Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 109

যে ছেলেকে মর্গে খুঁজেছিলেন বাবা, এখন তিনি সরকারের উপদেষ্টা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সবুজ ভূইয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তাকে নিয়ে গর্বিত তার শিক্ষক বাবা বিল্লাল হোসেন।

আসিফ মাহমুদ সবুজ ভূইয়ার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানাধীন আকুবপুর গ্রামে। তার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার মা রোকসানা আক্তার একজন গৃহিণী। আসিফ মাহমুদ তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বড় একজন ও ছোট দুজন বোন রয়েছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাতে কথা হয় আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন আসিফ মাহমুদ। প্রথমদিকে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার পর তার পরিবার জানতে পারে যে সে আন্দোলনের সমন্বয়ক। তখন আসিফ মাহমুদকে বাড়ি ফিরে আসতে অনুরোধ করেন বাবা-মা ও বোনেরা। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসিফ বলেন, আমার অনেক ভাই-বোন পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। আমি আন্দোলন থেকে ফিরে আসব না। হয় গুলি খেয়ে মরব, না হয় আন্দোলন সফল করে ঘরে ফিরব। এরপর থেকেই আসিফ মাহমুদের পরিবারে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা শুরু হয়।

বিল্লাল হোসেন বলেন, পাঁচ দিন নিখোঁজের সময় মা-বাবা বোনসহ পরিবারের সবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। বন্ধ থাকে সবার খাওয়া-দাওয়া। আমরা লাশ ঘরে গিয়েও তাকে খুঁজেছি। আন্দোলন সফল হওয়ায় অনেক ভালো লাগছে। আমরা চাই এমন খুনি, ফ্যাসিবাদী সরকার আর কখনো না আসুক।

তিনি আরও বলেন, আসিফের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রতিদিন আসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু ১৯ জুলাই তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর বিভিন্ন জায়গায় তাকে খোঁজ করেও পাইনি। ২৩ জুলাই ইত্তেফাক পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, আসিফ মাহমুদকে গুম করা হয়েছে। তারপর আমরা শাহবাগ থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করতে গেলে ওসি আমাদের জিডি নেননি। সেখান থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় যাই, সেখানেও একইভাবে আমাদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। তারপর ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে খোঁজ করি, কিন্তু আসিফের কোনো সন্ধান না পেয়ে হাসপাতালের লাশঘরে (মর্গ) গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। তারপর প্রেস ক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আসিফের গুমের বিষয়টি দেশবাসীকে জানাই।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ২৪ জুলাই হাতিরঝিল এলাকায় আসিফ মাহমুদকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিলে সেখান থেকে ২৬ জুলাই পুলিশ পরিচয়ে আবারও তাকে তুলে নিয়ে যায়। ২৭ জুলাই ডিবি কার্যালয় থেকে ফোন করে জানায়, আপনার ছেলে ডিবি কার্যালয়ে আছে, দেখে যান। আমি আর আসিফের মা সেখানে গিয়ে দেখা করলে তাদের ছেড়ে দেবে বললেও পরে ছাড়েনি।

তিনি আরও বলেন, আসিফ ছোটবেলা থেকেই একরোখা ছিল। যেখানে অন্যায় দেখত, সেখানেই প্রতিবাদ করত। ছেলেটার একরোখা স্বভাব তাকে আজ সরকারের উপদেষ্টা বানিয়েছে। একজন বাবা হিসেবে আমি অনেক গর্বিত। আমি আমার শিক্ষকতা জীবনকে সার্থক মনে করছি ছেলের এমন সাফল্যে।

বিল্লাল হোসেন এই আন্দোলনে নিহত সবার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়াসহ সব সমন্বয়ক এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবি জানান।

অজোপাড়াগাঁয়ের ছেলে আসিফ মাহমুদের এমন সাফল্যে এলাকাবাসীও আনন্দিত ও গর্বিত।

জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ ২০১৩ সালে কুমিল্লার আকবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পাস করেন। পরে ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া এলাকার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে চলে যান ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করেন। সব ক্লাসেই ভালো ফল পাওয়া আসিফ প্রথমবারেই চান্স পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে। আসিফ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

