Connect with us

প্রবাস

ব্রিটেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়াল সরকার

ব্রিটেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়াল সরকার

সর্বনিম্ন মজুরির পরিমাণ বাড়িয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে এই নতুন সর্বনিম্ন মজুরি কার্যকর হবে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার র‍্যাচেল রিভস আজ বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন ঘোষণা অনুসারে, আগামী বছরের এপ্রিল থেকে ব্রিটেনে সর্বনিম্ন মজুরি আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ২১ পাউন্ডে, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। এর ফলে ব্রিটেনে কর্মীদের বছরে আয় বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড বা ২ লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি।

অর্থমন্ত্রী রিভস ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেছেন, এই পদক্ষেপ ব্রিটিশ কর্মীদের জন্য ‘বাস্তবিক জীবনযাত্রার মানসম্মত মজুরি’ প্রদানে লেবার পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিটেনে ১৮–২০ বছর বয়সী যারা কাজ করেন তাঁদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১০ পাউন্ড বা ১ হাজার ৫৫০ টাকা।

ব্রিটিশ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এ বিষয়ে বলেছেন, ‘কোনো একটি দিনে একজন লোক যথাযথভাবে যে কাজ করেন, তার জন্য তিনি সেই অনুসারে যথাযথ মজুরি পাওয়ার যোগ্য। আমাদের এসব পরিবর্তন নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে।’

এ ছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের নতুন এই ঘোষণা অনুসারে, আগামী বছরের এপ্রিল থেকে শিক্ষানবিশ এবং ১৬-১৭ বছর বয়সীরা কাজের জন্য ঘণ্টায় সর্বনিম্ন মজুরি পাবে ৭ দশমিক ৫৫ পাউন্ড বা ১ হাজার ১৭১ টাকা। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে মোট ৩৫ লাখ ব্রিটিশ মজুরি বৃদ্ধির সুফল ভোগ করবে।

Continue Reading

আলোচিত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রিন কার্ড’ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রিন কার্ড’ প্রক্রিয়া সাময়িক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিবাসি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন আইন কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরইমধ্যে কঠোর যাচাই-বাঁচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ আবেদন স্থগিত করেছে দেশটি। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ছাত্র এবং অন্যান্য বিদেশী নাগরিকদের আটক এবং নির্বাসন নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি অভিবাসন প্রক্রিয়া কড়াকড়ি করে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘গ্রিন কার্ড’ বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তারা কিছু শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অভিবাসন প্রক্রিয়া ও গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত করেছে। যা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ দেশ থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে প্রতারণা বন্ধ এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতাভুক্ত দেশ থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও বেশি প্রভাবিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ভেটিং তথা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগত শরণার্থীদের জন্য আরেকটি দফা জটিলতা তৈরি করবে।

এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই ধরণের বাধা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে এবং ইউএসসিআইসি-এর আয়তেও প্রভাব ফেলতে পারে, যেহেতু এটি একটি ফি-ভিত্তিক সংস্থা।

এদিকে ট্রাম্প গত মঙ্গলবার নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে মার্কিন নাগরিকদের। ডাকযোগে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।

Continue Reading

আলোচিত

অবশেষে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেলেন ‘সিলেটি শামীমা’

অবশেষে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেলেন ‘সিলেটি শামীমা’

অবশেষে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছেন সিলেটি বংশোদ্ভূত নারী শামীমা বেগম। দুই ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব ফেরত পাওয়ার মামলার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট শামীমা ও অন্য আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেন। ব্রিটিশ মানবাধিকার সংগঠন ইউকে হিউম্যান রাইটস ব্লগ এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে।

শামীমার পিতার বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামে।

এন ৩ ও জেডএ বনাম যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (২০২৫) ইউকেএসসি-৬ মামলায় শামীমার পক্ষে রায় দেন আদালত। এই মামলাটি ছিল মূলত—জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় এ দুই ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল সম্পর্কিত আদেশ নিয়ে। বিবাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছিল যে, এই সিদ্ধান্ত (নাগরিকত্ব বাতিল) তাদের রাষ্ট্রহীন করে তুলবে না। কারণ, তাঁরা ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী।

এই মামলায় পরে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই আদেশ প্রত্যাহারের ফলে আপিলকারীদের পুরো সময়জুড়ে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবেই গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, শামীমা অতীতে ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম ২০১৫ সালে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে যখন যুক্তরাজ্য ছাড়েন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সিরিয়ায় যাওয়ার পর তিনি ইসলামিক স্টেটের ডাচ সদস্য ইয়াগো রিয়েডিকে বিয়ে করেন। সেখানে তাঁর তিনটি সন্তান হয়, যাদের সবাই মারা যায়। এরপর স্বামী রিয়েডিও এক কুর্দি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।

