Saturday, April 18, 2026
Home Blog Page 61

শেখ হাসিনার আমলে হওয়া সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য বলেছি। সেই সময় শেখ হাসিনা একটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল। ভোটের অধিকার হরণ করেছিল। রাতে ভোট হয়েছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সে দায়িত্ব সম্পূর্ণ করেই তিনি যেন সিদ্ধান্ত নেন যেকোনো বিষয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, সেই বিষয়ে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনো সব শহীদ পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি। মাসিক ভাতা দেওয়ার কথা ছিল সে ভাতার কার্যক্রম শুরু হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সব প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য বলেছি। সেই সময় শেখ হাসিনা একটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল। ভোটের অধিকার হরণ করেছিল। রাতে ভোট হয়েছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোকে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা যাতে করা হয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান। গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের কথা বলেছি। এ তিনটি নিয়ে সমন্বিত একটি পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ যাতে সরকার একত্রে ঘোষণা করে। জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ আসতে পারে বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জুলাই সময়ের মধ্যে যে নির্বাচন হবে সেটিরও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।

বিয়ের আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন দিব্যা, নাম রাখেন সানা নাদিয়াদওয়ালা

ভিউকার্ড ও পোস্টারের সেই দিনগুলোর কথা মনে আছে? নব্বই দশকের সেই দিনগুলোর কথা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে হকার বসতেন পোস্টার নিয়ে। পাড়া-মহল্লায় বই-খাতা বিক্রির দোকান, এমনকি মুদিদোকানেও বিক্রি হতো ভিউকার্ড। উৎসব-পার্বণে মেলা বসত। সেসব মেলায় কিছু দোকান থাকত, যেখানে তারকাদের মুখাবয়ব-সমৃদ্ধ পোস্টার বিক্রি হতো। সেসব পোস্টার-ভিউকার্ডে একটা মুখ খুব দেখা যেত, তিনি বলিউড অভিনেত্রীদিব্যা ভারতী।

মাত্র চার বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে ২২টি সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে দিব্যা ভারতী। ‘সাত সামুন্দার পার’ অথবা ‘অ্যায়সে দিওয়ানে হি’ গান শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে এই মিষ্টি নায়িকার মুখ।

দিব্যার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে নাটকীয়তার শেষ নেই। অষ্টাদশী দিব্যার প্রেম-বিয়ে, ধর্মান্তর এবং রহস্যজনক মৃত্যু তার জীবনের জার্নিতে নানা লেয়ার তৈরি করেছে।

সিয়াসাতের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৯২ সালের ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পায় দিব্যা ভারতী অভিনীত ‘শোলা আউর শবনম’ সিনেমা। এ সিনেমার শুটিং সেটে পরিচয় হয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে। অভিনেতা গোবিন্দর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুবাদে ‘শোলা আউর শবনম’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন বেশ কয়েকবার তাদের দেখা হয়। সেখান থেকেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তা প্রেমে রূপ নেয়। ১০ মাস ডেট করেন তারা। এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এই যুগল।

১৯৯২ সালের ১০ মে, সাজিদের মুম্বাইয়ের বাড়িতে গোপনে বিয়ে করেন তারা। দিব্যার বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। বিয়ের খবর গোপন রাখেন। বিশেষ করে দিব্যার বাবার কাছে। কারণ এতে করে দিব্যার ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন এই অভিনেত্রী। বিয়েতে মাত্র কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন— বিয়ের কাজী, দিব্যার বন্ধু সন্ধ্যা এবং তার হেয়ার স্টাইলিস্ট। তবে বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন দিব্যা। নাম বদলে রাখেন সানা নাদিয়াদওয়ালা। ইসলামি রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করেন তারা।

১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল দিব্যা ভারতী মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর। দিব্যা-সাজিদের সংসার জীবন ছিল মাত্র ১০ মাস ২৬ দিনের। দিব্যার অকাল প্রয়াণ নিয়ে তৈরি হয় নানা জটিলতা। দানা বাঁধে রহস্য। প্রশ্ন উঠে— এটি নিছক দুর্ঘটনা না কি পরিকল্পিত হত্যা?

