Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 31

সিলেটে এক রাতে উদ্ধার দুই চোরাই মোটরসাইকেল

সিলেটে একই রাতে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা ও রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল দুটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় ভোলাগঞ্জ ও বাবুলনগর থেকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশ।

পুলিশ চোর চক্রের সদস্যদের সনাক্ত করতে সক্ষম হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে জোরদার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশ।

ওসি রতন শেখ জানান, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলের একটি চুরি হয়েছিল সুনামগঞ্জ থেকে। আর অপরটি চুরি হয়েছিল কোম্পানীগঞ্জ থেকে। একটি মালিক পাওয়া গেছে। তার হাতে সাইকেলটি তুলে দেওয়া হয়েছে। অপরজনকে খোঁজা হচ্ছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, চোরদের সনাক্ত করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে সম্ভব হয়নি। তাদের একজন আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য এবং কোম্পানীগঞ্জের অধিবাসী। দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিলেটে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়কে প্রাণ গেল শিক্ষিকার

কানাইঘাটে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক স্কুল শিক্ষিকা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে হরিপুর-গাছবাড়ি সড়কের ফুলবাড়ি বিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষিকার নাম ফাতিমা বেগম । তিনি কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আগফৌদ নারাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহনেওয়াজ খসরুর স্ত্রী এবং আগফৌদ নারাইনপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তার স্বামীও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফাতিমা বেগম সিলেট শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হরিপুর-গাছবাড়ি সড়কের ফুলবাড়ি বিল এলাকায় অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন ফাতিমা বেগম ও কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সালিক আহমদ।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতিমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালিক আহমদকে পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষিকার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে হারিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সিলেট বিমানবন্দরে লন্ডনগামী বিমানের সঙ্গে বোর্ডিং ব্রিজের ধাক্কা, ফ্লাইট বিলম্বিত

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লন্ডনগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-২০১-এর ইঞ্জিনের সঙ্গে বোর্ডিং ব্রিজের ধাক্কা লেগেছে। এতে ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিজি-২০১ ফ্লাইটের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি যাত্রী বোর্ডিংয়ের সময় বোর্ডিং ব্রিজে ধাক্কা খায়। এতে বিমানের একটি ইঞ্জিনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলীরা বিমানের প্রযুক্তিগত অবস্থা পরীক্ষা করছেন। পরীক্ষা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিমানটি উড্ডয়নের উপযোগী কিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের ইঞ্জিন ও কাঠামোগত অংশ পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে।

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, ফ্লাইটটির ইঞ্জিনে বোর্ডিং ব্রিজের ধাক্কা লাগায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বিজি-২০১ ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ঢাকা থেকে আরেকটি বিমান আনা হচ্ছে এবং দুপুর আড়াইটার দিকে যাত্রীদের সেই ফ্লাইটে লন্ডনে পাঠানো হবে।

তবে এ ঘটনায় বিমানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লন্ডনগামী ২৬২ যাত্রী। সকাল থেকে তারা বিমানবন্দরে বসে আছেন।

সিলেটে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে হোটেল সিলগালা ও ৩ নারী-পুরুষ আটক

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রতিনিয়ত অভিযান দিচ্ছে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নগরীর জিন্দাবাজারে হঠাৎ ডিবি পুলিশের হানা! নগরীর ব্যস্ততম এই পয়েন্টে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুরুষ ও এক নারীসহ মোট তিনজনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানের সময় নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল রাজমনি সিলগালা করা হয়। যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- ওহাব মিয়া (২৫), বিল্লাল হোসেন (২৭) ও কবিতা আক্তার (৩০)।

ডিবি পুলিশ জানায়, সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজারে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুরুষ ও এক নারীসহ মোট তিনজনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানের সময় নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট সংলগ্ন হোটেল রাজমনি সিলগালা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর পুলিশ আইন, ২০০৯-এর ৭৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৪৫৮, তারিখ ২৭/১০/২০২৫। পরে পুলিশ তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করেছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এমন অভিযান অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে নিয়মিত চালানো হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নগরীর শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত সচেষ্ট। কেউ সামাজিক নিয়ম অমান্য করলে আমরা সজাগ থাকব।’

