Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 111

‘অসুস্থ লোকটাকে ঠিকই নির্যাতন করা হয়েছে’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে মাঠে নামায় গ্রেফতার হওয়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আসিফ মাহতাব আজ মঙ্গলবার মুক্তি পেয়েছেন। জেলগেটে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ।

রিমান্ডে আসিফ মাহতাবকে নির্যাতন ও মুক্তির পর তার সঙ্গে দেখা হওয়া বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নায়ক আসিফ মাহতাব উৎসকে রিমান্ডে যেন কষ্ট না দেওয়া হয় সেজন্য বহু দুয়ারে ধর্না দিয়েছি।’

‘কিন্তু ঠিকই অসুস্থ লোকটাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ জেল গেটে মাওলানা রেজাউল করীম আবরার ও সরোয়ার ভাইসহ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষার পর অবশেষে তার দেখা।’
‘অসুস্থ লোকটাকে ঠিকই নির্যাতন করা হয়েছে’
রাজধানীর সেতুভবনে আগুন দেওয়ার মামলায় আসিফ মাহতাবকে আসামি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ মামলায় গত ২৯ জুলাই আসিফ মাহতাবের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে গত ৩ আগস্ট কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ২৮ জুলাই রাত ১টার দিকে আসিফ মাহতাবকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে, ১৮ জুলাই সেতু ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সেতু ভবনের কেয়ারটেকার রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলাটি করেন। মামলাটিতে সেতু ভবনের ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

গণপিটুনিতে নিহত নায়ক শান্ত খানকে নিয়ে যা বললেন কৌশানী

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গণ-আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে এ খবর পাওয়া মাত্রই এক নজিরবিহীন বিজয় উল্লাসে মাতে সারাদেশের মানুষ।

এরই মধ্যে ঘটে যায় বেশকিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এদিন চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত ‘বালুখেকো’ খ্যাত চেয়ারম্যান ও শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান ও তার ছেলে নায়ক শান্ত খান গণপিটুনিতে নিহত হন। আর এ খবর টালিগঞ্জে পৌঁছাতেই স্তব্ধ হয়ে যান নায়িকা কৌশানী মুখার্জী; নায়ক শান্তর এমন মৃত্যু যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারকে কৌশানী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ছাড়াও টালিউডের অনেকেরই শাপলা মিডিয়ার সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। শান্তর চাঁদপুর এলাকার নিজের একটা রাজত্ব ছিল। আমি ওখানে যাওয়ার পর ঢাকা ঘোরানো থেকে সিম কার্ড সংগ্রহ, সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। মানুষকে ভালোবাসত। আমি যেহেতু অভিজ্ঞতায় বড়, আমার থেকে নানা উপদেশ নিত। আমি ভাবতেই পারছি না এমন।’

শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খানের সঙ্গে টালিউডের দেব থেকে অঙ্কুশ, বনিদের যোগাযোগ ছিল। ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ কিছু কাজ করার কথাও ছিল তার। এ ছাড়া তার ছেলে শান্তর সঙ্গে সিনেমা করেছেন কৌশানী মুখার্জী ও শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। ‘পিয়া রে’ ছবিতে শান্তর নায়িকা ছিলেন কৌশানী। এখন নায়কের মৃত্যুর খবর শুনেই স্তব্ধ কৌশানী। বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সত্যিই এটা হয়েছে।’

‘পিয়া রে’- র সমস্ত কাজ প্রস্তত ছিল, অপেক্ষা ছিল শুধু মুক্তির। কৌশানী বলেন, ‘এখন তো আর ছবিটাও মুক্তি পাবে না।’

বাবা সেলিমের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীচিত্র ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’তে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শান্ত।

আট বছর পর মুক্ত আমান আযমী ও আরমান

আট বছর পর ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্ত হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ভোরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফেরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও আহমাদ বিন কাসেমের মুক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে।

আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে। আর আহমাদ বিন কাসেম একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট আহমদ বিন কাসেমকে (আরমান) মিরপুর ডিওএইচএস থেকে এবং এর কয়েক দিন পর ২৩ আগস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে গুম করা হয় বলে তাদের পরিবারের অভিযোগ।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত যেতে পারেননি সাংবাদিক শ্যামল দত্ত

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক শ্যামল দত্তকে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে তাকে আখাউড়া ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত পাঠানো হয়।

শ্যামল দত্ত আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা থাকাই কর্তৃপক্ষ ফেরত তাকে দেন। তার স্ত্রী ও সন্তানও এ সময় সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তিনি ইমিগ্রেশন স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভারত যেতে অনুনয় করেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খায়রুল আলম জানান, দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থাকায় শ্যামল দত্তকে ভারতে যেতে দেওয়া হয়নি। ইমিগ্রেশন থেকে তিনি ফিরে গেছেন।

