Sunday, April 5, 2026
Home Blog Page 119

প্রেমের টানে শ্রীলংকান তরুণী বাংলাদেশে

প্রেমের টানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসেছেন পচলা নামে শ্রীলংকান এক তরুণী। প্রেমিক দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ মোরশেদ (২৮)। শুক্রবার রাতে ফটিকছড়িতে মোরশেদের নিজ এলাকায় তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগের দিন তাদের আকদ সম্পন্ন হয়।

মোহাম্মদ মোরশেদ ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর মুনাফখিল এলাকার মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে।

মোরশেদের ছোট ভাই মো. রাকীব বলেন, ‘ভাবির বাড়ি শ্রীলংকা। দুবাইয়ে তাদের পরিচয় হয়। বিয়ের জন্য ভাবির পরিবারও বাংলাদেশে এসেছে। এ দম্পতির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা।’

জানা যায়, দুবাই থাকাকালে ২-৩ বছর আগে পচলা নামে এই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় মোরশেদের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে ফটিকছড়ির তরুণের সঙ্গে শ্রীলংকান মেয়ের বিয়ের খবর জানাজানি হলে নবদম্পতিকে দেখতে মোরশেদের বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসী। তবে জনতার ভিড় হবে বলে বিষয়টি মিডিয়া কিংবা স্থানীয়দের কাছ থেকে একটু আড়ালে রাখতে চেয়েছিল মোরশেদের পরিবার।

বন্ধ হয়ে গেল পর্তুগালে সেফ এন্ট্রি

পর্তুগালে অফিসিয়ালি সেইফ এন্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে বাস্তবায়ন করা হয় এই নির্দেশনা। এখন থেকে শুধু ওয়ার্ক ভিসা, স্টুডেন্ট এবং ফ্যামিলির জন্য পথ খোলা আছে।

এতদিন যে যেভাবে পেরেছে দেশটিতে ঢুকেছে। তবে এখন আর সেই পথ নেই। যদিও হাজার হাজার বাংলাদেশি রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া হয়ে পর্তুগালের কার্ডের স্বপ্ন দেখছে। তাদের জন্য এখন শুধুই হতাশা।

তবে পুরনো যাদের কার্ড আছে কিংবা প্রসেসিং আছে, তাদের জন্য এটা আশীর্বাদ। কেননা সবাই লাল পাসপোর্টের জন্যই এত এত কষ্ট আর ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের কাজের হয়ত এবার অগ্রগতি হবে।

সরকারি হিসাব মতে, চার লাখ প্রসেস পেন্ডিং রয়েছে। কিন্তু অভিবাসী নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, এর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

এখানে যারা আছেন তারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর তারা ট্যাক্স দিয়ে চলেছেন। কিন্তু এপয়েনমেন্ট পাচ্ছেন না, আবার ফিংগার হয়েছে তো কার্ড আটকে আছে। যাদের কার্ড হয়েছে রিনিউ করতে পারছেন না।

আবার রিনিউ করেছেন তো কার্ড পাচ্ছেন না। আবার কার্ড পেলেও পরিবার আনতে পারছেন না। ন্যাশনালিটি আবেদন করার পর মাসের পর মাস তা আটকে আছে। এজন্য যারা ইতোমধ্যে চলে এসেছে তাদের যেন এদেশে একটি সাচ্ছন্দ্যময় জীবন হয়, সেটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত বলে মনে করেন পর্তুগাল প্রবাসীরা।

বিশ্বের প্রথম এআই সুন্দরী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের এলিজা

সুন্দরী প্রতিযোগিতার সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তিন সুন্দরী প্রতিযোগিতা— মিস ইউনিভার্স, মিস আর্থ, মিস ওয়ার্ল্ড। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এআই কনটেন্টনির্ভর ওয়েবসাইট ফ্যানভ্যু আয়োজন করেছে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস এআই’। আর এই প্রতিযোগিতায় ১০ জনের নাম ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশের প্রথম ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার এলিজা খান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই লিখিত প্রম্পট থেকে ছবি তৈরি করা যায়। অনেকেই নিজেদের কল্পনা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ছবি তৈরি করেন। কৃত্রিমভাবে তৈরি এসব ছবিতে সুন্দরী নারীদের দেখা মেলে। এই নারীদের নিয়েই বিচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের একজন ফ্যানভ্যুর সহপ্রতিষ্ঠাতা উইল মোনানাজ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইআই ক্রিয়েটরদের সম্মান জানাতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতা এআই প্রযুক্তি খাতে অস্কারের সমমর্যাদা পাবে।’