রাস্তায় বের হলেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছে: তানজিকা

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্মবিরতীতে যাওয়ায় রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে না। তাই বলে সে জায়গাটি অরক্ষিত নেই। দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সকাল থেকে রাত কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে নামেন তারা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে কাজ করছেন তারা। বিষয়টি মুগ্ধ করেছে দেশের সাধারণ জনগণ ও তারকাদের।

শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে অভিনেত্রী তানজিকা আমিন লিখেছেন, রাস্তায় বের হলেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছে তার। ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘দিনের বেলায় রাস্তায় বের হলেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছে।’ তার এই স্ট্যাটাস নজর কেড়েছে অনেকের। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই প্রশংসা করেছেন শিক্ষার্থীদের এমন দায়িত্বশীল আচরণের।

অভিনেত্রী ও মডেল তানজিকা আমিন রুপালি পর্দা দিয়ে দেশের বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম ‘বকুল ফুলের মালা’। দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন নায়ক রিয়াজ। এরপর সেভাবে আর বড় পর্দায় দেখা না গেলেও ব্যস্ত আছেন ছোট পর্দা নিয়ে। এরই মধ্যে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য নাটক ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

পলকের জায়গায় নাহিদ, পাপনকে হটিয়ে বসলেন আসিফ

অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টোদের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়।

এর মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টা ২৭ মিনিটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নেন। যদিও রাত ৮টায় তাদের শপথগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, গতকাল রাতে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শপথ নেন ১৪ সদস্য।

ফারুক-ই-আযম, বিধান রঞ্জন রায়, সুপ্রদীপ চাকমা ঢাকার বাইরে থাকায় তারা গতকাল শপথ নিতে পারেননি বলে শপথ অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

প্রস্তাব পেয়েও উপদেষ্টা হননি শায়খ আহমাদুল্লাহ, জানালেন শুভ কামনা

ন্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এ উপদেষ্টা পরিষদে সমাজের বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহকেও। প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দেন তিনি।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনা করে তিনি লেখেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। আমি এই সরকারের সাফল্য কামনা করছি।’

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও লেখেন, ‘সর্ব-প্রকার জুলুম, অরাজকতা, চাঁদাবাজি ও অপশাসনের অবসান হোক, এদেশের সব ধর্মের মানুষ ভালো ও নিরাপদ থাকুক, নতুন সরকারের কথায় ও কাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটুক—এই প্রত্যাশা তাদের প্রতি।’

ওই পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলেমদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হলেন সিনিয়র আলেম, প্রিয় মানুষ ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। অভিনন্দন তাকে। মহান আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দিন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’

উপদেষ্টা হিসেবে নিজের নাম প্রস্তাবের বিষয়ে এই আলেম লেখেন, ‘আমার অযোগ্যতা সত্ত্বেও আপনারা অনেকে গত দুই দিন ধরে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন এবং আমার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন; যার উপযুক্ত আমি ছিলাম না—তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ আপনাদের ভালোবাসা ও সুধারণার উত্তম বিনিময় দান করুন।’

শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তার কতটুকু তারা পূরণ করতে পারবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে দোয়া করি, প্রিয় মাতৃভূমি ভালো থাকুক। নিরাপদ থাকুক আমাদের জীবন, সম্পদ, দীন ও ঈমান।’

নতুন ইতিহাস গড়লেন নাহিদ-আসিফ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে শপথ নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান।

ড. ইউনূসের পর শপথ নেন ১৩ উপদেষ্টা। তারা হলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মো. নাহিদ ইসলাম (ছাত্র প্রতিনিধি), আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (ছাত্র প্রতিনিধি), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদা আখতার, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, নুরজাহান বেগম এবং শারমিন মুরশিদ।

এই শপথের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করলেন মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কারণ, এত অল্প বয়সে সরকারের অংশ হওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে আর নেই। এ ছাড়া তারা এখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এখনও তারা পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি। এত অল্প বয়সে অনেক বড় দায়িত্ব পড়েছে তাদের ওপর।

সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের ডাকনাম ফাহিম। তার জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। বাবা শিক্ষক। তিনি সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

