Saturday, April 4, 2026
Home Blog Page 123

বড় দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ

বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ নতুন সিকিউরিটি ফিচার নিয়ে কাজ করছে। নতুন ফিচারের ফলে আর কেউ প্রোফাইল পিকচারের স্ক্রিনশট নিতে পারবে না। যাকে প্রোফাইল ছবির গোপনীয়তা বলা হচ্ছে। যা অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারী উভয়ের জন্য কার্যকর।
অ্যান্ড্রয়েডে হোয়াটসঅ্যাপ বিটার সবশেষ আপডেট ভার্সন 2.24.4.25 এরই মধ্যে প্রোফাইল ছবির সিকিউরিটি ফিচার চালু করেছে। এই ফিচার কার্যকর করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা উন্নত হলো এবং অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার বা পাঠানো সম্ভব হবে না।

এদিকে প্রোফাইল ছবির এই গোপনীতার ফিচার এখনো আইফোন ব্যবহারকারী সবার জন্য কার্যকর হয়নি। তবে আইওএস (iOS) এর জন্য সবশেষ হোয়াটসঅ্যাপ বিটার ভার্সন 24.10.10.70 আভাস দেয় যে, প্রোফাইল ছবির এই গোপনীয়তা কাজ করছে। আর হোয়াটসঅ্যাপও শিগগিরই সব আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য ফিচারটি কার্যকর করতে কাজ করছে।

হোয়াটসঅ্যাপের লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া তাদের প্রোফাইল ছবি নেয়া এবং তা শেয়ার করা থেকে অন্য ব্যবহারকারীকে বিরত রাখা। যদিও ব্যবহারকারীরা অন্য প্রযুক্তি ও ডিভাইসের মাধ্যমে ছবি তোলা, অ্যাপে স্ক্রিনশট নিতে হবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন এই ফিচার পুরোদমে কার্যকর হলে ব্যবহারকারীদের অন্যের সম্মতি ছাড়া ছবি নেয়া বা স্ক্রিনশট নেয়া কঠিন হবে।

বৃষ্টির শিলা খেলে কী হয় জানেন তো?

এ বছর পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় চলেছে রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলা। বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিলে মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও এ বছর তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি দীর্ঘ হবে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। হয়েছেও তাই।

তবে শুধু এপ্রিল নয়, এ বছর মে মাসেও তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলে আগেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমনকি এ বছর বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে শিলাবৃষ্টিও।

শিলাবৃষ্টির কারণ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিভিয়ার স্টমর্স ল্যাবরেটরির ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, শিলাবৃষ্টি সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভূ-পৃষ্ঠের তীব্র তাপমাত্রা। তীব্র তাপের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের জলীয়বাষ্প ঊর্ধ্ব আকাশের দিকে উঠতে থাকে। এই জলীয় বাষ্প অনেক উঁচুতে গিয়ে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ছোট ছোট বরফে পরিণত হয়। আশেপাশের বৃষ্টির ফোঁটা ও অন্য বরফ টুকরো মিলে বরফখণ্ডগুলো বড় ও ভারি হতে থাকে। এভাবে এক সময় যখন বরফ বা শিলাখণ্ডেরওজন বেড়ে যায় তখন এটি বৃষ্টির সঙ্গে নিচের দিকে পড়তে শুরু করে। এভাবে ভূ-পৃষ্ঠে বৃষ্টির সঙ্গে শিলা বা বরফখণ্ড নেমে আসে।

এ বছর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার শিলাবৃষ্টি হতে দেখা গেছে। প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে বৃষ্টি সব সময়ই আনন্দের। আর তীব্র তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি তো পরম স্বস্তির। আর বৃষ্টির সঙ্গে শিলা তো আরও বাড়তি আনন্দের যোগ করে।

তবে গরম থেকে স্বস্তি দিলেও বৃষ্টির শিলাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। আবার অনেকেই আছেন, বৃষ্টির শিলা খেতে খুব পছন্দ করেন। এখন প্রশ্ন হলো, যে শিলা ফসলের ক্ষতি করে, সেই শিলা খেলে কি মানবদেহের কোনো ক্ষতি হয়?