প্রাথমিক পর্যায়ে ১ হাজার ৫০০–এর বেশি আবেদন জমা পড়ে। সম্প্রতি সেখান থেকে বাছাই করে ১০ জন ফাইনালিস্টের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই এআই সুন্দরীদের নির্বাচন করেছে বিশেষ বিচারক প্যানেল। বিচারকদের মধ্যে দুজন মানুষ এবং দুজন এআই ইনফ্লুয়েন্সার।

মূলত সুন্দরীদের তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিচার করা হচ্ছে। সেগুলো হলো— সৌন্দর্য, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি। সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে এআই মডেলের রূপ, তার ডিজাইন, পোশাক—ইত্যাদি দেখা হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেখা হবে ক্রিয়েটরের দক্ষতা এবং কোন টুলের মাধ্যমে ক্রিয়েটর এ মডেল বানিয়েছেন। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রম্পট সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।

১০ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের প্রথম ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার এলিজা খান। তার ক্রিয়েটর ফ্যাশন ও রেসিং প্রোডাক্ট রিটেইল শপ অনিক্স হাব। এলিজা খান একজন জেন–জি ফ্যাশনিস্তা, যে ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। তার ক্রিয়েটর ফ্যাশন ও রেসিং প্রোডাক্ট রিটেইল শপ অনিক্স হাব।

এ ছাড়া ফাইনালিস্টের তালিকায় আছে ভারতীয় এআই সুন্দরী জারা শতভরী, হিজাবি এআই ইনফ্লুয়েন্সার মরক্কোর প্রতিযোগী কেনজা লাইলি। অন্যান্য প্রতিযোগীর নাম হলো— সেরেন আয় (তুরস্ক), আইয়ানা রেইনবো (রোমানিয়া), আলিয়া লু (ব্রাজিল), অলিভিয়া সি (পর্তুগাল), অ্যান কার্দি (ফ্রান্স), লালিনা (ফ্রান্স), আসিনা ইলিক (তুরস্ক)।

চূড়ান্ত তিন বিজয়ীকে মোট ২০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া মিস এআই পাচ্ছে পাঁচ হাজার ডলার, ফ্যানভ্যুতে প্রমোশনের সুযোগ এবং একজন পাবলিসিস্ট যিনি বিজয়ীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিচ বাড়ানোর কাজ করবেন।

সুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ ও স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়

উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। বিশেষ করে ব্যাংকিং, শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মানের কারণে বিশ্বব্যাপী আকর্ষণীয় দেশটি। মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সুইস সরকার বরাবরই শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে আসছে। সরকারি তহবিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও দিয়ে থাকে উচ্চশিক্ষায় নানা স্কলারশিপ। প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে স্কলারশিপগুলোর ধরন হয় বিভিন্ন রকম। জেনে নেওয়া যাক সুইস স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়গুলো।

সুইজারল্যান্ডে যত স্কলারশিপ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইজারল্যান্ডের সরকারি স্কলারশিপ হচ্ছে গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ। প্রতিবছর যেকোনো বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের বাইরের স্নাতকোত্তর গবেষকদের এই স্কলারশিপটি দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাসিক জীবনযাত্রা, পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ, স্বাস্থ্য বীমা, ভ্রমণ খরচ/বিমান ভাড়া এবং আবাসন খরচ অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডক্টরেট বা পোস্ট-ডক্টরাল স্তরে গবেষণার জন্য সুইজারল্যান্ডগামী হয় হাজারো শিক্ষার্থী।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্কলারশিপের মধ্যে ইটিএইচ জুরিখ এক্সিলেন্স মাস্টার্স স্কলারশিপ, মাস্টার্স ডিগ্রীধারীদের জন্য ইপিএফএল এক্সিলেন্স ফেলোশিপ, গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট জেনেভা স্কলারশিপ, পিএইচডির জন্য জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকার জেনেভা একাডেমি স্কলারশিপ অন্যতম।

এসব বৃত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বছরে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক পর্যন্ত অনুদান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে পড়াশোনার খরচ ছাড়াও আবাসনসহ জীবনযাত্রার অন্য খরচও মিটে যায়।

সুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপের জন্য যোগ্যতা
গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপটি শুধু স্নাতকোত্তর বা পিএইচডির জন্য দেওয়া হয়, বিধায় আবেদনকারীদের কমপক্ষে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র পেতে হয়। মূলত এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় যে তিনি শিক্ষার্থীর গবেষণার তত্ত্বাবধান করতে ইচ্ছুক। আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি গবেষণা প্রস্তাবণা থাকতে হয়। এর ওপর নির্ভর করেই প্রফেসর শিক্ষার্থীর গবেষণার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এখানে একাডেমিক রেজাল্টও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দেশটিতে এরকম আকর্ষণীয় স্কলারশিপ মূলত বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে। তাই যথাযথ মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমেই আবেদনকারীদের স্কলারশিপের জন্য নির্বাচন করা হয়। স্বভাবতই খুব ভালো সিজিপিও এক্ষেত্রে সবার আগে গুরুত্ব পায়।

গবেষণাটি চলবে ইংরেজিতে, বিধায় শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন দেখা হয়। পাশাপাশি তাঁর ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে আইইএলটিএসে কমপক্ষে ৬.৫ ব্যান্ড স্কোর দরকার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীর অনুরূপ যোগ্যতা চাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে যেহেতু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীদের থেকে আবেদন নেওয়া হয়, সেহেতু স্নাতকোত্তর সনদপত্রটি সুইস বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে তবেই শিক্ষার্থীদের তাঁদের অধ্যয়নসম্পর্কিত পরবর্তী কার্যক্রমে যেতে অনুমতি দেয়।

স্কলারশিপের জন্য আবেদন
গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ ঘোষণার সময় এফসিএস (ফেডারেশন কমিশন ফর স্কলারশিপস)-এর ওয়েবসাইটে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিগুলোর একটি প্যাকেজ দেওয়া থাকে। এই প্যাকেজ অনুসারে নিম্নলিখিত নথিগুলো প্রস্তুত করতে হবে—
১. শিক্ষার্থীর স্বহস্তে স্বাক্ষরসহ কম্পিউটারে টাইপ ও প্রিন্ট করা এফসিএস আবেদনপত্র
২. একাডেমিক প্রকাশনা ও অর্জনের তালিকাসহ একটি সম্পূর্ণ সিভি
৩. সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার একটি মোটিভেশন লেটার
৪. শিক্ষার্থীর স্বহস্তে স্বাক্ষরসহ সর্বোচ্চ পাঁচ পৃষ্ঠার একটি পরিপূর্ণ গবেষণা প্রস্তাবণা
৫. সুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্রের অনুলিপি, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে কেন তিনি শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করতে চাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে চিঠির সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত সিভি সংযোজন করতে হবে
৬. এফসিএস রেকমেন্ডেশন ফরম ব্যবহার করে দুজন ভিন্ন অধ্যাপকের নিকট থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার
৭. সকল শিক্ষাগত সনদ এবং ট্রান্সক্রিপ্টের প্রত্যায়ন করা ইংরেজি ভাষায় অনুদিত ফটোকপি
৮. এফসিএস ফরম অনুযায়ী স্বাস্থ্য সনদপত্র
৯. শিক্ষার্থীর পাসপোর্টের ফটোকপি সাইজ ছবি।

বেসরকারি স্কলারশিপগুলোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের নথি কম-বেশি প্রয়োজন হয়। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের ধারা ভিন্ন। তাই সেগুলোর নিজ নিজ ওয়েবসাইট থেকে খুঁটিনাটি ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। তা ছাড়া প্রতিটি সুইস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই খুব সহজেই অনলাইন আবেদন করা যায়।

সুইজারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপের জন্য মূলত তিনটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের যাচাই করা হয়। সেগুলো হলো প্রার্থীর প্রোফাইল, গবেষণা প্রকল্প বা শৈল্পিক কাজের গুণমান এবং গবেষণাটির ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তাই আবেদনের মুহূর্তে সিভি ও গবেষণা প্রস্তাবণায় এই বিষয়গুলোকে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা আব্যশক।

