Friday, April 10, 2026
Home Blog Page 54

বড়লেখায় লাফ দিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন কলেজছাত্রী, অটোচালক আটক

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সিএনজি অটোরিকশায় চালকের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এক কলেজছাত্রী (১৮)। এসময় নিজের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য ওই ছাত্রী চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার চানপুর এলাকার এম মুহিত ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত চালক প্রজেশ দাশ (৪৬)-কে আটক করেছে। প্রজেশ কুলাউড়া উপজেলার মৃত দিরেন্দ্র দাশের ছেলে। এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর মামা বড়লেখা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কলেজছাত্রীর বাড়ি বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। তিনি চানপুর গ্রামে মামার বাড়িতে থাকেন এবং এম মুস্তাজিম আলী কলেজে লেখাপড়া করেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইয়ারচেঞ্জ পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি মামার বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালক প্রজেশ দাশকে দেখে সিগন্যাল দেন। গাড়ির পেছনের সীটে ধানের বস্তা থাকায় চালক ছাত্রীকে মা সম্বোধন করে তার পাশের আসনে বসতে বলেন।

সরল বিশ্বাসে ছাত্রীটি সামনের আসনে বসে। এসময় সিএনজি চলতে শুরু করলে চালক গিয়ারের অজুহাতে কয়েকবার ইচ্ছাকৃতভাবে তার বাম হাতের কুনুই দিয়ে ছাত্রীটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে যৌন নিপীড়ন শুরু করলে ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করে। পরে নিজের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তিনি চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পান। এসময় পথচারী ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং চালককে আটক করেন। এসময় অভিযুক্ত চালককে মারধরের চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে তাকে থেকে আটক করে এবং গাড়িটি জব্দ করে।

বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, চলন্ত সিএনজি অটোরিকশায় চালক এক কলেজ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মামা থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত সিএনজি অটোরিকশা চালককে আটক করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আকাশসীমা বন্ধ করায় ঢাকা থেকে ৪ দেশে ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা

চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে নিজ নিজ দেশ। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (২৩ জুন) থেকে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য মিলেছে।বাংলাদেশ পর্যটন প্যাকেজ

রাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত এবং বাহরাইন হয়ে আগমন ও বহির্গমনকারী সকল বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত এবং বাহরাইন রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স অফিসের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স অফিসে যোগাযোগ করে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রমণের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটের গন্তব্যে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। তা ছাড়া এসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে অন্য দেশের গন্তব্যেও অনেক ফ্লাইট যাতায়াত করে। দেশগুলো নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ককরে দেয়ায় প্রবাসীরা বিপাকে পড়বেন।

উল্লেখ্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী

কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ওই চারটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিল।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ‘ইয়া আবা আব্দুল্লাহ আল হুসেইন’ সাংকেতিক নাম ধারণ করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, বাশারাত ফাতেহ’ অপারেশনে কাতারের উদেইদ ঘাঁটিকে ‘বিধ্বংসী এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু’ করে হামলা হয়েছে।

সিলেটে বন্ধুদের নিয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধ র্ষ ণ, স্বীকারোক্তী