গবেষকরা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া এসব শিলা খাওয়া মোটেই নিরাপদ না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বৃষ্টির সঙ্গে পড়া শিলাতে নানা ধরনের দূষিত উপাদান থাকে; যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

সম্প্রতি এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সালামের নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শিলাতে নাইট্রেটসহ বেশকিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই উপদানগুলো পানিতেও থাকে, তবে শিলাতে এসবের উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি।

এ বিষয় অধ্যাপক আব্দুস সালাম সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “যখন শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, তখন সেটাকে আইস নিউক্লিয়েশন বলা হয়। এই আইস নিউক্লিয়েশনে বাতাসের বিভিন্ন পলিউশন থাকে। এই পলিউশনের কিছু কিছু সাফসটেন্স আইস নিউক্লিয়া হিসেব কাজ করে। অর্থাৎ যে আইস গঠিত হয়, তার সিড হিসেবে কাজ করে। যখন পলিউশনটা সিড হিসেবে কাজ করে তখন আইসটা চারিদিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত ওয়াটার কনডেন্সড তৈরি করে। এই ওয়াটার কনডেন্সড শিলায় রুপান্তরিত হয়। শিলাটা যখন বাতাসে হালকা থাকে তখন ভেসে থাকে, যখন এটি ভারি হয় তখন ভুপৃষ্ঠে নেমে আসে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ যদি এটা খায় তাহলে এর মধ্যে থাকা পলিউশন শরীরে প্রবেশ করে। এজন্য শিলা খাওয়া উচিত না। যেকোনো পানীয় পানযোগ্য হওয়ার জন্য ৪০টি প্যারামিটার রয়েছে। শিলা এই ৪০টি প্যারামিটার ফুলফিল করে না। কারণ, এটার জন্মই হলো পলিউশন সিড থেকে।”

তাই, শিলাবৃষ্টি দেখে যতই স্মৃতিকাতর বা আনন্দিত হোন না কেন বা মনে যতই হিল্লোল বয়ে যাক না কেন; কোনোভাবেই শিলা খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শিশুরা যেন শিলা না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ সেই তনির বিরুদ্ধে, শোরুম সিলগালা

পাকিস্তানি বলে বেশি দামে দেশি পোশাক বিক্রি করার অভিযোগে রাজধানীর গুলশানে ‘সানভীস বাই তনি’র শোরুম সিলগালা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার (১৩ মে) গুলশান শুটিং ক্লাব এলাকায় পুলিশ প্লাজা মার্কেটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত মুখ রোবাইয়াত ফাতেমা তনি। রাজধানীতে কয়েকটি শোরুম আছে তার। অনলাইনেও বিক্রি করেন পোশাক এবং কসমেটিক্স। তবে এবার আলোচনায় আসলেন প্রতারণার অভিযোগে। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বলছে, তৈরি পোশাক বিক্রির লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে কসমেটিক্স বিক্রি করা হতো এই আউটলেটে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযোগের সফটওয়্যারে এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কিছু অভিযোগ আসার পর প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এবং এই দোকানে দেশি পোশাকগুলো বিদেশি বলে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল।

আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, তারা অনলাইনে পাকিস্তানি ড্রেস বিক্রি করে। কিন্তু ডেলিভারি দেওয়ার সময় দেশি ড্রেস দেয়। শত শত কাস্টমার এভাবে প্রতারিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ এলে তাদের শুনানির জন্য নোটিশ করা হয়েছে। তারা সেটি দেখেও জবাব দেয়নি। তারা যেহেতু কোনো জবাব দেয়নি, উপস্থিত হয়নি, আমাদের কাছে মনে হয়েছে এসব অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এখানে এসে সেটার প্রমাণ পেয়েছি। তারা পাকিস্তানি ড্রেসের পক্ষে কোনো কাগজপত্র, প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তাদের শুধু ট্রেড লাইসেন্স আছে, সেটা সাধারণ পোশাক বিক্রেতা হিসেবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের শোরুম বন্ধ করে দিয়েছি। এখন তারা কাগজপত্র নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে হাজির হয়ে প্রমাণ দেবে। এ ছাড়া কতগুলো কাস্টমারকে এসব ড্রেস সরবরাহ করা হয়েছে সেসব তথ্য দেবে।

স্পেনে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

সিদ্দিকুর রাহমান, স্পেন
স্পেনে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী এক যুবক নিহত হয়েছেন। মেহেদী হাসান (২৩) নামের এ যুবকের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে।