কানাডায় আগের স্বামীর কাছে ইভা, সৌরভকে বাসায় ডেকে ৪ টুকরো

ময়মনসিংহে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ওমর ফারুক সৌরভ (২৩) হত্যার ঘটনায় চাচাতো বোন ইসরাত জাহান ইভার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সৌরভের আগে কানাডা প্রবাসী আব্রাহাম নামে একজনের সঙ্গে বিয়ে হয় ইভার। বর্তমানে তিনি কানাডায় আগের স্বামীর কাছে আছেন।

গুগল নিউজে ফলো করুন আরটিভি অনলাইন
মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ইলিয়াস ও তার শ্যালকসহ প্রাইভেট কারের চালক আবদুল হান্নান আকন্দকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, ‘তিন বছর আগে আব্রাহাম নামের কানাডা প্রবাসী এক ছেলেকে বিয়ে করে ইভা। এরপরও সৌরভের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন তিনি। ১২ মে গোপনে বিয়েও করে তারা। তবে পরিবার না মানায় প্রথম স্বামী আব্রাহামের কাছে কানাডায় চলে যান ইভা। বর্তমানে তিনি কানাডায় আগের স্বামীর সঙ্গে রয়েছেন।

এদিকে, ইভাকে খুঁজতে গত ১ জুন ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে সৌরভের আসার বিষয়টি ইলিয়াসকে জানায় তার ছেলে মৃদুল। পরে সৌরভকে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ শহরের গোয়াইলকান্দি এলাকায় বাসায় ডেকে আনে চাচা ইলিয়াস। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা করা হয়। এরপর শহরের গাঙ্গিনারপাড় থেকে কেনা হয় একটি লাগেজ ও পলিথিন। বাসায় ফিরে চাপাতি দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ভরা হয় লাগেজে। ঘণ্টা দুয়েক পর তোলা হয় একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারে। উদ্দেশ্য ছিল যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হবে মরদেহ।

গত ২ জুন সকালে ময়মনসিংহ সদরের সীমান্তবর্তী মনতলা ব্রিজের নিচে সুতিয়া নদী থেকে সৌরভের চার টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুতিয়া নদী থেকে কালো রঙের একটি ট্রলিব্যাগ থেকে তিন টুকরো এবং পাশেই একটি বাজারের ব্যাগে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ৩ জুন রাতে গ্রামের বাড়িতে ওমর ফারুকের মরদেহ দাফন করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউসুফ আলী বাদী হয়ে ২ জুন রাতে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সৌরভের বাবা ইউসুফ আলী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যে ভাইকে বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, সে-ই আমার সন্তানকে হত্যা করল! আমার সন্তানকে না মেরে আমাকে মারত। তার কী এমন দোষ ছিল? শুধু কি আমার ছেলেই তোর (ইলিয়াস) মেয়েকে ভালোবেসেছে? তোর মেয়ে কি ভালোবাসে নাই? যদি তোর মেয়ে ভালো নাই বাসত, তাহলে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় গিয়ে কেন আমার ছেলেকে বিয়ে করল? সৌরভের বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে আমার ছোট ভাই আমাকে নানা হুমকি-ধমকি দিয়েছে। আমি এই হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত সবার ফাঁসি চাই।’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সৌরভের মা মাহমুদা আক্তার। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ভালোবেসে চাচাতো বোনকে বিয়ে করাই আমার ছেলের কাল হয়েছে। আমরা কোনোদিন ভাবিনি, আপন চাচা তার ভাতিজাকে এভাবে হত্যা করবে! এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আমার সাজানো সংসার ছিল। ইলিয়াস সবকিছু এলোমেলো করে দিল।’

রাজনীতিতে প্রথম দেখায় বাজিমাত ইউসুফের, আবেগঘন বার্তা ভাই ইরফানের

২২ গজে ভারতীয় জার্সিতে বহু বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইউসুফ পাঠান। ম্যান ইন ব্লু জার্সিতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে সুনামও কামিয়েছেন বেশ। এবার তিনি নাম লেখিয়েছনে রাজনীতিতে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন এই ক্রিকেটার। আর রাজনীতির মাঠেও প্রথম দেখায় ছক্কা মারলেন সাবেক ভারতীয় এই তারকা।

ভারতের জার্সিতে ২২ গজে বহু বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইউসুফ পাঠান। কোনোদিন রাজনীতির পথ ধরে হাঁটেননি। স্বচ্ছন্দ ছিলেন ক্রিকেটের ময়দানে। ম্যান ইন ব্লু জার্সিতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে সুনামও কামিয়েছেন বেশ। এবার তিনি নাম লেখিয়েছনে রাজনীতিতে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন এই ক্রিকেটার।