সেই ঘটনাপ্রবাহের পর শামীমা যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান। কিন্তু ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। ওই সময় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তি দিয়েছিল, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের মূল কারণ ছিল জাতীয় নিরাপত্তা।

নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ২০২৩ সালে ২৪ বছর বয়সী শামীমার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেছিলেন। আপিল আদালতের তিনজন বিচারক সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের আবেদন খারিজ করে দেন।

২০১৯ সালে আইএস পরাজিত হওয়ার পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আল–রোজ শিবিরে শামীমার সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি এখনো সেখানেই আছেন। শামীমার আইনজীবীরা বলছেন, সেই শিবিরের অবস্থা করুণ! সেখানে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। রোগবালাই নিত্যকার ঘটনা। সেখানে শামীমাকে অন্য ব্রিটিশ নারী ও শিশুদের সঙ্গে নির্বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে সেখানে।

শামীমা বেগম জেনেশুনে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগদানের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এই কাজের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত। তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার যুক্তরাজ্যের সুরক্ষা এবং তা বজায় রাখা। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত রক্ষার্থে আমরা অটল থাকব।’

Continue Reading

আলোচিত

লন্ডনে বাংলাদেশি দম্পতিকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা

লন্ডনে বাংলাদেশি দম্পতিকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি সোফিনা বেগম (৫২) ও আমিনুর রহমানকে (৫৫) ৯২ হাজার পাউন্ডেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৫ মার্চ ভোরে পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েল এলাকায় ওই ফ্ল্যাটে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মিজানুর রহমান নামে ৪১ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।

শ্যাডওয়েলের ম্যাডক্স হাউজ নামক ভবনে অবস্থিত দুই বেড রুমের এই ফ্ল্যাটে তিনজন থাকার অনুমতি থাকলেও সেখানে ২৩ জন বসবাস করতেন বলে জানা যায়। ফ্ল্যাটটিতে ১৮টি বিছানা ছিল, যেখানে কেউ কেউ বাংক বেড ভাগ করে ঘুমাতেন, আবার অনেকেই মাটিতে শুয়ে থাকতেন।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে এই মামলার রায় ঘোষণা রা হয়। এতে দম্পতি সোফিয়া বেগম ও আমিনুর রহমানকে পৃথক ধারায় ৯২ হাজার পাউন্ডেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
লন্ডনে বাংলাদেশি দম্পতিকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা
বিচারক এমা স্মিথ এই দম্পতিকে আবাসন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, বাড়িওয়ালারা আইন এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা দেখিয়েছেন। তারা কেবল নিজেদের আর্থিক লাভের জন্য মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

কোর্ট সেফিনা বেগমকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা, দুই হাজার পাউন্ড প্রসিকিউশন খরচ এবং প্রাণনাশের অপরাধের জন্য ৭৮ হাজার ৪৯ পাউন্ড বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন। আমিনুর রহমান, ‘অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অসচ্ছল’ বলে আদালতে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, তাকে দুই হাজার পাউন্ড জরিমানা এবং মাত্র ১.০১ পাউন্ড বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করা গেমা গিলেট আদালতে বলেন, এটি স্পষ্ট যে ফ্ল্যাটটি দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহভাবে গাদাগাদি ছিল। সেখানে ২৩ জন বসবাস করছিলেন, যার মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা যান।

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ত্রুটিপূর্ণ ই-বাইকের ব্যাটারি থেকে একটি ফ্ল্যাটে আগুন লেগে একজনের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি দম্পতি

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, কিছু বাড়িওয়ালা এখনও ভাড়াটিয়াদের শোষণ করে চলেছে, নিরাপত্তা নিয়ম উপেক্ষা করছে এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে—এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি সরকারকে জাতীয় পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Continue Reading

আলোচিত

কানাডার সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ডলির হ্যাট্রিক

কানাডার সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ডলির হ্যাট্রিক
কানাডার সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ডলির হ্যাট্রিক

কানাডার প্রাদেশিক নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান ডলি বেগম। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্টের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনে জয়লাভের পর ডলি বেগম ব‌লে‌ন, আজকের জয় পুরো দল এবং স্কারবোরোর জন্য। আমি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ যারা পুরো নির্বাচনজুড়ে এই কঠিন লড়াই জয়ে পাশে ছিলেন।

অন্টারিও নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য ডলি বেগম এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রাদেশিক আইনপ্রণেতার দায়িত্ব নিচ্ছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। এরপর এখন পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করলেন তিনি।

ডলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনূমূখ ইউনিয়নের সন্তান। পরিবারের সঙ্গে শৈশবে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। তার বেড়ে ওঠা অন্টারিওর স্কারবোরোতে। পরবর্তী সময়ে টরন্টোর ডব্লিউ এ পোর্টার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

Continue Reading

আলোচিত

ভিসা বাতিল করছে কানাডা!

ভিসা বাতিল করছে কানাডা!
ভিসা বাতিল করছে কানাডা!

