Saturday, April 18, 2026
Home Blog Page 92

বড়লেখায় ক্লাসে ধুমপানের ভিডিও ভাইরাল, চার ছাত্রকে বহিষ্কার করায় মাদরাসায় হামলা

গেছে, ক্লাসে ব্রেঞ্চের ওপর বসে, দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছেন কয়েকজন ছাত্র। ছাত্রদের সিগারেট টানার দৃশ্যটি ধারণ করছিলেন ক্লাসের অন্য এক ছাত্র। তখন ক্যামেরার দিকে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত এক ছাত্র বিভিন্ন অশালিন মন্তব্য করতে থাকেন।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে ছাত্রদল নেতাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় মাদ্রাসার সীমনা প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার ছাত্ররা ছাত্রদল নেতাদেরকে আর ছাত্রদল নেতারা শিবিরকে দোষারোপ করছেন। মাদ্রাসার ছাত্রদের দাবি, সিগারেট খাওয়ার অপরাধে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কয়েকজন ছাত্রকে বহিস্কার করেছে।

কিন্তু এই ঘটনার জের ধরে কয়েকজন ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বহিরাগতরা মাদ্রাসায় ঢুকে তাদের ওপর হামলা করেছে। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতাদের দাবি, এক ছাত্রকে মারধরের কারণ জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে যাওয়ায় শিবির নেতাকর্মীরা তাদের অবরুদ্ধ করে আগে হামলা করেছে। সিগারেটকাণ্ডে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে তারা মাদ্রাসায় যাননি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) যোহরের নামাজের সময় বড়লেখা মুহাম্মদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার দাখিল অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র ক্লাসে বসে সিগারেট পান করে। এ সময় ক্লাসের অন্য এক ছাত্র তাদের সিগারেট খাওয়ার ভিডিওটি ধারণ করে। পরে সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ক্লাসে ছাত্রদের সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে বুধবার (২ অক্টোবর) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে শিক্ষকদের নিয়ে এক জরুরী সভা ডাকা হয়।

সভায় দীর্ঘ আলোচনার পর অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়। এদিকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের বিষয়ে জানতে বুধবার দুপুরে উপজলা বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির পলাশ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের কাছে যান। সেখানে তাদের মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় মাদ্রাসার টিনের তৈরি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এসময় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

মাদ্রাসার ছাত্র সংসদের ভিপি ও শিবির নেতা আব্দুর রহমান এবাদ বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় বলেন, অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র ক্লাসে বসে সিগারেট খেয়েছেন। বিষয়টি আমরা জানার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহোদয়কে অবগত করি। আজ বুধবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জরুরী সভা ডেকে অভিযুক্ত ছাত্রদের বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কয়েকজন ছাত্রদল নেতাসহ বহিরাগত আরও কয়েকজন মাদ্রাসায় এসে শিক্ষকদের সাথে রুঢ় আচরণ করেন।

আমরা এর প্রতিবাদ করায় তখন তারা আমাদের সাথে বাজে ব্যবহার করেন। কিছুক্ষণ পর বহিরগত কয়েকজন এসে মাদ্রাসায় হামলা চালান। তারা মাদ্রাসার টিনের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করেছে। মসজিদের গ্লাস ভাঙচুর করেছে। পরে মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্ররা মিলে বহিরাগতদের প্রতিহত করেছে। এই ঘটনায় শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম বলেন, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির পলাশ ভাইসহ আমরা তিন-চারজন মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে অনেক ছাত্র বলেছে যে, মাদ্রসায় ছাত্রদের শিবিরের ফরম পূরণ করানো হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের সাথে আলাপ হচ্ছিল।