জিন্দাবাজারের এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি অনৈতিক কার্যকলাপ কমাতে পুলিশের কার্যক্রমের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি এর আগেও সিলেটে ৪টি আবাসিক হোটেল সিলগালা করে প্রশাসন।

সিলেটের মেয়ে অনিকা মাইক্রোসফটের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

সিলেটের মেয়ে অনিকা তাহসিন চৌধুরী। মাইক্রোসফট আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন অফিসে ‘সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

অনিকা সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে পেশাগত জীবন শুরু করেন স্যামসাং-এ। তারপর পাড়ি জমান আয়ারল্যান্ডে। নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কেমন করে যোগ দিলেন মাইক্রোসফটে।

২০২২ সালে ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমান অনিকা। তখন মাইক্রোসফটে লেঅফ চলার কারণে হায়ারিং বন্ধ চলছিল। তখন ছয় মাসের মধ্যে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে বের করার টার্গেট ছিল। তবে বছরখানেকের মধ্যে কোনো চাকরির সুরাহা হয়নি। তিনি নন-ইউরোপিয়ান। পাশাপাশি ভিসার স্ট্যাটাসও তলানিতে। সব মিলিয়ে শুরুতে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথমদিকে মাইক্রোসফটে অ্যাপ্লাই শুরু করেন। তখন তিনি গুগলের হাজবেন্টের রেফারেল নিয়ে অ্যাপ্লাই করেন। মার্চ মাসে এক প্রতিষ্ঠান থেকে রিজেকশন মেইল আসে। মজার বিষয় হলো, সেদিন রিক্রুটার একই পজেশনের জন্য মাইক্রোসফট থেকে যোগাযোগ করেন। অনিকা একবাক্যে ইন্টারভিউয়ের জন্য রাজি হয়ে যান। রিক্রুটার তাঁকে দ্রুত অ্যাসেসমেন্টগুলো দিতে বলেন। এরপর দিনক্ষণ ঠিক করে প্রথম ইন্টারভিউতে বসেন।

ইন্টারভিউর আধা ঘণ্টা পর রিক্রুটার জানান, ‘তুমি এই অ্যাসেসমেন্ট পাস করেছ, পরবর্তী ইন্টারভিউয়ের জন্য তারিখ ঠিক কর।’ তখন অনসাইট ইন্টারভিউয়ের তারিখ ঠিক করেন। অনসাইটের মধ্যে কোডিং, অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এবং সিস্টেম ডিজাইন–তিনটি রাউন্ড হয়। তাঁর ইন্টারভিউ ভালোই হয়েছিল। তিন-চার দিনের মধ্যে রেজাল্ট জানানোর কথা ছিল। এরমধ্যে কোনো খবর না আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সাত-আট দিন পর রিক্রুটার কল দেন।

তিনি জানান, হায়ারিং ম্যানেজারের সঙ্গে বিহেভিওয়ারাল ইন্টারভিউতে বসতে হবে। এটিই ছিল তাঁর ফাইনাল ইন্টারভিউ। দিন পাঁচেক পর রিক্রুটার জানান, ‘আই ডিড ওয়েল ইন দ্য ইন্টারভিউ…।’ ক’দিন পরেই মাইক্রোসফট থেকে অফার লেটার পান। বিষয়টি অনিকার অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল! এত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁর মনো হলো, দীর্ঘ দিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন।

মাইক্রোসফটে অনিকা যা করেন
অনিকার মাইক্রোসফটে পথচলা এখন এক বছরের বেশি সময়ের। এখানে খুব দক্ষ লোকজন চাকরি করেন। অনিকা বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। প্রথমদিকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে টিমের সবার সাপোর্ট পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। তাছাড়া সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের থেকে সহযোগিতা পাই। তাদের গাইডেন্স, ডিরেকশন ও সাপোর্ট পেয়ে আত্মবিশ্বাসের মাত্রায় ভাটা পড়েনি। এক বছরে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শিখেছি। বড় স্কিলে কীভাবে একটা প্রোডাক্ট রান করা যায়, এই বিষয়গুলো রপ্ত করেছি। সিস্টেম ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডিজাইন এবং ফিচার ডিজাইন–এই বিষয়গুলোতে পরিপক্ব হয়েছি। প্রোডাক্টের উন্নতি করতে হলে কী করতে হয়, প্রোডাক্টগুলো কাস্টমারদের কাছে যায়। তাদের কথা চিন্তা করে প্রোডাক্ট তৈরি করতে হয়। আমি ৩০ জনের টিমে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছি। কনজিউমারদের জন্য তাদের সার্ভিস কাজ করে থাকে। বর্তমানে আমি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ফোকাসনির্ভর কাজ করছি।’

