Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 108

শাড়ি পরে ট্রাফিকের দায়িত্বে কে এই আবিদা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা এক দফা দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সরকারের পদত্যাগের পর রাজধানীর সড়কে ছিল না কোনো ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তারা পুরো ট্রাফিকের দায়িত্ব নিয়ে রাজধানীকে যানজট থেকে রক্ষা করেছেন। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে পথচারী, যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

গুগল নিউজে ফলো করুন আরটিভি অনলাইন
এর মধ্যে শাড়ি পরে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। রাতারাতি ভাইরাল হয় সেই ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যায়, রোডের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গাড়ির লেন ঠিক রাখতে ব্যস্ত এক শিক্ষার্থী। এ ছাড়াও রাস্তায় সিগন্যালের পাশাপাশি তারা ফুটপাতে হাঁটা, নির্দিষ্ট স্থান থেকে গাড়িতে ওঠানামা ও গণপরিবহনগুলো নির্দিষ্ট স্থান থামার নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিয়ম মেনে চলতে মানুষ ও গাড়িচালকদের বাধ্য করছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তিনি মানুষকে নিয়ম-শৃঙ্খলা শেখাচ্ছেন।
শাড়ি পরে ট্রাফিকের দায়িত্বে কে এই আবিদা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাড়ি পরা ওই শিক্ষার্থীর নাম আবিদা নওমী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।

শাড়ি পরে সড়কে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শাড়ি পরে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। শাড়ি বাঙালি নারীর ভূষণ। একটি মেয়ে যেভাবে সালোয়ার-কামিজ পরে সব কাজ করতে পারেন, একইভাবে একই কাজ শাড়ি পরেও করতে পারেন। আমাদের মায়েরা বেশির ভাগ সময় শাড়ি পরেন।

তিনি আরও বলেন, সহিংস পরিস্থিতির জেরে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন দাবি জানিয়ে কর্মবিরতিতে গেছেন। ফলে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তাই নিজের এলাকার সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পথে নেমেছেন তারা।

সচিবালয়ে অফিস শুরু করলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এরইমধ্যে মনোনীত উপদেষ্টাদের মাঝে দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। যেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দায়িত্ব পেয়ে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে অফিস শুরু করলেন তিনি।

আজ রোববার (১১ আগস্ট) সকালে অন্যান্য উপদেষ্টাদের মতো প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে উপস্থিত হন আসিফ মাহমুদ। এসময় তাকে বরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মহিউদ্দীন আহমেদ ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে নিজের রুমে উধ্বর্তন কর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় নয়া যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাকে। আসিফ মাহমুদের হাত ধরেই ক্রীড়াঙ্গনের জরাজীর্ণ চেহারা বদলে যাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আকুবপুর গ্রামে আসিফের জন্ম। তার বাবার নাম মো. বিল্লাল হোসেন, মায়ের নাম রোকসানা বেগম। আসিফ মাহমুদ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ইউনিটের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এখন তিনি স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি থেকে তিনি বনে যান পুরো ক্রীড়ার অবিভাবক। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। পরদিন ভেঙে দেওয়া হয় সংসদ। এতে বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা।

ইসলামী ব্যাংকে গুলি, ৪ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ

রাজধানীতে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাংকটির ৪ জন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রোববার (১১ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- ইসলামী ব্যাংকের গোডাউন গার্ড (ডিজি) শফিউল্লাহ সরদার, অফিসার মামুন, আব্দুর রহমান ও বাকী বিল্লাহ।

জানা গেছে, কয়েকশো বহিরাগত জোর করে ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় তাদের প্রবেশে বাধা দিলে কর্মকর্তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

ইসলামী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে কয়েকশো বহিরাগত অবস্থান নেন। তারা জামানতবিহীন, অনিয়ম করে লোন কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। হঠাৎ এস আলম গ্রুপের হয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মকর্তাসহ প্রায় শতাধিক লোক অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