এসময় শিবিরের কয়েকজন এসে আমাদের সাথে বাজে ব্যবহার করেছে। তারা আমাদের একটি কক্ষে আটকে রেখেছে। পরে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা আত্মরক্ষার্থে তাদের প্রতিহত করেছি। এখন ফেসবুকে সিগারেট খাওয়ার ঘটনায় বহিস্কৃতদের ছাত্রদলের বলে অপপ্রচার করছে। তবে সিগারেটকাণ্ডে অভিযুক্তদের তিনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির পলাশ বলেন, মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এনামুল এক ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে। সে ছাত্রদলের কেউ কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে বিএনপি পরিবারের সন্তান। সে শিবিরে যোগদান না করায় তাকে মারধর করা হয়েছে শুনে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। তখন শিবিরের কয়েকজন এসে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমরা এখানে কেন এসেছি তারা জানতে চায়। আমাদের বেরিয়ে যেতে বলে। পরে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আমাদের কয়েকজন আহত হন।

মুহাম্মদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলিম উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র সিগারেট খেয়েছে। এরা একটু উশৃঙ্খল প্রকৃতির। যার কারণে আমরা জরুরী সভা ডেকে তাদের সাময়িক বহিস্কার করেছি। আমি জরুরী কাজে মৌলভীবাজারে গিয়েছিলাম। এসে শুনি, বহিরাগত কয়েকজন মাদ্রাসায় এসে হামলা করেছে। মাদ্রাসার সীমনা প্রাচীর ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাধান হলে জানতে পারবেন।

বড়লেখা থানার ওসি আবদুল কাইয়ূম বলেন, মুহাম্মদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসায় একটু বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। শুনেছি, জামায়াত নেতা ফয়ছল আহমদ ও বিএনপি নেতা আব্দুল কাদির পলাশ বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিয়ানীবাজার থানায় ১৫০ কে আসামি করে আরেকটি মামলা

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিয়ানীবাজারে ৫ আগস্ট উশৃংখল জনতার হামলা ও আহতের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১লা অক্টোবর রাতে উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের নাজমুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে তাজিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ নিয়ে সেদিনকার ঘটনায় ৪টি মামলা দায়ের করা হল। সবক’টি মামলাই বিয়ানীবাজার থানায় দায়ের করা হয়। এরমধ্যে তিনটি হচ্ছে হত্যা মামলা।

৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে গুলিতে মারাত্মক আহত হন বাদী নাজমুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে তাজিম। তার অবস্থা গুরতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এখনো তিনি পুরোপুরি সূস্থ হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

মামলায় দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামের আশ্রব আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিন (৪৬), মৃত মইয়ব আলীর ছেলে আলী হোসেন, সিলেট নগরীর বরইকান্দি ভার্থখলার অলিউর রহমান মালিক, কোনাগ্রাম (সুতারকান্দি) গ্রামের ওয়াহাব আলীর ছেলে নিয়াজ উদ্দিন, পৌরশহরের নয়াগ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সেলিম উদ্দিনসহ ২৩জনকে এজাহারনামীয় এবং আরোও ১০০-১২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় আহত একজন মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

দেশে ফিরেছেন ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী

র্ঘদিন নির্বাসন জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। আজ বুধবার (২ অক্টোবর) তিনি দেশে ফিরেছেন। দেশে আসার এ খবর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে আজহারী লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, সহি-সালামতে প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে পৌঁছলাম। পরম করুণাময় এই প্রত্যাবর্তনকে বরকতময় করুন। দুআর নিবেদন।

ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের ফলে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী শিগগিরই দেশে ফিরছেন বলে জানান।

ওইদিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, অনেকে আমাকে মেসেজ করে ও ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে জানতে চেয়েছেন আমি কবে দেশে ফিরব। আমি তাদের বলেছি, দ্রুতই দেশে ফিরব। আপনাদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষাতে রয়েছি আমি নিজেও। শিগগিরই সাম্য, মানবিকতার মুক্ত-স্বাধীন, বাংলাদেশে আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।

সংখ্যালঘুদের প্রতি অন্যায় না করারও আহ্বান জানিয়ে আজহারী বলেন, বর্তমানে অনেকে সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘুদের উপসনালয় ও স্থাপনায় চালাবে এবং ইসলামপন্থি ও মাদরসার ছাত্রদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবে। তাই যারা এই বিজয়ে খুশি নয় তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষ করে মাদরাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে আজহারী বলেন, আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ যেন তাদের ওপর আক্রমণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকুন। এসব ক্ষেত্রে যদি আমরা ভুল করে ফেলি তাহলে বাংলাদেশে ইসলাম অনেক পিছিয়ে পড়বে।