আর রাজনীতির মাঠেও প্রথম দেখায় বাজিমাত করেন সাবেক ভারতীয় এই তারকা ক্রিকেটার। বহরমপুরে যিনি টানা পাঁচবারের সাংসদ কংগ্রেসের, সেই অধীর চৌধুরীকে তৃণমূলের ইউসুফ হারালেন ৮৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে। ভারতীয় ক্রিকেটে বরাবরই সকলের পছন্দের তালিকায় থেকেছেন পাঠান ভাইয়েরা। খেলার মাঠে একে অপরের সাফল্য যেমন উচ্ছ্বসিত হয়েছেন, তেমনই রাজনীতির ময়দানে দাদার জয়ে উচ্ছ্বসিত ইরফান পাঠান।

রাজনীতিতে ইউসুফ পাঠানের প্রথম দেখার জয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বেশ কিছু ছবি দিয়ে ইরফান পাঠান আবেগঘন পোস্ট করেছেন। অধীর চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ একজনকে হারানোয় আরও বেশি উচ্ছ্বসিত ইরফান পাঠান। তার বিরুদ্ধে ইউসুফ যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করেছেন, সাধুবাদ জানিয়েছেন ভাই ইরফান। সব শেষে তার উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশে ইরফান লিখেছেন, ‘মেরা ভাই জিত গ্যয়া (আমার ভাই জিতে গেছে)।’

ভারতের একটা সময়ে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ছিলেন ইরফান পাঠান। দাদা ইউসুফ পাঠান স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার। দীর্ঘ সময় বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন। বিশ্বকাপও জিতেছেন। দাদা-ভাইয়ের জুটি শুধু খেলার মাঠেই নয় বরং সামাজিক কাজেও নজর কেড়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে সমাজের জন্য নানা কাজে যুক্ত ছিলেন ভারতের এই দুই সাবেক ক্রিকেটার। ইরফান পাঠান এখন ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত। দাদা ইউসুফ পাঠান নতুন হাতেখড়ি হয়েছে রাজনীতিতে।

১২ লাখ টাকার জায়েদ খানের সঙ্গে ছাগল ফ্রি

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ পরাগলপুর গ্রামে নিরব এগ্রো ফার্মে তিন বছর ধরে লালন-পালন করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ‘জায়েদ খান’ নামের ষাঁড়টিকে। এটি লালন-পালন করছেন রমজান আলী বাচ্চু ও আনোয়ার হোসেন।

জানা গেছে, লাল রঙের শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি ডিগবাজি দেয় বলে নাম রাখা হয়েছে ‘জায়েদ খান’। ওজন প্রায় ৯৫০ কেজি। দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। তবে ষাঁড়টির সঙ্গে একটি ছাগল ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মালিক। তবে দরকষাকষির মাধ্যমে দাম কমানোর সুযোগ রয়েছে।

রমজান আলী বাচ্চু বলেন, গম, ভুট্টা, সবুজ ঘাস ও ফলমূল খাওয়ানোর মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে ষাঁড়টি। সময়মতো খাবার না পেলে রেগে যায় ‘জায়েদ খান’। এই ষাঁড়টির খাবার ও দেখাশোনার জন্য দৈনিক প্রায় ৫০০ টাকা খরচ করতে হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ গণমাধ্যমকে জানান, খামারি ও প্রান্তিক কৃষক মিলে এবার ৫০ হাজার ৭৩৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৪১৩টি ষাঁড় ও বলদ, ১৪ হাজার ১৫২টি গাভি, চার হাজার ৬১১টি মহিষ, ৯ হাজার ৫৬৩৫টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।

ক্রিকেটে বাজির গল্পে ওয়েব সিরিজ, একসঙ্গে ফিরছেন তাহসান-মিথিলা

খেলা যেমন একদিকে বিনোদন, কোটি দর্শকের মনোরঞ্জন করে। অন্যদিকে কিছু অসাধু চক্র এই খেলাকে কেন্দ্র করে বসায় জুয়ার আসর। ইদানীং অসংখ্য কোম্পানি গজিয়ে উঠেছে, যারা অনলাইনে পেতেছে জুয়ার ফাঁদ। এসব ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। ক্রিকেটে বাজির গল্পে এবার নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘বাজি’। সিরিজটি বানিয়েছেন আরিফুর রহমান।