স্থানীয় সময় রোববার (১২ মে) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেহেদী। এর আগে শনিবার রাতে কাজ শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।

নিহতের চাচা মুক্তার হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো মেহেদী হাসান রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে জেব্রা ক্রসিংয়ে পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেহেদী।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ মাদ্রিদের প্লাজা কাস্তিয়ায় সরকারি পর্যবেক্ষণ চলছে। এখন মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রবাস এক দীর্ঘশ্বাসের নাম

প্রবাস এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। আমার কাছে প্রবাসের কোনো ক্লাসিফিকেশন নেই। এর মানে যারা নিজ দেশের বাইরে থাকেন তাদের অধিকাংশেরই অনুভূতি এক ও অভিন্ন। এখানে সবাইকে পরিশ্রম করে টিকে থাকতে হয়। সেটা হোক সৌদি-জাপান-সিংগাপুর-সুইজারল্যান্ড-আমেরিকা-ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়া।

কিছু মানুষ হয়তো তাদের অসম্ভব মেধা ও পরিশ্রমের কারণে সবাইকে ছাড়িয়ে ভিন্ন উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে যান। তাছাড়া সবার গল্প এক। প্রতিদিন রুটিন করে ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়া, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আবার ঘুমানোর প্রস্তুতি। সেই সাথে মাথায় থাকে অসংখ্য দুশ্চিন্তা। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় দেখি কত মানুষ রাস্তায় শুয়ে আছে। গায়ে জামা নেই, খাবার নেই। মাঝে মাঝে ভাবি, এদের কী কোনো অভিযোগ নেই? রাগ নেই?

ক্ষোভ নেই? রাস্তায় শুয়ে বসে থাকা মানুষগুলো মাইগ্রেটেড আর সাদা অস্ট্রেলিয়ান। দেখে খুব মায়া হয়। আজও একজনকে দেখলাম উদোম শরীরে ফুটপাতের মাঝে মাথায় একটা শার্ট জড়িয়ে শুয়ে আছে। জীর্ণশীর্ণ শরীর, শরীরে অসংখ্য দাগ। এতটা নাজুক মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় কমই দেখেছি।

আমাদের অবস্থা হয়তো এত নাজুক নয়। তবে অবস্থানটা কোথায় সেটাও অনুধাবন করা যায়। ঠিক দিনে এনে দিনে খাওয়ার মতো অবস্থা। এদেশে একা উপার্জন করে টিকে থাকাই দুরূহ। টিকে থাকার জন্য কতই না পরিশ্রম করেছি গত ছয়টা বছর! দেশে যে কাজ কখনও কল্পনাই করিনি সেই কাজও করতে হয়েছে সংসারের স্বার্থে।

এদেশে এটাই কাজের সংস্কৃতি। কাজে লজ্জা নেই। কাজ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেয়। তাই মানুষ কাজ করে। তাছাড়া এখানে কিছু কিছু চাকরি বাদে সবক্ষেত্রেই প্রায় সমান বেতন দেওয়া হয়। বেতন দেওয়া হয় ঘণ্টার ভিত্তিতে।

মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে মারা যাবে, তাও কাজ করবে না। আবার সেই মানুষগুলোই দেশের বাইরে গেলে সব কাজ করে। আমরা কাজের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারিনি। পারিনি বিধায় আমাদের একটা বড় জনশক্তি অব্যবহৃত। কিংবা একটা দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র একজন নাগরিকের সেবা থেকে বঞ্চিত থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুরা ১২ বছরের পর থেকেই কাজ শুরু করে। এতে দেখা যায় যে বয়সে আমি আপনি চাকরির পেছনে ঘুরছি সেই বয়সে তারা বাড়ির মালিক হয়।

বাংলাদেশের মানুষ উচ্চ শিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করেন। অথচ তারা যখন দেশে ফিরে যান সেই কাজের অভিজ্ঞতাগুলো কাউকে বলেন না। অর্থ জমিয়ে বাড়ি গাড়ি করে সেই আগের অবস্থাতেই ফিরে যান। এমন একটা ভাব নিয়ে চলাচল করেন যেনও পূর্বের জনমে সবাই রাজা বাদশা ছিলেন। আমাদের এই সংস্কৃতির পরিবর্তন আবশ্যক।