শপথ নেওয়ার পর নাহিদ জানান, নতুন বাংলাদেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন। তবে এর আগে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন একজন শিক্ষক ও মাতার নাম রোকসানা বেগম। আসিফ মাহমুদ আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

আসিফ মাহমুদ শপথ নেওয়ার পর বলেন, শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক সংগঠনসহ সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সর্বজনগ্রহণযোগ্য একটি সরকার গঠনের প্রচেষ্টা নিয়েছিলাম। গত ৩ দিন আমরা দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সকলের সম্মতিতে এমন একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি।

জানা গেল অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ সদস্যের নাম

কিছু সময় পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারে কারা থাকছেন তা নিয়ে গত দুদিন ধরে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। অবশেষে আজ (বৃহস্পতিবার) একটু আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেই ১৭ সদস্যের নাম প্রকাশ্যে এসেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা পোস্টের হাতে আসা সেই তালিকা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

প্রধান উপদেষ্টা : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

উপদেষ্টা:

১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ
২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন
৩. ড. আসিফ নজরুল
৪. হাসান আরিফ
৫. তৌহিদ হোসেন
৬. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
৭. শারমিন মুরশিদ
৮. ফারুকী আযম
৯. আদিলুর রহমান খান
১০. সুপ্রদীপ চাকমা
১১. ফরিদা আখতার
১২. বিধান রঞ্জন রায়
১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান
১৪. নুরজাহান বেগম
১৫. মো. নাহিদ ইসলাম

১৬. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

এর আগে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইউনূসকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে এসে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশ একটা বড় পরিবার। এই পরিবারে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। আমাদের সঙ্গে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যা আছে সরিয়ে ফেলতে চাই। যারা বিপথে গেছে তাদের পথে আনতে চাই। যাতে করে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।

জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় থাক‌বেন। তার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। ভেতরে আসবাবপত্র নতুনভাবে বসানো হচ্ছে। এই কাজগুলো করছে গণপূর্ত অধিদফতর (পিডব্লিউডি)।

তবে যমুনা ভবনের সামনে এখনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বসানো হয়নি। সেনাবাহিনী, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ যমুনায় ছি‌লেন।

এর আগে, ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান তাদের দায়িত্বের দিনগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনাতেই ছিলেন।

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে : অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘সর্বসাধারণের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বৈরাচারের পতনের পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ-রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অলি আহমদ।

অলি আহমদ বলেন, ‘নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউসূসসহ নতুন সরকারের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা। তার ওপর অর্পিত নির্বাহী দায়িত্ব পালনে সফলতার আশা ব্যক্ত করি।’

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুর্নবাসন ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিংগাপুর ইত্যাদি রাষ্ট্রে সাজাপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত বাংলাদেশি ভাইদের মুক্তি ও পুনঃনিয়োগ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অলি আহমদ বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে যারা উপযুক্ত প্রমাণাদি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে, এবং যারা গ্রেপ্তার ও বন্দি হয়েছেন, তাদের অবিলম্বে মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

কর্নেল (অব.) অলি বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ সরকার কর্তৃক অপহৃত, নিহত ও গুম করা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।’

এলডিপি সভাপতি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় যে অবৈধ ও অযৌক্তিক সংযোজন করা হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে এবং ঐ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পৌষ্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বাতিল করতে হবে।’

স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে বলেও দাবি জানান অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের অবৈধ সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।’

কর্নেল (অব.) অলি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থল, জল বা বিমানবন্দর দিয়ে যেন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পলায়ন করতে না পারে বা অপরাধীরাও অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া মাত্র শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।’

এ ছাড়া এলডিপি সভাপতি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। কমপক্ষে পরবর্তী চারটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে।’

এলডিপি সভাপতি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রজাতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানে (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ) শীর্ষ নির্বাহী পদে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।’

কর্নেল অলি (অব.) আহমদ বলেন, ‘নিম্নোক্ত বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে—সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে নিজ নিজ দায়িত্বে ফেরার অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। ডিজিএফআই ও অন্যান্য আটক কেন্দ্রকে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সব অবৈধ অস্ত্র সাময়িকভাবে নিকটস্থ আইন-প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে ইস্যুকৃত সব আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স স্থগিত করতে হবে, যা তদন্তসাপেক্ষে পুনঃবহাল করা যেতে পারে।’