সিলেটে বন্ধুদের নিয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষনের দায়ে দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হলে সাবেক স্বামী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুদ্দোজামান। এর আগে রবিবার বিকেলে কৃষকের ছদ্মবেশে দরবস্ত বাজার থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ফান্দু গ্রামের মৃত আবদুল কালামের ছেলে আবদুল মুমিন (৩০) ও একই ইউনিয়নের করগ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে বদরুল ইসলাম (৩০)। অপর অভিযুক্ত পলাতক।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে এক নারী ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুরের দরবস্ত বাজারে যান। এসময় তার প্রাক্তন স্বামী আবদুল মুমিন জরুরি কথা আছে বলে ছেলেকে গাড়িতে তুলে তার নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ওই নারীকে দরবস্ত ইউনিয়নের খড়িকাপুঞ্জি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে অবস্থান করছিলেন মুমিনের দুই বন্ধু। ওই নারীকে সেখানে শনিবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে মুমিন ও তার দুই বন্ধু ধর্ষন করে ফেলে যায়। গভীর রাতে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে ওই নারী তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রবিবার তিনি জৈন্তাপুর থানায় অভিযোগ করেন।
সিলেটে সাবেক স্বামীসহ তিনজনের ধ র্ষ নের শিকার গৃহবধু, কৃষক সেজে দুই ধ র্ষ ককে ধরলো পুলিশ
জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থানপুলিশের একটি দল কৃষকের ছদ্মবেশে দরবস্ত বাজারে অভিযান চালিয়ে মুমিন ও বদরুলকে গ্রেফতার করেন। সোমবার তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হলে ওই নারীর প্রাক্তন স্বামী আবদুল মুমিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতের বরাত দিয়ে ওসি বদরুজ্জামান জানান, প্রাক্তন স্বামী মুমিন ধর্ষনের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি কৌশলে তার প্রাক্তন স্ত্রীকে নির্জন জায়গায় নিয়ে দুইবন্ধুসহ ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে মুমিন। মামলার অপর আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভুল চিকিৎসা: ডা. স্বপ্নীলের সনদ ৫ বছরের জন্য স্থগিত

ল্যাবএইড হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সনদ ৫ বছরের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। আগামী ৫ বছর রোগী দেখতে পারবেন না তিনি।বাংলাদেশ পর্যটন প্যাকেজ

শনিবার (২১ জুন) বিএমডিসির সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২২ জুন) বিএমডিসির শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইসমাইল পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ৫ বছরের জন্য ওনার নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। যার ফলে আগামী ৫ বছর তিনি কোনো রোগী দেখতে পারবেন না। এছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১২ চিকিৎসকের সনদ স্থগিত করা হয়েছে।

ডা. ইসমাইল পাটোয়ারী বলেন, শনিবার বিএমডিসির সাধারণ সভায় বিভিন্ন সময়ে আসা অভিযোগেরগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে যাচাইবাছাই করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএমডিসি।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তদন্ত কমিটির রিপোর্টে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে রাহিব রেজার (৩১) মৃত্যুর ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ও তার টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর চিকিৎসা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়। একইসঙ্গে ল্যাবএইড হাসপাতালের এন্ডোস্কোপি ব্যবস্থাপনার ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে জানায় কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহিব রেজার শারীরিক প্রাক-পরীক্ষা মূল্যায়নের জন্য ডাক্তার স্বপ্নীল ও তার চিকিৎসক টিমের প্রয়োজনীয় পেশাগত দায়িত্ব ও উপযুক্ত দক্ষতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এন্ডোস্কোপি টিমের দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল না। এন্ডোস্কোপি রুমে প্রবেশ এবং অসুস্থতার পর আইসিইউতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ। তবে আইসিইউতে রোগীর চিকিৎসা যথাযথ ছিল। সব ব্যবস্থাপনার পর রাহিবের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক।