সদ্য পদত্যাগী স্বৈরাচার সরকারের পতনের ঘটনা সামনে এনে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ক্ষমতার দম্ভে আমরা নিজেদের প্রকৃত অবস্থা ভুলে যাই, যাচ্ছেতাই আচরণ করি মানুষের সঙ্গে।

কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দিল কোনো অত্যাচারই দীর্ঘস্থায়ী নয়, তাই এসব ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। যারা নতুন সরকার ব্যবস্থায় আসবে তাদেরকেও এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে এবং শিক্ষা নিতে হবে। তাদেরকেও অত্যাচার পরিহারের পথ অবলম্বন করতে হবে।

কাতারে প্রাণ হারালেন সিলেটের দুই প্রবাসী

কাতারে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গাড়ি উল্টে সিলেটের দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাতারের সানাইয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের আরজান আলীর ছেলে ফারুক আহমদ ও একই ইউনিয়নের গর্দনাকান্দি গ্রামের মাসুক আহমদের ছেলে মোহাম্মদ। দুর্ঘটনায় ফারুক ও মোহাম্মদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কাতার প্রবাসী কানাইঘাটের বাসিন্দা রাইহান আহমদ।

রাইহান আহমদ বলেন, ‘কাতারে আমার পাশের একটি মেসে ফারুক আহমদ ও মোহাম্মদ থাকতেন। সকালে কাজে যাওয়ার সময় সানাইয়া নামক স্থানে একটি সেতুর রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে তাদের বহনকারী গাড়ি উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ফারুক আহমদ ও মোহাম্মদ মারা যান।’

সিলেট নগরীতে ফিল্মি স্টাইলে ছিনতাই

সিলেটে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যাংকের এক কর্মচারীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী ওভারব্রিজের কাছে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ছিনতাইয়ের শিকার শাহীন আহমেদ গোলাপগঞ্জের বাঘা এলাকার মাসুক মিয়ার ছেলে। তিনি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক গোলাপগগঞ্জ শাখার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

শাহীন আহমেদ জানান, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লালদিঘীর পাড় শাখা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে গোলাপগঞ্জ ফিরছিলেন।

কদমতলী ওভারব্রিজের কাছে যাওয়ার পর ৩ মোটরসাইকেলে ৬ ছিনতাইকারী এসে ধারালো অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শিববাড়ির দিকে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের কারো মাথায় হেলমেট ও কারো মাথায় ক্যাপ ছিল।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

তরুণীর চুলের বেণিতে হৃদয়স্পর্শী চিরকুট, পরিচয় মিলেছে নিহত দম্পত্তির

‘আসসালামুলাইকুম, আপনাদের সমাজের সবার কাছে অনুরোধ, আমাদের দুজনকে একসঙ্গে মাটি দিয়েন।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ডাম্পিং জোনের পাশের একটি বালুর মাঠে চিরকুটসহ মরদেহ দুটি পাওয়া যায়। এ সময় তরুণীর চুলের বেণি থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে উপরোক্ত অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ পরে তল্লাশি চালিয়ে তরুণের মরদেহ থেকে একটি মানিব্যাগে ভোটার আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। যা থেকে ওই তুরণের পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। তার নাম শফিকুল ইসলাম। তার বাবার নাম মনির হোসেন ও মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। জন্ম ১৯৯৬ সালের ২২ নভেম্বর। শফিকুলের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায়।

শফিকুল ইসলামের এলাকাসূত্রে জানা গেছে, পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক ছিলেন। নিহত তরুণীর নাম রুমি। সম্পর্কে তারা স্বামী-স্ত্রী। মাত্রই এক মাস আগে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন তারা।