সুযোগ-সুবিধা
মাইক্রোসফটে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিকা বলেন, ‘মাইক্রোসফটে চাকরিতে বেসিক স্যালারির সঙ্গে স্টক বোনাস দেওয়া হয়। বছরে ২৫ দিন ছুটি রয়েছে। মেয়েদের গর্ভকালীন ছুটি বা মেন্টাল হেলথের জন্য ভালো একটা সাপোর্ট দেয়। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে লাইফ ইন্স্যুরেন্সও দিয়ে থাকে। মেন্টাল হেলথের জন্য মাইক্রোসফটে জিম, খেলাধুলা, হ্যাকাথনের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ আছে। এছাড়া এখানে কাজের ভালো পরিবেশ রয়েছে।’

স্বপ্ন দেখার শুরুর কথা
এক যুগ আগের কথা, অনিকা পত্রিকা পড়ছিলেন। পাতা ওল্টাতেই গুগলে এক আপুর চাকরির খবর চোখে পড়ে। সে সময় প্রায়ই বড় আপুদের এমআইটি-হার্ভার্ডে উচ্চশিক্ষার সংবাদ দেখতেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়দের আমাজন, গুগল, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানে চাকরির খবর শুনতেন। তাদের দেখে অনিকা ভাবতেন, যদি তাদের মতো আমিও এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারতাম! এরমধ্যে অনিকার কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকের পাঠ শেষ হয়। এরপর স্যামসাংয়ে চাকরি নেন। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রস্তুতি নেন। শুরুতে টেক জায়ান্ট যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইচ্ছে ছিল তাঁর। এছাড়া যেখানে তাঁর শেখার, জানার ও উন্নতির জায়গা থাকবে–এমন প্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় ছিল।

জন্ম-বেড়ে ওঠা এবং যেভাবে ছেড়েছেন দেশ
অনিকার জন্ম সিলেট শহরে। শৈশবে যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। পরিবারের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সবার স্নেহ-মমতার ছায়াতলে বেড়ে উঠেছেন। ছোটবেলায় নির্ধারিত কোনো কিছু হবার স্বপ্ন ছিল না।

তাঁর দাদু একদিন অনিকাকে বলেছিলেন, ‘তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?’ উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমি পাইলট হয়ে প্লেনে চড়ে বেড়াব।’ অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন তাঁর সায়েন্স নিয়ে পড়ার ইচ্ছে জাগে। সেই থেকে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন। এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার ধারণা নেন। দেশ ছেড়ে থাকার ফলে মানুষকে ডিপ্রেশনে ভুগতে হয়। অনিকার জন্য পরিবার ছেড়ে দূরে থাকা খুবই কষ্টকর ছিল। আগে তিনি পরিবার ছেড়ে বড়জোর ঢাকাতে থাকতেন। এখন তিনি অনেক দূরে, চাইলেও পরিবারের কাছে যেতে পারছেন না। আয়ারল্যান্ডে নতুন মানুষজন, পরিবেশ, আবহাওয়া, পারিপার্শ্বিক অবস্থা–এই বিষয়গুলো প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে যুদ্ধ করতে হয়েছে। তাছাড়া মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

আগামীর স্বপ্ন
আগামীর স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে অনিকা তাহসিন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ব্যবহার করে মানুষের জীবনকে কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করছি। আগামীতে এআই নিয়ে আরও বড় কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। তবে এআইয়ের সঙ্গে মানুষ যাতে মনষ্যত্বটাও ধরে রাখতে পারে–তার বাস্তবায়ন ঘটাতে চাই। স্বপ্ন দেখি দেশ নিয়েও। সুযোগ পেলে দেশের প্রযুক্তি খাতেও অবদান রাখতে চাই আগামীতে।’

