাংলাদেশি দম্পতি। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভুগছে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বৈধতার জন্য আইনি লড়াই করা অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবার।

অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে তার কিছু করার নেই। তাদের তিনি ফেরত পাঠাবেনই।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট বলেন, অবৈধদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি কোনো পণ্যের মূল্যতালিকা নয়। এটি সত্যিই এমন কিছু নয়। আমাদের আসলে কিছু করার নেই। যখন কেউ খুন ও হত্যা করে, যখন মাদক সম্রাটরা দেশকে ধ্বংস করেছে, তখন তাদের সেসব (নিজ) দেশে ফেরত যেতে হবে। কারণ তারা আর এখানে থাকবে না।

ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি রাজীব এস খান্না বলেন, ‘ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের জন্য কোনও স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার পরামর্শ দেয় ৷ এটি প্রায় নিশ্চিতভাবে মার্কিন সংবিধানের ১৪ তম সংশোধনীর লঙ্ঘন। ট্রাম্পের ভুল ব্যাখ্যার মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করি।’

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মার্চ নাগাদ আমেরিকার অভিবাসন প্রক্রিয়ার কর্মসংস্থানভিত্তিক ‘গ্রিন কার্ডের’ অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ভারতীয়র সংখ্যা এক মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক কেটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন বিষয়ক পরিচালক ডেভিড বিয়ার এই তথ্য দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, মৃত্যু ও বয়স উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে কিছু ভারতীয় এ তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। নতুন আইন পাস হলে, এসব কারণ বিবেচনায় নিলে বলা যায়—এসব ভারতীয়দের গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষার সময় হবে ৫৪ বছর। আর যদি এসব কারণ বিবেচনা না করা হয়, তবে অপেক্ষা হতে পারে ১৩৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় ৪ লাখ ১৪ হাজার ভারতীয় মারা যাবেন এবং ১ লাখের বেশি ভারতীয় শিশু ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নির্ভরশীল ভিসা বা ‘ডিপেনডেন্ট ভিসার’ বৈধতা হারাবে এবং গ্রিন কার্ডের তালিকা থেকে বাদ পড়বে।

কানাডার টিকিট কাটার আগে যা করা জরুরি

স্বপ্নের দেশ কানাডা এখন অনেকের কাছেই বাস্তবের। একসময় কানাডার ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে যে পরিমাণ সম্ভব না ছিল; বর্তমানে সেটি সম্ভাবনাতেই রূপ নিয়েছে। আমাদের পরিচিত-অপরিচিত বাংলা কমিউনিটির বড় একটি অংশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কানাডামুখী। কানাডায় আসার পর এখানকার স্বচ্ছ বাস্তবতা অনেকের সামনেই এক কঠিন-জটিল এবং অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি করে দিচ্ছে।

তারপরও যাদের প্রস্তুতি আছে; আছে মানসিক দৃঢ়তা এবং আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত সংগতি রয়েছে; তারা নিঃসন্দেহে কানাডার অর্থনীতি এবং সমাজনীতিতে একসময় শুধু যুক্তই হবেন না অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির স্টিয়ারিংয়ে বসে হয়তো নেতৃত্বও দেবেন।

ইমিগ্র্যান্টদের দেশ কানাডাতে অরিজিন খোঁজা আটলান্টিকে ঝিনুক খোঁজা প্রায় সমার্থক। এখানে রেসিজম যা আছে সেগুলির চামড়ার। দক্ষিণ এশিয়ার মতো পদবির নয়; তবে সেখান হতে আসা কিছু সংখ্যক সেই ইর্ষাবেড়ায় আটকা আছে এখানেও। তাদের জন্য সরি বলুন। নিজেকে শক্ত রাখুন।

কানাডায় এই ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই নিজে প্রসেস করছেন। আবার বড় একটি অংশ কোনো না কোনো এজেন্ট কিংবা কোন তৃতীয় মাধ্যমে তাদের ভিসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন কিংবা করছেন। এই ভিসা প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার পর যে বা যারা কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন; তারা নিশ্চয়ই দেশের স্থাবর-অস্থাবর সকল কিছু গুছিয়ে স্থায়ীভাবে চলে আসার জন্য যে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন এজন্য ফ্লাই করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

অনেকেই তাদের ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সকল ডকুমেন্ট দিয়েছেন; সেটার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। সেজন্য কানাডায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে কিংবা কখনো তৃতীয় কারো ইন্ধনে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কিংবা রেনডমলি ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন চালাচ্ছে। যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বটে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে অনেকেই ফেঁসে যাচ্ছেন অর্থাৎ তথ্যে গরমিলের কারণে কিংবা তথ্যগোপনের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভিসা ডিএক্টিভ করে দিচ্ছে।