দিল্লি পালানোর সময় পলক আটক

ভারতের রাজধানী দিল্লি পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন জুনাইদ আহমেদ পলক। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে— শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষায় ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তখন বিমানবন্দরের কর্মচারীরা তাকে ভিআইপি লাউঞ্জে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা এসে তাকে আটক করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গতকাল শেখ হাসিনা ভারত পালানোর পর থেকেই খোঁজ ছিল না পলকের। তিনি দেশে আছেন না কি বিদেশে পালিয়েছেন তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল।

গতকাল রাতে নাটোরের সিংড়ায় পলকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। লুটপাটও হয় এ সময়।

সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন আটক, বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) হারুন অর রশীদকে আটক করা হয়েছে। তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

রোববার (৫ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা। সেটি পুলিশ, র‌্যাব নাকি অন্য কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, কার নির্দেশে ডিবি প্রধান থাকা অবস্থায় হারুন অর রশীদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে আটকে রেখেছিলেন। তাদের কাছ থেকে জোর করে বিবৃতি আদায় করেছিলেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে ঘরে ঘরে ডিবি পুলিশ পাঠিয়ে মানুষ তুলে আনার কাজটি করেছেন। রাজনীতিকসহ জনগণের সঙ্গে বেপরোয়া আচরণ করেছেন সেটি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছয় সমন্বয়কের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে দেখা করতে দেননি অতিরিক্ত আইজিপি হারুন। তখন বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া দেখা করা সম্ভব নয়। তাদের কবে ছাড়া হবে জানতে চাইলে বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যখন নির্দেশ দেবে তখন ছাড়া হবে।

সেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে সেটিও হারুনের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হারুন এডিশনাল এসপি থাকার সময় ২০১১ সালের ৬ জুলাই, সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন।

পলকের নির্দেশেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল

সারাদেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ঘোষণা দিয়েছিলেন, নাশকতার কারণে মহাখালীর ডেটা সেন্টার খাজা টাওয়ারে সন্ত্রাসীরা আগুন দিয়েছে। যে কারণে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে।

আসলে এমন বক্তব্য পুরোটাই মিথ্যাচার ছিল বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। সংস্থাটি বলছে, পলকের মৌখিক নির্দেশ আর সরকার দলীয় লোকজনের হামলার কারণেই বন্ধ করতে হয়েছে ইন্টারনেট।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসেও রাজধানীর মহাখালীর আমতলী এলাকায় অবস্থিত খাজা টাওয়ারের অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তায় যোগ দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেশে ইন্টারনেটে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সংযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি খাজা টাওয়ারে আগুনের ঘটনা সামনে এনে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ-আইসিটি, বিটিআরসি এবং খাত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইন্টারনেটের নিরাপত্তা ও গুজব প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় মহাখালীর খাজা টাওয়ারের ডেটা সেন্টারের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি, খাজা টাওয়ারের ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অথচ আইএসপিএবি এবং বিটিআরসি ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বারবার ইন্টারনেট বন্ধের দায় চাপিয়েছেন ডেটা সেন্টারের ওপর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইএসপিএবির এক নেতা বলেন, ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সকাল থেকেই দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানিকে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিকেল থেকে আইএসপিদেরও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের জন্য চাপ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে করণীয় নির্ধারণের আগেই নিচে আগুন ধরিয়ে কেবল কেটে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব দ্রুতই মেরামত করা হলেও পুনরায় ইন্টারনেট সংযোগ সরকারের নির্দেশ পেলে দিতে হবে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। নিরুপায় হয়েই সরকারের নির্দেশনা মানতে হয়েছে।

অপরদিকে বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৭ তারিখ থেকে সারাদেশে মুঠোফোন ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা এবং ১৮ তারিখ থেকে সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় টেলিযোগাযোগ শিল্পে ৩০ শতাংশ ব্যাবসা কমেছে। এতে করে ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইন্টারনেট সুবিধাভোগী আরও ৫ কোটি গ্রাহক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। এর ফলে কোথাও কোথাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব কোনো কিছুই ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হলে গত ১৭ জুলাই রাত থেকে ৩১ জুলাই দুপুর পর্যন্ত মেটার প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম বন্ধ ছিল। ৩১ জুলাই দুপুর দুইটার পর থেকে তা ফের চালু হয়।
তথ্যসূত্র: আরটিভি নিউজ

যেভাবে দেয়াল টপকে পালালেন হারুন

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনঅর রশিদ, কিন্তু পালানোর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের দেয়াল টপকে তিনি পালিয়েছিলেন।