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, অধ্যাপক মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) নেতৃত্বে ডা. সুনান বিন ইসলাম ও ডা. মো. নাসিফ শাহরিয়ার ইসলামের অংশগ্রহণে আট ৮ সদস্যের টিম চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাহিব রেজার এন্ডোস্কোপি করেন। চারদিন পর এন্ডোস্কোপি পরবর্তী জটিলতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন রোগী। এমনকি চেতনানাশক প্রয়োগ করে এন্ডোস্কোপি করার জন্য রাহিব রেজা একজন উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তার ওজন বেশি ছিল (১২২ কেজি), তার অস্বাভাবিক ইসিজি এবং হৃদরোগ ছিল (ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি, লেস্ট ভেন্ট্রিকুলার ওয়াল গ্লোবাল হাইপোকাইনেসিয়া, রিডিউসড এলভি সিস্টোলিক ফাংশন ইএফ-৪৩ শতাংশ এবং পালমোনারি হাইপারটেনশন)।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়, রোগীর এন্ডোস্কোপি পরীক্ষার পূর্বে প্রাক-পরীক্ষা মূল্যায়ন এবং সতর্কতা পর্যাপ্ত ছিল না (এন্ডোস্কোপি এবং সিডেশনের আগে ঝুঁকি স্তরবিন্যাস কার্ডিয়াক, পালমোনারি এবং এয়ারওয়ে মূল্যায়ন)। রোগীর নিজের বা তার আইনি অভিভাবকের কাছ থেকে একটি বৈধ সম্মতিপত্র নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এর পরিবর্তে ল্যাবএইড এন্ডোস্কোপি টিম রোগীর বন্ধুর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্র গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এন্ডোস্কোপি পরীক্ষার দিন তালিকায় অতিরিক্তসংখ্যক (৬৭ জন) এন্ডোস্কোপি ছিল যা একটি সেশনে একজন এন্ডোস্কোপিস্ট দ্বারা সম্পন্ন হওয়ার জন্য অনেক বেশি। ফলশ্রুতিতে প্রতি রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত সময় অল্প হওয়ার কারণে অকার্যকর ও বিরূপ ফলাফল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি একজন ঝুঁকিপূর্ণ রোগীকে চেতনানাশক ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে এন্ডোস্কোপি পরীক্ষার জন্য (পরীক্ষাকালীন ও পরীক্ষা পরবর্তী মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ) প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ চিকিৎসক (এনেস্থেসিওলজিস্ট) নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাহিব রেজার মৃত্যু হয়। জানা যায়, পেটে গ্যাসজনিত সমস্যার কারণে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) কাছে যান রাহিব রেজা। এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ল্যাবএইডে এন্ডোস্কোপি করানোর পরামর্শ দেন ডা. স্বপ্নীল।

রোগীর স্বজনরা জানান, রাহিব রেজাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় খালি পেটে ল্যাবএইড হাসপাতালে আসতে বলা হয়। যথাসময়ে তিনি হাসপাতালে এলেও এন্ডোস্কপি শুরু হয় রাত ১১টার দিকে। এর দেড় ঘণ্টা পরও রোগীকে বাইরে না আনা হলে একজন জোর করে এন্ডোস্কোপি রুমে ঢুকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। এরপর অবস্থা জটিল হলে রাহিব রেজাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাতে সিডনির ভিসা, অথচ সিলেটে আইসিইউতে সামী

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ। ভিসা চলে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডমিশনের চিঠিও হাতে। জীবনের বড় স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। সেই আনন্দে ভাসছিল সুনামগঞ্জের মেধাবী তরুণ ইয়াহিয়া সামী ও তার পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই সব কেমন ওলটপালট হয়ে গেল। সেই ছেলেটি এখন শুয়ে আছে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে। মৃত্যুর সঙ্গে তার চলছে কঠিন যুদ্ধ । আর তার এই বেঁচে থাকার লড়াইয়ের খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।

২০২১ সালে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা ইয়াহিয়া সামী উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে। স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার পরও অক্লান্ত পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছিল মেধাবী সামী।

২০২৪ সালের ৫ মে সামী অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। ভিসাও চলে আসে সময়মতো। পরিবারে নেমে আসে আনন্দের বন্যা। কিন্তু ৪ জুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সামী। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গুরুতর মনে না হলেও, বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে—সামী আক্রান্ত হয়েছে বিরল নিউরোলজিক্যাল রোগ গুইলেন বার সিনড্রোমে।

জানা যায়, বিরল এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের স্নায়ুকে আক্রমণ করে। ফলে ধীরে ধীরে পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রোগী হাত-পা নাড়াতে পারেন না, এমনকি শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। আক্রান্তদের লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয় দীর্ঘ সময়।