এক্ষেত্রে এজেন্ট মাধ্যমে ভিসা প্রাপ্তরা তাদের চুক্তিবদ্ধ টাকা লেনদেন করে ফেললে পরবর্তীতে সেটি যেমন ফেরত পাচ্ছেন না; তেমনি কানাডা অভিমুখেও যাত্রা করতে পারছেন না। যা সব দিক দিয়ে এসব ভিসাপ্রাপ্তদের জন্য এক বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর্থিক এবং সামাজিকভাবে তারা এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনারা যারা নিজে অথবা এজেন্ট মাধ্যমে ভিসাপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা বিমানের টিকেট কনফার্ম করার পূর্বে; এমনকি যাত্রার প্রারম্ভে আপনাদের ভিসার ভ্যালিডিটি চেক করুন অথবা ভ্যালিডিটি চেক করে তবেই টিকেট কাটুন। টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর সাথে ফ্লাইং পর্যন্ত চুক্তি করুন।

ইতিমধ্যে চারপাশে চেনাজানা অনেকেরই ভিসা ডিএক্টিভের সংবাদ অনেকেই শুনেছেন; আমিও শুনেছি। এবার পরিচিত একজনের কাছে আসা ইমেইল পেয়ে তাহার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার কারণে এই সতর্কতামূলক লেখাটির উদ্দেশ্য হলো হয়তো কারো উপকারে আসতে পারে।

ভিসা ইনভ্যালিড হওয়ার সম্ভাব্য প্রধান কারণ হলো আবেদনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছে যা পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কিংবা ভিসা অফিসারের কাছে ধরা পড়েছে। যার কারণে ভিসা ডিএক্টিভ করা হয়েছে। বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত পাঠানোর কারণ হচ্ছে ইমিগ্রেশনে আপনার ভিসা যাচাই করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসার সেটি ডিএক্টিভ কিংবা ইনভ্যালিড দেখতে পাচ্ছেন। এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে অনলাইন টিকেট খুঁজে না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত সপ্তাহে ঢাকা হতে ফ্লাই করে ট্রানজিট পয়েন্ট হংকং থেকে ফেরত এসেছেন আমাদের পরিচিত দুইজন।

ভিসা ডিএক্টিভ বা ইনভ্যালিড করার সাথে সাথে আইআরসিসি থেকে আপনার আবদেনকৃত মাধ্যমে ইমেইলে জানানো হয়; কিন্তু আপনি মেসেজ/ইমেইল চেক করেননি বা যিনি আপনার ফাইল প্রসেস করেছেন তিনি আপনাকে সেটা জেনেও জানাননি।

আর্থিক ক্ষতি এড়াতে টিকিট কনফার্ম করার পূর্বে এবং বিমানবন্দরে যাওয়ার পূর্বে আপনার ভিসার ভ্যালিডিটি চেক করুন। এটা চেক করা খুবই সহজ। আপনার জিসি কি একাউন্টে ঢুকলেই ভিসা স্ট্যাটাস ভ্যালিড/ ডিএক্টিভ অথবা ইনভ্যালিড লেখা থাকবে। এছাড়া ইমেইলে মেসেজ আসবে জিসি কি চেক করার জন্য।

আইআরসিসি যদি মনে করে আপনি তাদেরকে কোন ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পেয়েছেন এবং ভিসা ইস্যু করার সময় সেটা ধরা পড়েনি পরবর্তীতে সেটা ধরা পড়েছে; তখন তারা আপনার ভিসা বাতিল/ ডিএক্টিভ /পেন্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এক্ষেত্রে ভিসা বাতিল/পেন্ডিং করার জন্য আপনার পাসপোর্ট তাহারা যেহেতু পাচ্ছে না সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় ইমেইল করে জানিয়ে দিচ্ছে!। কারণ আপনাকে বললেও আপনি নিশ্চয় ভিসা বাতিল করার জন্য পাসপোর্ট আবারো তাদের কাছে জমা দেবেন না।

তাই কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনের সাথে অটো জেনারেটেড ইউসিআই নাম্বার বা ভিসা নাম্বার ব্লক করে দেয় অনলাইন সিস্টেমে। এই ব্লক করার নাম হচ্ছে ভিসা ইনভ্যালিড/ ডিএক্টিভ /পেন্ডিং কিংবা বাতিল।

