Connect with us

সিলেট

সিলেটের ১১ উপজেলায় নির্বাচিত হলেন যারা

সিলেটের ১১ উপজেলায় নির্বাচিত হলেন যারা

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সিলেট বিভাগের ১১ উপজেলায় গতকাল বুধবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সদরসহ বেশিরভাগ উপজেলায় নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন। সিলেট জেলায় চারটি, সুনামগঞ্জে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি এবং হবিগঞ্জে দুটি উপজেলায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সুজাত আলী রফিক বিজয়ী হয়েছেন। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছেন তিনি। উপজেলার সর্বমোট ৬২টি ভোট কেন্দ্রে বিজয়ী সুজাত আলী রফিকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৩ হাজার ২৬৭ । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো. সামসুল ইসলাম টুনু পান ১৩ হাজার ৮শ ৬৩ ভোট। তিনি

পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৩০। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. খলিলুর রহমান (টেলিফোন) পেয়েছেন ১২ হাজার ৫শ ৯১ ভোট, শ্রমিক লীগ সিলেট জেলা, সভাপতি মো. এজাজুল হক (মোটরসাইকেল) পান ৬ হাজার ৭শ ৯৬ ভোট, মো. আহাদ মিয়া (দোয়াত-কলম) প্রতীক নিয়ে পান ৫ হাজার ৪শ ১ ভোট ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মিল্লাত আহমদ চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে ৪ হাজার ৮শ ৬৪ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন ৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে মো: সাইফুল ইসলাম । তার প্রাপ্ত ভোট ১৮ হাজার ৬শ ৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো: ওলিউর রহমান টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে পান পেয়েছেন ১১ হাজার ৮শ ৫৮ ভোট । অপর প্রার্থী চশমা প্রতীক নিয়ে মো: জাকির হোসেন ১১ হাজার ৩শ ৭৯, মো: সেলিম আহমদ মাইক প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ২শ ৩১, বিলাশ ব্যানার্জি বৈদ্যুতিক বাল্ব নিয়ে ৪ হাজার ৯শ ৩৮ ভোট, নিজাম আহমদ টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ২৭ ভোট, নুরুল ইসলাম তালা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬শ ৯৮ ভোট, রথীন্দ্র লাল দাস বই প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৪শ ৮ ভোট পান।

ভাইস চেয়ারম্যান সংরক্ষিত পদে হাছিনা আক্তার বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৩৫ হাজার ৭৯২। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এডভোকেট দিলরুবা বেগম কাকলী পান ৩০ হাজার ৫শ ৮১ ভোট। উল্লেখ্য সিলেট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের দুই পদে নতুন মুখ বিজয়ী হয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল ইসলাম (টেলিফোন) ২০হাজার ৬১৫টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আহমদ ( মোটরসাইকেল)১৪হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়েছেন ।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (মাইক) ১৯ হাজার ৮৩০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়েজ আহমদ(তালা) ১৮ হাজার ২৯০টি ভোট পেয়েছেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আইরিন রহমান কলি (পদ্মফুল) ২০ হাজার ২৯৮টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাহিমা বেগম (ফুটবল) ১৮ হাজার ৮২০টি ভোট পান ।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি ঘরানার প্রবাসী মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মাত্র ৫৮৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ এক চমকপদ জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৩৪ টি ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ ঘরানার গিয়াস উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৫০টি ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ঘরানার মুহিবুর রহমান সুইট ও ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে আওয়ামী লীগের করিমা বেগম বিজয়ী হয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম পুনরায় বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৮ হাজার ৭৭২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু সুফিয়ান উজ্জ্বল পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৭ ভোট। চেয়ারম্যান পদে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ পেয়েছেন ১৫ হাজার ১৯৭ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ২১ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন চশমা প্রতীকের প্রার্থী মো. নাবেদ হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো.লবিবুর রহমান টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫২০ ভোট।

নির্বাচনে টিয়া পাখি প্রতীক নিয়ে আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ আজম পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭৮৮ ভোট, তালা প্রতীক নিয়ে ফরহাদ আহমদ পান ১৫ হাজার ৪১৩ ভোট। এছাড়াও বই প্রতীকের প্রার্থী আকমল হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৩৯ ভোট। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে সেলিনা আক্তার শীলা ৪৬ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নার্গিছ আক্তার পেয়েছেন ৩১ হাজার ৯৫৭ ভোট।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এই দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ।