বাজি ওয়েব সিরিজে একজন ক্রিকেটারের চরিত্রে দেখা যাবে তাহসান খানকে। সিরিজটিতে তাহসান বাস্তব কোনো ক্রিকেটারের চরিত্রে অভিনয় করছেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি নির্মাতা।

এই সিরিজ দিয়ে দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরছেন তাহসান। এটি তাহসানের প্রথম ওয়েব সিরিজ। এর আগে গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘ছক’ ওয়েব সিনেমা দিয়ে ওটিটিতে কাজ শুরু করেন তাহসান।
ক্রিকেটে বাজির গল্পে ওয়েব সিরিজ, একসঙ্গে ফিরছেন তাহসান-মিথিলা
বাজি সিরিজে তাহসানের সঙ্গে আছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। তিনি অভিনয় করেছেন সাংবাদিক চরিত্রে। দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর সিরিজটি দিয়ে পর্দায় ফিরছে এই জুটি। আরও আছেন মিম মানতাসা, মনোজ প্রামাণিক, নাজিয়া হক অর্ষা, শাহাদাৎ হোসেন, পার্থ শেখ, তাসনুভা তিশা, আবরার আতহার প্রমুখ।

নির্মাতা আরিফুর রহমান বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে সাজানো হয়েছে বাজির গল্প। এই প্রথম বাংলা কোনো ওয়েব কনটেন্টে উঠে আসবে ক্রিকেট নিয়ে গল্প। সবাই অনেক পরিশ্রম করেছেন সিরিজটির জন্য। শুটিং শুরুর আগে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতি পর্ব সেরেছেন তাহসান-মিথিলা। পর্দায় সেই পরিশ্রমের ছাপ দেখতে পারবেন দর্শক।’

জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাবে সাত পর্বের এই সিরিজ।

লাশ রেখে গোপনে কানাডা পাড়ি দেন পারভীন, রেখে যান প্রতিশোধের বার্তা

‘আমার জীবনের শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে এই র‍্যাপিস্ট, ব্ল্যাকমেইলার। সে তার নিজের ইচ্ছায় আমার হাতে ধরা দিয়েছে। নিজের হাতে এই র‍্যাপিস্ট, ব্লাকমেইলারকে মেরে শান্তি নিলাম।’

গত শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট’ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পাশ থেকে এই চিরকুটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম আরিফুল ইসলাম (২৭)। তিনি গত ১৭ মে পারভীন আক্তার (৩৩) নামে এক নারীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছিলেন। পারভীন আক্তার কানাডা প্রবাসী। তাঁর বাড়িও নরসিংদীর মনোহরদী।

পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, পারভীন আক্তার ওই যুবকের লাশ রেখে কানাডায় পালিয়ে গেছেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিফুল ও পারভীন পূর্ব পরিচিত। দুজনে ওই অ্যাপার্টমেন্টে গত ১৭ মে বিকেল ৪টায় ওঠেন। পরদিন সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে পারভীন একাই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশের ধারণা, ১৭ মে রাতের কোনো এক সময় আরিফকে হত্যা করে থাকতে পারেন পারভীন। এরপর সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কানাডা চলে যান। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি–ব্লকের সাফায়েত সড়কের ১ /এফ বাড়িটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে পরিচালনা করে আসছে মাটি প্রপার্টিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ভবনটিতে থিয়েটার হল, ছোট ছোট বেশ কয়েকটি কক্ষ, রেস্ট রুম, বিনোদন রুম, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল রয়েছে। এখানে দেশি বিদেশি মানুষ অবসর যাপনের জন্য আসেন।

