সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে এনিয়ে সোমবার রাত থেকে চলছে নানা আলোচনা।
জানা গেছে, জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদকে গতরাতেই প্রার্থীতা করতে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে।
এর ফলে জোটের বলি হতে যাচ্ছেন মাওলানা লোকমান আহমদ। যিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
তবে জোটের এমন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ জামায়াতের নেতাকর্মীরা। লোকমান আহমদকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার দুপুর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা লেঅকমানের দক্ষিণ সুরমার বাসায় জড়ো হতে থাকেন। তারা লোকমান আহমদের বাসার গেইটে তালা দিয়ে বাইরে বিক্ষোভ করছেন। এ আসনে লোকমানকেই জোটের প্রার্থী দেওয়ার দাবি তাদের।
লোকমান আহমদের বাসার সামনে জড়ো হওয়া জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী জানান, গত রাতে জোটের পক্ষ থেকে লোকমান আহমদকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি।
তাদের মত, এ আসনে যাকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি জনবিচ্ছিন্ন আলেম। লোকমান আহমদ ছাড়া এ সেনে অন্য কাউকে জোটের প্রার্থী কেলে এই আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাবে।
জোটের এমন সিদ্ধান্ত পূনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এরআগে গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনের পর জানা যায়, সিলেটের ১০ টি আসনে জামায়াত নেতারাই জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। যার মধ্যে সিলেট-৩ আসনও রয়েছে।
তবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেনি এইর জোটের অন্যতম উদ্যোক্তা বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। পরদিন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেয় দলটি। ফলে ১১ দলীয় জোট পরিণত হয় ১০ দলীয় জোটে।
জোটে ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্ধ রাখা ৫০টি আসন বন্টন নিয়েও দেখা দেয় নতুন করে টানাপোড়েন। এরফলে অনেক আসনেই প্রার্থী ওলটপালট হচ্ছে। সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী বদল করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফেসবুক পেজ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, সিলেট-৩ আসনে জোটের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু।
লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সিলেটের যেসব আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন তার মধ্যে সিলেট-৩ আসন অন্যতম।
অপরদিকে, মুসলেহ উদ্দীন রাজু সিলেটের প্রখ্যাত আলেম শায়খুল হাদীস নুরউদ্দিন আহমদ গহরপুরীর ছেলে। বালাগঞ্জের গহরপুর মাদ্রাসার সাবেক এই প্রিন্সিপাল কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন। রাজুও এই বোর্ডের কর্মকর্তা। ফলে কওমী ঘরণায় রাজুর বড় প্রভাব ও ভোটব্যাংক রয়েছে।