প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে দিরাই উপজেলা পরিষদে প্রথম বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন প্রদীপ রায়। উপজেলার ৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে প্রদীপ রায় দোয়াতকলম প্রতীকে ৩০ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় ঘোড়া প্রতীকে পান ১৯ হাজার ৯৩৬ ভোট এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাপ মিয়া আনারস প্রতীকে পান ১৫ হাজার ৪৯৭ ভোট। এছাড়াও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রথম বার এবিএম মুনসুর সুদীপ এবং ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে তৃতীয় বারের ন্যায় ছবি বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন রাজনীতিবিদ অবনী মোহন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৯ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৪৩২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা বিএনপি নেতা (বহিষ্কৃত)গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৭৭ ভোট। এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে অরিন্দম চৌধুরী অপু ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে শর্বরী মজুমদার বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মণি বিজয়ী হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েল আহমদ (জুয়েল রানা) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিল্পী বেগম বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বেসরকারীভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছেন। চেয়ারম্যান পদে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কিশোর রায় চৌধুরী মণি ১৯৯১৮টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এম.এ মোঈদ ফারুক ১৫ হাজার ১৮৮টি ভোট পান।ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুয়েল আহমদ (জুয়েল রানা) ২১ হাজার ৩২৮টি ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস শহীদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৭৯টি ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে শিল্পী বেগম ২৯ হাজার ৫৬০টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রঞ্জিতা শর্মা ১৯ হাজার ৭৭৯টি ভোট পান।

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩৬৯ ভোট। এছাড়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর আনারস প্রতিকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৫ ভোট। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফজলুল হক খান সাহেদ ৩৫ হাজার ২৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ স ম কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৫২।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৩ টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বেসরকারিভাবে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন মিয়া (কাপ-পিরিচ) প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১৫ হাজার ১৮২ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার (কৈ মাছ) প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৫০৩ ভোট। ২ হাজার ৬৭৯ ভোটে বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে মো.আলাউদ্দিন মিয়া বিজয়ী হন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিলোয়ার হোসেন (তালা) প্রতীক নিয়ে বিজয় লাভ করেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৫০০ টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কালীপদ পাল (টিউবওয়েল) ৯ হাজার ২৭৬ টি। ভাইস চেয়ারম্যান (সংরক্ষিত) পদে বিজয়ী মাহমুদা আক্তার রেপা (ফুটবল) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৩৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোকসানা আক্তার (হাঁস) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

এছাড়া বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আনারস প্রতীকে ৪২ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৮০৩ ভোট।

Continue Reading

আলোচিত

সিলেটে নিজের বিলবোর্ড দেখাতে গাছ কাটলেন বিএনপি নেতা!

সিলেটে নিজের বিলবোর্ড দেখাতে গাছ কাটলেন বিএনপি নেতা!

সিলেট নগরীতে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিলবোর্ডে পথচারীদের দৃষ্টিগোচর করতে একটি গাছের মাথাসহ সব ডালপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে নগরীর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা-মদিনামার্কেট এলাকার সড়ক বিভাজকের কয়েকটা গাছের প্রধান শাখাসহ সব ডাল কাটতে বিদ্যুতের পিলারে ওঠে এক ব্যক্তি। নিচে ছিল তাদের সঙ্গী আরও কয়েক ব্যক্তি। এ সময় সড়ক বিভাজকের তিনটি গাছের সব ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়।

দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাছের সব ডালপালা কাটার কারণ জানতে চাইলে গাছকর্তনকারীরা জানান, বিলবোর্ডে তাদের নেতার ঈদ শুভেচ্ছা ঢাকা পড়ছিল, তাই গাছের ডাল কাটা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। এরপর তারা আরও সাতটি গাছের ডালপালা যত্রতত্রভাবে ছেঁটে ফেলে।

কেবল মদিনামার্কেট এলাকায় নয়, সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক বিভাজকের গাছ এবং ডালপালা কাটা চলছে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুন দেখানোর জন্য। গাছ কাটার এ কাজটি শ্রমিক দিয়ে করা হচ্ছে। যার ফলে সড়ক বিভাজকে থাকা ওই সব গাছের বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া বিনষ্ট হচ্ছে।