তাদেরকে বাঁধা দিলে অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করেন। তাদের গুলিতে চার কর্মকর্তা আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা পাল্টা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে কায়সার আলী পদত্যাগ করেন।

ছিলাম নায়িকা হয়ে গেলাম নাইট গার্ড: নীলাঞ্জনা নীলা

নীলাঞ্জনা নীলা ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১৪’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হন। এরপর পরিচালক বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এর সাত বছর পর একই নির্মাতার ‘শ্যামাকাব্য’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবারো বড় পর্দায় ফেরেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি প্রশংসিত হয়।

তবে নতুন কোনো সিনেমার কারণে নয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে এই অভিনেত্রী আরো অনেকের মতো রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাতে ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমেও এ খবর উঠে এসেছে। ডাকাত ঠেকাতে একত্র হয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ পাহারা দিচ্ছেন। অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলাও ডাকাত ঠেকাতে পাহারা দিচ্ছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।
৯ আগস্ট দিবাগত রাতে তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ছিলাম নায়িকা হয়ে গেলাম নাইট গার্ড।

নীলাঞ্জনা নীলা অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘শ্যামাকাব্য’ ৩ মে মুক্তি পেয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘শ্যামাকাব্য’ পরিচালনার পাশাপাশি কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সৌদ নিজেই। প্রযোজনা করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা ও বদরুল আনাম সৌদ।

শেখ হাসিনা জোরজবরদস্তি করে আমাদের গণভবনে নিয়েছিলেন: আবু সাঈদের ভাই

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক শহীদ আবু সাঈদের পরিবারকে জোরজবরদস্তি করে গণভবনে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই রমজান আলী।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস রংপুরে আবু সাঈদের বাড়িতে আসলে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সময় আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী এ অভিযোগ করেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার নিজে থেকে আমাদের আহ্বান জানিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনা জোর করে জবরদস্তি করে ডাকে নিয়া গেছে, আর এনি (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) আসার (ক্ষমতায়) সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাসায় আসছে। এটাতো আমাদের সৌভাগ্য। আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি আমাদের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।’

ড. ইউনূসের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছেলের নামে সরকারি হাসপাতাল চাইছি, যাতে মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পায়। একটা মসজিদের দাবি জানাইছি। রাস্তা, কলেজের নামকরণ করতে বলছি। মাদরাসা যেন হয়। আর ছেলের হত্যার বিচার চাইছি। উনি সব করবে কথা দিছে। শুধু আজ না, সব সময় পাশে থাকবে। তিনি অনেক ভালো মানুষ।’

উল্লেখ্য, আবু সাঈদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। ১৭ জুলাই বাবনপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় তাকে।

আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করার দৃশ্য দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে সারা দেশে আন্দোলন জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে যান। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে ৮ আগস্ট রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় প্রধান উপদেষ্টাসহ এ সরকারের সদস্যসংখ্যা ১৭ জন।

পদত্যাগ করছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আল্টিমেটামের পর পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন তিনি।

শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হাইকোর্টে আসতে শুরু করেন। তারা বিচারপতিদের ‘দলবাজ’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের দুপুর ১টার মধ্যেই পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় হাইকোর্ট চত্বরে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এ আল্টিমেটাম দেন।

সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা দুপুর ১টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে তার পরিণতি হবে শেখ হাসিনার মতো। আমরা প্রধান বিচারপতিসহ দলবাজ বিচারপতিদের বাসভবন ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করব। দলবাজ বিচারপতিদের সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদের মূল উৎপাটন করা হবে।”

এছাড়া একই দাবিতে হাইকোর্ট চত্বরে মিছিল করছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা।

