Thursday, April 9, 2026
Home Blog Page 4

সিলেটে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার নির্দেশ

সিলেট নগরীতে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার নির্দেশ দিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় এসএমপির কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও দুইটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাধ্যতামূলকভাবে তিনটি শর্ত মানার জন্য ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে এসএমপি।

এসএমপি জানায়, মোটরসাইকেলে তেল সংগ্রহকারীদের অবশ্যই তিনটি শর্ত মানতে হবে। শর্ত তিনটি হলো- অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে, মোটরসাইকেলটি রেজিস্ট্রেশনকৃত হতে হবে এবং মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের স্বচ্ছ ভাইজারযুক্ত হেলমেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।

এসব শর্ত পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনগুলোকে মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ না করার জন্য বলেছে এসএমপি।

এসএমপি আরও জানায়, জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আইন অমান্যকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বড়লেখায় ডাব চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে জুতাপেটা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ডাব চুরির অভিযোগ তুলে উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদকসহ দুজনকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত নয়টায় দক্ষিণভাগ বাজার সমিতির কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

জুতাপেটার শিকার দুজন হলেন দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক আলী হোসেন মান্না ও ফইয়াজ আলী। মান্না উপজেলার গজভাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে এবং ফইয়াজ আলী দক্ষিণ দোহালিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীন প্রকাশ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন মান্না ও ফইয়াজ আলীকে জুতা দিয়ে মারছেন। এ সময় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হকসহ বেশ কয়েকজন পাশের চেয়ারে বসা ছিলেন। ওই সময় মারধরের ভিডিও স্থানীয় একজন ধারণ করছিলেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে আলী হোসেন মান্না আপত্তি জানান।

এদিকে মান্নাকে বিভিন্ন সময় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেলেও ডাব চুরির অভিযোগ ওঠার পর দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মইজ উদ্দিন ২১ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নাকে ২০২৪ সালে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মারধরের কারণ জানতে চাইলে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক আলী হোসেন মান্না মঙ্গলবার রাতে বলেন, তিনি ২০১৪ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ২০১৯ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে তার ছাত্রত্ব না থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেনসহ দলের নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে তাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থী করা হয়। পরে তাকে বলা হয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়া হবে। তিনি এখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে বলেন, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন।

সেদিনের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরদিন রবিবার সকাল আটটার দিকে আমি দক্ষিণভাগ বাজারে আসি। আমার বাবা দক্ষিণভাগ পোস্ট অফিসে চাকরি করেন। সেখানে কিছু নারকেল গাছ ও আমগাছ রয়েছে। পোস্ট অফিসকে অবগত করেই ওই দিন একজনকে (ফইয়াজ আলী) দিয়ে আমি ১৫টি ডাব পাড়াই। পরে পাশের এক দোকানদার এসে বলেন, এই ডাবগুলো কার পাড়ছ? তখন আমি বলি, গাছগুলো পোস্ট অফিসের। ডাব চুরি হচ্ছে, এজন্য আমি পাড়ছি। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়াই। পরে আমি জানতে পারি, পোস্ট অফিসের নারকেল গাছের পাশের যে গাছগুলো আছে সেগুলো সাবেক এমপি ইমান উদ্দিন ও সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনদের। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি গাছের মালিক লন্ডনপ্রবাসী সাবু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় তিনি তাদের বাড়ির কেয়ারটেকারদের বলেন, মান্না আমার ছোট ভাই। সে যে ডাব পেড়েছে অর্ধেক তাকে দিয়ে দাও, অর্ধেক বাড়িতে নিয়ে আসো। সেখানেই বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান করে আসি। পরবর্তীতে বাজারের সভাপতিসহ সবাই আমাকে ডেকে নেন। পরে আমাকে উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক ও দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীন বলেন, বিষয়টি তিনি সমাধান করে দেবেন, আমাকে বাঁচাবেন। তিনি আমাকে মেসেজ দেন। আমি উত্তর দিইনি। পরে তিনি মেসেজ কেটে দেন। পরে রাতে আমাকে জোরপূর্বক বিচারের জন্য ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বাদীপক্ষকে না ডেকে একতরফাভাবে আমাকে জুতা দিয়ে মেরে ভিডিও ধারণ করা হয়। তারা আমার মানহানি করেছেন। আমি মামলা করব।’

এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণভাগ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে মঙ্গলবার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারের বিভিন্ন স্থানে ডাব চুরি হচ্ছিল। কাউকে ধরা যাচ্ছিল না। গত রবিবার ঈদের পরদিন সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণভাগ বাজারের একটি মার্কেটের ডাবগাছ থেকে ডাব চুরির সময় আলী হোসেন মান্নাসহ দুজনকে হাতেনাতে ধরেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী সিরাজ। পরে তিনি বিষয়টি বাজার সমিতিকে জানান। পরবর্তীতে এই ঘটনায় সমিতির কার্যালয়ে সভা ডাকা হয়, যেখানে বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিযুক্ত মান্না ও ফইয়াজও ছিলেন। তারা ডাব চুরির কথা স্বীকার করেছেন। চুরির কথা স্বীকার করায় তার এক আত্মীয় (খলিলুর রহমান শাহীন) মান্নাসহ ফইয়াজকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে মারেন।

জুতা দিয়ে প্রকাশ্যে মারধরের বিষয়ে জানতে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে তাদের একটু মারধর করেছেন। জুতা দিয়ে মারা ঠিক হয়নি।

দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান বলেন, আলী হোসেন মান্না একসময় ছাত্রদলের সহপ্রচার সম্পাদকের পদে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে মৌখিকভাবে শোকজ করা হয়। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্বেচ্ছায় সহপ্রচার সম্পাদকের পদ থেকে লিখিতভাবে অব্যাহতি নেন। বর্তমানে তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রহমান বলেন, ডাব চুরির অভিযোগে আলী হোসেন মান্নাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কেউ নন। এরপরও বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে তাকে ছাত্রদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক বলে পোস্ট করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০২৪ সালে দল থেকে অব্যাহতি নিলে তিনি কীভাবে ওই দলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক হন? আলী হোসেন মান্নার সঙ্গে বিএনপি পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তার যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় তিনি নিজেই বহন করবেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি শোনেননি। কেউ অভিযোগও দেয়নি। তারপরও বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে।

সিলেট সীমান্তে ২ নারীকে ভারতে পাচারকালে গ্রেফতার ৩

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত পিলার ১২৭১/৭-এস এলাকা থেকে ভারতে পাচারকালে এক মানবপাচারকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত পিলার ১২৭১/৭-এস এলাকা থেকে ভারতে পাচারকালে এক মানবপাচারকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ৪৮ বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত পিলার ১২৭১/৭-এস এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে মানবপাচারকারীসহ তিনজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করে ৪৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

আটক মানবপাচারকারী হচ্ছে গোয়াইনঘাট উপজেলার পান্থুমাই গ্রামের মো: জয়েন উদ্দিনের ছেলে মো: আফছার (২৪)৷ অপর ২ বাংলাদেশী নাগরিক হচ্ছে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার কশিগাড়ী গ্রামের মো: দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে মোছা: মিনারা খাতুন (২১) ও মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মো: হাসানের মেয়ে মোছা: ইতি তাইনি (২১)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা মানবপাচারকারীর সহায়তায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। পরবর্তীতে আটক মানবপাচারকারীসহ অন্যান্যদের অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গরুর মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বহিষ্কার

সিলেটে গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ খান সজিবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ)স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান তাকে বহিষ্কার করেন।

একই সঙ্গে মহানগর স্বেচছাসেবক দলের সদস্য গোলাম রব্বানীকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক ওসমান গনি সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দুপক্ষের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে দুপক্ষই চলে যান। রাতের দিকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলে আবারও দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্র থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আজিজ খান সজিব ও গোলাম রব্বানীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থেকে ৩ জন গ্রেফতার

মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে এবার ১২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুটি অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ একজন এবং আরও ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী।

অভিযানে এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই গোপেশ চন্দ্র দাশ সঙ্গীয় ফোর্সসহ বৈরাগীবাজার এলাকা থেকে ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ জকিগঞ্জ উপজেলার লামারগ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে নাহিম আহমদ (ওরফে কালা মিয়া) এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের খলকু মিয়ার ছেলে জাকির আহমদকে গ্রেপ্তার করেন।

এছাড়া পৃথক আরেক অভিযানে শেওলা ইউনিয়নের দিঘলবাক এলাকা থেকে ১ কেজি গাঁজাসহ স্থানীয় আব্দুল খালিকের ছেলে শরফ উদ্দিন সফিককে আটক করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিয়ানীবাজারে তারাবিসহ জামাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা শিশু-কিশোরদেরকে পুরস্কার প্রদান

বিয়ানীবাজারে পবিত্র রমজান মাসব্যাপী তারাবিসহ জামাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা শিশু-কিশোরদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নওয়াগ্রাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের হাতে পুরস্কার প্রদান করে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরদের সামাজিক সংগঠন নওয়াগ্রাম ব্রাইট এসোসিয়েশন।