সরেজমিনে মদিনামার্কেট এলাকায় দেখা গেছে, বিলবোর্ডে মো. আমির হোসেনের বড় করে ছবি দেওয়া আছে। তার উপড়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ছবি। পাশেই বড় করে দেওয়া আছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। তার ওপরে ছোট করে দেওয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি। বিলবোর্ডের ব্যনারে লেখা আছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৯নং ওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

শুভেচ্ছান্তে লেখা আছে মো. আমির হোসেন, সহ-সভাপতি মহানগর বিএনপির ও সভাপতি সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি। এসব লেখা সংবলিত বিলবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাথাহীন গাছটি।

এদিকে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো নিয়ে মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক এটিএম বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।

তিনি লিখেন, ‘ফেস্টুন-ব্যানার লাগানোর ব্যাপারে দলের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা কি তুলে নেওয়া হয়েছে? শহরজুড়ে শুধু ফেস্টুন আর ব্যানার! গত ১৬ বছর এমন ব্যানার-ফেস্টুন দেখে মনের ভেতর তীব্র ঘৃণা কাজ করত। সেই একই কাজ আপনারা করছেন। দলের দায়িত্বশীলদের কাছে আমার আবেদন আপনারা চাপ দিন, যেন আগামীকালের মধ্যে সিলেট শহর সব ব্যানার-ফেস্টুন মুক্ত হয়। অনথ্যায় দলীয় নির্দেশ অমান্য করে যারা ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা যেন নেওয়া হয়।’

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ‘বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি সিসিক থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেই না। কারও যদি গাছ কাটতে হয় তবে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য গাছ কাটার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দেন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেন গাছ কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঈদের শুভেচ্ছার বিলবোর্ড লাগিয়েছি। কিন্তু এখানে কোনো গাছ কাটা হয়নি। এই সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাস চলাচল করে । এই বাসগুলোতে ডালপালায় আটকে যায়। তাই হয়তো কেউ ডালপালা কেটে দিয়েছে। আমার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হয়নি।’-খবরের কাগজ

Continue Reading

আলোচিত

সিলেটে প্রবাস ফেরত ছেলের হাতে বাবা খুন

সিলেটে প্রবাস ফেরত ছেলের হাতে বাবা খুন

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ছেলের দায়ের কোপে দুলু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুলু মিয়া ওই গ্রামের মৃত কুটু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুলু মিয়ার ছেলে প্রবাস (ফ্রান্স) ফেরত সুলতান আহমদ সাত মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। বাড়িতে ফেরার পর থেকে তার পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা লেগেই ছিল। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ছেলে সুলতান আহমদ।

তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় ও ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, বাবার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে ঘটনার সময় তর্কাতর্কি হয়। এরপরই তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত দুলুর মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তিনি বলেন, পরিবার সূত্রে জেনেছি প্রবাস ফেরত সুলতানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। যে কারণে তিনি এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

Continue Reading

আলোচিত

সিলেটে তারাবির সময় টুপি পরে স্বর্ণ-পাউন্ড চুরি

সিলেটে তারাবির সময় টুপি পরে স্বর্ণ-পাউন্ড চুরি
সিলেটে তারাবির সময় টুপি পরে স্বর্ণ-পাউন্ড চুরি

সিলেট মহানগরীর একটি বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টা (তারাবির নামাজের সময়) দিকে উপশহর মেইন রোড সংলগ্ন শেখ জাকের মুক্তাদিরের বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঐ বাসায় পুরুষ মানুষ সবাই তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। তখনই মহিলারা বাসায় তালা দিয়ে ঈদ শপিং করতে বের হন। এই সুযোগে মাথায় টুপি পড়ে মুসল্লি বেশে বাসায় প্রবেশ করে চুর। যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এসময় স্বর্ণ, পাউন্ড, টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়।

ঐ বাসার মালিক শেখ জাকের মুক্তাদির বলেন, আমার বাসায় কেউ ছিলেন না তখন। ফাঁকা বাসায় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। নগদ পাউন্ড ও নগদ অর্থ বাসায় ছিলো। এগুলোসহ মোবাইল, স্বর্ণ চুরি হয়। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

এ ব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মনির হোসেন সিলেটভিউকে বলেন, আমরা এই চুরির ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ইতোমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে চুরি হওয়া বাসা পরিদর্শন করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