গত ১৭ মে আরিফুল ইসলাম ও পারভীন আক্তার স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে দোতলার একটি ফ্ল্যাটে ওঠেন। অনলাইনে সাত দিনের জন্য বুকিং দিয়েছিলেন আরিফুল। তাঁরা ওঠার ১৪ দিন পর গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে মাটি প্রপার্টিজ থেকে ভাটারা থানায় ফোন কল করে জানানো হয়, দোতলার ফ্ল্যাটে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গলা ও বুক কাটা, পচা–গলা লাশ পায়। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এই ঘটনায় রোববার (২ জুন) আরিফের বড়বোন সাফরিজা আক্তার রেলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পারভীন আক্তার, তাঁর কানাডা প্রবাসী স্বামী নাজমুল ইসলাম বাবু (৩৩), মাটি প্রোপার্টিজের মালিক, ম্যানেজার, কর্মচারীসহ অজ্ঞাত আরও কয়েক জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত নাজমুল ও পারভীনের বাড়িও নরসিংদী।
লাশ রেখে গোপনে কানাডা পাড়ি দেন পারভীন, রেখে যান প্রতিশোধের বার্তা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর সিআইডি ক্রাইমসিন আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পারভীন আক্তার গোপনে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর নোটারি পাবলিক করে আরিফুল ইসলামকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর সঙ্গে কানাডায় চলে যান। আরিফুল চলে যান জাপানে। সেখানে নাচুকি নামে এক জাপানি তরুণীকে বিয়ে করেন। এতে পারভীন আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারভীন ও তাঁর স্বামী পরিকল্পনা করে জাপান থেকে ঢাকায় এনে আরিফকে খুন করেছেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৩১ মে রাত সোয়া ৮টার দিকে আরিফুলের জাপানি স্ত্রী বাদীকে ফোন কল দিয়ে জানান, গত ১৭ মে আরিফ ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তাঁকে ফোনে পাচ্ছেন না। এরপর আরিফকে তাঁর পরিবার থেকেও ফোন করা হয়। কিন্তু নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

আরিফের বোন সাফরিজা আক্তার রেলি বলেন, পারভীন ও তাঁর স্বামী এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। পারভীন এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঠান্ডা মাথায় ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিফুল গোপনে দেশে আসেন। পরিবারের কেউ জানতেন না। এরপর পুরোনো বান্ধবী পারভিন আক্তারকে নিয়ে তিনি বসুন্ধরার স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ওঠেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেছে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের দৃশ্য ধরা পড়েছে। পারভীনের মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ অবস্থান ছিল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা। ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৮ মে পারভীন দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন।

আরিফুলের লাশের পাশ থেকে চিরকুট ছাড়াও একটি নোটারি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, আরিফ এবং পারভীন ২০২১ সালে নোটারি পাবলিক করে বিয়ে করেন। সেখানে পারভীন ও আরিফের স্বাক্ষর রয়েছে।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম আজকের পত্রিকাকে বলেন, অভিযুক্ত পারভীন ১৮ মে সকালে পালিয়ে কানাডা গেছেন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

প্রেমের টানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নারী

প্রেমের টানে ফেনীর সোনাগাজীতে এসে জামশেদ আলম রাজুকে (২৫) নামের এক যুবককে বিয়ে করেছেন সেন্ডোরা ব্রোক্স (৫৫) নামের যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা। আজ সোমবার তাদের বিয়ে হয়।

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রাজু ও সেন্ডোরা ব্রোক্সের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে উপলক্ষে শনিবার সেন্ডোরা ব্রোক্স বাংলাদেশে আসেন। আজ বিয়ের পর নব দম্পতিকে দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা।

জামশেদ আলম রাজু ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট রাজু। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। আর সেন্ডোরা ব্রোক্স যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা।

রাজু বলেন, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। এরপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা থেকে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে দু’জনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসে সেন্ডোরা ব্রোক্স। সে আমাকে ভালোবেসে এখানে এসেছে। সুখে-দুঃখে আমরা দুজন একসঙ্গে থাকতে চাই বলে অঙ্গীকার করেছি। এজন্য সকলের দোয়া চাই।’

ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কস্থ অভিজাত রেস্টুরেন্টে সোমবার দুপুরে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয় এ দম্পতির। ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। এর আগে সেন্ডোরা ব্রোক্স খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার নাম লামিয়া।

স্বজন ও বর যাত্রীরা বলেন, প্রেমের টানে কনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেনীতে এসেছে। এই বিয়েতে এসে খুব ভালো লাগছে। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক।

ফেনী জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, কনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়। দশ লাখ টাকা দেন মোহরে ও এক লাখ টাকা উসুলে মুসলিম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা। এদেশের একজন ছেলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চ শিক্ষিত নারীর বিয়ে হয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী ও সুন্দর হোক।