একটা দেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষের উপার্জন দিয়ে দেশের উন্নতি অনেক কঠিন। আমাদের বাবা-মায়েরা সন্তান চাকরি করার আগ পর্যন্ত সমস্ত দায়িত্ব বয়ে বেড়ান। একটা সরকারি চাকরির আশায় জীবন থেকে ৩০-৩৩ বছর চলে যায়। এই অভিশাপ থেকে জাতির মুক্তি দরকার।

আমরা উন্নত বিশ্বের কথা বলি, উন্নত বিশ্বের মতো হতে চাই। কিন্তু উন্নত বিশ্বের উন্নত হওয়ার ম্যাকানিজম ফলো করি না। যার কারণে একজনকেই সংসারের সকল দায়-দায়িত্ব বহন করতে করতে জীবন পার করতে হয়। জীবন পার হয় রাষ্ট্রের।

লন্ডনে ব্যাপক ধরপাকড়ে বাঙালী পাড়ায় আতঙ্ক, ফের ইমিগ্রেশন রেইড

কাগজপত্র বিহীন অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করতে লন্ডনে নিয়মিত চলছে ইমিগ্রেশন রেইড। প্রতিদিনই রাজধানীর কোথাও না কোথাও চলছে ধরপাকড়। মাত্র সপ্তাহের ব্যবধানে পূর্ব লন্ডনের শেডওয়েলে মেগা অভিযান চালিয়েছে ইউকে বর্ডার এজেন্সি।

৯ই মে বৃহস্পতিবার চ্যাপম্যান স্ট্রিটের বাংলাদেশি মালিকানাধীন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করে ইমিগ্রেশন পুলিশ হানা দেয়। বিভিন্ন দোকান তল্লাশি করে পাঁচ জনকে আটক করে, এদের সবাই ওভার স্টেয়ার বা অনিয়মিত অভিবাসী। আটককৃত পাঁচ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

অনিয়মিত অভিবাসীদের কাজে রাখার দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তবে এবারের অভিযানটি ছিল একেবারেই ভিন্ন, রেইডের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো নিয়মিত ইউনিফর্ম ছিল না, প্রথমে ক্রেতা বেশে দুই জন কর্মকর্তা আসেন পরে কিছুক্ষণের মধ্যেই ডজন খানেক সাদা পোশাকধারী ইমিগ্রেশন পুলিশ পুরো স্ট্রিট ব্লক করে দেয়, তারপর একে একে চলে অভিযান। এনিয়ে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য গত সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী এলাকা হোইটচ্যাপেলে ইমিগ্রেশন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে বেশ করেকজন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ।

পৃথিবীতে শক্তিশালী সৌরঝড়ের আঘাত, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পৃথিবীতে আঘাত হেনেছে একটি শক্তিশালী সৌরঝড়। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সৌরঝড় আঘাত হেনেছে পৃথিবীতে।

শুক্রবার (১০ মে) তাসমানিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের আকাশে আকর্ষণীয় মহাকাশীয় আলো বা অরোরা দেখা দিয়েছে। বিরল এই সৌরঝড় আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর কারণে বিভিন্ন উপগ্রহ ও বৈদ্যুতিক গ্রিডের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংবাদমাধ্যম এএফপির বারত দিয়ে এ তথ্য জানা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরঝড়ের কারণে স্যাটেলাইট ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংস্থা স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, সূর্য যখন প্রচুর পরিমাণ শক্তি উগরে দেয় বা নির্গত করে ঠিক সেই সময় এই রকম ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টারের মতে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার পর বেশ কয়েকটি করোনাল ম্যাস ইজেকশনের (সিএমই)-এর ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবরে তথাকথিত ‘হ্যালোইন স্টর্মস’-এর পর এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। ওই সময়ের সৌর ঝড়ে সুইডেনে ব্ল্যাকআউট এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সৌরঝড়ের কারণে বর্তমানে উত্তর ইউরোপ থেকে করে অস্ট্রেলেশিয়া পর্যন্ত অরোরা বা নর্দার্ন লাইট দেখা যাচ্ছে আকাশে। সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ব্রিটেনের হার্টফোর্ডের একজন থিঙ্ক ট্যাঙ্কার ইয়ান ম্যানসফিল্ড এএফপিকে বলেন, আমরা বাচ্চাদের পিছনের বাগানে নর্দার্ন লাইট দেখার জন্য শিশুদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ এটি খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল।

