Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 107

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ১০ দিনের রিমান্ডে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দোকান কর্মচারী শাহজাহান আলীকে (২৪) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিউমার্কেট থানা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পাপোশের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান।

গত ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় পাপোশের দোকানের কর্মচারী শাহজাহান আলীকে হত্যার অভিযোগে তার মা আয়শা বেগম (৪৫) একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয়।

এ মামলার অভিযোগে আয়শা বেগম বলেন, আমার ছেলে শাহজাহান আলী নিউমার্কেট থানার মিরপুর রোডের বলাকা সিনেমা হলের গলির মুখে পাপোশের দোকানে কাজ করতো। প্রতিদিনের মতো ১৬ জুলাই সকাল ৯টার দিকে দোকানে কাজ করার জন্য যায়।

ওইদিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি ছেলের মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে জানায়, শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে ভর্তি। আমি সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পপুলার হাসপাতালে যাই এবং জানতে পারি, আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই এবং মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করি।

তখন বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারি, গত ১৬ জুলাই আমার ছেলে অজ্ঞাতপরিচয় কোটাবিরোধীদের কর্তৃক গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে নিউমার্কেট থানাধীন মিরপুর রোডের টিটি কলেজের বিপরীত পাশে কাদের আর্কেড মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে ছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা আমার ছেলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে; ফলে আমার ছেলে রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। উপস্থিত পথচারীরা তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ছেলের অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

মামলার বাদী আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছেলেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫ মিনিটের দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলা সেই আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) ভোরে বরগুনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বরগুনা সদর থানার ওসি এ কে এম মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঢাকা থেকে পুলিশের একটি টিম এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার পর বিশৃঙ্খলা এবং প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের কারণটি তিনি পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি।’

এর আগে, গত ১২ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে তিন মিনিট ফোনে কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর কবির। ফোনালাপে শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর কবীরকে বলেন, ‘আপনারা শৃঙ্খলা মেনে দলীয় কার্যক্রম চালাবেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে যথাযথভাবে পালন করবেন।’

জবাবে মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আপা আপনি ঘাবড়াবেন না, মনোবল হারাবেন না। আপনি ঘাবড়ালে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমরা শক্ত আছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঘাবড়াব কেন। আমি ভয় পাইনি। আপনারা দেখছেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীকে মেরে কীভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমাদের কর্মীদের মেরেছে। বোরকা পরে মেরেছে। এ দেশটা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। আপনারা যেভাবে আছেন, থাকেন।’

তিন দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের পাহাড়

তিন দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার স্ত্রী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান রুখমিলা জামান এবং মেয়ে জেবা জামানের নামেও রয়েছে অবৈধ সম্পদ। সাইফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচারের টাকায় গড়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিনেছেন ফ্ল্যাট। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে তার নগদ অর্থ। এসব অভিযোগে শিগগিরই অর্থ পাচারের অভিযোগে জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে মামলা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সোমবার (১২ আগস্ট) সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ এবং তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের জন্য তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে, সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও তার স্ত্রী শারমিন মুশতারীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বিএফআইইউ।

গত ২৮ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে তাদের অবৈধ সম্পদের খবর প্রকাশ পেলে অনুসন্ধানে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারের বিষয়টি জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এত দিন এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীরব ছিল। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো প্রভাবশালী রাজনীতিক ব্যাংক থেকে যে কোনো অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে তা হলে যেন জানানো হয়।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে সম্পদ নিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ২১টি প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এ তালিকায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের কারও নাম নেই।