সূত্র: সমকাল

সিলেটে অটোরিকশা থামিয়ে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলি পয়েন্টে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এনা পরিবহনের তিন কর্মচারীর কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনা পরিবহনের কদমতলি কাউন্টার থেকে নগদ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিন কর্মচারী— কাউন্টার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম, নুর মুস্তফা, এবং ক্যাশ কর্মকর্তা সোহেল আহমদ। তারা কদমতলির ইয়াসিন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে।

ছিনতাইকারীরা সবাই হেলমেট পরা ছিল এবং হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানা গেছে। অস্ত্রের মুখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তারা কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

এনা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছিনতাইকারীরা সবাই হেলমেট পরেছিল, তাদের হাতে লম্বা দা ছিল। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা খুব দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।”

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কদমতলি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই সুমন দাস বলেন, “এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশপাশের মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সিলেটে অসামাজিক কাজ: চারটি হোটেল সিলগালা

সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে এক সপ্তাহে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে চারটি আবাসিক হোটেলকে সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া ওই সময়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিলগালা করা হোটেলগুলো হল- সিলেট রেস্ট হাউজ, বিলাস আবাসিক হোটেল, গ্রান্ড সাওদা হোটেল এবং আল সাদী হোটেল। সিলেট মহানগর পুলিশ আশা করছে, এই ধরণের কঠোর পদক্ষেপ শহরের সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

পুলিশ জানায়, অভিযানে হোটেল থেকে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান নগরবাসীর নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, হোটেলগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে নেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ এবং নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে যাতে হোটেলগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা যায়।’

তিনি আরও জানান, ‘পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক নৈতিকতার রক্ষার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। নাগরিকদের সহযোগিতা এবং সচেতনতার মাধ্যমে আমরা এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সক্ষম হবো।’

বিশ্বের ৭ সুন্দর স্টেডিয়ামের তালিকায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর সাতটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা তৈরি করেছে ক্রিকেট ৩৬৫। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটভিত্তিক গণমধ্যমের সেই সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অবস্থান সিলেট এয়ারপোর্ট রোডে। নয়নাভিরাম চা বাগান এবং সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই ভেন্যুটি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকাররা বিভিন্ন সময় এই ভেন্যুটির সৌন্দর্য্যের কথা জানিয়েছেন।

২০০৭ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখে ভেন্যুটি। গত কয়েক বছরে এই ভেন্যুতে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং দ্বিপাক্ষীক সিরিজ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে পাহাড় এবং সবুজ চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি চোখের জন্য এক আনন্দের স্থান। মাঠের চারপাশের নির্মল সবুজ পরিবেশ দেখে মনে হয় যেন কোনো সবুজ স্বর্গের মাঝখানে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। সিলেটের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের পটভূমি বিশেষ করে সকাল বা সন্ধ্যার খেলায় আকর্ষণীয়, যখন পাহাড়ের উপর কুয়াশা জমে থাকে এবং গোধূলির আলোয় মাঠ আলোকিত হয়।’

ক্রিকেট ৩৬৫ ’র সুন্দর স্টেডিয়ামের তালিকায় জায়গা পাওয়া বাকি নামগুলো হলো নিউল্যান্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম দক্ষিণ আফ্রিকা, অ্যাডিলেড ওভাল, অস্ট্রেলিয়া, ধর্মশালা এইচপিসিএ স্টেডিয়াম, ভারত, গওয়াদর ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পাকিস্তান, ড্যারেন স্যামি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সেন্ট লুসিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ইংল্যান্ড।