এর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভা ডাকার প্রতিবাদে এবং ‘জুডিশিয়ারি ক্যু রুখে দিতে’ শনিবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে আবদুল হান্নান মাসুদ হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “সবাই দ্রুত ১০টার মধ্যে কার্জন হলের গেটে আসুন, হাইকোর্ট ঘেরাও করা হবে। ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট ও নানা অপকর্মে জড়িত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে ফুল কোর্ট মিটিং ডেকেছেন। পরাজিত শক্তির যেকোনো প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই এর প্রতিবাদে জড়ো হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেই প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলাম। ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদেরকে উসকানি দিলে এর ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে। অনতিবিলম্বে বিনা শর্তে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করুন এবং ফুলকোর্ট মিটিং বন্ধ করুন।”

পরে ১০টা ৪০ মিনিটে “সবাইকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের দিকে আসার’ আহ্বান জানিয়ে আরেকটি পোস্ট দেন তিনি।

এদিকে আবদুল হান্নানের পোস্টের পরে ফেসবুকে লাইভে আসেন আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ছাত্র-নাগরিকের অভ্যুত্থান রক্ষার্থে জুডিশিয়ারি ক্যু রুখে দিতে হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের আহ্বান জানান।

এরপর হাইকোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
তথ্যসূত্র : ঢাকা টাইমস

শেখ হাসিনা ভারতে যাওয়ার আগে পদত্যাগ করেননি: সজীব ওয়াজেদ

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আজ শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেন। তিনি শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ছিলেন।

ওয়াশিংটন থেকে রয়টার্সকে সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, ‘আমার মা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই পদত্যাগ করেননি। তিনি সময় পাননি। তিনি একটি বক্তব্য দেওয়া ও পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করে। তাই সময় ছিল না। আমার মা নিজের ব্যাগ পর্যন্ত গোছাতে পারেননি। সংবিধান অনুযায়ী তিনি এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’

জয় আরও বলেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানান জয়। তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে এই নির্বাচন হতে হবে।

সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। যদি তা না হয়, আমরা বিরোধী দল হব। দুটির যে কোনোটিই ভালো।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে উৎসাহব্যঞ্জক বলেছেন জয়। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে অতীতকে না টানার কথা বলেছেন। এটা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। আসুন, আমরা অতীতকে ভুলে যাই। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করি। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি—তা (জাতীয়) ঐক্য সরকার হোক, বা অন্য কিছু হোক।’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে তিনি (জয়) বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক ছিলেন। সামনে এগিয়ে যেতে তিনি তাদের (বিএনপি) সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো আমাদের শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি ও সমঝোতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তর্ক করতে পারি। আমরা কোনো বিষয়ে অসম্মত হওয়ার বিষয়ে একমত হতে পারি। আমরা সব সময় সমঝোতার পথ খুঁজতে পারি।’

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘এই মেয়াদের পর আমার মা যেভাবেই হোক অবসর নিতে চেয়েছিলেন। দল যদি আমাকে চায়, হয়তো রাজি হব। বিষয়টি আমি নিশ্চিতভাবে বিবেচনা করব।’

জয় বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দেশে শেখ হাসিনা বিচারের মুখোমুখি হতে রাজি ছিলেন। আটক করার হুমকি আমার মাকে কখনো বিচলিত করেনি। আমার মা কোনো ভুল করেননি। তাঁর সরকারের কর্মকর্তাদের অবৈধ কাজের অর্থ এই নয় যে এসব করতে আমার মা নির্দেশ দিয়েছিলেন, এর অর্থ এই নয় যে এসবের জন্য আমার মা দায়ী।’

বিক্ষোভ চলার সময় মানুষকে গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য সরকারের মধ্যে কে দায়ী, তা অবশ্য বলেননি জয়। তিনি বলেন, ‘সরকার অনেক বড় কার্যক্রম। যারা দায়ী তাদের অবশ্য বিচারের আওতায় আনা হবে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা করতে আমার মা একেবারেই কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি। পুলিশ সহিংসতা বন্ধ করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিলেন।’