সাইফুজ্জামান ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার শুরু করেন বলে জানা যায়। দেশটিতে নাহার ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের নামে ৯টি প্লট বা ফ্ল্যাট কেনেন। ২০২১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিডি ব্যাংকে সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন জিটিএস প্রপার্টিজ এলএলসির নামে ৪৫ হাজার ৩৪০ ডলার জমা হয়। এর মধ্যে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক থেকে তিনটি লেনদেনের মাধ্যমে জমা করা হয় ২৩ হাজার ৮৯০ ডলার।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচার শুরু করেন সাইফুজ্জামান। দেশটিতে প্রথম ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবসা করার জন্য র‍্যাপিড র‍্যাপ্টর এফজিই নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন তিনি। পরের বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভবন নির্মাণ ও নির্মাণসামগ্রী বিক্রির জন্য জেবা ট্রেডিং এফজিই নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। এ ছাড়া গত বছরের শেষদিকে তার স্ত্রী রুখমিলা জামান চৌধুরীর নামে আল-বারশা সাউথ-থার্ড এলাকায় কিউ গার্ডেন্স বুটিক রেসিডেন্স-ব্লক বিতে দুটি ফ্ল্যাট কেনা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ১১ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ দিরহামে একটি এবং ৩০ নভেম্বর ১১ লাখ ২৫ হাজার ৬৯ দিরহামে অপর ফ্ল্যাটটি কেনা হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে দুবাই ইসলামী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ফার্স্ট আবুধাবী ব্যাংকে একটি দিরহাম ও একটি ডলার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর দেশটিতে কার্যরত জনতা ব্যাংকে রয়েছে একটি দিরহাম অ্যাকাউন্ট। সব মিলিয়ে এসব অ্যাকাউন্টে ৩৯ হাজার ৫৮৩ দিরহাম এবং ৬ হাজার ৬৭০ ডলার জমা আছে।

লন্ডনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আটটি কোম্পানি রয়েছে, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি ৩১ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। দেশটিতে তাঁর স্ত্রী রুখমিলা জামান ও মেয়ে জেবা জামানের নামেও কোম্পানি রয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক মালিকানায় থাকা ব্যবসায়িক গ্রুপ আরামিটের নামে একটি কোম্পানি রয়েছে বলে জানা যায়।

সাইফুজ্জামান ও আরাফাত পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থাকলে তা স্থগিত করতে হবে। ফ্রিজের ফলে এখন থেকে তারা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। চিঠিতে এমন নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।

‘আপনি আর বার্তা দিয়েন না আপা, আপনি নিজ পরিবার ছাড়া কাউকে ভালোবাসেন না’

তীব্র জনরোষের মুখে দীর্ঘদিন সময় ধরে রাখা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। আশ্রয় নেন দিল্লীতে। এরই মধ্যে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

এমন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বার্তা দিলেন জনপ্রিয় সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। সম্প্রতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়েছেন বার্তা।

তার এই বার্তা ভাইরাল হওয়ার পর প্রিন্স মাহমুদ সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিজের তিক্ত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

ফেসবুকে এক পোস্টে প্রিন্স লিখেছেন, আপনি আর কোনো বার্তা দিয়েন না আপা, আপনি নিজ পরিবার ছাড়া কাউকে ভালোবাসেন না। আপনার দম্ভ, জিদ, অহংকার বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গেছে। আপনি আমাদের মৃত্যুকূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছেন। আপনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায় দিয়ে গেছেন। আপনার কান্না এখন ‘কুমিরের কান্না’ লাগে। আপনাকে বিশ্বাস করি না। আর কথা বইলেন না, আর না।

পোস্টের মন্তব্যের ঘরে প্রিন্স মাহমুদ আরও লিখেছেন, নতুন প্রজন্মের হাতে দেশকে সমর্পণ করেছি বার্তা দেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর খেলবেন না।

শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন নিয়মিত বার্তা দিয়েছেন, আবার রাজপথে নেমেও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

যেভাবে ধরা পড়লেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রাহমান

শেখ হাসিনা সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়, রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা মামলায় এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. মাইনুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নৌপথে পলায়নরত অবস্থায় রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে ১৬ জুলাই ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। এদের মধ্যে একজন ছাত্র এবং একজন হকার। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়। এসব হত্যার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিউমার্কেট থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে যমুনা নিউজ জানতে পেরেছে, এই দুজন মূলত সদরঘাট হয়ে নৌপথে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের গ্রেফতার করা হয় ভোলা থেকে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বেশিরভাগ বিমানবন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যাতে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যেতে না পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো কৌশলে নৌপথে দেশ পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছিলেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক।
যেভাবে ধরা পড়লেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রাহমান
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, থানায় নিয়ে আসার পর এই দুজনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তখন আরও নিশ্চিত করে বলা যাবে, তারা কীভাবে ও কোথায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় হস্তান্তরের পর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিষয়ে কী কী আইনি প্রক্রিয়া নেয়া হবে, তখন জানা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা-মন্ত্রীরা গা ঢাকা দেন। কেউ কেউ আবার এর আগেই দেশত্যাগ করেন। এছাড়া, ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আটক করা হয়।