বিশ্বের যে কোন দেশেই আপনার যাত্রা শুভ হউক। ট্রাভেলিং এর ক্ষেত্রে নানাবিধ ও সমস্যা আসতেই পারে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডা ভিজিটের ক্ষেত্রে আপনার সর্তক পদক্ষেপ আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে। সবার প্রবাসজীবন হউক আনন্দময় এই শুভকামনা সবসময়ই।

কানাডায় টিকটকের সব কার্যালয় বন্ধের নির্দেশ

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কানাডায় টিকটকের সকল কার্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। তবে এখনই নাগরিকদের টিকটক ব্যবহারে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি কানাডা প্রশাসন।

বুধবার (০৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ উল্লেখ চীনভিত্তিক ‘বাইটড্যান্স’-এর মালিকানাধীন টিকটকের সকল কার্যালয় বন্ধের আদেশ জারি করেছে কানাডার সরকার।

কানাডার উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও শিল্পমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যামপেইন বলেন, টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের কার্যক্রম সম্পর্কিত নির্দিষ্ট জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। চীনভিত্তিক বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন হওয়ায় নজরদারি রয়েছে টিকটকের ওপর।

তবে কানাডায় টিকটক ব্যবহারের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত একটি ব্যক্তিগত পছন্দ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত বছর সকল সরকারি ডিভাইস থেকে টিকটক নিষিদ্ধ করে অ্যাপ্লিকেশনটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছিল দেশটির সরকার। শ্যামপেইন বলেন, এই সিদ্ধান্তটি একটি আইন অনুসারে নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগগুলোর পর্যালোচনা করার অনুমতি দেয়। কানাডার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে সেসব কোম্পানিকে পর্যালোচনা করে কানাডা।

অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জের দাবি করে টিকটকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, টিকটকের কানাডার অফিস বন্ধ করা এবং শত শত কর্মসংস্থান ধ্বংস করা কারোরই জন্য মঙ্গলজনক নয়। কেবল কানাডা নয়, বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন থাকলে টিকটককে যুক্তরাষ্ট্রেও নিষিদ্ধ করা হবে।

এরই মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কোম্পানি ফেডারেল আপিল কোর্টে লড়াই করছে টিকটক। এটি বাক স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছে কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভিযোগ, টিকটক বেইজিংকে ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ করতে এবং তাদের ওপর নজরদারি চালাতে অনুমতি দেয়। এমনকি এই অ্যাপটি গুজব ছড়ায়।

আমেরিকায় নির্বাচনে চার বাংলাদেশির বিশাল জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়জয়কারের মধ্যে চার বাংলাদেশি-আমেরিকানেরও বিপুল বিজয় হয়েছে। তাঁরা সবাই হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে স্টেট পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদমর্যাদায় নির্বাচিত প্রতিনিধি।

এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান ফেডারেল পর্যায়ে (যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি সভা) নির্বাচিত হতে পারেননি।

নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে সপ্তম মেয়াদের জন্য বিজয়ী হয়েছেন আবুল বি খান (রিপাবলিকান)।

এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিজয়ী হয়েছেন জর্জিয়া স্টেটের সিনেটর শেখ রহমান। একই স্টেটে সিনেটর হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিজয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নাবিলা ইসলাম।

কানেকটিকাট স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিজয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট মো. মাসুদুর রহমান। পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান রকিংহামে গৃহীত ভোটের ৬৭ শতাংশ পেয়েছেন।

অন্যদিকে জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান ৬৭.৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। একই স্টেটের সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান নাবিলা ইসলাম। কানেকটিকাট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে ৬৪.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন চাঁদপুরের সন্তান মো. মাসুদুর রহমান। এই চার বাংলাদেশি-আমেরিকানের বিজয়ে প্রবাসীরা উল্লাস করছেন।

বিজয়ীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, পেনসিলভানিয়ার মিলবোর্ন সিটির মেয়র মাহবুবুল আলম তৈয়ব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, ফোবানার চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির চেয়ারপারসন ও সিইও আলিম খান আকাশ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবদুল কাদের মিয়া ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুল হক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দক্ষিণাঞ্চলীয় কমিটির সভাপতি এম ফজলুর রহমান ও সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক, লং আইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আকতার হোসেন বাদল, আমেরিকা-বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এম এ সালাম, বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন, টেক্সাস ডেমোক্রেটিক পার্টির রিফিউজি কাউন্টির চেয়াপারসন রহিম নিহাল প্রমুখ।

অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রযোজক সিমি ইসলাম কলি। গত ২৪ আগস্ট আরও দুইজনকে আগামী করে মামলা করা হয়। বাকিরা হলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম ও জাহিদুল ইসলাম আপন।

মামলা প্রসঙ্গে সিমি বলেন, আমার ইউটিউব চ্যানেলটি হ্যাক করেছেন অপু বিশ্বাস ও জাহিদুল ইসলাম আপন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সাধারণ ডায়েরি ও প্রযোজক সমিতির মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। পাশাপাশি মামলায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিরো আলমের মাধ্যমে সমাধানের নাম করে তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন অপু।

সিমি আরও দাবি করে বলেন, ইউটিউব চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বহুদিন অপুর কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমার হয়ে প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু ভাইও অপুর সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু তার কথাও সে রাখেনি।

তিনি আরও বলেন, একদিন হিরো আলম আমাকে ফোন করে বলে, আমি রাজি হলে অপুর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে দেবেন। আমার মনে হয়, অপুই তাকে ফোন দিতে বলেছেন আমাকে। এরপর টাকার বিনিময়ে চ্যানেলটি ফিরে পেলেও ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি হিরো আলমকে জানালে তিনি বলেন, দেখছি কী করা যায়। এরপর আর কোনো খবর নেই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গেল বছর আগস্টে সিমির ইউটিউব চ্যানেলটি হ্যাক করেছেন বিবাদী অপু বিশ্বাস ও জাহিদুল ইসলাম। এরপর আশ্বাস দিয়েও চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেননি অপু বিশ্বাস। তাই বাধ্য হয়ে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সিমি। যেখানে আসামি করা হয় অপু ও জাহিদুলকে।

অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রযোজক সিমির মামলা
অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রযোজক সিমির মামলা

বিষয়টি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, আর পারি না এই মহিলাকে (সিমি ইসলাম কলি) নিয়ে। ওনার তো সবকিছু দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার মামলা কীসের! আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এসব তো ফাজলামো।

পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা বলেন, এখানে হিরো আলম এলো কোথা থেকে! এটা সিমিই ভালো বলতে পারবেন। আমি তাকে ঠিকঠাকভাবে চিনিও না। আমি কী উত্তর দিতে পারি বলেন। সে টাকা কোথায় দিয়েছে কেন দিয়েছে— আমি কিছুই জানি না। এখন এসব মনগড়া কথা বলছে কেন!

অপু আরও বলেন, অফিসিয়ালি ইউটিউব চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করেন আমার অ্যাডমিন। হয়তো নাম আমার। মালিকানা আমার। কিন্তু আমি এসব নিয়ন্ত্রণ করি না। অন্য সংস্থা দিয়ে চালাই। যদি আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হতো তাহলে আমি বলতে পারতাম।

অভিনেত্রী বলেন, আমি যতটুকু জানি তিনি (সিমি) বুদ্ধিমান মানুষ। তার মাথায় এসব কে ঢোকাচ্ছে কেন ঢোকাচ্ছে জানি না। তিনি যদি চলচ্চিত্রেই কাজ করতে চান তাহলে এসব নিয়ে কেন বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। আর তিনি টাকা কোথায় দিয়েছেন না দিয়েছেন কী সব বানোয়াট কথা ছড়াচ্ছেন।

সিমির আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানতে পেরে সমাধান করার আশ্বাসে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসেন হিরো আলম। এরপর চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয় তার কাছে। বলা হয়, অপু বিশ্বাসের পক্ষ থেকে এই টাকা চাওয়া হয়েছে।

দর-কষাকষির পর চ্যানেলটি ফিরে পাওয়ার আশায় হিরো আলমকে ৫ লাখ টাকা দেন বাদী সিমি ইসলাম। টাকা পেয়ে চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেন তারা। কিন্তু বাদী দেখতে পান, ইউটিউব চ্যানেলে থাকা তার ভিডিওগুলো নেই।

বিষয়টি অপু বিশ্বাস ও হিরো আলমকে জানান সিমি। কিন্তু তারা ভিডিওগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে কালক্ষেপণ করেন। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতিতেও কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সিমি।

লন্ডনে সমকামী সেজে সিলেটী তরুণের স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা, অবশেষে…

নিজ দেশে নিজেকে অনিরাপদ ভেবে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশি এক ‘সমকামী’ তরুণ৷ কিন্তু তার আশ্রয় আবেদন নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত৷ বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশি প্রকৃত সমকামী নন, বরং যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ভান ধরেছেন তিনি৷ খবর: মেট্রো ও ইনফোমাইগ্রেন্টস