এদিকে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ব্যাঘাতের জন্য স্যাটেলাইট অপারেটর, এয়ারলাইনস এবং পাওয়ার গ্রিডগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এসি চালিয়েও ঠান্ডা বাতাস পাচ্ছেন না? ভুল কী জানুন

গরমে শীতল বাতাস পেতে এসির বিকল্প নেই। তাপদাহে এসির ব্যবহার বেড়েছে। একটানা দীর্ঘক্ষণ এসি চালানোর ফলে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ঠিকমতো ঠান্ডা বাতাস মিলছে না। এই সমস্যা রুখতে পারেন নিয়মিত মেইনটেনেন্স প্রয়োজন। এসি থেকে ঠান্ডা বাতাস পেতে কিছু টিপস জানুন।

কেন এসি চালিয়েও ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যায় না?
এসির কুলিং ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন নোংরা ময়লা জমে যাওয়া, সঠিক মোডে না চালানো ইত্যাদি। তবে আরও একটি সমস্যা রয়েছে গ্যাস লিক। অনেকেই জানেন না বিভিন্ন ভাবে এসির রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক হতে পারে। যার ফলে কুলিং তো ঠিক মতো পাওয়া যায়না। পাশাপাশি ঘর আরও গরম হয়ে যায়।

দুইটি কারণে এই সমস্যা হতে পাতে – এক গ্যাসের লেভেল কম থাকা, দুই গ্যাস লিক হওয়া। কিন্তু, প্রশ্ন হল কেন এসি থেকে এই গ্যাস লিক হয় আর তা রুখবেন কীভাবে?

কী কারণে এসির গ্যাস লিক হয়?

প্রথম কারণ হল এসি ক্ষয়ে যাওয়া। যে কনডেন্সার পাইপ থাকে তা সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। যার ফলে গ্যাস লিক হতে শুরু করে। এছাড়াও বাইরে থেকে এসি মেশিনে কোনও ক্ষতি হলে, যেমন ভারী কোনও যন্ত্রের সঙ্গে সংস্পর্শ বা ভেতর থেকে কোনও ক্ষতি হলেও গ্যাস লিক হতে শুরু করে।

আরও একটি কারণ হল ইনস্টলেশনে গাফিলতি। এসির মেশিন ইনস্টল করার সময় তাতে একাধিক গাফিলতি ধরা পড়ে। যার ফলেও গ্যাস লিক শুরু হতে পারে। এছাড়াও পিনহোল লিক হলেও গ্যাস লিক করতে পারে। কারণ যতই থাকুক না কেন প্রথম কাজ হল এই গ্যাস লিক বন্ধ করা।

এসি থেকে গ্যাস লিক হওয়া আটকাবেন কীভাবে?

আপনার কিছু করার আগেই বিষয়গুলো বুঝে যায় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। সেজন্য তারা আগেভাগে নানা যান্ত্রিক ইকুইপমেন্ট ইনস্টল করে রাখে যা গ্যাস লিক বন্ধ করতে সাহায্য করে। তবে কিছু দিন ব্যবহার করার পর সেই সমস্যা দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হল –

১. কপার কনডেন্সার ব্যবহার করা। কারণ এগুলো অক্সিডেশন প্রতিরোধ করে এবং ক্ষয়ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচায়।

২. এসির আউটডোর ইউনিট ছাওয়ার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন বা শেড রয়েছে এমন জায়গায় রাখুন। যাতে সরাসরি সূর্যের আলো না পড়ে এবং বাইরে থেকে কোনও যন্ত্র এসিতে ধাক্কা না লাগে।

৩. এসি যখন ব্যবহার করছেন না যেমন শীতকালে তখন আউটডোর মেশিন কভার করে রাখুন।

৪. সবশেষে এসি নিয়মিত মেইনটেনেন্স করতে হবে, যাতে এসি পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে।

