Saturday, April 4, 2026
Home Blog Page 3

গরুর মাংসের দাম নিয়ে সংঘর্ষ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বহিষ্কার

সিলেটে গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ খান সজিবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ)স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান তাকে বহিষ্কার করেন।

একই সঙ্গে মহানগর স্বেচছাসেবক দলের সদস্য গোলাম রব্বানীকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক ওসমান গনি সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে বিএনপির দুই অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মদিনা মার্কেট এলাকায় গরুর মাংসের দাম নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দুপক্ষের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে দুপক্ষই চলে যান। রাতের দিকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলে আবারও দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্র থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আজিজ খান সজিব ও গোলাম রব্বানীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থেকে ৩ জন গ্রেফতার

মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে এবার ১২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুটি অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ একজন এবং আরও ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছবেদ আলী।

অভিযানে এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই গোপেশ চন্দ্র দাশ সঙ্গীয় ফোর্সসহ বৈরাগীবাজার এলাকা থেকে ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ জকিগঞ্জ উপজেলার লামারগ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে নাহিম আহমদ (ওরফে কালা মিয়া) এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের খলকু মিয়ার ছেলে জাকির আহমদকে গ্রেপ্তার করেন।

এছাড়া পৃথক আরেক অভিযানে শেওলা ইউনিয়নের দিঘলবাক এলাকা থেকে ১ কেজি গাঁজাসহ স্থানীয় আব্দুল খালিকের ছেলে শরফ উদ্দিন সফিককে আটক করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিয়ানীবাজারে তারাবিসহ জামাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা শিশু-কিশোরদেরকে পুরস্কার প্রদান

বিয়ানীবাজারে পবিত্র রমজান মাসব্যাপী তারাবিসহ জামাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা শিশু-কিশোরদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নওয়াগ্রাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের হাতে পুরস্কার প্রদান করে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরদের সামাজিক সংগঠন নওয়াগ্রাম ব্রাইট এসোসিয়েশন।

নওয়াগ্রাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সভাপতি সায়েম আহমদের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মুরব্বি আব্দুল ওয়াদুদ, নওয়াগ্রাম প্রগতি সমাজকল্যাণ সংঘের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহেদ আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আহমদ রেজা চৌধুরী, সমাজকর্মী কামাল আহমদ, মিহাদ আহমদ, আহমদ ফাহাদ, সংগঠনের সেক্রেটারি সানজিম আহমদ নাইম, অর্থ সম্পাদক মারজানুর রশীদ, সদস্য ওয়াহিদুল ইসলাম রাফি, শাহিন আহমদ, সাদিউজ্জামান, নাসিম আহমদ, তৌকির ইসলাম সামী, সানিউজ্জামান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নামাজের প্রতি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তা তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধর্মীয় চর্চায় শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদেরকে মসজিদমুখী করতে এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। শেষে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য দোয়া করা হয়।

শেষ সময়ে সিলেটের ঈদ বাজারে জনস্রোত

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের মানুষের ঈদের কেনাকাটা অনেকাংশে রেমিট্যান্সে নির্ভর। তাই ঈদ বাজার জমে ওঠে দেরিতে। কিন্তু এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব যেন আঁচ করা গেছে ঈদ বাজারে। কেবল নগরেই নয়, পুরো সিলেটজুড়ে উদ্বেগ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেষ বেলায় বাজার জমে উঠলেও ঝড়-বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায় কেনাকাটায়। গত ২/৩ দিনের বৃষ্টিতে কেনাকাটায় বিঘ্ন ঘটেছে। বাজারে ক্রেতা থাকলেও বিক্রি ছিল না সেভাবে।
অবশ্য শেষ সময়ে এসে কেনাকাটায় যেন জোয়ার নেমেছে।

সড়কের পাশ থেকে শপিং মল, সবখানে জনস্রোত। দিন পেরিয়ে রাত, কেবল ইফতারের সময়টুকু বাদ দিয়ে কেনাকাটা থেমে নেই এক মুহূর্তের জন্য। ভোররাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, দুপুর থেকে ক্রেতারা মার্কেট, শপিং মলে আসতে শুরু করেন।