৩৮ বছর বয়সি ওই তরুণের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটে৷ তার দাবি, নিজের সমকামী সত্তাকে নিজ দেশে প্রকাশ করতে না পারায় ২০০৯ সালে শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে৷

যুক্তরাজ্যের পৌঁছানোর পর দেশটিতে আশ্রয় চেয়ে আবদেন করেন ওই বাংলাদেশি৷ নিজের পক্ষে পেশ করেন নানা প্রমাণ৷ ২০১৮ সালের মার্চে দেশটির অভিবাসনবিরোধ সংক্রান্ত প্রথম স্তরের একটি ট্রাইব্যুনাল তার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন৷ রায়ে বিচারক বলেছিলেন, আবেদনকারী যে একজন সমকামী, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়৷

ব্রিটিশ সংবাদপত্র মেট্রো জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত একটি নথি দেখেছে তারা৷ সেখানে বিচারক উল্লেখ করেছেন, ‘‘পরিশেষে আমি বলতে চাই, আপিলকারী প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন৷ বরং তিনি নিজেকে সমকামী হিসাবে প্রমাণের চেষ্টা করছেন৷’’

বিচারক আরো বলেছিলেন, ‘‘আশ্রয় চাওয়ার আগে আবেদনকারী প্রকৃত সমকামী ছিলেন বলে কোনো নথিভুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷’’

বিচারক আরো জানতে চেয়েছিলেন, কেন ওই তরুণ তার সমকামী বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে পরিচিত এমন কোনো ব্যক্তিকে আদালতে আনতে পারলেন না, যিনি তার সপক্ষে প্রমাণ দিতে পারতেন৷ অবশ্য, আদালতে দুই জন সাক্ষী হাজির করেছেন বাংলাদেশি ওই তরুণ৷ কিন্তু বিচারক বলেছেন, আপিলকারী প্রকৃতপক্ষে সমকামী কি-না, তা প্রমাণে তারা উপযুক্ত ছিলেন না৷

এলজিবিটিকিউ+ প্রাইড ইভেন্ট এবং নাইটক্লাবগুলোতে বাংলাদেশি ওই তরুণের উপস্থিতি নিয়ে প্রমাণ দাখিল করাও বিচারকের কাছে যথেষ্ট ছিল না৷ এমনকি সম লিঙ্গের পর্ণোগ্রাফি দেখার ছবি দেখানো হলেও আদালত তা আমলে নেয়নি৷ বিচারক বলেছিলেন, আদালতে পেশ করা সমকামী পর্নোগ্রাফি দেখার ছবিটিও ‘সাজানো’ ছিল৷

বিচারক আরো বলেছিলেন, ‘‘আপিলকারীর নিজেকে সমকামী প্রমাণের লক্ষ্যে এই ছবি পেশ করেছেন৷ কিন্তু ছবিতে বাহুল্য আয়োজন ও সাজানো ভঙ্গি রয়েছে৷ তাই আমার মনে হয়েছে, তা আবেদনকারীর দাবির বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দেয়৷’’

রায়ের পর, ওই বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোম অফিসের কাছে আশ্রয় চেয়ে আবার আপিল করেন৷ কিন্তু ২০১৮ সালের রায়ের ভিত্তিতে এ বছরের জুনে তার আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই তরুণ৷ তাকিয়ে আছেন আপিল আবেদনের রায়ের দিকে৷ কারণ, সেটি যদি বিপক্ষে যায়, তাহলে তাকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠানো হবে৷

ব্রিটিশ সংবাদপত্র মেট্রোকে ওই তরুণ বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক কারণে নিজের যৌন অভিমুখিতা ও চর্চা বহু বছর ধরে এড়িয়ে চলতেন তিনি৷ বলেন, ‘‘আমার যৌন অভিমুখিতার কারণে, বাংলাদেশে আমার জীবনযাত্রা ছিল খুবই চাপের এবং আতঙ্কের৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি বাংলাদেশে সমকামী পুরুষ হিসেবে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারিনি৷ যদি কেউ এ বিষয়ে জানতে পারত, তবে আমার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়তো৷ বাংলাদেশে থাকাকালে কেউ আমার যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে জানতেন না৷ আমি যখন দেশ ছেড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হলাম, তখনই মানুষ এ ব্যাপারে জানতে পারেন৷’’