সামী বর্তমানে সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার আইসিইউ ইউনিটের ভেন্টিলিশন বা লাইফ সাপোর্টে আছে। চিকিৎসক মতিউর রহমানের অধীনে চিকিৎসা চলছে তার।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগটি থেকে সামীকে সুস্থ করে তুলতে ইতোমধ্যে তাকে দিতে হয়েছে ৩০টি ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন, যেগুলোর প্রতিটির দাম প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা।

সামীর পরিবার জনায়, এই ইনজেকশনসহ ওষুধ, ভেন্টিলেটর খরচ, আইসিইউ বিল ইত্যাদি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ টাকা বিল আসছে হাসপাতাল থেকে। চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হবে—এজন্য প্রয়োজন আরও ২০-৩০ লাখ টাকা কিংবা তারও বেশি।

সামী সুনামগঞ্জের শহরতলীর আলীপাড়া এলাকার হোমিও চিকিৎসক এম আর শামীম ও গৃহিণী রুনা আক্তার দম্পতির বড় সন্তান। এক ভাই, এক বোনের মধ্যে সামী পরিবারের আশা-ভরসা। কিন্তু আজ সেই ছেলেটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছেন তার বাবা-মা। দোকান বিক্রি করেছেন, সঞ্চয় শেষ করেছেন। তবুও থেমে যেতে হচ্ছে, কারণ আর সামর্থ্য নেই।

সামী’র বাবাকে তার ছেলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন, ছেলের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার খবর যখন পেলাম, মনে হচ্ছিল আমাদের সব স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছি। কিন্তু আজ ওকে দেখে মনটা ভেঙে যায়। যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। এখন জানি না কীভাবে চালাব। আল্লাহর দয়ার পাশাপাশি সমাজের সহানুভূতিই এখন একমাত্র ভরসা।

সামীর চিকিৎসার খরচ যোগাতে তার বন্ধুরা এখন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, সামাজিক সংগঠনে ছুটছেন সহযোগিতার আশায়। ফেসবুকে পোস্টে আহ্বান করা হচ্ছে সামীকে সাহায্য করতে।

সামীর সাবেক সহপাঠী ইকরাম সিয়াম বলেন, সামীর স্বপ্ন যেন অর্থাভাবে থেমে না যায়, তাই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। সুনামগঞ্জের যারা সামর্থ্যবান, তাদের সবার কাছে অনুরোধ— আপনার একটুকু সহায়তা একটা প্রাণ বাঁচাতে পারে।

সামীর সহপাঠী ছাড়াও শহরের সেচ্চাসেবী অনেকেই সুনামগঞ্জ শহরে বিভিন্নস্থানে দাঁড়িয়ে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করছেন। ফেসবুকে চলছে হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইন, লাইভ, ভিডিও বার্তা। উদ্দেশ্য একটাই—মেধাবী তরুণ ইয়াহিয়া সামী যেন টাকার কাছে হেরে না যায়। সামী যেন হেরে না যায় জীবনের কাছে, যেন ফিরে আসে তার স্বপ্নের পথে। সেজন্য সমাজের বিবেকবান মানুষের সহানুভূতি চেয়েছে তার পরিবার ও বন্ধুরা।

মেধাবী সামীর প্রাণ রক্ষায় মায়ের ব্যাংক একাউন্ট: Mst Runa Akter Chowdhury, A/c 620110 3433 672001, Brac Bank, Sunamgonj Branch, Bangladesh) ও বিকাশ (পারসোনাল) মতিউর রহমান শামীম তালুকদার ০১৬৭৭৮৯৫৮৮২ নাম্বারে অর্থ সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।

সিলেট থেকে পণ্য নিয়ে স্পেনের উদ্দেশ্যে উড়াল দিলো ১১তম কার্গো ফ্লাইট

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরোপের স্পেনের জারাগোজা এয়ারপোর্টের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে আরো একটি চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে ‘গেলিস্ট এয়ার’র কার্গো উড়োজাহাজটি সিলেট ত্যাগ করে। এর মধ্য দিয়ে ৬০ টন পণ্য নিয়ে সিলেট ছাড়লো ১১তম কার্গো ফ্লাইট। শুক্রবার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপন মো: হাফিজ আহমদ।