ইফতারের মিনিট পাঁচেক আগ পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। ইফতার শেষে আবার শুরু হয় ক্রেতা সমাগম। রাত যতই গভীর হয়, ক্রেতাদের চাপ ততই বাড়তে থাকে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে পা ফেলার ফুরসত ছিল না। মানুষের স্রোতে অচল হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল।

সিলেট নগরের অভিজাত শপিং মলখ্যাত জিন্দাবাজার এলাকার আল হামরা, ব্লুওয়াটার শপিং সিটি, সিটি সেন্টার, মানরু শপিং সিটি, কাকলী শপিং সেন্টার, সিলেট প্লাজা, জেল রোড, বারুতখানা ও কুমারপাড়ায় ফ্যাশন হাউসগুলোর শো-রুমে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কেনাকাটা করছেন। পাশাপাশি বন্দরবাজার ও হকার্স মার্কেটেও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এছাড়া কুমারপাড়া ও নয়া সড়কের ফ্যাশন হাউস এবং শো-রুমে অভিজাত উচ্চবিত্তরা কেনাকাটা করেন। এবারও সেটি লক্ষ্য করা গেছে।

নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যায়, পোশাক, জুতা, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের দোকানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন ক্রেতার চাপ অনেক বেশি। সড়কেও দেখা গেছে তীব্র যানজট। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়ে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে পড়ছেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে পরিবার-পরিজনের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ ঈদের উপহার সংগ্রহ করতে এসে হিমশিম খাচ্ছেন।

নগরের জিন্দাবাজার আলহামরা বিপণি বিতানের রিপন আহমদ বলেন, ‘রমজানের শুরুতে ক্রেতা সমাগম কম ছিল। শেষ দশ দিনে ক্রেতা বেড়েছে। এবার ঈদবাজারে মানুষজনের বাজেট অনেক কম। ধারণা হিসেবে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। কেননা, ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি সিলেটের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যেও থাকেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা হয়তো স্বজনদের জন্য সীমিত টাকা পাঠিয়েছেন। তাই ক্রেতারা সীমিত বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা সারছেন।’

কেনাকাটা করতে আসা নিশাত রহমান বলেন, ‘এবার ঈদে কোনো ট্রেন্ডিং পোশাক আসেনি। গতানুগতিক কাপড়েও দাম বেশি। তাই সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা সেরেছি।’

শহরতলীর এয়ারপোর্ট কাকুর পাড় এলাকার সুহেল আহমদ বলেন, ‘এবার ঈদ বাজারে কাপড়ের গুণগত মান তেমন ভালো মনে হয়নি। নামীদামি ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউসগুলোতেও একই অবস্থা। দোকানিরা পুরোনো কালেকশন নতুন করে চালিয়ে দিচ্ছেন। দামও বাড়িয়েছেন।’

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আবদুর রহমান রিপন বলেন, ‘সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এ অঞ্চলের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। যুদ্ধের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কগ্রস্ত। বেশিরভাগ ক্রেতার বাজেট সীমিত দেখা গেছে। যুদ্ধের কারণে কর্মহীন মানুষ দেশে টাকা পাঠাতে পারেননি। তাই এ অঞ্চলের মানুষের বেশিরভাগের কেনাকাটায় বাজেট সীমিত। যারা ইউরোপ-আমেরিকায় থাকেন, তাদের অনেকে জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক দেশে এসে ফিরে গেছেন। ফলে ঈদকেন্দ্রিক স্বজনদের কেনাকাটায় আর্থিকভাবে কম সামিল হতে পেরেছেন। এরপরও গত ২/৩ দিন ব্যবসা ভালো হতো, কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে ম্লান হয়ে গেছে।’

অবশ্য বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো কেটেছে। শেষ সময়ে একবাক্যে বলা যায়, মানুষ উৎসব আমেজে কেনাকাটা করছেন।’