শফিকুলের ভাই মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমার ভাই শফিকুল আমার শ্যালিকাকে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিল। দুই পরিবারের কেউই তা মেনে নেইনি। এ জন্য তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দিই। এরপর আমার ভাই শফিকুল তার বউয়ের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়িতে থাকত। চারদিন আগে তাদের মধ্যে কিছু একতা নিয়ে ঝগড়া হয়। এরপর থেকে শফিকুল আমাদের বাসায় এসে পড়ে। সোমবার সকাল ১০টায় তাকে আমি শেষবারের মতো দেখেছিলাম।

এদিকে চিরকুটটি রুমির হাতে লেখা বলে নিশ্চিত করেছেন তার বড় বোন সুমি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

সিলেটে এবার পাথরের নিচে মিললো দুই কোটি টাকার ভারতীয় কাপড়

সিলেটে চিনির পর এবার পাথরের নিচে মিললো প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় কাপড়। চোরাকারবারীরা ট্রাকে পাথরচাপা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কাপড়ের চালানটি জব্দ করে।

সোমবার ভোরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বরস্থ জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের সামনে ট্রাক আটকে কাপড়ের চালানটি জব্দ করে শাহপরাণ (রহ.) থানাপুলিশ। এসময় ট্রাক চালক ও এক সহযোগীকে আটক করা হয়। অপর এক চোরাকারবারী পালিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলো- রাজশাহী জেলার মতিহার থানার মোহননীড় বুধপাড়া গ্রামের শাকিল ইসলাম (৩২) ও একই উপজেলার গনির দালান গ্রামের মারুফ ইসলাম (২৪)। এসময় গাড়ি থেকে চোরাকারবারী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর হাউতপাড়ার রফিকের ছেলে তাহের (২৫) পালিয়ে গিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে আটককৃতরা।

সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের সামনে একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। এসময় চালক ট্রাকে পাথরবোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হলে ট্রাকে থাকা পাথর সরাতে নিচে থেকে কাপড়ের চালান বের হয়ে আসে।

পরে ট্রাক থেকে ৬১টি বস্তায় রাখা ৩ হাজার ৯৬২ পিস ভারতীয় শাড়ী ও ২০২ পিস লেহেঙ্গা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত কাপড়ের বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮২ লঅখ ৭২ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

প্রথমবারের মতো ঢাকা সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিঃসন্দেহে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে আরও জোরদার করবে।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় সৌদি দূতাবাস আয়োজিত সৌদি আরবের ৯৪ তম জাতীয় দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা অধীর আগ্রহে যুবরাজের আসন্ন সফরের অপেক্ষায় রয়েছি। তার সফরের মাধ্যমে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের অংশীদারত্ব বিকাশ লাভ করেছে। দুই দেশ আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় এবং টেকসই করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরমূলক পরিকল্পনা সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এর প্রশংসা করেন তৌহিদ।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বিনিময় করে এই উচ্চাভিলাষী রূপকল্পে অবদান রাখতে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশি আধা-দক্ষ ও অদক্ষ প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক নিয়োগের জন্য সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব শ্রমিক উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় অবিচল অংশীদার। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) বহু বছর ধরে আমাদের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে সৌদি বিনিয়োগকারীদের রসদ, অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি মতো খাতে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে আটক সুলতান মনসুর

কানাডা থেকে দেশে ফিরেই আটক হয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কিছু অভিযোগের কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে কোথায় কী অভিযোগ আছে, তা যাচাই-বাছাই করা হবে বলেও জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।

সুলতান মনসুরের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সুলতান মনসুর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভ্রমণে ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের অনেক আগে থেকেই তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও মামলা নেই।

১৯৮৬ সালে সুলতান মনসুর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে নির্বাচিত হন ডাকসুর ভিপি।

সিলেটে মদসহ ভারতীয় নারী আটক

সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশিদ চত্বর এলাকা থেকে মদসহ গ্রেফতার হওয়া বনানী দাস(৫১) নামের এক ভারতীয় নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও আমদানী নিষিদ্ধ ভারতীয় মদ রাখার পৃথক দুটি অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশিদ চত্বর এলাকা থেকে বনানী দাস নামের ওই ভারতীয় নারীকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পানিহাটি আর্শিবাদ এলাকার বাসুদেব দাসের স্ত্রী। তার কাছ থেকে ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।