তাই নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটা যন্ত্রণার বলছেন তিনি৷ কারণে, বাংলাদেশ সমকামিতাতে এখনও স্বীকৃতি দেয়া হয়নি৷

লন্ডনে বসবাসরত এই বাংলাদেশি বলেন, বাংলাদেশে ‘‘সমকামী হওয়া শুধু সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য নয়, অবৈধও বটে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে, আমার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে৷ যেহেতু আমার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন সবাই জেনে গেছেন৷ ফলে, আমি দেশে ফিরে গেলে সহিংসতার মুখে পড়তে পারি, এমনকি আমাকে হত্যাও করা হতে পারে৷’’

অভিবাসন অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটিশ হোম অফিসে একটি অবিশ্বাসের সংস্কৃতি আছে৷ তাই যখনই এলজিবিটিকিউ+ কেউ আশ্রয়ের আবেদন করে তাদের তারা বিশ্বাস করতে চান না৷

হোম অফিসের একটি চিঠি দেখেছে সংবাদমাধ্যম মেট্রো৷ সেই চিঠি উদ্ধৃত করে মেট্রো জানিয়েছে, হোম অফিসের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশি তরুণকে বলেছিলেন, ‘‘আপনি শরণার্থী মর্যাদার জন্য যোগ্য নন৷ কারণ আপনার পেশ করা প্রমাণের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়নি যে আপনি ঝুঁকিতে রয়েছেন৷’’

ওই কর্মকর্তা বলেন, তাকে যদি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাতে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাকে সহযোগিতার জন্য ‘কার্যকর’ হবে৷

ওই বাংলাদেশি তরুণ বলেন, ‘‘আশ্রয় প্রক্রিয়া অবিশ্বাস্যভাবে চ্যালেঞ্জিং এবং হতাশার৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘অসংখ্য বাধা আর জটিলতা নিয়েও আমি ছয় বছর ধরে এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি৷’’

ক্স নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই তরুণের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যালট পেপারে ঠাঁই পেল বাংলা

আর একদিন পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সেই নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্যালট পেপারে ইংরেজির পাশাপাশি যে চারটি বিদেশি ভাষা ঠাঁই পেয়েছে, সেসবের একটির নাম বাংলা। ‍যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা বোর্ড অব ইলেকশন্সের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য শাখার নির্বাহী পরিচালক মাইকেল জে রায়ান সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের প্রধান শহর নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত সেই ব্রিফিংয়ে রায়ান বলেন, “অভিবাসী ভোটারদের সুবিধার জন্য ব্যালট পেপারে ইংরেজির পাশাপাশি ৪ টি ভাষা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড অব ইলেকশন্স নিউইয়র্ক শাখা। এই ভাষাগুলো হলো চীনা, স্প্যানিশ, কোরিয়ান এবং বাংলা।”

নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত টাইমস স্কয়্যার এলাকার একটি দোকানে কাজ করেন শুভাশিষ, ‍যিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিউিইয়র্কে গিয়ে স্থায়ী হয়েছেন। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে শুভাশিষ বলেন, “আমি নিজে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ, তবে এখানে আমাদের কমিউনিটিতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা বাংলাভাষার ব্যালট পেপার দেখলে স্বস্তি বোধ করবেন। ভোটকেন্দ্রে এটি তাদের জন্য সহায়ক হবে। আমি নিশ্চিত যে আমার বাবা এই ব্যাপারটি পছন্দ করবেন।”

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যটি অধিবাসী অধ্যুষিত। দেশটির মোট অভিবাসীদের একটি বড় অংশ থাকেন নিউইয়র্ক সিটিসহ এই রাজ্যের বিভিন্ন শহরে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গোটা নিউইয়র্কে ২ শতাধিক ভাষায় কথা বলেন লোকজন। এসবের মধ্যে হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, তামিলসহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষাও রয়েছে। কিন্তু সেসবের মধ্যে ভারতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে একমাত্র বাংলাকে।

ব্রিফিংয়ে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মাইকেল জে রায়ান বলেন, “আমি বুঝতে পারছি যে (ব্যালট পেপারের জন্য) অন্যান্য ভারতীয় ভাষাকে বাদ দিয়ে শুধু বাংলাকে বেছে নেওয়ায় অন্যান্য ভাষাভাষী ভারতীয়রা হয়ত মনোঃক্ষুন্ন হয়েছেন, কিন্তু এটা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।”

“যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার অধিকার আইন, ১৯৬৫-এর আওতায় দু’বছর আগে একটি মামলা করা হয়েছিল নিউইয়র্কের আদালতে। মামলাকারীদের দাবি ছিল, নিউইয়র্কে যেসব অঞ্চলে অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি, সেসব অঞ্চলে ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি অভিবাসী ভাষায় ব্যালট পেপার প্রদান করা হোক। পরে নিউইয়র্কের রাজ্য প্রশাসন ও মামলাকারী— দু’পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে এই চার ভাষায় ব্যালট পেপার প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।”

সূত্র : এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

কানাডার ‘সাইবার শত্রুর’ তালিকায় ভারতের নাম

কানাডার জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ পদক্ষেপ অনুযায়ী ভারতকে শত্রুদেশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে দেশটি। সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা দেশগুলোর তালিকায় নাম উঠেছে ভারতের। ভারতকে ‘সাইবার শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটি। কানাডার এই পদক্ষেপকে ভারতকে আক্রমণ করার এবং আন্তর্জাতিকভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দেশটির আরেকটি কৌশল বলে মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।

গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রুডোর প্রশাসনের অধীনে কানাডার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মনোভাব প্রভাবিত করতে চায় কানাডা। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, অন্যান্য ঘটনার মতো সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনেও কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ‘জাতীয় সাইবার হুমকি পর্যালোচনা ২০২৫-২৬’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে ভারতকে ‘সাইবার শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কানাডার সরকার। এ তালিকায় অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক ব্যবস্থায় নতুন করে ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠতে প্রত্যাশী ভারতের মতো দেশগুলো সাইবার কর্মসূচি গড়ে তুলছে, যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে কানাডার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

কৌশলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি, ভারতের মাথায় হাত

ভারতের বিমান ও নৌবন্দর দিয়ে পোশাক রপ্তানি করা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই রুট পরিবর্তন করে মালদ্বীপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস পণ্য পাঠাচ্ছে ঢাকা। এতে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে দিল্লি।

শনিবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম লাইভমিন্ট।

সংবাদমাধ্যমটিকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ কার্গো পরিবহন সংস্থা এমএসসি এজেন্সির (ইন্ডিয়া) মহাপরিচালক দীপক তিওয়ারি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে আর ভারতের বিমানবন্দর ব্যবহার করছে না। ফলে আগে এসব পণ্যের কার্গো থেকে ভারত যে রাজস্ব পেত সেটি এখন পাচ্ছে না।

অন্যদিকে দেশটির নৌবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের নৌবন্দর ব্যবহার না করে প্রথমে মালদ্বীপে যাচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য। এরপর সেখান থেকে বিমানে করে বিশ্বব্যাপী গন্তব্যে পৌঁছানো হচ্ছে ঢাকার এসব পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে এইচঅ্যান্ডএম ও জারার মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানির পোশাকও আছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। পূর্বে দেশটি ভারত দিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করত। ফলে সেখান থেকে বড় অঙ্কের একটি রাজস্ব পেত ভারত। তাই ভারতের বদলে অন্য দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করলে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে লজিস্টিক ও কাঠামোগত প্রজেক্টে থাকা সহযোগিতাপূর্ণ সুযোগগুলো শঙ্কায় পড়তে পারে।

তবে ঢাকার এমন সিদ্ধান্তে ভারত সরকার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে দিল্লির স্বার্থ রক্ষা করবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

অপর এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ যেসব তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি করেন তার বেশির ভাগই ভারতীয় অবকাঠামো বা কারখানায় উৎপাদিত হয়। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতের মালিকানাধীন। এই বিষয়টিও নজর রাখছে দিল্লি।

অরুণ কুমার নামে এক শিল্প বিশেষজ্ঞ জানান, ঢাকা রাগ থেকেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত নিজেদের সাপ্লাই চেইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় বন্দরগুলোর মাধ্যমে সময়মতো পণ্য রপ্তানি না হওয়ায় বাংলাদেশ এমন সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন রুটের মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা, সঙ্গে নিশ্চিত নির্ভরযোগ্যতা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। যা আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারের কঠোর সময় সীমার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভারতের বন্দরের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ তাদের সাপ্লাই চেইনের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চালান পৌঁছে দিতে না পারলে অর্ডার বাতিল হয়ে যায়, তাই গার্মেন্টস পণ্য একটি পঁচনশীল। জানান অরুণ কুমার।

ভারতের অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্যের দাবি, ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি বন্ধ করলেও তাদের খুব ক্ষতি হবে না।