সিলেটের ১১ উপজেলায় নির্বাচিত হলেন যারা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সিলেট বিভাগের ১১ উপজেলায় গতকাল বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সদরসহ বেশিরভাগ উপজেলায় নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন। সিলেট জেলায় চারটি, সুনামগঞ্জে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি এবং হবিগঞ্জে দুটি উপজেলায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সুজাত আলী রফিক বিজয়ী হয়েছেন। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন তিনি। উপজেলার সর্বমোট ৬২টি ভোট কেন্দ্রে বিজয়ী সুজাত আলী রফিকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৩ হাজার ২৬৭ । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো. সামসুল ইসলাম টুনু পান ১৩ হাজার ৮শ ৬৩ ভোট। তিনি

পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৩০। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. খলিলুর রহমান (টেলিফোন) পেয়েছেন ১২ হাজার ৫শ ৯১ ভোট, শ্রমিক লীগ সিলেট জেলা, সভাপতি মো. এজাজুল হক (মোটরসাইকেল) পান ৬ হাজার ৭শ ৯৬ ভোট, মো. আহাদ মিয়া (দোয়াত-কলম) প্রতীক নিয়ে পান ৫ হাজার ৪শ ১ ভোট ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মিল্লাত আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে ৪ হাজার ৮শ ৬৪ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন ৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে মো: সাইফুল ইসলাম । তার প্রাপ্ত ভোট ১৮ হাজার ৬শ ৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: ওলিউর রহমান টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে পান পেয়েছেন ১১ হাজার ৮শ ৫৮ ভোট । অপর প্রার্থী চশমা প্রতীক নিয়ে মো: জাকির হোসেন ১১ হাজার ৩শ ৭৯, মো: সেলিম আহমদ মাইক প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ২শ ৩১, বিলাশ ব্যানার্জি বৈদ্যুতিক বাল্ব নিয়ে ৪ হাজার ৯শ ৩৮ ভোট, নিজাম আহমদ টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ২৭ ভোট, নুরুল ইসলাম তালা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬শ ৯৮ ভোট, রথীন্দ্র লাল দাস বই প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৪শ ৮ ভোট পান।

ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত পদে হাছিনা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৫ হাজার ৭৯২। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এডভোকেট দিলরুবা বেগম কাকলী পান ৩০ হাজার ৫শ ৮১ ভোট। উল্লেখ্য সিলেট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দুই পদে নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল ইসলাম (টেলিফোন) ২০হাজার ৬১৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আহমদ ( মোটরসাইকেল)১৪হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়েছেন ।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (মাইক) ১৯ হাজার ৮৩০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়েজ আহমদ(তালা) ১৮ হাজার ২৯০টি ভোট পেয়েছেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আইরিন রহমান কলি (পদ্মফুল) ২০ হাজার ২৯৮টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাহিমা বেগম (ফুটবল) ১৮ হাজার ৮২০টি ভোট পান ।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি ঘরানার প্রবাসী মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মাত্র ৫৮৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ এক চমকপদ জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৩৪ টি ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ ঘরানার গিয়াস উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৫০টি ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ঘরানার মুহিবুর রহমান সুইট ও ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে আওয়ামী লীগের করিমা বেগম বিজয়ী হয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম পুনরায় বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৮ হাজার ৭৭২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু সুফিয়ান উজ্জ্বল পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৭ ভোট। চেয়ারম্যান পদে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ পেয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৭ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ২১ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন চশমা প্রতীকের প্রার্থী মো. নাবেদ হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো.লবিবুর রহমান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫২০ ভোট।

নির্বাচনে টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ আজম পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭৮৮ ভোট, তালা প্রতীক নিয়ে ফরহাদ আহমদ পান ১৫ হাজার ৪১৩ ভোট। এছাড়াও বই প্রতীকের প্রার্থী আকমল হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৩৯ ভোট। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে সেলিনা আক্তার শীলা ৪৬ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নার্গিছ আক্তার পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৫৭ ভোট।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এই দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ।

