Tuesday, April 7, 2026
Home Blog Page 39

সিলেটে আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নারী ও পুরুষ আটক

সিলেট মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল গ্র্যান্ড সাউদা-এর তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মাজিদুর রহমান (৪০) ও জেসমিন আক্তার (২০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এসএমপি-র অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জানান, অভিযান শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সিলেটে বিজিবির ভয় দেখিয়ে পর্যটকদের সর্বস্ব লুট, গ্রেফতার ৪

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর রাংপানি এলাকায় দুই পর্যটককে চাকুর ভয় দেখিয়ে ডাকাতির ঘটনায় আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আটক চারজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার কেন্দ্রী ঝিঙ্গাবাড়ী এলাকার মৃত কবির আহমেদের ছেলে নুর মোহাম্মদ রনি (৪২), আদর্শগ্রাম নয়াবস্তি এলাকার আশরাফ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম কিলটন (২০), কেন্দ্রী ঝিঙ্গাবাড়ী এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আবদুল মালেক মালু (২৭) ও আসামপাড়া আশ্রয়ণ এলাকার ফখরুল ইসলামের ছেলে সুমন আহমেদ (২৭)।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার উদয়শ্রি গ্রামের সোহেল রানা (৪৫) ও তার সফরসঙ্গী ওয়াজিব উল হক রাংপানি এলাকায় বেড়াতে যান। বিকেল ৪টার দিকে ফেরার সময় এক ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে ভুয়া তথ্য দেয় যে সামনে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য পথে নিয়ে যাওয়ার পর নির্জন স্থানে আরও কয়েকজন যোগ দেয়। সেখানে দুইজন তাদের গলায় চাকু চেপে ধরে, পরে আরও তিনজন এসে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ট্রাভেল ব্যাগ থেকে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, দুইটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর রাতে ভিকটিম সোহেল রানা জৈন্তাপুর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তথ্য সংগ্রহ শেষে শনিবার ভোররাতে উপজেলার কেন্দ্রী ঝিঙ্গাবাড়ী এলাকায় একটি বাড়ি থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি নুর মোহাম্মদ রনির জামাতার বাড়ি থেকে লুট হওয়া ক্যামেরা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্লুটুথ হেডফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম সোহেল রানা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পেনাল কোডের ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারা ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, ‘ঘটনার পরপরই আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। দ্রুত সময়ের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

দারিদ্রতার বেড়াজালে আবদ্ধ নাসুমের বাবা; কাজ করছেন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে!

নাসুম আহমদ বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নিয়মিতই মাঠে দেখা যায় এই অফ স্পিনারকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি আর ঘরোয়া লীগেও নিয়মিত খেল থাকেন তিনি। ফলে আয়-রোজগার মন্দ নয় এই তরুণ ক্রিকেটারের।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে নাসুমের বাবা আক্কাস এখনও সিলেটে সিকিউরিটি গার্ডের (নিরাপত্তা কর্মী) কাজ করেন।

বাবার অভিযোগ, ছেলে নাসুমের সঙ্গে চার বছরের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ না থাকার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে মাসিক ৮ হাজার টাকার বেতনে হাউজিং এস্টেটে নিরাপত্তা রক্ষীর চারকরি করছেন।

যদিও নাসুমের দাবি, তিনি নিয়মিত মাসেমাসে বাবাকে টাকা পাঠান। কিন্তু বাবা অভ্যাসবশত পূর্বের পেশা ছাড়তে পারছেন না।

সম্প্রতি হাউজিং এস্টেট এলাকায় গিয়ে দেখা মিলে নাসুমের বাবা আক্কাস আলীর। ছেলে প্রতি তার কোন ক্ষোভ নেই। বলেন, বাবা হিসেবে আমার চাই শুধু নাসুম বড় কিছু হোক। অন্য কিছু আমার প্রয়োজন নেই।

স্থানীয় ও আত্মীয়দের কথায়, নাসুমের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রথমে ভালো থাকলেও তার বিয়ের পর পরিবর্তন এসেছে। চার বছর আগে নাসুম বিয়ে করে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান।

স্থানীয়রা জানান, রিকশা চালানো থেকে শুরু করে সবজি বিক্রি, রঙমিস্ত্রীসহ নানা কাজ করে নাসুমকে পড়ালেখা করিয়েছেন বাবা আক্কাস আরী। ছেলেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বানাতেও অবদান রয়েছে বাবার।