জানা যায়, দিব্যার মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ডিজাইনার নীতা লুলা ও তার স্বামী ডা. শ্যাম লুলা। ওই দিন দিব্যার বাড়িতে এসেছিলেন তারা। সে সময় দিব্যার স্বামী প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা বাড়িতে ছিলেন না। বিষণ্ন দিব্যা সেদিন মদ পান করেছিলেন। লুলা দম্পতির সঙ্গে কথা বলতে বলতে রান্না ঘরে যান দিব্যা; এরপর হল রুমে ফিরে আসেন। তারপর টিভি চালু করে ব্যালকনির ওপরের অংশে বসেন। দিব্যা প্রায়ই সেখানে বসতেন। কিন্তু সেদিন দুর্ভাগ্যক্রমে পিছলে নিচে পড়ে যান। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিব্যা ভারতীর ভক্তরা এটিকে দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। এর কিছু কারণও আছে। ২০১১ সালে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানায়, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। “দিব্যাকে গুলি করে মারা হয়েছে”— হঠাৎ এই খবরে অনেকেই হতবাক হন! বলা হয়েছিল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র রয়েছে এই ঘটনায়। কিন্তু খবরটি গুজব জানার কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন করে জানা যায়, সত্যি সত্যি দিব্যা ভারতী আর এই পৃথিবীতে নেই!

সেই সময় দিব্যার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু স্টারডাস্ট-কে বলেন, মৃত্যুর আগে দিব্যা অনেক বিষণ্ণ ছিল। মৃত্যুর আগের রাতে পার্টি থেকে কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় ফেরেন। রাতে সাজিদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। কারণ বাড়িতে তখন সাজিদ ছিলেন না। দিব্যা ফোনে তাকে বলেছিলেন, যদি দশ মিনিটের মধ্যে না ফেরো তাহলে আমাকে আর দেখতে পাবে না।’ কিন্তু সাজিদ স্ত্রীর কথার গুরুত্ব দেননি।
বিয়ের আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন দিব্যা, নাম রাখেন সানা নাদিয়াদওয়ালা
স্টারডাস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিয়ে নিয়ে দিব্যা ও সাজিদের মধ্যে সমস্যা চলছিল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সাজিদের মেলামেশা দিব্যা পছন্দ করেননি। আবার অনেকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আর গোপন করতে চাইছিলেন না এই অভিনেত্রী। কিন্তু সাজিদ চাচ্ছিলেন না বিয়ের খবর এখনই সবাই জানুক। এ-ও শোনা যায়, প্রযোজক ভিকি ও নায়ক কমল সাদানার সঙ্গে দিব্যার ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারছিলেন না সাজিদ।

এক সাক্ষাৎকারে দিব্যার বাবা ওম প্রকাশ ভারতী বলেছিলেন, আমি জানি না আধ ঘণ্টায় মানুষ কতটা মদ খেতে পারে? তবে বিষণ্ন হওয়ার মতো মেয়ে দিব্যা ছিল না। সে ব্যালকনির রেলিংয়ে বসেছিল, ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। অন্যদিন নিচে গাড়ি থাকত কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন ছিল না। সে সরাসরি মাটিতে গিয়ে পড়ে এবং মারা যায়। এই সত্য আমাদের মেনে নিতে হবে।

এরপরও দিব্যার মত্যু নিয়ে জল বহুদূর গড়ায়। বিশেষ করে সাজিদের কিছু মন্তব্য, দিব্যাকে বিয়ের কথা অস্বীকার ভক্তদের মনে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দিব্যার শেষকৃত্য মুসলিম নাকি হিন্দু রীতিতে হবে এ নিয়েও অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। যদিও হিন্দু রীতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তার। এরপর দিব্যার মৃত্যুর তদন্ত অনেক দিন চলে। ১৯৯৮ সালে মুম্বাই পুলিশ দিব্যার মৃত্যুকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে ফাইলটি বন্ধ করে দেয়।

১৯৯০ সালের ৫ জুলাই তামিল ভাষার ‘নীলা পেন্নি’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে অভিষেক ঘটে দিব্যার। ১৯৯২ সালে ‘বিশ্বাত্মা’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে। এ সিনেমা মুক্তির পর বলিউডে আলোড়ন ফেলে দেন দিব্যা। একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিওয়ানা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেন এই অভিনেত্রী। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির ‘তেরা নাম রাখ দিয়া’ গানের জনপ্রিয়তায় বর্ষসেরা সিনেমার তকমাও পায় ‘দিওয়ানা’।

মিষ্টি হাসি আর অভিনয় দক্ষতার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে শাহরুখ খান, গোবিন্দ, ঋষি কাপুর, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ১৩টি বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়ান দিব্যা। একেবারে সব্যসাচীর মতো তেলেগু-হিন্দি সিনেমায় সমানভাবে রাজত্ব করতে থাকেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে অসমাপ্ত রয়ে যায় বেশ কটি সিনেমা। পরে প্রতিটি সিনেমায় নতুন নায়িকাদের নিয়ে সিনেমার কাজ শেষ করেন নির্মাতারা।

দেশে ফেরা হলোনা সিলেটের সাইফুলের : সৌদির সড়কে প্রাণ গেলো তার

কয়েক দিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল সাইফুল ইসলামের (২৮)। কর্মস্থলে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা করতে আরেক সহকর্মীকে নিয়ে গাড়িতে করে শহরে যাচ্ছিলেন। পথে উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গাড়ি উল্টে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে দেশটির রাজধানী রিয়াদের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের পূর্ব বেলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা শারজান মিয়ার ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাইফুল সবার বড় ছিলেন। উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় সাইফুলদের বহনকারী গাড়িটি। পরে পুলিশ গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।

সাইফুলদের আত্মীয় পূর্ব বেলাগাঁওয়ের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম গতকাল রাত সোয়া নয়টার দিকে বলেন, সাইফুল প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান। সেখানে রিয়াদ শহরের কাছে একটি গ্রামে মোরগের খামারে শ্রমিকের কাজ করতেন। সৌদি আরব যাওয়ার পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। সম্প্রতি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাঁকে তিন মাসের ছুটি দেয়। আগামী ৫ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তিনি পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন। ছুটিতে বাড়িতে এলে স্বজনেরা তাঁকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছিলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল সাইফুলের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। এ সুযোগে আত্মীয়স্বজনের পছন্দের জিনিস কিনতে বাবলু মিয়া নামের এক সহকর্মীকে নিয়ে পণ্য বহনকারী একটি ট্রাকে করে রিয়াদ শহরে রওনা দেন। পথে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি উটের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে সাইফুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন বাবলু ও পাকিস্তানি গাড়িচালক। পুলিশ গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। সাইফুলের লাশ রিয়াদের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত বাবলুর বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রাম পশ্চিম বেলাগাঁওয়ে। তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার দিকে স্বজনেরা সাইফুলের মৃত্যুর খবর পান।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাইফুল বিদেশে যাওয়ার আগে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চালু হচ্ছে শমশেরনগর বিমানবন্দর

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকা শমশেরনগর বিমানবন্দরসহ আরো কয়েকটি বিমানবন্দর আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনব্যবস্থা গতিশীল হবে। বাড়বে পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

বেবিচক সূত্রে জানা যায়, এই ভূখণ্ডে ব্রিটিশ আমলে ২৮টি বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেগুলোর মধ্য থেকে সাতটি বিমানবন্দর আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। বাকি দুই বিমানবন্দরের নাম এখনো জানা যায়নি।

এই বিমানবন্দরগুলো নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ও সুলভ পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য এসব বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসেই বগুড়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আকাশপথের যোগাযোগ বাড়াতে আমরা পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো যাচাই-বাছাই করছি। সবার আগে বগুড়া বিমানবন্দর চালু হবে। আশা করছি, জুনে সব কাজ শেষ করে জুলাই মাসে বগুড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।’

বগুড়া বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ ১৯৯৬ সালে শুরু হয়ে ২০০০ সালে শেষ হয়। নতুন করে চালু করতে এ বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও লাইট স্থাপনসহ বেশ কিছু কাজ চলমান রয়েছে। বেবিচক সূত্র জানায়, এগুলো জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশ বিমানসহ অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। দ্রুতই ঢাকা-বগুড়া রুটে একাধিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু হবে।বাংলাদেশী অনলাইন শপিং
চালু হচ্ছে শমশেরনগর বিমানবন্দর
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে প্রধান্য দেওয়া উচিত। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কারণ ঢাকা-ঠাকুরগাঁও যাতায়াতে অনেক সময় লাগে। তাই বিমানবন্দরটি চালু করা হলে একটা ভালো ট্রাফিক পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা যায়। এ ছাড়া আগে চালু থাকায় লালমনিরহাট ও শমশেরনগর বিমানবন্দর এখন দ্রুত চালু করা যেতে পারে।’

তবে কিছু বিমানবন্দর সচল করতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রানওয়ে সংস্কার, টার্মিনাল নির্মাণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল করা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি শুধু যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

‘ড. ইউনূসের পাশে দাঁড়াতে একসঙ্গে দেশে ফিরবেন পিনাকী-ইলিয়াস-কনক’

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ ঘিরে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রবাসে থাকা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য।

শুক্রবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন—দেশের প্রয়োজন হলে, এবং অধ্যাপক ইউনূসের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিলে, পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও লেখক ইলিয়াস হোসেন একসঙ্গে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

পিনাকী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, দেশের জন্য যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রফেসর ইউনূসের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পিনাকী-ইলিয়াস-কনক সরওয়ার একসাথে ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করবেন।

যুক্তরাজ্যে সিলেটী শাহানারার সাফল্য

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে চমক দেখালেন আরেক সিলেটী নারী। লন্ডনের লুটন কাউন্সিলের (২০২৫-২৬) নতুন ডেপুটি মেয়র হয়েছেন শাহানারা নাসের (মমতা)।

প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী হিসেবে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এছাড়া লুটন বরো কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন— কাউন্সিলর এমি নিকলস।

সম্প্রতি ( মঙ্গলবার, ২০ মে) লুটন কাউন্সিলের বার্ষিক সভায় বিদায়ী মেয়র (২০২৪-২৫) তাহমিনা সেলিমের সভাপতিত্বে নতুন মেয়র ও ডেপুটি মেয়র নির্বাচন করা হয়।

কাউন্সিলর শাহানারা নাসেরের নতুন দায়িত্ব গ্রহণে নি:সন্দেহে একটি মাইলফলক। গ্রেট ব্রিটেনে দিনে দিনে মূলধারার রাজনীতিতে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অংশ গ্রহণ আশার আলো জাগিয়েছে। বিশেষ করে নারীদের অংশ গ্রহণে পথকে আরও সুগম করেছে। সরাসরি নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করছেন নারীরা।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ মে যুক্তরাজ্যের লুটন কাউন্সিলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন শাহানারা নাসের (মমতা)। লুটন কাউন্সিলের সেইন্টস ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো বাঙালি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ১৫২৫। তিনি লেবার পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন।

এবার কাউন্সিলর শাহানারা নাসের (মমতা) এর দায়িত্ব আরেকটু বেড়ে গেল। চলতি বছরের ২০ জুন থেকে তিনি লুটন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।

কাউন্সিলর শাহানারা নাসের (মমতা) বলেন, লুটন বরো কাউন্সিলের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নাগরিকের জন্য সেবার মনোভাবে জীবনের বাকি অংশটুকু উৎসর্গ করতে চান। কমিউনিটির মানুষ আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, নতুন দায়িত্ব পেয়ে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত। সততা, নিষ্ঠা ও সেবার মনোভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমকুনা গ্রামে। তিনি লুটনের কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট, সাবেক শিক্ষক শাহ আবু নাসের সাজনের সহধর্মিণী।সিলেট ভ্রমণ প্যাকেজ

ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শাহানারা নাসের বলেন, কমিউনিটির মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চিরকাল মানুষের সেবা করে যেতে চাই। কাউন্সিলের সার্বিক উন্নয়ন এবং সব সম্প্রদায়ের নাগরিকের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

সৌদি আরবে ফ্ল্যাটে বাংলাদেশি দুই ভাইকে হত্যা

সৌদি আরবে একটি ফ্ল্যাটে বাংলাদেশি প্রবাসী কামরুজ্জামান কাকন (২৬) ও কামরুল ইসলাম সাগর (২২) নামে আপন দুই ভাই খুন হয়েছেন।

বুধবার (২১ মে) সৌদি পুলিশ দাম্মাম শহরের একটি বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নিহতদের পরিবার।

নিহতরা হলেন- কামরুজ্জামান কাকন ও কামরুল ইসলাম সাগর উত্তর ভুরুলিয়ার আদর্শপাড়ার ব্যবসায়ী মো. মোশারফ হোসেন লম্বরির ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান কাকন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে চাকরির খোঁজ করছিলেন। ঢাকার নয়াপল্টনের সামিয়া ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক বাহার উদ্দিন ২১ লাখ টাকা চুক্তিতে জব ভিসায় কাকনকে কানাডায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন বাবা মোশারফ হোসেন লম্বরির কাছে।

৩ লাখ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তিনি কাকনকে কানাডা পাঠাতে পারেননি। পরে বাহার উদ্দিন ভালো বেতনে ছোট ছেলে সাগরকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় সৌদি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। রাজি হলে গত বছরের অক্টোবর মাসে সৌদি যায় সাগর।

কিন্তু কাজের পরিবর্তে তাকে দাম্মামে একটি ঘরে আটকে রেখে আরও ৪ লাখ টাকা দাবি করায় হয় বাবা মোশরফ হোসেনের কাছে। ছেলের কথা ভেবে আরও ৪ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। টাকা নিয়েও ছেলেকে ভালো চাকরি না দিয়ে খাবার ডেলিভারির কাজ দেয়।

কানাডা পাঠানোর জন্য নেওয়া ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলে বড় ছেলে কাকনসহ দুই ছেলেকে সৌদির মদিনা ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন বাহার উদ্দিন। নতুন করে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর কাকনকে সৌদি নিয়ে যান বাহার।

সেখানে কাজ না দিয়ে দুই ভাইকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানার পর বাহার উদ্দিন কাকন ও সাগরের বাবা মোশারফ হোসেনকে ওমরা ভিসায় সৌদি গিয়ে ছেলেদের দেখে আসার প্রস্তাব দেন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাহার উদ্দিনের সঙ্গে সৌদি আরব যান মোশারফ হোসেন। এ সময় বাবা দুই ছেলেকে কাজের কথা জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, তাদের খাবার ডেলিভারির কাজ দেওয়া হয়েছে। ঠিকমত খেতে দেওয়া হয় না। রাখা হয়েছে ছোট্ট ঘরে।

পরে সৌদি আরব থেকে ২২ ডিসেম্বর মোশারফ হোসেন দেশে ফিরেন। তবে ছেলেদের কাগজপত্র ঠিক করার জন্য থেকে যান বাহার। কিন্তু সেখানে বাধে আরেক বিপত্তি। এজেন্সি মালিক স্বর্ণ দিয়ে দেশে পাঠালেও কাগজপত্র না থাকায় তা বিমানবন্দরেই আটকে দেয় বলে দাবি করেন মোশারফ হোসেন। সেই ঘটনা নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।

যদিও এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে বাহার উদ্দিন দাবি করেন, উল্টো দেশে পৌঁছে দেয়ার নামে আমার প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ১০০ গ্রাম স্বর্ণ কৌশলে ফেরত দেয়নি মোশাররফ।

নিহতের পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, নিহতদের মরদেহ ফিরে পেতে এরইমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছে পরিবার।

শিল্পীদের অনেকেই সুযোগ নিত, ফলে বিপদে পড়েছে: বাপ্পারাজ

শিল্পীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া এখন হালের ঘটনা। বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন ডজন ডজন শিল্পী। সরকার পতনের পর তাদের অনেকেই বিদেশে পলাতক আর কেউ কেউ জেলখানায়। তবে শিল্পীদের এমন পরিণতির পেছনে কী কারণ? এবার এই ইস্যুতে মুখ মুখলেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ।

নিজের উদাহরণ টেনে অভিনেতা বাপ্পা বলেন, আমি কখনও রাজনীতি করিনি, এখনও করি না, ভবিষ্যতেও করব না। আমি অনেক অনুষ্ঠানে গিয়েছি। দাওয়াত দিলে আওয়ামী লীগের পার্টিতে গিয়েছি, বিএনপির পার্টিতেও গিয়েছি, ছবি তুলেছি। কিন্তু আমাদের পেছনে তো পুলিশ দৌড়ায় না। আমাদের তো কেউ বলে না, তুমি এটা করছ কেন বা ওটা করলা কেন? কারণ, আমি কখনও সুযোগ নিতে চাইনি। পেশাগত কাজটাই করে গেছি।

তিনি বলেন, শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিত না। যদি করতেই হয়, তাহলে অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিয়ে করা যেতে পারে। একটা পেশায় যুক্ত থেকে যখন কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হয়, তখন সে নানাবিধ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। অন্যের তোষামোদ করতে হবে; যেটা ইদানীং হয়েছে। আমাদের শিল্পীদের মধ্যে অনেকেই (রাজনৈতিক) সুযোগ নিত। সুযোগ নিতে গিয়েই তারা বিপদে পড়েছে।