জয় আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার এবং আমি এসব আলোচনার অংশ হয়েছিলাম। আমি মাকে বলেছিলাম, আমাদের দ্রুত (আমাদের ছাত্র শাখাকে) হামলা না চালাতে, সহিংসতা বন্ধ করতে বলা দরকার। আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছি। আমাদের পক্ষে যা সম্ভব ছিল, আমরা সব করেছিলাম।’

জয় বলেন, যখন ইচ্ছা হবে, তিনি তখন দেশে ফিরবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনো অবৈধ কিছু করিনি। সুতরাং (দেশে ফিরতে) কে কীভাবে আমাকে বাধা দেবে? রাজনৈতিক দলগুলো কোথাও যাচ্ছে না। কেউ আমাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। আমাদের সহায়তা ছাড়া, আমাদের সমর্থকদের ছাড়া কেউ বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনতে পারবে না।’

গত বুধবার ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার একদিন আগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে তা তখন ঘোষণা করা হয়নি। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এক দিন আগে৷ আমরা কয়েকজন শুধুমাত্র জানতাম যে তিনি ঘোষণা দেবেন, তিনি পদত্যাগ করছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী যাতে একটি ট্রানজিশন অব পাওয়ার হয়, সেটাই ছিল ওনার প্ল্যান৷ তবে যখন তারা ওই গণভবনের দিকে মার্চ করা শুরু করল, তখন আমরা ভয়ে বললাম যে আর সময় নেই, তোমার এখনই বেরিয়ে যেতে হবে।’ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বর্তমানে তাঁর রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই।’

পরদিন বৃহস্পতিবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। তবে সক্রিয় রাজনীতিক হিসেবে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।’

গত সোমবার বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেছিলেন, তাঁর মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না৷ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রমের পরও কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তিনি (শেখ হাসিনা) এতটাই হতাশ৷’ ওই দিনের সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, গত রোববার থেকেই তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন৷

সোমবার বিবিসিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ অস্বীকার করেন জয়। তিনি বলেন, ‘গতকাল (৪ আগস্ট) ১৩ পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ কাজেই উচ্ছৃঙ্খল জনতা যখন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে তখন পুলিশ কী করবে বলে আপনি প্রত্যাশা করেন? ’

এর আগে বুধবার শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাওয়া প্রসঙ্গে এনডিটিভিকে জয় জানিয়েছিলেন, তাঁর (শেখ হাসিনা) আশ্রয় চাওয়ার খবর সঠিক নয়। তিনি কোথাও আশ্রয়ের জন্য অনুরোধ করেননি। শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।’

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন, বিক্ষোভ, সংঘাত ও সহিংসতার মুখে গত সোমবার (৫ আগস্ট) দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা, সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা। এত দিন পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গিয়েছিল।
তথ্য সূত্র : প্রথম আলো

দেশ ত্যাগের সময় বিমানবন্দরে আটক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রনি

দেশত্যাগের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য নুরুল আজিম রনি।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার ওপরে হামলার ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। রনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সহ-সমন্বয়ক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ লেখেন, “চট্টগ্রামের ত্রাস সৃষ্টিকারী আওয়ামী সন্ত্রাসী নুরুল আজিম রনি এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আশেপাশে যারা আছে তারা এই সন্ত্রাসীকে ধরার ব্যবস্থা করুন।”

ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, “কোটাবিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নারকীয় হামলা ও সবচেয়ে বেশি গুলি চালানোর মূল নেপথ্যের কারিগর এই রনি। এরে যেভাবেই পারেন ধরার চেষ্টা করুন। এই মুহূর্তে সে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবস্থান করছে।”

গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে সমাবেশ ডাকে শিক্ষার্থীরা। একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজিম রনিও। ফলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় রনির নেতৃত্বে গুলি ছোড়া হয়।

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসে গুজব ছড়াচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম

শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার গুজব ছড়াচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলো। গুজবগুলোর ফ্যাক্ট চেক করছে ডয়েচে ভেলে, দ্য কুইন্ট, দ্য নিউ মিনিট, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম। তারা বলছে, পুরোনো বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে এসব গুজব। এমনকি, হিন্দু মহাজোটের নেতাও গুজব ছড়াতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোকে দায়ী করেছেন।

জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) জানায়, বাংলাদেশে ধর্ষণ ও সহিংসতার গুজব ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরানো ছবি। ‘ফ্যাক্ট চেক-ফলস ক্লেইম ফুয়েল এথনিক ক্লিনসিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিপোর্টে তারা দেখিয়েছে, ভারতীয় অনেক গণমাধ্যম এবং ফেসবুক, টুইটার, এক্স প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব ও টিকটকে পুরোনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

ডয়চে ভেলে জানায়, হিন্দুদের ওপর হামলার পুরোনো ছবি ও ভিডিও নতুন করে আপলোড দিয়ে বলা হচ্ছে এগুলো চলমান সহিংসতার চিত্র। উদারহরণ হিসেবে তারা ক্রিকেটার লিটন দাসের বাড়িতে হামলার মিথ্যা ছবি প্রচারের কথা তুলে ধরে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার বাড়িতে আগুনের ছবি হিন্দু বাড়িঘরে হামলার ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

এ ছাড়া কিছু ধর্ষণের ভিডিও ও ছবির ফ্যাক্ট চেক করে তারা জানায়, সেগুলো ভারতীয় পুরোনো ভিডিও। এমনকি, শেখ হাসিনার বাসভবন বা গণভবন ধ্বংসের যেসব তথ্য ও ছবি প্রচার করা হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত ও অসত্য বলে জানায় ডয়চে ভেলে।

এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টও বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

খবরে বলা হয়, শিক্ষার্থী-জনতা সহিংসতা প্রতিরোধে পাহারা বসিয়েছেন। একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোও নেতাকর্মীদের কঠিন বার্তা দিয়েছে।

দ্য নিউ মিনিট জানায়, ২০২১ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে সংঘটিত ধর্ষণের ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বাংলাদেশের সহিংসতার চিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

দ্য কুইন্ট বলেছে, ভারতের কর্ণাটকে ধর্ষণের শিকার বাংলাদেশির পুরোনো ভিডিও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বলে দাবি জানিয়ে নতুন করে আপলোড করা হচ্ছে। সহিংসতা ও ধর্ষণের ছবি এবং ভিডিওগুলো নিউজ বাংলা টুয়েন্টিফোর, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় তারা।

গুজব ছড়াতে ফেসবুক ও টুইটার বা এক্স প্ল্যাটফর্মে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পরিসংখ্যান দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

অন্যদিকে, গত বুধবার (৭ আগস্ট) রাতে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিকের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও তিনি গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। গুজব না ছড়াতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে আটক প্রবাসীদের ছাড়িয়ে আনতে শায়খ আহমাদুল্লাহর আহ্বান

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রজনতার ওপর নির্বিচার গুলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আটক বাংলাদেশি শ্রমিকদের ছাড়িয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ।

আজ শুক্রবার (৯ আগস্ট) নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে এসব কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বৈষম্য-বিরোধী আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ও সমর্থন প্রকাশের জন্য মিছিল-সমাবেশ করে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সেসব দেশে যে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ, তা হয়ত তারা জানতেন না অথবা বিবেকের তাড়নায় ও আবেগের বশবর্তী হয়ে এ কাজ করে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করছেন।’

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ‘নতুন সরকারের উচিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের মুক্ত করার ব্যবস্থা কর, প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনা। আশা করি, তারা প্রবাসী ভাইদের মুক্ত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেবেন।’

এর আগে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনা করে ফেসবুকে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। আমি এই সরকারের সাফল্য কামনা করছি। সর্ব-প্রকার জুলুম, অরাজকতা, চাঁদাবাজি এবং অপশাসনের অবসান হোক, এদেশের সকল ধর্মের মানুষ ভালো ও নিরাপদ থাকুক, নতুন সরকারের কথায় ও কাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটুক—এই প্রত্যাশা তাদের প্রতি।’