অর্থনীতিকে পুনর্জীবিত করতে সর্বসাধারণের প্রতি আবেদন জানিয়ে কর্নেল অলি (অব.) আহমদ বলেন, ‘বন্দর, কাস্টমস এবং সব সরকারি সেবা দ্রুততম সময়ে পুনরায় স্বাভাবিক করুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে গার্মেন্টসসহ সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানাই।’ এ সময় তিনি প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পন্থায় রেমিটেন্স পাঠানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।

আমার চোখের পানি সঞ্চয় করলে পুকুর বানানো যেত: ব্রিগেডিয়ার আযমী

৮ বছর পর আয়নাঘর থেকে বাড়িতে ফিরে আসলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের মেজো ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

বুধবার (৭ আগস্ট) মধ্যরাতে তিনি পরিবারের কাছে ফিরেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাতে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নেওয়া হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করা হয়।আমার চোখের পানি সঞ্চয় করলে পুকুর বানানো যেত: ব্রিগেডিয়ার আযমী

পরে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে থেকে আটকের বিষয়টি একাধিকবার দাবি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

উল্লেখ্য, একইসময়ে নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বাড়ি ফেরেন জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান।

আমাদের কেউ ভাবেনি আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাতে গড়াবে : জয়

কোটা সংস্কার আন্দোলন যে সরকার উৎখাতের দিকে গড়াবে, সেটি কেউ ধারণা করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এছাড়া শেখ হাসিনা পদত্যাগের বিষয়ে দু-একদিন আগে থেকেই চিন্তাভাবনা করছিলেন কিন্তু দেশ ছাড়ার ব্যাপারে কোনও প্রস্তুতিই ছিল না। বিক্ষুব্ধ জনগণ গণভবনে পৌঁছাতে যতটা সময় লাগবে, দেশ ছাড়ার জন্য শেখ হাসিনার হাতে সেটুকু সময় ছিল বলে দাবি করেন জয়।

বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সম্পাদক ইথিরাজন আনবারাসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ সেই সময়ের পরিস্থিতি ও সরকার পতন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, আমার মা কখনো বাংলাদেশ ছাড়তে চাননি। তাকে আমাদের রাজি করাতে হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছিলেন, তিনি একটা ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ লোকজন গণভবনের দিকে মিছিল করার কথা ঘোষণা করলো, আমরা পরিবারের সদস্যরা তার কাছে অনুনয় করি যে, তারা সহিংসতার জন্য আসছে, তারা হত্যা করতে পারে, তোমাকে নিরাপত্তার জন্য চলে যেতে হবে।

জয় বলেন, আমার খালা (শেখ রেহানা) তার সঙ্গে ছিলেন। আমার মা চাইছিলেন খালা যেন হেলিকপ্টারে করে সামরিক বিমান ঘাটিতে চলে যান। কিন্তু আমরা মা উঠতে চাচ্ছিলেন না। তখন আমি তাকে এবং আমার খালাকে বলি, তাকে (শেখ হাসিনা) অবশ্যই যেতে হবে।

তিনি জানান, হেলিকপ্টারে করে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেখান থেকে ভারতের আগরতলা ও পরে দিল্লী পৌঁছান।

পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শেখ হাসিনার সরকার ভুল করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ বলেন, পরিস্থিতি এই দিকে গড়াবে তা তারা কেউ ভাবেননি। আমাদের কেউ ভাবেনি এই সহিংস আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাতের দিকে গড়াবে। আমরা বুঝতে পারছিলাম, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে যে সহিংসতার পেছনে কিছু অজানা গ্রুপ আছে, তারা মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করার সময় আমরা রাজাকার বলে শ্লোগান দিয়েছিল। তখন আমাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কঠোরভাবে সেই সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। আমার বিশ্বাস, সেদিন যারা ওই শ্লোগান দিয়েছিল, আমরা এখনো জানি না মধ্যরাতে সেই স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিরা কারা ছিল, তারাই এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দায়ী।