বড়লেখায় চলন্ত অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে নারীর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চলন্ত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ও অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বারইগ্রাম এলাকায় বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুন নেছা (৫০) উপজেলার সুড়িকান্দি গ্রামের জমির উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সকালে দাসেরবাজারগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বারইগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মরা গাছ হঠাৎ ভেঙে অটোরিকশাটির ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশার চালকসহ যাত্রী আজিজুন নেছা ও তার স্বামী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুন নেছাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অটোরিকশার চালক ও নিহতের স্বামীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিলাদ আহমদ বুধবার বিকেলে বলেন, অটোরিকশায় গাছ পড়ে ওই নারী ঘটনাস্থলে মারা যান। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ওই নারীর স্বামী ও চালককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে ডাকাতি, মালামালসহ গ্রেপ্তার ৯

চট্টগ্রামের রাউজানে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাকৃতরা মূলত সিলেট অঞ্চল থেকে এসে চট্টগ্রামে ডাকাতি করত।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতে রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। জনগণের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের নয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ চার হাজার ৯৮৪ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, এ ডাকাত দলের মূলহোতা ফজর আলী চট্টগ্রামের হলেও বাকি সদস্যরা সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে এসে ডাকাতি করত। ঘটনার দিন সকালে তারা হবিগঞ্জ থেকে বাস ও ট্রেনে করে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার দিকে আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। পরে পাহাড়তলী বাজারে চা-নাস্তা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। মূলত টার্গেটের ভিত্তিতে সারা দেশে এই চক্রটি ডাকাতি করে বলে জানান তিনি।

গ্রেপ্তাররা হলো হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কবির হোসেন প্রকাশ জীবন (৪৬), মাধবপুর থানার আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮) ও মো. মামুন মিয়া (৩০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার আলী আহম্মদ প্রকাশ মনু মিয়া (২৩) ও গোলাপগঞ্জ থানার মনোয়ারুজ্জামান ইমন (২৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার আবুল হোসেন (৩২)। এদের মধ্যে পলাতক রয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ফজর আলী প্রকাশ বাটন প্রকাশ ডিপজল (৩১) এবং বাহুবল থানার আমিন আলী (৩৪)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩টি, আশিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি, আলী আহম্মদের বিরুদ্ধে একটি, আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি, আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি, মিটুর বিরুদ্ধে তিনটি, মনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মামুনের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। তবে বুদু মিয়ার নামে কোনো মামলা নেই। অন্যদিকে পলাতক ফজর আলীর নামে ২৯টি এবং আমিন আলীর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।

সিলেটে প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যার ‘দায় স্বীকার’ তামান্নার

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)।
পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় নিজের শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) কে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তামান্না আক্তার (২২)

মঙ্গলবার তামান্না আক্তার হবিগঞ্জের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া।

এরআগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বসতঘর থেকে হাত-পা, মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার পরকীয়া প্রেমিক ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসীকে হত্যা করে ঘটনাটি চুরি বলে চালিয়ে দিতে তামান্নাকেও বেঁধে রেখে যায়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ তামান্না আক্তার (২২) নামে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে উপজেলার মধ্যসমেত গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা ও মুখ বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

একই স্থান থেকে একইভাবে বাঁধা অবস্থায় তার পুত্রবধূ তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, তামান্নার স্বামী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিয়ের সময় পাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার শাশুড়ি ফেরদৌসী চৌধুরীর কাছে রাখা ছিল। এ নিয়ে তামান্নার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর মধ্যেই শিপন মিয়া নামে এক টিকটকারের সঙ্গে তামান্নার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো।

রোববার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে দুই সহযোগীকে নিয়ে তামান্নার সঙ্গে দেখা করতে আসেন শিপন।

পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরদৌসী বাধা দিলে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি চুরি হিসেবে দেখাতে তামান্নাকেও বেঁধে রাখা হয়।

মঙ্গলবার নিহতের ভাই এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি তামান্নাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

দিনদিন সিলেট বিভাগে বাড়ছে ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি-র্যা-ত-ন