২০১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা) আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আইনজীবী আনিসুল হক। ওইবারই তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়। এরপর থেকে তিনি আইনমন্ত্রীর পদে ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১ আসন থেকে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হন। পরে তাকে নিজের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন সালমান এফ রহমান।

সেই উপস্থাপিকার কাছে ক্ষমা চাইলেন সাবেক বিচারপতি মানিক

কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যু নিয়ে টকশোতে উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। একই সঙ্গে জনগণের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ আগস্ট) মানিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজের কাছে লিখিতভাবে এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সাবেক বিচারপতি মানিক লিখেছেন, তিনি একজন হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসের রোগী। টক শোর দিন তাকে অনেক লম্বা পথ হেঁটে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল। ফলে তার ব্লাড সুগার নেমে যায় ও ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায় এবং একই সঙ্গে তিনি প্রচুর ক্লান্ত বোধ করছিলেন। যার কারণে তিনি তার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি তার এরূপ আচরণের জন্যে উপস্থাপিকার কাছে গভীরভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজকে তার পাঠানো আইনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। সেখানে তিনি উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী এবং জনগণের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

এর আগে, রোববার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মানিককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

নোটিশে বিচারপতি মানিককে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। প্রকাশ্য ও লিখিতভাবে ক্ষমা না চাইলে সাবেক বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজিত টকশোতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে তিনি সঞ্চালক দীপ্তি চৌধুরীর ওপর ক্ষিপ্ত হন। পুরো অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকবার উপস্থাপিকার ওপর নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন এবং উচ্চবাচ্য করেন। শুধু তা-ই নয়, অনুষ্ঠান শেষে স্টুডিও ছাড়ার আগে উপস্থাপিকাকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেও মন্তব্য করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মামলা করার আহ্বান আসিফ মাহমুদের

কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলাকারী, হত্যাকারী সবার বিরুদ্ধে সারা দেশে ভুক্তভোগীদের মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। পাশাপাশি তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন কথা উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিচারের আগে সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের কোনও সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। আন্দোলনে হামলাকারী, হত্যাকারী সবার বিরুদ্ধে সারা দেশে ভিক্টিমদের মামলা করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে এদিন আরেক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির পতনের সময় এসেছে।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ছাত্র রাজনীতি নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সচেতনতা। ক্যাডারভিত্তিক বাহিনী বানানো, নির্যাতন-নিপীড়ন, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করেছি। ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা থাকাতেই ফ্যাসিবাদী হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব হয়েছে। ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

আসিফ বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। পেশিশক্তির রাজনীতি, নির্যাতন-নিপীড়নের রাজনীতি, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির পতনের সময় এসেছে।
হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মামলা করার আহ্বান আসিফ মাহমুদের
প্রসঙ্গত, বঙ্গভবনের দরবার হলে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টা ২৭ মিনিটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে শপথ নেন আরও ১৩ জন উপদেষ্টা। তাদের একজন হলেন আসিফ মাহমুদ।

সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া অন্য উপদেষ্টা হলেন- ১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ২. ড. আসিফ নজরুল ৩. আদিলুর রহমান খান ৪. হাসান আরিফ ৫. তৌহিদ হোসেন ৬. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ৭. মো. নাহিদ ইসলাম ৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ১০. সুপ্রদীপ চাকমা ১১. ফরিদা আখতার ১২. বিধান রঞ্জন রায় ১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান ১৪. নুরজাহান বেগম ১৫. শারমিন মুরশিদ ১৬. ফারুকী আযম।

তাদের মাঝে উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়া ফারুকী আযম দেশের বাইরে থাকায় এখনও অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ নেননি।

আয়নাঘরে নিয়ে ২১ দিন নির্যাতন করা হয় অভিনেত্রী নওশাবাকে!

