সিলেটে ‘হানিট্র্যাপ’ চ্রের সদস্য অভিযোগে দুই নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছে জিম্মি অবস্থায় থাকা দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে সিলেট নগরে অভিযান চালিয়ে কতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের আটক করে। শনিবার দুপুরে থানা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কানাইঘাটের বাসিন্দা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), গোয়াইনঘাটের মো. আব্দুল জলিল (৩০), নগরের মিরাবাজারের জেসমিন আক্তার (২২) ও দক্ষিণ সুরমা গঙ্গানগরের মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি প্রাইভেট কার, ১টি সিএনজি অটোরিক্সা, ৩টি মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া iPhone 14 Pro Max ও itel মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫) কে হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য মো. আব্দুল জলিল প্রতারণার মাধ্যমে অপর সদস্য মো. জায়েদ আহমদ চালিত সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে যায়।
এরপর রাত সাড়ে ১০টায় যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নং বাসার ৫ম তলায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় ভিকটিমদের জিম্মি করে। ওই বাসায় পূর্ব থেকেই অবস্থানরত জেসমিন আক্তার এবং চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহাসহ ৪/৫ জন সহযোগী মিলে ভিকটিমদেরকে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ইলেকট্রিক শক প্রদানের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন চালায়। তাদেরকে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোট ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত আত্মীয়-স্বজনের নিকট হতে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে আনিয়ে দেন। তখন ওই দুই যুবকের পরিবারের লোকজন কোন সন্দেহের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