নওয়াগ্রাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সভাপতি সায়েম আহমদের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মুরব্বি আব্দুল ওয়াদুদ, নওয়াগ্রাম প্রগতি সমাজকল্যাণ সংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহেদ আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আহমদ রেজা চৌধুরী, সমাজকর্মী কামাল আহমদ, মিহাদ আহমদ, আহমদ ফাহাদ, সংগঠনের সেক্রেটারি সানজিম আহমদ নাইম, অর্থ সম্পাদক মারজানুর রশীদ, সদস্য ওয়াহিদুল ইসলাম রাফি, শাহিন আহমদ, সাদিউজ্জামান, নাসিম আহমদ, তৌকির ইসলাম সামী, সানিউজ্জামান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধর্মীয় চর্চায় শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদেরকে মসজিদমুখী করতে এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। শেষে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য দোয়া করা হয়।

শেষ সময়ে সিলেটের ঈদ বাজারে জনস্রোত

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের মানুষের ঈদের কেনাকাটা অনেকাংশে রেমিট্যান্সে নির্ভর। তাই ঈদ বাজার জমে ওঠে দেরিতে। কিন্তু এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব যেন আঁচ করা গেছে ঈদ বাজারে। কেবল নগরেই নয়, পুরো সিলেটজুড়ে উদ্বেগ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেষ বেলায় বাজার জমে উঠলেও ঝড়-বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায় কেনাকাটায়। গত ২/৩ দিনের বৃষ্টিতে কেনাকাটায় বিঘ্ন ঘটেছে। বাজারে ক্রেতা থাকলেও বিক্রি ছিল না সেভাবে।
অবশ্য শেষ সময়ে এসে কেনাকাটায় যেন জোয়ার নেমেছে।

সড়কের পাশ থেকে শপিং মল, সবখানে জনস্রোত। দিন পেরিয়ে রাত, কেবল ইফতারের সময়টুকু বাদ দিয়ে কেনাকাটা থেমে নেই এক মুহূর্তের জন্য। ভোররাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, দুপুর থেকে ক্রেতারা মার্কেট, শপিং মলে আসতে শুরু করেন।

ইফতারের মিনিট পাঁচেক আগ পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। ইফতার শেষে আবার শুরু হয় ক্রেতা সমাগম। রাত যতই গভীর হয়, ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়তে থাকে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে পা ফেলার ফুরসত ছিল না। মানুষের স্রোতে অচল হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল।

সিলেট নগরের অভিজাত শপিং মলখ্যাত জিন্দাবাজার এলাকার আল হামরা, ব্লুওয়াটার শপিং সিটি, সিটি সেন্টার, মানরু শপিং সিটি, কাকলী শপিং সেন্টার, সিলেট প্লাজা, জেল রোড, বারুতখানা ও কুমারপাড়ায় ফ্যাশন হাউসগুলোর শো-রুমে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কেনাকাটা করছেন। পাশাপাশি বন্দরবাজার ও হকার্স মার্কেটেও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এছাড়া কুমারপাড়া ও নয়া সড়কের ফ্যাশন হাউস এবং শো-রুমে অভিজাত উচ্চবিত্তরা কেনাকাটা করেন। এবারও সেটি লক্ষ্য করা গেছে।

নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যায়, পোশাক, জুতা, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের দোকানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন ক্রেতার চাপ অনেক বেশি। সড়কেও দেখা গেছে তীব্র যানজট। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়ে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে পড়ছেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে পরিবার-পরিজনের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ ঈদের উপহার সংগ্রহ করতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন।

নগরের জিন্দাবাজার আলহামরা বিপণি বিতানের রিপন আহমদ বলেন, ‘রমজানের শুরুতে ক্রেতা সমাগম কম ছিল। শেষ দশ দিনে ক্রেতা বেড়েছে। এবার ঈদবাজারে মানুষজনের বাজেট অনেক কম। ধারণা হিসেবে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। কেননা, ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি সিলেটের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যেও থাকেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা হয়তো স্বজনদের জন্য সীমিত টাকা পাঠিয়েছেন। তাই ক্রেতারা সীমিত বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা সারছেন।’

কেনাকাটা করতে আসা নিশাত রহমান বলেন, ‘এবার ঈদে কোনো ট্রেন্ডিং পোশাক আসেনি। গতানুগতিক কাপড়েও দাম বেশি। তাই সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা সেরেছি।’

শহরতলীর এয়ারপোর্ট কাকুর পাড় এলাকার সুহেল আহমদ বলেন, ‘এবার ঈদ বাজারে কাপড়ের গুণগত মান তেমন ভালো মনে হয়নি। নামীদামি ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউসগুলোতেও একই অবস্থা। দোকানিরা পুরোনো কালেকশন নতুন করে চালিয়ে দিচ্ছেন। দামও বাড়িয়েছেন।’