Continue Reading

আলোচিত

সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে, সেনার গোয়েন্দাজালে রেলের কর্মচারী

সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে, সেনার গোয়েন্দাজালে রেলের কর্মচারী

ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রামগামী আন্ত নগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের সক্রিয় সদস্যকে মাজহারুল হককে (২৮) আটক করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার (২৬ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করে সেনাবাহিনী। আটক মাজহারুল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের বুকিং সহকারী।

আটক বুকিং সহকারী মাজহারুল হক কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ধলেশ্বর গ্রামের মো. ইমদাদুল হকের ছেলে।

জানা যায়, এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ে শতভাগ টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফরম সহজ ডট কমের মাধ্যমে বিক্রি করছে। ঈদ উপলক্ষে অধিকসংখ্যক মানুষ ঘরে ফেরার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সাথে জড়িয়ে পড়েছে। মাধবপুর উপজেলার সেনাবাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে চক্রটির সন্ধান পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে বুকিং সহকারীকে আটক করা হয়েছে। পরে বুকিং সহকারী মাজহারুল হককে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কান্ত নাথ জানান, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী মাজহারুল হক গোপনে প্ল্যাটফরমে ছদ্মবেশে এক যাত্রীর কাছে চোরাইভাবে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। তাকে রেলওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Continue Reading

আলোচিত

সিলেটে পুলিশের জালে ৩ ছিনতাইকারী

বন্দরবাজারে পুলিশের জালে ৩ ছিনতাইকারী
বন্দরবাজারে পুলিশের জালে ৩ ছিনতাইকারী

সিলেটে ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, শাহপরাণ থানার টিকরীপাড়া (উত্তর পাড়া) গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছেলে মো. আইন উদ্দিন (২৬), হাতুড়া (৯ নং ওয়ার্ড) (বাউয়ার পাড়) গ্রামের বোরহান উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২২) এবং দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার সিলামের শমসু মিয়ার ছেলে জামিল আহমদ (২২)।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে বন্দরবাজার এলাকাস্থ সিটি সুপার মার্কেটের সামনে হতে সন্দেহজনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় তাদের আটক করা হয়।

পরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক চুরি ও ছিনতাই মামলা পাওয়া যায়।

তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Continue Reading

আলোচিত

পারফিউম ব্যবসার আড়ালে দেশের সবচেয়ে বড় হুন্ডির ব্যবসা

পারফিউম ব্যবসার আড়ালে দেশের সবচেয়ে বড় হুন্ডির ব্যবসা

দেশে পারফিউম ব্যবসার আড়ালে সবচেয়ে বড় হুন্ডি তৎপরতার প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) অনুসন্ধান চালিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য পেয়েছে। হুন্ডি কারবারে অভিযুক্ত কোম্পানিটির নাম আল হারামাইন পারফিউমস। কোম্পানির মালিক সিলেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এ ব্যবসায়ী এখন গোল্ডেন ভিসার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাস করছেন। খবর- বণিক বার্তাসিলেটি পোশাক

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের তথ্য অনুযায়ী, মাহতাবুর রহমান নাসিরের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিশ্বের ৮৬টি দেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম রয়েছে। অন্যান্য দেশে তার দৃশ্যমান ব্যবসা মূলত আমদানি-রফতানির। যদিও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, মাহতাবুর রহমান নাসিরের পুরো ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কই হুন্ডি তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পারফিউম বা আমদানি-রফতানি ব্যবসার আড়ালে তার প্রধান ব্যবসা মূলত এক দেশের অর্থ অন্য দেশে পাচার করা।

এ ব্যবসায়ীর সম্পদ ও অর্থ পাচারের তথ্য অনুসন্ধানে সম্প্রতি সিআইসির একটি দল ইউএই যায়। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে থাকা মাহতাবুর রহমানের সম্পদ ও অর্থ পাচারের তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। পাশাপাশি অন্য যেসব দেশে তার সম্পদ রয়েছে, সেগুলোর তথ্য চেয়েও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেশে থাকা মাহতাবুর রহমানের সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান চালিয়েছে সিআইসি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিলেটে মাহতাবুর রহমানের বাড়িতে দুই দফায় তল্লাশি চালানো হয়। ওই বাড়ি থেকে ১০৪টি সম্পত্তির দলিলসহ অন্যান্য নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে সিআইসি সূত্রে জানা গেছে।সিলেট জেলা ভ্রমণ প্যাকেজ

