Thursday, April 16, 2026
Home Blog Page 58

জুড়ীতে বন্যার পানিতে পড়ে এক ছাত্রের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বন্যার পানিতে পড়ে এক ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার জাফর নগর ইউনিয়নের মনতৈল গ্রামের মোঃ পাখি মিয়া মিয়ার ছোট ছেলে জালালিয়া হাফিজি মাদ্রাসার ছাত্র মো রিয়াদ আহমদ (১৩) সোমবার (২ জুলাই) বিকেলে বন্ধুদের সাথে কাপনা পাহাড় চা বাগানের গাছ থেকে পাখির বাচ্চা সংগ্রহ করতে গিয়েছিল।

সেখান থেকে আসার পথে অনুমান বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটের সময় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় হঠাৎ পা পিছলে সে পানিতে পড়ে যায়। তখন সাঁতার জানা না তাকায় পানির স্রোতে সে ভেসে যায়। পরে তার সাথে থাকা সহকর্মীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তাকে উদ্ধার করে জুডী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুড়ী থানার ওসি মোরশেদুল ইসলাম ভূঁইয়া এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা বড় দুঃখজনক। বন্যার পানি এসেছে। এ ব্যাপারে তিনি সকলকে সাবধান থাকতে অনুরোধ করেছেন।

ভাঙলো কুশিয়ারার ডাইক, ভাসছে জকিগঞ্জ

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানে আসামের পাহাড়ী এলাকায় ভারি বর্ষনের কারণে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কুশিয়ারা নদীর তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলার ওই তিন স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। সৃষ্ট বন্যার কারণে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ডুবতে শুরু করেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কুশিয়ারার ডাইকে আরও ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রারাই গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীর ডাইক দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। সোমবার ভোররাতে একই ইউনিয়নের বাখরশাল ও সকাল ৮টার দিকে খলাছড়া ইউনিয়নের লোহারমহল গ্রামের পাশে কুশিয়ারা নদীল ডাইক ভেঙে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে।

এ ছাড়া জকিগঞ্জ পৌর শহরের নিকটবর্তী কেছরী গ্রামের পাশে ডাইকের ওপর দিয়ে শহরে ঢুকছে কুশিয়ারার পানি। মাইজকান্দি গ্রামের কাছে ডাইকের একাংশ ধসে পড়েছে নদীতে। জকিগঞ্জ ইউনিয়নের ছবড়িয়া, সেনাপতিরচক, সুলতানপুর ইউনিয়নের ইছাপুর, খলাছড়া ইউনিয়নের একাধিক স্থান, বারঠাকুরী ইউনিয়নের পিল্লাকান্দি ও আমলশীদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক জায়গায় ডাইকের ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বালু ও মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে ডাইক রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রারাই গ্রামের প্রায় ১শ ফুট ও বাখরশাল গ্রামে ৪০-৫০ ফুট, খলাছড়া ইউনিয়নের লোহারমহল এলাকার ৩০-৪০ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ভাঙলো কুশিয়ারার ডাইক, ভাসছে জকিগঞ্জ
এদিকে, ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আশঙ্কাজনকভাবে কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীরবর্তী এলাকার লোকজনের বসতঘরে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে গেছে। রোববার রাত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া শুরু করেছেন। উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।

নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন জানান, কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় জকিগঞ্জে বারবার বন্যা হচ্ছে। রবিবার থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ সেদিকে নজর দেয়নি। নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ বন্ধের জন্য বারবার বস্তার চাহিদা জানানো হলেও সরবরাহ করা হয়নি। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, প্রশাসন সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছে। বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে কতটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন নি ইউএনও। তবে প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিলেটে ৬ লাখ টাকার পণ্য ছিনতাই : ৩ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার, গ্রেফতার ২

সিলেটে শুটকিসহ ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার ৩ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ছিনতাই হওয়া শুটকিসহ ট্রাক এবং ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার দড়িকিশোরপুর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে সাইদুল হক (২৭) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন থানার কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত ইদু মিয়ার ছেলে আরজান মিয়া (২৩)।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে একটি ট্রাকে করে বিভিন্ন জাতের ৮২ বস্তা মাছের শুটকি যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ লাখ টাকা লামাকাজী থেকে হবিগঞ্জ নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় জালালাবাদ থানাধীন শেখপাড়া বাইপাস তেমুখী পয়েন্টে পৌঁছালে ৬-৭ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে মোটরসাইকেলে এসে ট্রাকের গতিরোধ করে। ধারালো চাকু ও অস্ত্রের মুখে চালক কাউছার আহমদ (২৬) ও হেলপার রানা (২৭)-কে জিম্মি করে শুটকি বোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ কোতোয়ালী থানার টহল পুলিশের সহায়তায় পৌনে ১২টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানার নবাবরোড এলাকা থেকে দুইজন ছিনতাইকারীকে ট্রাকসহ গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইকৃত ১০ বস্তা শুঁটকি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