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে যেসব দেশ তার মধ্যে ভারত অন্যতম। ইতোমধ্যে কয়েকটি সামরিক বিমানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় শিকলে বেঁধে ফেরত পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। ভারতে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক চর্চা।

এর মধ্যেই এবার খবর বের হয়েছে কানাডায়ও বাতিল হচ্ছে ভারতীয়দের ভিসা। সম্প্রতি কানাডা প্রশাসন ভিসাসংক্রান্ত নতুন একটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা সেদেশে ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, আমেরিকার পরে এবার কানাডার নিশানায় ভারতীয় অভিবাসীরা। ভারত-কানাডা সম্পর্কের অস্থিরতার মধ্যে কানাডা প্রশাসন নতুন একটি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বহু ভিসা বাতিলের তৎপরতা শুরু হয়েছে। যা মূলত ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে, খালিস্তানি বিতর্কের পর এবার ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ। ভারত ও কানাডার বিদ্বেষে আরও একটি নতুন বিন্দু তৈরি হলো। সে দেশে কর্ম এবং অধ্যয়নরত কয়েক লাখ ভারতীয় এর ফলে সমস্যায় পড়তে চলেছেন। বর্তমানে কানাডায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার!

অন্য আরেকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতীয় অভিবাসীদের জন্য কানাডার নতুন নীতি তাদের আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চলেছে। ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে কানাডার অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে সেদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কর্মী এবং ছাত্রদের জন্য বিপদ বাড়বে।

গত কয়েক বছরে কানাডার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। কানাডার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতের সঙ্গে অনেক বিষয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত খালিস্তানি ইস্যু নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং জার্মানির পর, কানাডাও তার অভিবাসন নীতিতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকা ইতোমধ্যেই ৩০০-রও বেশি ভারতীয় অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। ব্রিটেনেও অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে এবং সম্প্রতি জার্মানিতে ক্ষমতায় এসেছেন কট্টরপন্থি নেতা ফ্রেডরিখ মার্জ, যিনি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, শরণার্থী আইন এবং অভিবাসীদের সামাজিক সুবিধা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে কানাডা অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে।

কানাডার গৃহীত নতুন নীতিতে ‘অস্থায়ী আবাসিক ভিসা’ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে সে দেশে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় কর্মী এবং কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ভারতীয় ছাত্ররা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই নীতির কারণে প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার ভারতীয় ছাত্র এবং অনেক কর্মীরই ভিসা বাতিল হতে পারে।

তবে, এই নতুন নীতির প্রভাব শুধু ভারতীয় অভিবাসীদের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কানাডার অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায়, দেশটিতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী কমিউনিটি সমস্যায় পড়বে। বিশেষত, যারা ওয়ার্ক ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে কানাডায় আছেন, তাদের জন্য এখন নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া সহজ হবে না।

Continue Reading

আলোচিত

ইতালি যাওয়া হলো না দুই যুবককের, লিবিয়ায় হলেন হ’ত্যার শিকার

ইতালি যাওয়া হলো না দুই যুবককের, লিবিয়ায় হলেন হত্যার শিকার

ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে ফরিদপুরের দুই যুবককে গুলি করে হ’ত্যা করা হয়েছে। শুধু হ’ত্যা করেই শান্ত হয়নি দালাল চক্র। তাদের হ’ত্যার পর পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপে তাদের ছবি পাঠিয়েছে খুনিরা।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের মিন্টু হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৬) ও মজিবর হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদারের (২৫) সঙ্গে এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দালালদের পাঠানো ছবি দেখে স্বজনদের আহাজারি থামছে না। স্বজনদের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। সান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।

হৃদয়ের বাবা মিন্টু হাওলাদার বলেন, দুই মাস আগে স্থানীয় আবু তারা মাতুব্বর, আলমাছ ও আনোয়ারের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠায়।

ছেলেকে প্রথমে দুবাই সেখান থেকে সৌদি আরব তারপর লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হ’ত্যা করা হয়েছে।
হৃদয়ের বড় ভাই মোখলেছুর রহমান বলেন, ৪/৫ দিন ধরে হৃদয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ওরা আজ আমার ভাইয়ের লাশের ছবি পাঠিয়েছে।

১৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরও বিদেশ থেকে ফোন করে আরো টাকা দাবি করছিল পাচারচক্র। সে টাকা না দেওয়ায় ওরা আমার ভাইকে খুন করেছে।

ওই গ্রামের ফয়সাল হোসেন বলেন, শুধু হৃদয় নয় রাসেল নামের আরো একজনকেও লিবিয়াতে হ’ত্যা করা হয়েছে। ওই মানবপাচার চক্র এভাবে মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। টাকা না দিলেই তাদের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটানো হয়।

কখনো অত্যাচার কখনো প্রাণে মেরে ফেলে ওরা।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকসেদুর রহমান বলেন, ভাঙ্গার দুটি ছেলেকে লিবিয়ায় গুলি করে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending