সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১৮ দিনে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল আর বাকি আটজনের ক্ষেত্রে উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবারই হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ছিল। মৃত তিন শিশুর মধ্যে দুজন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) এবং অপরজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুদের বয়স ছিল ৫ থেকে ১০ মাসের মধ্যে।
আজ শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ১৫ এপ্রিলও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুটি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি সিলেটের। তারা হলো দিরাইয়ের আনসার মিয়ার ছেলে তউফিক (৫ মাস), করিমপুর এলাকার জাহির মিয়ার ছেলে আরিফ (১০ মাস) এবং সিলেটের টুকের বাজার এলাকার লুকমান মিয়ার মেয়ে হুমায়রা (৯ মাস)। আরিফ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে, তউফিক রাত ৮টার দিকে এবং হুমায়রা রাত ৯টার দিকে মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৬ জন, সুনামগঞ্জে ৩২ জন, মৌলভীবাজারে ১৫ জন ও হবিগঞ্জে ৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ১৬৯ রোগী।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার রাতে প্রথম এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুটির হামের উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়া, হার্ট ফেইলিউর ছিল।