বিয়ানীবাজারে ট্রাক চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের শেওলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় চলন্ত ট্রাকের সাথে মুখোমুখি ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

নিহত ওই তরুণ বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রায়খাইল গ্রামের মো. সায়েম আহমদ (২২)।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (২২ মে) বেলা ১২টার দিকে সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের শেওলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় চলন্ত ট্রাকের সাথে মুখোমুখিভাবে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এসময় ঘটনাস্থলেই সায়েম আহমদ নামের মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

বিয়ানীবাজার থানাপুলিশ জানায়, সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের শেওলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় চলন্ত ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা ঘটে।

এসময় ঘটনাস্থলেই সায়েম আহমদ নামের মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয় নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৭ মাস ধরে জোরপূর্বক কাউকে আটকে রাখা, হাস্যকর : সালসাবিল

ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন আলোচিত ও বিতর্কিত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এক নারীকে সাত মাস ধরে একটি বাসায় আটকে রেখে নোবেল নির্যাতন ও ধর্ষণ করছিলেন। ওই নারীর পরিবারের ৯৯৯-এ ফোনের পর তাকে উদ্ধার এবং নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর। এরপর তাদের মাঝে মাঝে যোগাযোগ হতো। গত বছরের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে দেখা করার পর ওই ছাত্রীকে ‘স্টুডিও দেখানোর’ কথা বলে ডেমরার বাসায় নিয়ে যান নোবেল। সেখানে তাকে আটকে রাখা হয়। ওই সময় ছাত্রীটির ফোন ভেঙে ফেলা হয়, তাকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয়, এমনকি ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। সাত মাস ধরে ছাত্রীটি ওই বাসায় বন্দি ছিলেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে একজন নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামাতে দেখা যায়। ওই ভিডিও দেখে ছাত্রীর পরিবার তাকে চিনে ফেলেন এবং টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন।

গত ১৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে সেই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। অভিযানের সময় নোবেল পালিয়ে যান, তবে প্রযুক্তির সহায়তায় রাত ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ মাস ধরে জোরপূর্বক কাউকে আটকে রাখা, হাস্যকর : সালসাবিল
এদিকে নোবেলকে গ্রেপ্তারের পর মুখ খুলেছেন তার প্রাক্তন স্ত্রী সালসাবিল। যদিও এই ঘটনায় পরোক্ষভাবে গায়কের পক্ষই নিয়েছেন তিনি। সালসাবিল মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে কাউকে জোরপূর্বক ৭ মাস আটকে রাখা যায় না।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সালসাবিল লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কিছু সত্য, আবার অনেকটাই ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ছড়ানো সব কথাই আমার বলা নয়।’

এরপর নোবেলের মামলার প্রসঙ্গ টেনে তার প্রাক্তন স্ত্রী বলেন, ‘আর কেউ যদি মনে করেন, এই মোবাইল ও প্রযুক্তির যুগে কাউকে সাত মাস ধরে জোরপূর্বক আটকে রাখা বা এমন অপরাধ সংঘটিত করা সম্ভব— তাহলে সেটি বাস্তবতাবিরুদ্ধ ও সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও হাস্যকর একটি ধারণা।’

এর আগে গণমাধ্যমে সালসাবিল বলেন, ‘নোবেলের সঙ্গে আমার অনেক দিন দেখা হয় না ঠিক, কিন্তু ফোনে কথা হয়। আর যে অভিযোগ শুনলাম, ‘সাত মাস ধরে নোবেল আটকে রেখে ধর্ষণ’- আসলে ওর সঙ্গে সাত মাস কারো পক্ষে থাকা সম্ভব এটা আমার বিশ্বাস হয় না। কারণ ও নেশাগ্রস্ত, তাহলে সে কিভাবে কাউকে আটকে রাখবে?’

নোবেল মাদকাসক্ত উল্লেখ করে তার প্রাক্তন স্ত্রী বলেন, ‘সে দীর্ঘদিন রিহ্যাবে ছিল। তারপর ছাড়া পেয়েছে। এরপর আমার সঙ্গে কথা হতো, কিন্তু ওর সঙ্গে যে কেউ থাকত সেটা আমি জানতাম না। যেহেতু মামলা হয়েছে, ধর্ষণের- এখন আদালতে প্রমাণ হবে সত্য-মিথ্যা, আমাকেও সেভাবে অপেক্ষা করতে হবে।’