বিয়ানীবাজার
Trending

বিয়ানীবাজারে কলেজ শিক্ষার্থী হোসেন হত্যাকারী সুমন আটক







বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ হোসেন উদ্দিন হত্যা মামলায় একমাত্র আসামী সুমন আহমদকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (৯ জানুয়ারি) বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদ নগরে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘাতক সুমনকে আটক করে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ধৃত সুমন আহমদ (১৮) বিয়ানীবাজার পৌরশহরের নিদনপুর এলাকার মুহিব আলীর পুত্র।



জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর কলেজ শিক্ষার্থী মো: হোসন উদ্দিনকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে সুমন। ঘটনার পর থেকেই সে আত্মগোপনে চলে যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে সে দালালের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চলে যায়। কিন্তু বিধিবাম, ভারতে প্রবেশের পরপরই সে সেখানকার একটি দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। তার মুক্তিপণ হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করে ঐ জিম্মিকারী দলটি। সেখানে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েক দফায় যোগাযোগ করে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার পর আজ বুধবার ভোরে বাংলাদেশে তাকে পাঠায় চক্রটি।



এর আগে গোপনসূত্রে তার জিম্মি হওয়া ও বাংলাদেশে ফিরে আসার খবর পান নিহত হোসেন উদ্দিনের পরিবার। পরে নিহত হোসেনের পরিবারে সদস্যরা গত দুইদিন পূর্বে থেকে সীমান্তে যোগাযোগ রাখেন। অবশেষে সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রবেশের সাথে সাথে তাকে ধরতে পিছু নেন তারা। এসময় মোটর সাইকেলযোগে ঘাতক সুমন তার এক মামার সাথে দ্রুত সীমান্তবর্তী বোবা এলাকা ত্যাগ করে এবং তাদের ধাওয়া খেয়ে সে পালিয়ে বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদনগর গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

এসময় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাকে ঐ বাড়িতে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা করে।



নিহত হোসেন ভাই সৌরভ বলেন, আমার ভাইয়ের চিহিৃত আসামী সুমনকে পুলিশ দীর্ঘদিন থেকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা হতাশ ছিলাম। ব্যক্তি উদ্যোগে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। এখন আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমরা ন্যায় বিচার আশা করছি। এসময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঘাতক সুমন আহমদের পরিবার স্থানীয়ভাবে অনেক প্রভাবশালী। সে দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসলে আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে।



বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম বলেন, হোসেন হত্যা মামলার একমাত্র আসামী সুমন। থানায় অভিযোগ দায়ের পর থেকেই পুলিশ থাকে আটক করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। কিন্তু সে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। আজ বুধবার সকালে তাকে বড়লেখার মোহাম্মদনগর এলাকাবাসী আটক করেছে এমন খবর পেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মহসিন আহমদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে আটক করে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।



উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নিদনপুর গ্রামের প্রবাসী কমর উদ্দিনের পুত্র ফাহিম আহমদ (১০) বাইসাইকেল নিয়ে রাস্তায় বের হলে তাকে লাথি দেয় একই এলাকার সুমন আহমদ। একই সময়ে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা দেখে প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী হোসেন উদ্দিনের মাথা লক্ষ্য করে ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে সুমন।



এতে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান হোসেন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার শারিরীক অবস্থা অবনতি হওয়া পরে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঐ দিনই বিয়ানীবাজার থানায় ঘাতক সুমনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত কলেজ শিক্ষার্থী হোসেনের পরিবার। নিহত কলেজ শিক্ষার্থী মোঃ হোসেন উদ্দিন (১৭) পৌরশহরের নিদনপুর এলাকার ছমির উদ্দিনের পুত্র। সে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সূত্রঃ বিয়ানীবাজার নিউজ২৪ডটকম











Related Articles

Close