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আবদুর রহমান রিপন বলেন, ‘সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এ অঞ্চলের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। যুদ্ধের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কগ্রস্ত। বেশিরভাগ ক্রেতার বাজেট সীমিত দেখা গেছে। যুদ্ধের কারণে কর্মহীন মানুষ দেশে টাকা পাঠাতে পারেননি। তাই এ অঞ্চলের মানুষের বেশিরভাগের কেনাকাটায় বাজেট সীমিত। যারা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকেন, তাদের অনেকে জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক দেশে এসে ফিরে গেছেন। ফলে ঈদকেন্দ্রিক স্বজনদের কেনাকাটায় আর্থিকভাবে কম সামিল হতে পেরেছেন। এরপরও গত ২/৩ দিন ব্যবসা ভালো হতো, কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে ম্লান হয়ে গেছে।’

অবশ্য বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো কেটেছে। শেষ সময়ে একবাক্যে বলা যায়, মানুষ উৎসব আমেজে কেনাকাটা করছেন।’

বড়লেখায় চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে নারীর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চলন্ত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ও অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বারইগ্রাম এলাকায় বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুন নেছা (৫০) উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রামের জমির উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সকালে দাসেরবাজারগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বারইগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মরা গাছ হঠাৎ ভেঙে অটোরিকশাটির ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশার চালকসহ যাত্রী আজিজুন নেছা ও তার স্বামী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুন নেছাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অটোরিকশার চালক ও নিহতের স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিলাদ আহমদ বুধবার বিকেলে বলেন, অটোরিকশায় গাছ পড়ে ওই নারী ঘটনাস্থলে মারা যান। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ওই নারীর স্বামী ও চালককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে ডাকাতি, মালামালসহ গ্রেপ্তার ৯

চট্টগ্রামের রাউজানে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাকৃতরা মূলত সিলেট অঞ্চল থেকে এসে চট্টগ্রামে ডাকাতি করত।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতে রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। জনগণের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ চার হাজার ৯৮৪ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, এ ডাকাত দলের মূলহোতা ফজর আলী চট্টগ্রামের হলেও বাকি সদস্যরা সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে এসে ডাকাতি করত। ঘটনার দিন সকালে তারা হবিগঞ্জ থেকে বাস ও ট্রেনে করে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার দিকে আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। পরে পাহাড়তলী বাজারে চা-নাস্তা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। মূলত টার্গেটের ভিত্তিতে সারা দেশে এই চক্রটি ডাকাতি করে বলে জানান তিনি।

গ্রেপ্তাররা হলো হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কবির হোসেন প্রকাশ জীবন (৪৬), মাধবপুর থানার আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮) ও মো. মামুন মিয়া (৩০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার আলী আহম্মদ প্রকাশ মনু মিয়া (২৩) ও গোলাপগঞ্জ থানার মনোয়ারুজ্জামান ইমন (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার আবুল হোসেন (৩২)। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ফজর আলী প্রকাশ বাটন প্রকাশ ডিপজল (৩১) এবং বাহুবল থানার আমিন আলী (৩৪)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি, আশিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি, আলী আহম্মদের বিরুদ্ধে একটি, আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি, আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি, মিটুর বিরুদ্ধে তিনটি, মনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মামুনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তবে বুদু মিয়ার নামে কোনো মামলা নেই। অন্যদিকে পলাতক ফজর আলীর নামে ২৯টি এবং আমিন আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।

সিলেটে প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যার ‘দায় স্বীকার’ তামান্নার

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)।
পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় নিজের শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) কে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তামান্না আক্তার (২২)

মঙ্গলবার তামান্না আক্তার হবিগঞ্জের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া।

এরআগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার পরকীয়া প্রেমিক ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসীকে হত্যা করে ঘটনাটি চুরি বলে চালিয়ে দিতে তামান্নাকেও বেঁধে রেখে যায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ তামান্না আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার মধ্যসমেত গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই স্থান থেকে একইভাবে বাঁধা অবস্থায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিয়ের সময় পাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার শাশুড়ি ফেরদৌসী চৌধুরীর কাছে রাখা ছিল। এ নিয়ে তামান্নার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর মধ্যেই শিপন মিয়া নামে এক টিকটকারের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।

রোববার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে দুই সহযোগীকে নিয়ে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে আসেন শিপন।

পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরদৌসী বাধা দিলে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি চুরি হিসেবে দেখাতে তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয়।

মঙ্গলবার নিহতের ভাই এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তামান্নাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।