তিনি জানান, বাংলাদেশের তৈরি রফতানিযোগ্য বিভিন্ন গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে উড়োজাহাজটি স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া এগারোতম কার্গো ফ্লাইট এটি।

তিনি আরো জানান, শুরুর দিকে প্রতিসপ্তাহে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হলেও এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে দুটি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী রোববার আরো একটি ফ্লাইট সিলেট থেকে ছেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু হয়। স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে এটি ছিল একটি মাইলফলক ঘটনা। প্রথম ফ্লাইটে ঢাকার তিনটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৬০ টন গার্মেন্টস পণ্য পাঠানো হয় স্পেনের জারাগোজায়।

জকিগঞ্জে বিয়ের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে!

সিলেটের জকিগঞ্জে বিয়ের আনন্দ ঘিরে ধরল মৃত্যুর বিষাদে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আত্মীয় স্বজনরা নববধূ নিয়ে মাইক্রোবাস চেপে হৈ চৈ করে বাড়ি ফেরার পথে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় শিশুসহ দুজনের মৃত্যুতে সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সোনাসারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলার মানিকপুর ইউপির বাল্লাহ গ্রামের জামাল আহমদের ছেলে আবুল কালামের সঙ্গে কাজলসার ইউপির কড়ইমুড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে রোজিনা আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো।

সেন্টারের আনুষ্ঠানিকতা সেরে বর-কনের গাড়িতে চেপে আত্মীয় স্বজনরা নববধূ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কসকনকপুর ইউপি এলাকায় পৌঁছার পর জকিগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের ইউনিয়ন অফিস বাজারের নিকটে বর-কনের মাইক্রোবাস গাড়ির সঙ্গে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইজিবাইক চালক শাহাবুদ্দীন (৪৮)। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বর-কনের গাড়িতে থাকা নারী, শিশু, পুরুষ, বর-কনে মিলিয়ে প্রায় ৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাৎক্ষণিক সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়।সিলেট ভ্রমণ গাইড

বৃহস্পতিবার সকালে আহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মুরসালিন নামের তিনমাস বয়সী শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটের একটি হাসপাতালে মারা যায়। ওই দিন দুপুর আড়াইটার সময় শিশুটির গ্রামের বাড়ি শাহজালালপুর (পুরকায়স্থবাড়ি)’র সামনে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। নিহত শিশু জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের শাহজালালপুর (পুরকায়স্থ বাড়ি) গ্রামের ছাব্বির আহমদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মামা’র বিয়ের অনুষ্ঠানে মায়ের কোলে বসে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছিলো শিশু আব্দুল্লাহ আল মুরসালিন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনের গাড়িতে চেপে আত্মীয় স্বজনরা নববধূ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে শিশু মুরসালিনও গুরুতর আহত হয়েছিলো। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

এদিকে, নববধূ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শিশুসহ দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্লাহ গ্রামের জামাল আহমদের ছেলে আবুল কালামের বিয়ে বাড়ির সব আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে বিষাদে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাকে ঘিরে স্বজন আর পাড়া-প্রতিবেশীর মনে যখন আনন্দ আর উৎসবের ঘনঘটা। তখনই নেমে এলো অমানিশার অন্ধকার। বর্ণিল উৎসবে শুরু হলো শোকের মাতম! বিয়ে বাড়িতে চলছে আহাজারি। আশপাশ এলাকার লোকজনও তাদের শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন নি। নিহতদের পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কুলাউড়ায় নাফিসা হত্যাকান্ড নিয়ে রহস্য : আদালতে নিরব জুনেল