ধর্ম নিয়ে মিথ্যা কথা, অপু বিশ্বাসকে ক্ষমা চাইতে বললেন জয়

বাংলাদেশের মেগাস্টার শাকিব খান ও ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ২০০৮ সালে প্রেম করে গোপনে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘদিন এ খবর গোপন রেখেছিলেন তারা। এরপর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল অপু টেলিভিশনের এক লাইভ অনুষ্ঠানে ছেলে জয়কে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন। তবে সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

এদিকে বিয়ের খবর প্রকাশের পর গুজব ওঠে যে অপু বিশ্বাস হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। যদিও অপু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসলে তিনি বরাবরই হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে মিথ্যা বলতে হয়েছিল ক্যারিয়ার এবং সন্তানের কথা ভেবে।

যে সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস এ কথা বলেছিলেন, তার সঞ্চালনায় ছিলেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। বিষয়টি নিয়ে ফের সংবাদ ও বিতর্ক তৈরি হতেই সামাজিক মাধ্যমে অপুর উদ্দেশ্যে একটি পোস্ট দিলেন জয়। পোস্টে তিনি অপুর উদ্দেশে বলেন, প্রিয় অপু বিশ্বাস৷ ধর্ম নিয়ে মিথ্যা কথা বলা যায় না।
ধর্ম নিয়ে মিথ্যা কথা, অপু বিশ্বাসকে ক্ষমা চাইতে বললেন জয়
ধর্ম নিয়ে মিথ্যে মানে তুমি একবার বিশ্বাস করছো আল্লাহকে। আরেকবার বলছো বিশ্বাস করো না। মুসলমান ভাই বোনেরা তোমার এই মিথ্যাতে কষ্ট পেয়েছে। একইভাবে তোমার ধর্মের মানুষও তাতে বিব্রত হয়েছে। ক্যারিয়ার স্বামী সন্তান সব কিছুকে ব্যালেন্স করতে গিয়ে তুমি যে মিথ্যার আশ্রয়টি নিয়েছো তা তোমাকে আশ্রয়হীন বানিয়ে দিয়েছে। তোমার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষমা করে দেওয়া এই দুটোই অনেক বড় মহত্ত্বের কাজ। তুমি মহৎ হও অন্যরাও তোমার সাথে মহত্ত্বের পরিচয় দেবে।

তবে অপুর এই সত্যিটা প্রকাশ্যে আনার কারণস্বরূপ তিনি বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমি যদি মারা যাই তখন আমার কাছের ভাই-বন্ধুরা আছেন। আমার যে অনুরাগী বা দর্শকরা আছেন তারা আমাকে কী করবে? মাটি দেবে নাকি আগুনে পুড়াবে? মানুষ তো তখন দ্বিধায় পড়ে যাবে। শাকিব খানের সঙ্গে তো আমার সম্পর্ক নেই। এই জন্য সত্য তো আমাকে বলতেই হতো।

বিয়ানীবাজারের শেওলায় বিপদসীমার উপরে কুশিয়ারার পানি

টানা বর্ষণ চলছে সিলেট বিয়ানীবাজারজুড়ে। আবার উজানে ভারতের আসাম এবং মেঘালয়েও হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। এর পানিও নেমে আসছে। এ অবস্থায় বিয়ানীবাজার উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু অংশ ডুবে গেছে। ফুঁসছে সুরমা-কুশিয়ারাও। বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও যখন তখন দু’কূল ছাপিয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখী হতে পারে বিয়ানীবাজার উপজেলা।

গত কয়েকদিন ধরেই এ অঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বন্যার আশঙ্কায় বিয়ানীবাজারে ৬৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিরণ মাহমুদকে প্রধান করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এদিকে আবার ক্ষনে ক্ষনে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সুরমা কুশিয়ারার পানি। শুক্রবার বিকেলেও বিপৎসীমার কয়েক ফুট নিচে থাকলেও রাতেই তা আশঙ্কাজনক পর্যায়ের দিকে যেতে থাকে। সুরমা-কুশিয়ারা যেভাবে ফুঁসছে, যখন তখন বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কুশিয়ারার পানি আমলসীদে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিল বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৪২ মিটার নিচে। শনিবার দুপুর ১২টায় এ পয়েন্টে পানি বইছিল বিপৎসীমার ২ দশমিক ৪৭ মিটার নিচ দিয়ে। এ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানি ছিল বিপৎসীমার দুই দশমিক ৯২ মিটার নিচে। ৬ ঘন্টার ব্যবধানে এ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৪৫ সেন্টিমিটার।