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিআইসির পক্ষ থেকে মাহতাবুর রহমান নাসির ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়। এ তালিকায় মাহতাবুর রহমানের ভাই মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, ছেলে মোহাম্মদ এমাদুর রহমান, ভাতিজা মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও মোহাম্মদ এহসানুর রহমান এবং আল হারামাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সাব্বির আহমেদের নাম রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ছাড়াও তাদের আয়কর নথি পর্যালোচনা করা এবং ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুমগুলো মূলত হুন্ডির টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। ঢাকার বসুন্ধরা সিটির শোরুমে কেউ টাকা জমা দিলে দুবাইয়ের সিটি সেন্টারে সে টাকা দিরহাম আকারে পরিশোধ করা হয়। ছোট কোনো অংকের অর্থ এসব শোরুমে লেনদেন হয় না। বরং বড় ব্যবসায়ী বা টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকার অর্থ গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে শোরুমগুলোয় কেবল বিশেষ একটি খাতায় হিসাব রাখা হয়। হুন্ডি কারবারের পাশাপাশি মাহতাবুর রহমানের স্বর্ণ চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও রয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। আমরা ঢাকায় ও দুবাইয়ে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুমের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দেখেছি, ৩-৪ ঘণ্টায়ও সেখানে পারফিউম কিনতে কোনো গ্রাহক আসেনি।’

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ছাড়াও মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিরুদ্ধে বিস্তৃত হুন্ডি নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রভাবশালীদের অর্থ পাচারে সহায়তাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুশাসনের ঘাটতি ও অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ এনআরবি ব্যাংক পিএলসির পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়। ২০১৬ সাল থেকে টানা নয় বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন মাহতাবুর রহমান নাসির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, ‘মাহতাবুর রহমান নাসিরকে নিয়ে আমাদের তদন্ত কার্যক্রমের ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। যেসব নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আর যেসব তথ্য আমরা পেয়েছি, সেগুলোরও সত্যতা নিরূপণের কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে তবেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।’

আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, কোম্পানিটির পারফিউমের মূল্য অনেক বেশি। বাংলাদেশের শোরুমগুলোয় সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে। দেশে কোম্পানিটির শোরুম রয়েছে ১৫টির বেশি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত সম্ভার, গুলশানের পিংক সিটি ও সেন্টার পয়েন্ট এবং বায়তুল মোকাররম মার্কেটে কোম্পানিটির শোরুম রয়েছে। চট্টগ্রামে চারটিসহ আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর শহরেও।সিলেট জেলা ভ্রমণ প্যাকেজ

প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো কোম্পানিটির সবক’টি শোরুমই লোকসানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে আল হারামাইন গ্রুপ বাংলাদেশের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার (সিএফও) দায়িত্বে আছেন পরিমল চন্দ্র ধর।

তিনি বলেন, ‘এতগুলো শোরুম থাকলেও বাংলাদেশে আমরা কখনো মুনাফা করতে পারিনি। এখানে পারফিউমের ওপর ১৫০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এত ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে মুনাফা করা সম্ভব নয়। আগে যা ব্যবসা ছিল, গত কয়েক মাসে সেটিও শেষ হয়ে গেছে। আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমে গেছে।’

শোরুমের আড়ালে আল হারামাইন গ্রুপের হুন্ডি তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিমল চন্দ্র ধর বলেন, ‘এনবিআর তার দাবি প্রমাণ করে দেখাক।’

দেড় দশক ধরে মাহতাবুর রহমান নাসির দেশ-বিদেশে একজন আলোচিত চরিত্র। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে সিলেটে ‘কাজী প্যালেস’ নামে রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। বিলাসবহুল ওই বাড়িতে ভিড় জমাতেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি আমলা ও অলিগার্করা। আর প্রভাবশালী এসব ব্যক্তিরা দুবাই ভ্রমণে গেলে থাকতেন মাহতাবুর রহমানের অতিথি হয়ে। তাদের থাকা, খাওয়া, ঘোরাঘুরিসহ চিত্তবিনোদনের আয়োজন করতেন তিনি।

সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় নির্মাণ করা বাড়িটি নিয়েও নতুন করে তদন্ত করছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে দুই দফায় বাড়িটি পরিদর্শন করেছে সংস্থাটি। দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীসহ একজন স্থপতিকেও সঙ্গে নেয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বাড়িটির নির্মাণ ব্যয় নিরূপণ করা।

বাড়িটিতে ব্যবহৃত বিলাসবহুল উপকরণ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা। পরিদর্শক দলের একজন সদস্য বলেন, ‘বাড়িটিতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যেসব আসবাবপত্র বাড়িতে আছে, সেগুলো আমরা কখনো দেখিনি। এ কারণে সঠিক মূল্য নির্ধারণ করাও সম্ভব নয়। এসব উপকরণ আমদানির সময় যথাযথ কর পরিশোধ করা হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’

মাহতাবুর রহমান নাসির জানিয়েছেন, আট একর জায়গাজুড়ে নির্মিত তিনতলা বাড়িটির বিল্ডিং জোন প্রায় ৮০ হাজার বর্গফুট। ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে ২৯টি বিলাসবহুল মাস্টার বেড। বাড়িতে এক সঙ্গে পাঁচ হাজার মানুষের জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়। এর নিচতলায় রয়েছে নয়টি ডাইনিং। আসবাবের পাশাপাশি প্রায় সব নির্মাণ উপকরণও বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। জার্মানি, দুবাই, ফ্রান্স ও লেবাননের প্রকৌশলীরা বাড়ি নির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন।

এনবিআর কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ হলো বাড়িটি নির্মাণে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা আইন মেনে আমদানি করা হয়নি। যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, সেটিও মাহতাবুর রহমানের আয়কর নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

মাহতাবুর রহমানের অপরাধ তদন্তের দায়িত্বে থাকা অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ী বাড়ি-গাড়ি, হোটেল, মার্কেটসহ বিভিন্ন সম্পদ কিনেছেন, তার প্রায় সবারই পথপ্রদর্শক ছিলেন মাহতাবুর রহমান। দেশ থেকে টাকা পাচারে সহায়তা করা, সে দেশে সম্পদ কিনতে সহযোগিতা করা, আমিরাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করে দেয়া থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপেই এ ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব কাজের বিনিময়ে তিনি কমিশন পান, সেটিই তার আয়ের প্রধান উৎস। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই আমরা তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিলাম। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে সেসব তদন্ত শেষ করা যায়নি।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির।

তিনি বলেন, ‘আমার আয়ের প্রধান উৎস আল হারামাইন পারফিউমস। বাংলাদেশে লোকসানে থাকলেও বিশ্বব্যাপী এটি খুবই জনপ্রিয়। আমি কখনো হুন্ডির ব্যবসা করিনি। অবৈধ কোনো ব্যবসা আমার নেই। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া আর কোথাও আমার কোনো ব্যবসা নেই।’

যদিও আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইটে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও প্রতিষ্ঠানটির শোরুম আছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এনবিআরের অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ছোট এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে বাংলাদেশীদের রেমিট্যান্সের অর্থ কিনে নেয় মাহতাবুর রহমানের প্রতিষ্ঠান। সেসব অর্থ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে বাংলাদেশী অর্থ পাচারকারীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই বিশ্বের ৮৬টি দেশে তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়েছে।

পতিত সরকারের প্রভাবশালীদের আতিথেয়তা দিয়েই এখন বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করছেন মাহতাবুর রহমান নাসির। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে এমপি-মন্ত্রীরা দুবাই যাওয়ার আগে আমাকে খবর দিতেন। তারা কেউ দুবাই গেলেই বিমানবন্দরে গাড়ি পাঠাতে হতো। দূতাবাস থেকেও আমাকে বলা হতো, অমুক মন্ত্রী এসেছেন, কী মেহমানদারি করতে হবে, কোথায় রাখতে হবে। ওই সময় মেহমানদারি না করা ছিল অপরাধ। এখন দেখছি মেহমানদারি করাটাই অপরাধ হয়ে গেছে।’

এ আতিথেয়তার বদলে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেননি বলে আরো দাবি করেছেন দীর্ঘ নয় বছর এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ধরে রাখা এ ব্যবসায়ী।
তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা

Continue Reading

Trending