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার আলোচিত স্কুলছাত্রী নাফিসা জান্নাত আনজুম (১৫) হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত খুনি জুনেল মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরলেও আদালতে খুনের ঘটনা স্বীকার করেননি জুনেল ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আরিফ বিল্লাহ তারেকের খাস কামরায় অভিযুক্ত জুনেলকে হাজির করা হয়। তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালতের সামনে জুনেল কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আনজুমকে কীভাবে হত্যা করেছে- তার বিস্তারিত বিবরণ দেয় জুনেল। কিন্তু আদালতে সে পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করে। এতে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। এদিন পুলিশ জুনেলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন আনজুমের পরিবার ও এলাকাবাসী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আদালতে জুনেল স্বীকারোক্তি দেয়নি। সে এখন প্রতারণার আশ্রয় নিতে চাইছে। আমরা তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তা নামঞ্জুর হয়েছে। তবে আমরা পুনরায় রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করবো।’

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন সকালে কোচিং ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আনজুম। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে ওই দিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা। পরে ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে আনজুমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: সিলেটভিউ২৪ডটকম

ট্রাকচাপায় নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

সিলেট নগরে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশা আরোহী এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মো. আব্দুল কাদির (৩৯) মোগলাবাজার থানার করিমপুর গ্রামের মো. দরছ আলীর ছেলে। তিনি সিলেটের বাদামবাগিচা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ৮ জুন বেলা ১১টার দিকে সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকার জিতু মিয়ার পয়েন্ট এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক এসে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। তখন রিকশার যাত্রী চিকিৎসক রহিমা খানম জেসি (৩২) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা ৩টার দিকে তিনি মারা যান। এই ট্রাকের চালক আব্দুল কাদির ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা নিহত চিকিৎসক জেসি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ট্রাকচালক আব্দুল কাদির বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। পাঁচ দিন রিমান্ডের আবেদন করে তাঁকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

সিলেটে আত্নীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যু

বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন স্বামীসহ তিন সন্তান নিয়ে। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ধরে যাচ্ছিলেন নির্ধারিত গন্তব্যে। কিন্তু তা আর হলোনা। পাঁচজনের মধ্যে ১০ বছরের শিশু সিয়ামকে নিয়ে ঝর্না বেগম নিজে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। আর স্বামীসহ অপর দুই ছেলে-মেয়ে ওসমানীর বেডে শুয়ে লড়ছেন মৃত্যুর সাথে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার সিলাম আকিলপুরের জুনেদ আহমদের পরিবারে ঘটে যাওয়া ট্র্যাজিডিতে শোকে মুহ্যমান গোটা এলাকাবাসী।সিলেট ভ্রমণ গাইড

বুধবার (১৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোগলাবাজার থানার শ্রীরামপুরে জুনেদ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তাকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন জুনেদের স্ত্রী ঝর্না বেগম (৩৫)।

মোগলাবাজার থানাপুলিশ স্থানীয়দের সহযোগীতায় জুনেদ ও তার তিন ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করে পাঠায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তিনজনকেই ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়। তবে বিকেল ৪টার দিকে খবর পাওয়া যায়, ঝর্না-জুনেদ দম্পতির তিন সন্তানের একজন সিয়াম। মাত্র ১০ বছর বয়সেই সেও মায়ের সহযাত্রী হল।

জুনেদ এবং তার অপর ছেলে ও মেয়েকে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে আবার জুনেদের অবস্থা গুরুতর।

ঝর্না ও সিয়ামের মৃত্যুর খবরে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের গ্রাম সিলাম আকিলপুরের লোকজনও শোকাহত।

এ রিপোর্ট লেখার সময় (বুধবার রাত ৮টা) পর্যন্ত, জুনেদ ও তার দুই ছেলে-মেয়ে ওসমানীতে চিকিৎসাধীন। আর ঝর্না এবং সিয়ামের লাশও হাসপাতালের মর্গে। জানাজাসহ দাফন-কাফনের সময় নিয়ে তাদের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে গ্রামবাসীর আলাপ আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।