সিলেটে আবর্জনা পরিষ্কার করছে শতাধিক তরুণ-তরুণী

সিলেটের হৃদয়ে বইছে পরিচ্ছন্নতার নতুন হাওয়া। তারুণ্যের শক্তি আর সচেতনতার আলোকে শহরের অবহেলিত জলাধারগুলো ফিরে পাচ্ছে তাদের হারানো প্রাণ। ‘তারুণ্যের উৎসব’ উপলক্ষে নগরবাসীর চোখের সামনে শুরু হয়েছে এক ভিন্নধর্মী অভিযান। আবর্জনায় ঢেকে থাকা দিঘী-ছড়াগুলোতে ফিরছে স্বচ্ছ জল, নির্মল পরিবেশ। সিলেটের শতাধিক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে জল্লারপাড়ের ঐতিহাসিক জল্লাদিঘী পরিষ্কারের মাধ্যমে এই ৭ দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশন, জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও নরওয়ের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মসূচির আয়োজনে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে নগরের জল্লার পাড়ের জল্লাদিঘী পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার, সহকারী পরিচালক বিসল চক্রবর্ত্তী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. আমিনুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন ও নির্বাহী প্রকৌশলী রাজি উদ্দিন খান প্রমুখ। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিনে ঢেকে থাকা শহরের জলাধারগুলো পরিষ্কার করলে শুধু সৌন্দর্য নয়, মশার প্রজননও রোধ হবে। তরুণরাই সমাজের মূল শক্তি—তাদের হাত ধরেই পরিচ্ছন্ন সিলেট গড়ে উঠবে। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে আমরা শহরের খাল ও ছড়া পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। তরুণরাই সমাজের মূল শক্তি তাদের হাত ধরেই পরিচ্ছন্ন সিলেট গড়ে উঠবে।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘জলাধারগুলো সিলেট শহরের প্রাণ। দখল ও আবর্জনার কারণে এসব এখন মৃতপ্রায়। মাস্টারপ্ল্যানে এসব সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় সিলেটে অসংখ্য দিঘী ও জলাশয় ছিল, যা এখন দখল ও ময়লার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। আমরা মাছুদিঘি পরিষ্কারের পর এবার জল্লারপাড়ে অভিযান শুরু করেছি। ধীরে ধীরে শহরের সব জলাধার দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হবে।’

উল্লেখ্য, সাত দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাড়াও ক্লিন সিটি সিলেট, বিডি ক্লিন, স্কাউটস, সেভ সিলেট, ইউনাইটেড সুপার ওমেন, সিলেট ওয়ান্ডার ওমেন, সিলেট বাইকার্স ক্লাব, কালারফুল সিলেট, ট্র্যাভেল সিলেট, সিলেট রানার্স ক্লাব, সিলেট সাইক্লিং ক্লাব ও দ্য হিউম্যান চ্যারিটিসহ ২২টি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশ নিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে ৩ বছরে পরিবারসহ স্থায়ী হওয়ার সুযোগ : সুখবর

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪ অক্টোবর নতুন ইমিগ্রেশন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যার আওতায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে সরাসরি ‘ইনোভেটর ফাউন্ডার রুট’–এ আবেদন করতে পারবেন। এই রুটে অনুমোদন পাওয়া উদ্যোক্তারা মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের (ILR) সুযোগ পাবেন। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা গবেষণা ডিগ্রি সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বা স্টার্টআপ প্রজেক্ট উপস্থাপন করতে পারেন, তবে তারা এই রুটে আবেদন করতে পারবেন।

তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা হতে হবে উদ্ভাবনী, বাস্তবায়নযোগ্য ও টেকসই, এবং অবশ্যই যুক্তরাজ্যের কোনো অনুমোদিত এন্ডোর্সিং বডি থেকে স্বীকৃতি নিতে হবে।

আগে ইনোভেটর ভিসার জন্য ন্যূনতম ৫০ হাজার পাউন্ড বিনিয়োগের শর্ত ছিল। কিন্তু নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে ব্যবসায়িক ধারণার বাস্তবতা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনায়।

এই রুটে যারা অনুমোদন পাবেন, তারা প্রথমে তিন বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে পারবেন। ব্যবসা পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তারা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR)–এর জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার পূর্বধাপ হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া উদ্যোক্তা তার পরিবারের সদস্যদেরও (স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) সঙ্গে নিতে পারবেন। পরিবার সদস্যরা সেখানে পূর্ণ সময় কাজ ও পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার — বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করবে। কারণ এই অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়তে যান।

ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ‘স্টার্টআপ পরামর্শ সেবা’ চালু করেছে, যাতে তারা কীভাবে ব্যবসায়িক ধারণা তৈরি ও উপস্থাপন করবেন সে বিষয়ে সহায়তা পান।

বিশ্লেষকদের মতে, “ইনোভেটর ফাউন্ডার রুট” যুক্তরাজ্যকে আবারও বিশ্বে মেধা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এটি কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, বরং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা খাতের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।