শেওলা পয়েন্টেও যথারীতি ফুঁসছে কুশিয়ারা। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে পানি ছিল বিপৎসীমার ৪ দশমিক শুণ্য ৪ মিটার নিচে। শনিবার সকাল ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার নিচে। আর বিকের ৩টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ২ দশমিক ৬৫ মিটার নিচে। অর্থ্যাৎ এ পয়েন্টে ৯ ঘন্টায় পানি বেড়েছে ৬২ সেন্টিমিটার।

সিলেটে গভীর রাতে টিলা ধসে এক পরিবারের চারজন নিহত, তিনজনের লাশ উদ্ধার

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিতে টিলা ধসে পড়ে এক পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ঢাকা দক্ষিণ বখতিয়ারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার সকাল পৌনে সাতটায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল আটটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় অন্যজনের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন মাটিচাপা পড়া বাড়ির মালিক রিয়াজ উদ্দিন (৫০) ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম। এ ছাড়া তাঁদের সন্তান সামিয়া খাতুন (১৫) ও আব্বাস উদ্দিন (১৩) নিহত হয়েছে। তবে রিয়াজ ছাড়া অন্যদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদ। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রতিনিধিদের যৌথ সমন্বয়ে অভিযান চলছে। তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজনের লাশ মাটির গভীরে আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরেই গোলাপগঞ্জে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল রাত দুইটার দিকে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ঢাকা দক্ষিণ বখতিয়ারঘাট এলাকায় আলভিনা গার্ডেনের বিপরীতে একটি বাড়ির পাশের টিলা ধসে পড়লে রিয়াজ উদ্দিনের ঘর চাপা পড়ে। এ সময় মাটিচাপা পড়েন রিয়াজ উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই সন্তান।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান আজ ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে বলেন, রাত দুইটার দিকে টিলা ধসের পরপরই ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা দীর্ঘসময়েও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন মাটি সরানোর চেষ্টা করলেও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যর্থ হন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ভারী বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ে ছিল। তাই তাৎক্ষণিক খবর পেলেও উদ্ধারকারী দল দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

সিলেটে নৌকা চালিয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা তাজুলের

তাজুল ছিলেন জীবিকার সন্ধানে। কিন্তু কাজ শেষে আর বাড়ি হলোনা তার। কানাইঘাটের সুরমা নদীতে যাত্রীবাহী নৌকার উপরে বজ্রপাতে নিহত হলেন তিনি।

এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে চাপনগর গ্রামের সুরমা নদীতে।

জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপ্রসাদ নয়াগ্রাম গ্রামের মৃত হবিবুর রহমানের পুত্র তাজুল ইসলাম (৩৬) কানাইঘাট সুরমা নদীর খেওয়াঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে নিজস্ব ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে লোভাছড়া বাগান-বাগিচা ঘাটে যাচ্ছিলেন।

সুরমা নদীর চাপনগর খেওয়াঘাট এলাকায় আসলে ভারি বর্ষণের সাথে হঠাৎ করে বজ্রপাত নৌকার উপর পড়লে তাজুল ইসলাম নৌকা থেকে নদীর পানিতে পড়ে তলিয়ে যান। এ সময় নৌকার যাত্রী উত্তর লক্ষীপ্রসাদ কুকুবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও শামীম আহমদ নামে আরো দু’জন আহত হন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে তাজুল ইসলামকে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে চাপনগর খেওয়াঘাটের অদূরে সুরমা নদীতে তাঁর নিথর দেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজন তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাজুল ইসলাম তার নিজস্ব ইঞ্জিন চালিত নৌকার চালক হলেও দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় ফুটবল সহ অন্যান্য খেলাধূলার সাথে জড়িত ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনের সাথে তার সম্পর্ক থাকায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কানাইঘাটের ক্রীড়াঙ্গন সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাজুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন গভীর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

নিহতের ছোট ভাই নজমুল ইসলাম জানান, তাজুল ইসলাম বিবাহিত, তার ৬ বছর বয়সের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, বজ্রপাতে তাজুল ইসলাম মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। তাঁর লাশ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সিলেটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনজীবন বিপর্যস্ত

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শনিবার (৩১ মে) দুপুর ১টার পর থেকে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে যায়। এতে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট নগরের কাজলশাহ, মেজরটিলা, চৌহাট্টা, দরগাহ মহল্লা, পাঠানটুলা, হাওয়াপাড়া, লালাদিঘীর পার, ঘাসিটুলা, বন্দরবাজার, টিলাগড়, লামাবাজার ও সুবিদবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দরগা মহল্লা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আজমল আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়। দুপুরের পর শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আমার বাসায় পানি ডুকেছে। হঠাৎ আসা এই পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফসানা রহমান বলেন, প্রতিবার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। এইটা তো বন্যা নয়। সিটি করপোরেশন ড্রেন পরিষ্কার করার কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে কিছু হয় না। আমাদের দুর্ভোগ যেন শেষ হয় না।

সিলেটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনজীবন বিপর্যস্ত
সিলেটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, জনজীবন বিপর্যস্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় পানি জমেছে। আমরা জরুরিভিত্তিতে ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চালাচ্ছি। তবে জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বিয়ানীবাজারে ট্রাক চাপায় কলেজ ছাত্রী নিহত

বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিন বাজারে মোটরসাইকেল ও সিমেন্টবাহি কাভার্ড ভ্যানের মাঝে পড়ে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকালে দক্ষিন বাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্রীর নাম সুহেনা আক্তার (২২)।

সে পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার আলিমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। সে বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা যায়, স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ছাত্রী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যানের সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি তদন্ত ছবেদ আলী জানান, দুর্ঘটনায় এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুর খবর শুনেছি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে।

মাটি খাওয়া ‘শাহী বাবা’ আসলে প্রতারক! দিরাইয়ে কোরবানির টাকা লুট!

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের মধ্যবাজারে পচা বালু ও কাদা মাটি খাওয়া এক অদ্ভুত বয়স্ক ব্যক্তিকে ঘিরে সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছিল চাঞ্চল্য। নিজেকে ‘শাহী বাবা’ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন- তিনি সারা দেশে ঘুরে বেড়ান এবং আত্মিক শক্তি অর্জনের জন্য মাটি খান। তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ পেলো তার প্রতারণার এক ভয়ানক কাহিনী।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শ্যামল দাস জানান, ২৭ মে রাতে মধ্যবাজারে হঠাৎ এক বয়স্ক ব্যক্তি ‘ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট’—এর সামনে ড্রেনের পাশে বসে ময়লা, বালু ও কাদা মাটি খেতে শুরু করেন। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং রহস্যজনক।

শ্যামল জানান, ওই ঘটনার পর বিক্রম নামে একজন ব্যক্তি তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। তখন শাহী বাবা নামে ওই বয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত সদস্যদের যে খাবারই দিয়েছে তারা তাতে অকল্পনীয় স্বাদ পেয়েছে। শ্যামল বলেন, এরপর শাহী বাবাকে আমার দোকানে নিয়ে আসলে আমিও তার কথাবার্তা ও আচরণে মুগ্ধ হই। সাধু, সুফিদের প্রতি আমি এমনিতে একটু দুর্বল।তিনি বলেন, তখন ‘শাহী বাবা’ নামের লোকটি সিলেট শাহজালাল (রঃ) মাজারে যাবার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। আমরা তাকে বলি আপনি অবশ্যই যাবেন, প্রয়োজনে আমরা আপনাকে পৌঁছে দিব।সিলেট ভ্রমণ প্যাকেজ

তারপর কথামত রাত ১১ টায় মোটরসাইকেল করে আমি লোকটিকে নিয়ে যেতে চাইলে সেই সময় আমার এক বন্ধুও যেতে চায়। ভাবলাম আরেকজন সাথে গেলে ভালই হবে। তিনজন মোটরসাইকেল করে রওনা দেই। গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে পৌঁছে ‘শাহী বাবা’ সিগারেট আনতে বলেন। আমি সিগারেট আনতে যাই তখন আমার বন্ধু একা ‘শাহী বাবা’র সঙ্গে ছিলেন।

পরদিন ২৯ মে বন্ধু জানায়, সেই সময় ‘শাহী বাবা’ তার নাকের কাছে কিছু একটা ধরেন এবং তারপর তার কাছ থেকে মানিব্যাগসহ ৮২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ওই টাকা ঈদের কুরবানির গরু কেনার জন্য এক ব্যক্তি তাকে দিয়েছিলেন।

শ্যামল বলেন, আমি কখনও ভাবতে পারিনি সকালে দেওয়া টাকাটা রাতেও তার সাথে ছিল। জানলে কখনও সাথে নিয়ে যেতে দিতাম না বলে তিনি জানান।প্রতারণার ধরন ছিল এতটাই চতুর, যে শ্যামলের বন্ধুকে ‘শাহী বাবা’ এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, সে কিছুতেই ঘটনার কথা জানাতে পারেননি। তার মন—মস্তিষ্কে তখনও ঘুরপাক খাচ্ছিল শাহী বাবার দেওয়া কথাগুলো।

ঘটনার পর বাজারের অনেকে ধারণা করছেন, ‘শাহী বাবা’ আসলে একজন প্রতারক যিনি অলৌকিকতার ছদ্মবেশে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন তিনি ৭০ বছর ধরে মাটি খাচ্ছেন এবং তার বয়স ৮৫ বছর। কেউ কেউ একে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বললেও এখন বোঝা যাচ্ছে এটি ছিল একটি অভিনব প্রতারণার কৌশল। স্থানীয়রা অনুরোধ করেছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের উচিত ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণকে সতর্ক করা।