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের পূর্ব পাশে থাকা সিটি করপোরেশনের সীমানা দেয়াল টপকে চলে যান হারুন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার হারুন দিনভর পুলিশ প্রধানের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু হাসিনার দেশত্যাগের খবর পাওয়ার পর থেকে ওয়্যারলেসে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। শেষে দুপুরে ডিবির হারুন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি পুলিশ সদর দফতরের পূর্ব পাশে থাকা সিটি করপোরেশনের সীমানা দেয়াল টপকে সেদিকে চলে যান। পরে তিনি নরমাল পোশাক পরে জনসাধারণের বেশে এখান থেকে বেরিয়ে যান।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন হারুন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এ সময় সেনা সদস্যরা তাকে আটক করেন। তবে সেখান থেকে তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে সর্বশেষ সত্যটা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

খুলেছে আয়নাঘর, মুক্ত হলেন মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমান

দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর খোঁজ মিলেছে মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আরমানের। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে তিনি মুক্ত হন।

ব্যারিস্টার আরমানের পরিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমানকে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মিরপুর ডিওএইচএস’র ১১ নম্বর সেকশনের ৭ নম্বর রোডের ৫৩৪ নম্বর বাড়ির দোতালায় থাকতেন তিনি। এই বাসা থেকেই দুই শিশু সন্তান, স্ত্রী ও বোনের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে। এর পর আর আনুষ্ঠানিকভাবে তার হদিস পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার রাতে কর্নেল সামসের নেতৃত্বে রাতে ২০-২৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের কচুক্ষেত এলাকায় অবস্থান নেন।
ব্যারিস্টার আরমান
তারা গণমাধ্যমকে বলেন, ডিজিএফআইয়ের আয়না ঘরে অনেক মানুষকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্দিদের ছাড়িয়ে নিতে আমরা অবস্থান নিয়েছি। তাদের অক্ষত অবস্থায় হস্তান্তর না করা পর্যন্ত আমরা ফিরব না। বন্দিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান চলবে। আমাদের সঙ্গে গুম হওয়া স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকও যোগ দেয়। মুক্তির জন্য জন্য চাপ প্রয়োগের এক পর্যায়ে মুক্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়।

এ সময় উপস্থিত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক বলেন, বছরের পর বছর ডিজিএফআই, র‌্যাব ও পুলিশের বন্দিশালায় অসংখ্য মানুষকে গুম করে রাখা হয়েছে। রাতের মধ্যে তাদের মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে দায়মুক্তির জন্য তাদের মেরে ফেলা হতে পারে। যদি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা না হয় তাহলে পরবর্তী ঘটনার দায় ডিজিএফআইয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদের নিতে হবে। আমরা দাবিগুলো সেনা কর্তৃপক্ষ ও সেনাপ্রধানকে পাঠিয়েছি। তাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।

আপনাদের কী হবে তা আমার পরিবারের চিন্তার বিষয় না: জয়

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেজ থেকে সাধারণ জনগণের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এ ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন, এমনটা আঁচ করেই এই ভিডিও আগে থেকে রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি।

ভিডিওতে তিনি কোটা সংস্কার নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, শুরু থেকেই আমরা কোটা সংস্কারে পক্ষে ছিলাম। আমরা তাদের আলোচনায় ডেকেছি, জুডিসিয়াল কমিশন করেছি। কিন্তু আমরা যতোই তাদের দাবি মেনে নেই তাদের দাবি একের পর এক বাড়তে থাকে।

জয় বলেন, এরপর আন্দোলনকারীদের দাবি সরকারের পতন। কিন্তু সরকারের পতনের পর কী হবে? এটা কেউ ভেবেছে? আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের রক্ষক। সরকার পতন করে নতুন সরকার আসার একটিমাত্র পথ আছে, আর তা হলো নির্বাচন। আমাদের সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে কোনো অনির্বাচিত এক মিনিটের জন্যও থাকতে পারবে না।

তাদের নির্বাচনের দাবিও যদি আমরা মেনে নেই তাহলে তারা আরও দাবি বাড়িয়েই যাচ্ছে। পরে যদি আমরা নির্বাচনও দেই এবং সরকার পতনের দাবি মেনে নেই, তাহলে তারা বলবে আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচন মানব না।

এ দেশে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে দাবি করে জয় বলেন, যদি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা না থাকতো, তাহলে এতো উন্নয়ন হতে পারত? বাংলাদেশ এতদূর আসতে পারত? কেউ কল্পনা করতে পারেনি বাংলাদেশ এতো উন্নয়ন করবে। ঠিক আছে, শেখ হাসিনার পর আপনাদের কী হবে, তা আমার চিন্তার বিষয় না, আমাদের পরিবারেরও চিন্তার বিষয় না। আপনারা বুঝবেন। তবে এইভাবে হত্যা করে সংঘর্ষ করে ক্ষমতা দখল করা যাবে না।