কারণ, ভারতীয় বন্দরগুলো এমনিতেই অনেক ব্যস্ত। এ কারণে তারা তাদের বন্দর হয়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বন্ধের জন্য আগেই ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আমরা বাংলাদেশের পণ্য ভারতীয় বিমানবন্দর দিয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে সরকারকে অনুরোধ করেছি।

আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারত হয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি বন্ধের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তাকে আশ্রয় দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৪৬ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। এই অর্থবছরে এই খাত থেকে ৪৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। ফলে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সময় অপচয় বাড়াতে মালদ্বীপ হয়ে পণ্য পাঠাচ্ছে ঢাকা। এটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে।

কানাডার ভিজিট ভিসার আবেদন করতে যা লাগবে

বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জনপ্রিয় এক গন্তব্য উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। প্রত্যেক বছর লাখ লাখ মানুষ এই দেশটিতে পাড়ি জমান। দেশটির ৯৫ ভাগের বেশি মানুষ অভিবাসী আর বাকি ৪ দশমিক ৯ ভাগ মানুষ ফার্স্ট নেশন। যে কারণে কানাডাকে অভিবাসীদের দেশ হিসেবে বলা হয়। তবে অনেকেই জানেন না কীভাবে কানাডার ভিসা পাওয়া যাবে।

জীবন মানের বিবেচনায় কানাডা অবস্থান শীর্ষ তিনে। কানাডা বিশ্বের অভিবাসিদের এক নম্বর পছন্দনীয় দেশ হিসেবে এরই মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। উন্নত জীবনযাপন, চাকরি বা পড়াশোনার জন্য কানাডা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দেশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ কানাডা। এছাড়া অনেকে ভ্রমণের জন্য কানাডায় যেতে চায়।সেরা ট্যুর প্যাকেজ

ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের পছন্দের একটি দেশ হচ্ছে ম্যাপেল পাতার দেশ কানাডা। নায়াগ্রা জলপ্রপাত কিংবা ব্যানফ ন্যাশনাল পার্কের মতো পপুলার ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর জন্য এটি সর্বদাই ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার কেন্দ্রস্থল হিসেবে কানাডার শহরগুলোর রয়েছে আলাদা আবেদন, বিশেষ করে টরন্টো, কুইবেক, ভ্যানকুভার ইত্যাদি শহরের পপুলারিটি প্রায় সবারই চোখে পড়ে।

ভ্রমণ ভিসায় কানাডা যাওয়া সহজ। তবে ভিসা পাওয়া একটু কঠিন। ছুটি কাটাতে বা ভ্রমণ করতে যারা কানাডা যেতে চান তাদের ভিসা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ভিসা প্রার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করা কেন যেতে চান। দূতাবাসের যে কর্মকর্তা আপনার সাক্ষাৎকার নেবেন তার কাছে যদি মনে হয় ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও আপনার না ফেরার আশঙ্কা রয়েছে তাহলে আপনাকে ভিসা দেয়া হবে না।

কানাডার ভিসিট ভিসার জন্য আপনার যা যা লাগবে-

১. কমপক্ষে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা সহ কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য বৈধ এমন পাসপোর্ট।
২. সকল পুরানো পাসপোর্ট।
৩. ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৪. ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।

কানাডার ভিসিট ভিসা পাবেন যেভাবে:

১. অনলাইনে ভিসা ফরমে আপনার নিজের পেশাগত, ভ্রমণ সংক্রান্ত, পরিবারের তথ্যসমূহ সঠিকভাবে দিতে হবে।

২. আপনি যদি প্রথমবারের মতো কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই বায়োমেট্রিক জমা দিতে হবে। কানাডা ভিসা-র জন্য বায়োমেট্রিক দেয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে কানাডা-র বায়োমেট্রিক পার্টনার ভিএফএস গ্লোবালের ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামের অফিসের গিয়ে আপনাকে ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে।

৩. আবেদনের পর সাধারণত ভ্রমণ ভিসার জন্য ১ থেকে ২ মাস এবং অভিবাসী ভিসার জন্য ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অভিবাসী ভিসার অনেক রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে, সেগুলো অবশ‍্যই আপনাকে পূরণ করতে হবে। ভ্রমণ ভিসার জন্য কঠিন কোন শর্ত সাধারণত নেই।

৪. ভিসা এপ্রুভ হলে আপনি ইমেইলেই নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটারসহ ভিএফএস গ্লোবালে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। ১০ দিন পর ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরৎ পাবেন। ভ্রমণ ভিসা সাধারণত ১০ বছরের জন্য ইস্যু করা হয়।