আমাদের সরকার কখনো বিক্ষোভকারীদের ওপরে শক্তি প্রয়োগ করতে চায়নি, বরং পুলিশ তাদের পাহারা দিয়েছে, তাদের ওপর হামলার কোনও নির্দেশ ছিল না।

আমি ও আমার পরিবার বিদেশে বড় হয়েছি, সেখানেই বাস করি। বাংলাদেশের ডিজিটাইলাইজেশনের জন্য আমি বিনা পয়সায় উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছি। আমি সফল হয়েছি, বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে আমি ডিজিটাল কানেক্টিভটি নিয়ে গেছি। সেই বাংলাদেশের মানুষ আমার মায়ের সঙ্গে এরকম করেছে, আমার নানাকে অসম্মান করেছে, যিনি এই দেশের প্রতিষ্ঠাতা, এটা মেনে নেওয়া আমার জন্য অনেক কঠিন। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমি আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চাই না
সজীব ওয়াজেদ

মাত্র একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে যে সমস্যার সমাধান করা যেত, তা কেন এত প্রাণহানিতে গড়াল, বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, এর আগে তো আমাদের সরকারই কোটা বাতিল করে দিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের আবেদনে পরে হাইকোর্ট সেটা বহাল করে। আমাদের সরকারের আইনি টিমও আদালতে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের চেষ্টা করছিল। এটা এর মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সহিংসতা শুরু হয়। বলপ্রয়োগ ভুল হয়েছে, কিন্তু এটা উভয় পক্ষেই হয়েছে। শিক্ষার্থী মারা গেছে, বেসামরিক মানুষ মারা গেছে, পুলিশও মারা গেছে।

এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবে, জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, দল টিকে যাবে। ১৯৭৫ পরে যখন বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা কারাগারে ছিল, তখনো দল টিকে গেছে। এটা হচ্ছে আদর্শের দল, দেশের একমাত্র গণতান্ত্রিক দল যা স্বাধীনতার পূর্বে গণতান্ত্রিকভাবে তৈরি হয়েছে।

বাকি দুটি দল সামরিক শাসকদের হাতে তৈরি। দল তাদের নেতা বের করে নেবে। কিন্তু এখন তারা আমাদের দল নির্মূল করার চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে, তারা আমাদের মন্ত্রীদের খুঁজছে, অনেকে লুকিয়ে আছে, অনেকে বিদেশে চলে গেছেন।

দেশে ফিরে সজীব ওয়াজেদের নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে, এরকম কোনও ইচ্ছা নেই। এটা আমার পরিবারের জন্য তৃতীয় ধাক্কা। যেমন মানুষ, তেমন নেতাই তাদের পাওয়া উচিত। এখন বাংলাদেশে মব রুল চলছে।

সামনে যে নির্বাচন হবে, হয়তো আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। হয়তো বিএনপি-জামাত নির্বাচনে বিজয়ী হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আসলে অন্ধকারাছন্ন।

অনেকে অভিযোগ করছেন, আওয়ামী লীগের সময়েও অনেক দমন পীড়ন হয়েছে, অনেককে গুম করা হয়েছে। এমনকি দুজনকে সম্প্রতি আট বছর গুম থাকার পর মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অবশ্যই কিছু ভুল হয়েছে। সরকারের মধ্যে অনেক ব্যক্তি ছিলেন যারা এসব ভুল করেছেন। কিন্তু আমরা সবসময়েই সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করেছি। আমাদের সরকারেই একজন মন্ত্রীর ছেলে, বিশেষ বাহিনীর সদস্য ছিলেন কিন্তু বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য কারাগারে গেছেন (নারায়ণগঞ্জের সাত খুন)।

বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যগুলো যেভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে, এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ বলছেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অসন্তোষ এবং তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এটাই আমার এখনকার অনুভূতি। আমি জানি, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় দল, এখনো আমাদের জনসমর্থন সবচেয়ে বেশি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১০/২০ হাজার খুব ক্ষুদ্র অংশ। কিন্তু আমি যখন এসব (ভাঙচুরের) ছবি দেখি, আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি গভীর অসন্তোষ অনুভব করি। এখন যা বাংলাদেশে ঘটছে, তা পাকিস্তানের মতো।

তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশের মানুষ পেছন ফিরে তাকিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছর সময়কে স্বর্ণযুগ বলে মনে করবে। সেই দিন তারা আফসোস করবে, কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশ হবে কিনা, জানতে চাওয়া হলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, তারা আওয়ামী লীগকে কখনোই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশ হতে দেবে না।

আমি ও আমার পরিবার বিদেশে বড় হয়েছি, সেখানেই বাস করি। বাংলাদেশের ডিজিটাইলাইজেশনের জন্য আমি বিনা পয়সায় উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছি। আমি সফল হয়েছি, বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে আমি ডিজিটাল কানেক্টিভটি নিয়ে গেছি। সেই বাংলাদেশের মানুষ আমার মায়ের সঙ্গে এরকম করেছে, আমার নানাকে অসম্মান করেছে, যিনি এই দেশের প্রতিষ্ঠাতা, এটা মেনে নেওয়া আমার জন্য অনেক কঠিন। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমি আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চাই না।

যখন ঢাকায় শেষবার শেখ হাসিনার সঙ্গে সংক্ষেপে সজীব ওয়াজেদের কয়েকবার কথা হয়, তখন অনেক হৈচৈ হচ্ছিল। তখন সংক্ষেপে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার শেষ যে কথাটি হয়েছে, তা হলো, মা, তোমাকে এখনি দেশ ছাড়তে হবে।

তার বোনের সঙ্গেও মায়ের কথা হয় বলে তিনি জানান। তার বোন সায়মা ওয়াজেদ জাতিসংঘের একটি দপ্তরের কর্মকর্তা হিসাবে ভারতে থাকেন।

তখন দেশ ত্যাগের জন্য শেখ হাসিনাকে কতটা সময় দেওয়া হয়েছিল, জানতে চাওয়া হলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, আসলে কোনও সময়ই দেওয়া হয়নি। কারণ বিক্ষুব্ধ লোকজন গণভবনের দিকে মিছিল করে আসছিল। সুতরাং তাদের সেখানে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগবে, সেটুকু সময়ই তার হাতে ছিল। তবে তাকে নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়নি। কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই বাংলাদেশ ছাড়তে হয়।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙতে দেখে বিস্ফোরক কঙ্গনা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসবের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এমনই এক ভিডিও চোখে পড়েছে ভারতীয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতের। বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ভেঙে ফেলার বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেননি তিনি। জানিয়েছেন তীব্র প্রতিবাদ।

নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও স্টোরি শেয়ার করে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশিরা শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তির ওপর প্রস্রাব করছেন। তিনিই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতা অর্জন করার পরেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আমি ভাবছি, এই মানুষটা কী না করেছিলেন! তার ওপর কেন প্রস্রাব করছেন!’

কঙ্গনা তার পোস্টে আরও লেখেন, ‘কয়েকজনকে দেখলাম চিড়িয়াখানায় ঢুকে পশুদের ধরে ধরে মারছে। প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার পরেও তাদের প্রতিবাদ থামেনি বোধ হয়! এটাকেই কি প্রতিবাদ বলে?’

এখানেই থামেননি কঙ্গনা। অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘যারা পশুদের সঙ্গে এই কাজ করতে পারে, তারা আপনার সঙ্গে কী করবে, ভাবুন।’

এর আগে আরও এক পোস্টে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করা নিয়ে কঙ্গনা লেখেন, ‘ভারত হলো তার আশেপাশের সকল মুসলিম রাষ্ট্রের আসল মাতৃভূমি। আমরা গর্বিত এবং সম্মানিত যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) ভারতে সুরক্ষিতবোধ করেন। কিন্তু যারা ভারতে থাকে তারা বারেবারে প্রশ্ন করে কেন হিন্দু রাষ্ট্র? কেন রাম রাজ্য? কেন সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে!!’

এখানেই থেমে যাননি কঙ্গনা। তিনি আরও লেখেন, ‘মুসলিম দেশে তো মুসলমানরাও সুরক্ষিত নয়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ব্রিটেনে যা ঘটছে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সৌভাগ্যবান যে রাম রাজ্যে থাকি। জয় শ্রী রাম।’