নাসুমের চাচা লুবন মিয়া বলেন, আমাদের ভাতিজার প্রতি অনেক মায়া আছিল কিন্তু বিয়ের পর সে কেন এমন পরিবর্তন হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।

নাসুমের বেড়ে উঠা জালাবাবাদ আবাসিক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, নাসুমের বাবা রিকশা চালানো থেকে শুরু করে বাড়িতে গিয়ে রঙের কাজ, সবজি বিক্রি করে তাকে পড়িয়েছেন, বাংলাদেশ দলের একজন খেলোয়াড় বানিয়েছেন। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর তার মা মারা যান। এরপর থকিই তাইন বাবার থকি আলাদা হয়ে যান। তবে কি কারণে এমনটা হয়েছে সেটা বলতে পারব না।

তবে নিজের বাবাকে মাসে মাসে টাকা প্রদান করছেন জানিয়ে নাসুম আহমেদ বলেন, আমিতো আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, পার্থক্য এটাই উনি আমাদের সাথে থাকেন না। মাসে মাসে উনাকে একটা এমাউন্ট দিতে হবে আমি এটা দিচ্ছি। যেহেতু উনি উনার কাজ করবে উনার মতো করে থাকবে সেখানে আমারতো কিছু করার নাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ক্যারিয়ারের শুরুতে নাসুম জন্মস্থান নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সন্তান হিসেবে প্রচারণা চালালেও নাসুম নিজেকে সিলেট জেলার বলে দাবি করেন।

সিলেটে নিজ বাসা থেকে স্কুলশিক্ষিকার লাশ উদ্ধার, মামলা দায়ের

সিলেট শহরের লামাবাজার এলাকায় নিজ বাসা থেকে মিলি দে (২৫) নামের এক স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ছায়ানীড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের ৫ম তলার ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে এ মামলা দায়ের করা হয় বলে গণমাধ্যমে জানান সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবারই নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে লামাবাজার ছায়ানীড় ৩১ নম্বর বাসার ৫ম তলার ফ্ল্যাট থেকে ওই স্কুলশিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিলি দে (২৫) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জিলুয়া চা বাগানের মৃত মলয় কান্তি দে’র মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মা সঞ্চিতা দে’র সাথে লামাবাজারের ওই বাসায় থাকতেন মিলি। তিনি নগরের কাজিটুলা এলাকার ‘কিডস ক্যাম্পাস’ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সঞ্চিতা দে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যান। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে মিলি দে’র ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মিলিকে নামিয়ে

সিলেট বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই-টেলিফোন সেবা চালু

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিটিসিএলের ফ্রি ওয়াইফাই ও টেলিফোন সেবা চালু করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এ সেবা শুধুমাত্র বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পুরো বিমানবন্দর এলাকায় সবার জন্য ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পুরোদমে চালু করা হবে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ সেবার উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বিদেশ থেকে আসা এবং বিদেশগামী যাত্রীদের যোগাযোগের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে এ সেবা চালু করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো বিমানবন্দরকে ফ্রি ওয়াইফাইয়েে আওতায় আনা হবে।

উদ্বোধনকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সার‌ওয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুরমা নদীতে ভাসছিল সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীর লাশ

নিখোঁজের তিন দিন পর সুরমা নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজিনগরীর (৫২) লাশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার মধ্যবর্তী শরীফপুর এলাকার পুরোনো সুরমা নদীতে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান চৌধুরী।

মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজিনগরী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

এদিকে নদী থেকে লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে মুশতাক আহমদকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে জমিয়ত।

এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জমিয়তের সহসভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম খান, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তের মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজিনগরী ও জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়্যবুর রহমান। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুশতাক আহমদের হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন তারা।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সিলেটে আবাসিক হোটেলে গিয়ে ধরা ২ নারী-পুরুষ

সিলেটে আবাসিক হোটেল থেকে ২ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মিরাবাজারে অবস্থিত ‘জাহান’ আবাসিক হোটেল থেকে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টায় হোটেলের ২য় তলা, ২০৪ নং কক্ষে অভিযান চালিয়ে ৩০ বছর বয়সী পংকজ বিশ্বাস ও ১৯ বছর বয়সী মৌমিতা রানী দাসকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এসএমপির এডিসি, মিডিয়া (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সিলেটে ট্রাক-মোটরসাইকেল-সিএনজি ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১