২০১৮ সালে সড়ক নিরাপদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী একটি স্ট্যাটাসের জেরে গ্রেপ্তার হন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ।

গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এই অভিনেত্রীকে। ২০১৮ সালের ২১ আগস্ট পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় সিএমএম আদালতে জামিনে মুক্তি পান নওশাবা।

এরপর একপ্রকার পর্দার আড়ালে চলে যান এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন অভিনয়েও দেখা মেলে না নওশাবার। কোথায় ছিলেন, কীভাবে কেটেছে এই সময়গুলো, গ্রেপ্তারের আগে-পরে কী হয়েছে সেসব নিয়েই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন তিনি।

জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর কতটা দুর্বিষহ সময় পার হয়েছে তার জীবনে। গত ৬ বছরে ২০ বার বাসা বদলেছেন এই অভিনেত্রী। কোথাও বেশিদিন নিরাপদে থাকতে পারতেন না।
আয়নাঘরে নিয়ে ২১ দিন নির্যাতন করা হয় অভিনেত্রী নওশাবাকে!
উপস্থাপক তানভীর তারেকের শো’তে এসে নিজের জীবনের অজানা সেই ঘটনাগুলো বলেছেন নওশাবা। ইতোমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে একটি পর্ব। যেখানে অভিনেত্রী জানান, ‘অ্যাকুরিয়াম থেকে একটি মাছকে তুলে ডাঙায় রাখলে মাছ যতোটা ছটফট করে, তার জীবনের চিত্র ঠিক এমনই হয়েছিল।’

নওশাবা আরও বলেন, ‘ফেসবুকে সেই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরে মাত্র ১৩ মিনিটে সবকিছু হ্যাক করা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।’

পরিবর্তন হচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো

পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগোসহ সব পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (১১ আগস্ট) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশের ইউনিফর্ম, লোগো সব পরিবর্তন করা হবে। পুলিশের অনেকের মন ভেঙে গেছে। এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ আর কাজ করতে চাইছে না। খুব দ্রুতই তা পরিবর্তন করা হবে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশের যতখানি না দোষ, তার চেয়ে বেশি দোষ তাদের যারা কমান্ড করেছে। তাদের দিয়ে অনেক রাজনৈতিক কাজ করানো হয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করব। পুলিশ সদস্যেরা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এখন থেকে তারা ঠিকমতো কাজ করবেন। এর আগে বিকেলে আমি ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ছাত্ররা আমাকে বলেছে, পুলিশের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ কমিশন হওয়া উচিত। সেই কমিশনের অধীনে পুলিশ পরিচালিত হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে থাকবে না। পুলিশকে যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠক শেষে পুলিশের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়েবুর রহমান। তারা বলেন, আমরা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশির ভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি, সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরবেন।

তারা আরও বলেন, খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। পুলিশের দাবিগুলো বেশির ভাগই মেনে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ নিয়ে স্বাধীন একটি কমিশন হওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম, বিজিবির মহাপরিচালক, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ।

আগে দেশের মানুষ ইলিশ পাবে, পরে রপ্তানি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশবাসী ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর রপ্তানি করা হবে।

রোববার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর রপ্তানি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সকল খাদ্যপণ্য ভেজালমুক্ত করতে হবে। সেইসাথে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ালে দাম কমে আসবে। এ জন্য সরবরাহ বাড়াতে হবে।

এদিকে, দেশে ইলিশ মাছের দাম বেশি হলেও, তা রফতানি করা হচ্ছে; ফলে রপ্তানি বন্ধ করা হবে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদা আখতার বলেন, দেশের মানুষ যাতে ইলিশ মাছ পায় এবং দাম কমে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে। পারবেন কি না, পরের কথা; দায়িত্ব হলো দাম কমানোর।