সিলেট বিভাগে বাড়ছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ৫৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরো ১১২ জন নারী। ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনার কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নারীরা। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৪৭৬টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৫৪ জন নারী। ২০২৪ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ছিল ১ হাজার ৩৩০টি। তিন বছরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ছয় শয্যার একটি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু রয়েছে। সেখানে পাঁচজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, চারজন পুলিশ, একজন আইনজীবী এবং ডিএনএ ল্যাবে তিনজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আরডব্লিউডিও–এর স্বাধীনতা প্রকল্পের ভলান্টিয়ার নাফিসা তানজীন বলেন, “যারা প্রকৃতপক্ষে নির্যাতনের শিকার হন, তাদের অনেকেই আইনের দ্বারস্থ হন না। এটি একটি বড় কারণ। ফলে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ অনেক সময় সঠিকভাবে হয় না।”

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেক অপরাধী শাস্তি থেকে বেঁচে যান। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসেই সেখানে ভুক্তভোগী নারীদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। সেবা দিতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. মুস্তাফা আল্লামা তালুকদার পিয়াল বলেন, “ভুক্তভোগীদের আমরা চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সময় শিশু বা নারীকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হয়।”

তিনি জানান, আগে একটি প্রকল্পের আওতায় এ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সীমিত জনবল ও সুযোগ–সুবিধা নিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। নতুন করে প্রকল্প চালু করা গেলে সেবার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।

ওসিসির আইন কর্মকর্তা পান্না সমাদ্দার বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মামলার বাইরে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে আপস করা হয়। এতে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়। যার কারণে তারা আবারো একই ধরনের অপরাধ করার সাহস পায়।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রয়েছে, তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।”

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় যেসব ঘটনা ঘটে, সেসব বিষয়ে আমরা কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ঘটনা ঘটার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হই।”
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি.কম

সিলেটের কানাইঘাটে ঝড়ে ঘর হারিয়ে দিশেহারা শিশু সন্তান

সিলেটে গত দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে কান্না শুরু করে হান্নান হোসেন (৫) নামে এক শিশু। শনিবার (১৪ মার্চ) মধ্যরাতে ব্যাপক ঝড় ও মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি হয়। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ ২য় খন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও শনিবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দেয়।

জানা গেছে, ঝড়ের কবলে হান্নান হোসেনের ঘরের চাল উড়ে গেলে সে পাশে থাকা চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিতে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি বৃদ্ধি হলে আতঙ্কিত হয়ে সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে খুঁজে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

হান্নান হোসেনের চাচা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘রাতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের ঘরের চাল উড়ে যায়। তখন আমরা সবাই ঘুমন্ত ছিলাম। এ সময় ঘরের ভেতরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা সহ আমাদের পরিবারে সাতজন সদস্য রয়েছে। তখন পাশের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবাই ছুটাছুটি করছিলাম। ভিডিওটি আমি আমার ফেসবুকে দিলে সেটি ভাইরাল হয়। আমাদের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের এই খারাপ অবস্থা ও ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও দেখে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকেই সাহায্য করার কথা বলছেন।’

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মকর্তা তাদের খোঁজ নেননি বলে জানান তিনি। সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো পার্শবর্তী ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে আছি।’

সিলেটে মরা গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন শমসুল, অতঃপর…

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করা হয়। একই সময় দোকানে থাকা একটি জীবিত গরু নিলামে বিক্রি করা হয়।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার হেমু বেলুপাড়া এলাকার মাংস ব্যবসায়ী শমসুল মিয়া (৫০) তার দোকানে মৃত গরুর মাংস বিক্রি করছেন এমন খবর স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাজারের পরগনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন মাওলানা এমাদ উদ্দিন গরু জবেহ করে থাকেন। তবে সোমবার কোনো গরু জবাই না করেই শমসুল মিয়া তার দোকানে মাংস বিক্রি শুরু করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিস পলি রাণী দেব ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দোকান থেকে একটি গরু চিতরা প্রায় ৯০ কেজি মাংস, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা এবং দুইটি ফ্রিজে রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাংস জব্দ করা হয়।

এসময় দোকানে থাকা আরেকটি জীবিত গরু ৭৩ হাজার টাকায় জনৈক আব্দুল হান্নানের কাছে নিলামে বিক্রি করা হয়। জব্দকৃত মাংস ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, হরিপুর বাজারের একটি মাংসের দোকানে মৃত গরুর মাংস বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় ওই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।