প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে দিরাই উপজেলা পরিষদে প্রথম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন প্রদীপ রায়। উপজেলার ৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে প্রদীপ রায় দোয়াতকলম প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় ঘোড়া প্রতীকে পান ১৯ হাজার ৯৩৬ ভোট এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাপ মিয়া আনারস প্রতীকে পান ১৫ হাজার ৪৯৭ ভোট। এছাড়াও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রথম বার এবিএম মুনসুর সুদীপ এবং ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে তৃতীয় বারের ন্যায় ছবি বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন রাজনীতিবিদ অবনী মোহন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৯ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৪৩২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপি নেতা (বহিষ্কৃত)গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭৭ ভোট। এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে অরিন্দম চৌধুরী অপু ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে শর্বরী মজুমদার বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মণি বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েল আহমদ (জুয়েল রানা) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিল্পী বেগম বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বেসরকারীভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছেন। চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মণি ১৯৯১৮টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম.এ মোঈদ ফারুক ১৫ হাজার ১৮৮টি ভোট পান।ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েল আহমদ (জুয়েল রানা) ২১ হাজার ৩২৮টি ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস শহীদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৭৯টি ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে শিল্পী বেগম ২৯ হাজার ৫৬০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রঞ্জিতা শর্মা ১৯ হাজার ৭৭৯টি ভোট পান।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩৬৯ ভোট। এছাড়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর আনারস প্রতিকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৫ ভোট। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফজলুল হক খান সাহেদ ৩৫ হাজার ২৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ স ম কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৫২।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৩ টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বেসরকারিভাবে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন মিয়া (কাপ-পিরিচ) প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১৫ হাজার ১৮২ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার (কৈ মাছ) প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৫০৩ ভোট। ২ হাজার ৬৭৯ ভোটে বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মো.আলাউদ্দিন মিয়া বিজয়ী হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিলোয়ার হোসেন (তালা) প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৫০০ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কালীপদ পাল (টিউবওয়েল) ৯ হাজার ২৭৬ টি। ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে বিজয়ী মাহমুদা আক্তার রেপা (ফুটবল) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৩৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোকসানা আক্তার (হাঁস) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

এছাড়া বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৮০৩ ভোট।

‘পুনর্জন্ম’ নাটকের প্রযোজক রূহানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর পূর্ব রায়েরবাজার এলাকার একটি মেস থেকে ‘পুনর্জন্ম’ নাটকের নির্বাহী প্রযোজক মাসুদুল মাহমুদ রুহানের (২৭) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এই প্রযোজকের। যে কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে গত ৪ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন রুহান। যেখানেও ছিল বিরহের কথা। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, আমার চেনা পৃথিবীর বুকে যেমন তুমি নাই, তোমার বুকেও আমি নাই! তাহলে কেন সেদিন বলেছিলে? আমার সাথেই এই জন্ম কাটিয়ে দেবে? ভুল বুঝিও না। আমি দোষ দিচ্ছি না। জাস্ট বললাম আর কি!

এর আগে একটি পোস্টে সূরা আর রহমানের একটি আয়াত শেয়ার করেন রূহান। সেই আয়াতটি হল-‘তবে তোমরা তোমাদের রবের কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে।’

এরপর তিনি লেখেন, আমরা কতো অদ্ভুত ভাবে সমগ্র বিশ্বের সকলে মিলে একই সুতায় গাথা। যে সূতা দেখাও যায় না!! কি বিচ্ছিরি রাতের শেষে এতো সুন্দর সকাল লুকিয়ে থাকতে পারে আমরা ভেবেও দেখি না…। জীবন কি অদ্ভুত! কতো সুন্দর!

রুহানের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতে দেখা দেখা গেছে পরিচিতজনদের। যারা সকলেই বলছেন, ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন এই প্রযোজক। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের শোক কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।

রুহানের লাশ উদ্ধারের পর হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাওন কুমার বিশ্বাস জানান, এক মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় রুহানের। গত দুই মাস ধরে পূর্ব রায়েরবাজারের ওই মেসে থাকতে শুরু করেন তিনি। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শুটিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার আসা যাওয়া বেশি ছিল। যখন ঢাকায় ফিরতেন তখন ওই মেসে গিয়ে থাকতেন। তার রুমমেট বুধবার রাত ১১টার দিকে মেসে ফিরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন, ফ্যানের সাথে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন রুহান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মধ্যরাতে সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ এবং পারিবারিক বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তবুও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মাসুদুল মাহমুদ রুহান ‘রেডরাম’ চলচ্চিত্র, ‘দ্যা সাইলেন্স’ ওয়েব সিরিজ, ‘আমি কি তুমি’সহ আরও বহু নাটক ও ওয়েব সিরিজের প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন। নির্মাতা ভিকি জাহেদের সঙ্গে অধিকাংশ প্রজেক্টে কাজ করেছেন।