সিলেটে ট্রাক, মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক যুবক নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের মালনীছড়া চা বাগান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১৫-৩৯৬২) বিমানবন্দরের দিকে এবং ২টি মোটরসাইকেলযোগে (সিলেট মেট্রো ল ১২-৩৩০৭ এবং সিলেট মেট্রো ল ১২-৩৫৫৬) কয়েকজন যুবক আম্বরখানার দিকে আসছিলো। এসময় মালনীছড়া এলাকায় ট্রাক, ওই ২টি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এক যুবক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত যুবকের নাম ফাহাদ (২০)। তিনি শাহপরাণ থানার বাহুবল আবাসিক এলাকার আব্দুল হকের ছেলে।

দুর্ঘটনায় আরো ৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে একজন নিহত যুবকের ভাই বলে জানা গেছে।

রাত ১টায় ঘটনাস্থল থেকে বিমানবন্দর থানার এসআই আতিক সিলেটভিউকে জানান, একজনের মরদেহ ট্রাকের নিচে রয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি জানান, এতে আরো ৩ জন আহত হয়েছেন তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক।

সিলেট আসার পথে বিয়ানীবাজারের সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাত

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুজ কুমার চক্রবর্তী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে হেতিমগঞ্জের কাছে সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের ছয় জায়গায় ছুরিকাঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা।

জানা যায়, সকালে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণের বাসা থেকে অটোরিক্সায় সিলেট নগরীতে যাচ্ছিলেন তিনি। হেতিমগঞ্জ বাজারের পূর্বে ৩/৪ জনের ছিনতাইকারী তাকে বহনকারী অটোরিক্সা গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তার হাতের কয়েকটি জায়গাসহ শরীরের ছয় জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না বলেন, তিনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) তিনি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সিলেট যাওয়ার পথে হেতিমগঞ্জের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হন। শরীরে ছয়স্থানে ছুরি আঘাত রয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিলেটে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে আটক, পরে জানা গেল তিনি ‘দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শুটার রিয়াজ’

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি গ্রামে দুটি শিশুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এক যুবক। গ্রামবাসী ওই যুবককে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটক যুবককে থানায় নেওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আটক ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিয়াজ বাহিনীর প্রধান রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ‘শুটার রিয়াজ’। আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে গোয়াইনঘাটের আলীরগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রামবাসীর কাছ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাটে সন্ত্রাসী রিয়াজুল ইসলামের অবস্থানের খবর পেয়ে তাঁকে সন্ধান করছিল র‍্যাব। ওই সময় একটি গাড়িতে করে রিয়াজুল তাঁর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে গোয়াইনঘাটের আলীরগ্রামের দিকে যান। তাঁর পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে বুঝতে পেরে তিনি আলীরগ্রামের একটি বাড়ির বারান্দায় দুই শিশুকে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই শিশুকে রেখে পালানোর ঘটনায় গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়াজুল ও দুই শিশুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ সময় রিয়াজুলের ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়। পরে রিয়াজুলকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। জানা যায়, তিনিই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শুটার রিয়াজ।

গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীকে শান্ত করেন। প্রথমে বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে মনে করেছিলেন। পারিবারিক কলহের কারণে দুই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে তাদের বাবা গাড়িতে করে বেরিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। তবে থানায় যাওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।

ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, ওই ব্যক্তিকে র‍্যাব ধাওয়া করেছিল। র‍্যাবের হাত থেকে বাঁচতে দুই শিশুকে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তখন এলাকাবাসী শিশু অপহরণকারী সন্দেহে আটক করেন। আটক ব্যক্তি স্ত্রীসহ জাফলংয়ে এসেছিলেন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বলে জানা গেছে। তিনি গোয়াইনঘাটে পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকি থেকে ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়েছিলেন। তখন তাঁর পরিচয় পাওয়া না গেলেও পুলিশ সেই প্রাইভেট কারের সন্ধান করছিল। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চার সহযোগীসহ ‘শুটার’ রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। তখন র‍্যাব জানিয়েছিল, রিয়াজুল হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামি। তিনি অন্তত ১৫টি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আশপাশের এলাকায় রিয়াজুলের নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। তাঁদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে জমি দখল, অবৈধ বালু ভরাট, মাটি কাটার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ ও মাদক ব্যবসা।