Sunday, April 5, 2026
Home Blog Page 10

ওসিকে গালাগাল: বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ

হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-কে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে দুপুর ২টার দিকেও বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিলেটে লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই হত্যার মূল রহস্য উদঘ্টনের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামি জকিগঞ্জের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ(২১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার ২নং আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন(২০) কে নারায়নগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে অপর আসামি তাহিরুল হক(২০) কে তার শ্বশুর বাড়ি লালাগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাহিরুলের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত সেই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এরআগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের মাসেরচক হাওর বিলপাড় থেকে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দীন শফির (৫৯) সম্পূর্ণ আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বিষয়ে জকিগঞ্জ থানায় দুদিন পর মামলা দায়ের করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাব্বির ও শোভন আদালতে দোষস্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো: আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথমিক তদন্তে জানা যায় মূলত: ব্যক্তিগত দ্বন্দের জের ধরে শফিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ ও আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

জানা যায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফি (৫৯) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার ৩৪/৪১ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফি লন্ডন প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ৩০ জানুয়ারী সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় স্বজনরা সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করেন।

সিলেটে ইফতার থেকে ভোর পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করল এসএমপি

জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রমজান মাস জুড়ে সিলেট মহানগরী এলাকায় ইফতারের পর থেকে ভোর পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এসএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণবিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, রোজার মাসে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইফতারের পর থেকে ভোর পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।

দলবদ্ধভাবে চলাচল করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর অযথা ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

এছাড়া পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত তৈরি পোশাক ও বিপণিবিতানের দোকান বন্ধ রাখার পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি প্রত্যাহার করার বিষয়টিও গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়া দোকান খোলা রাখা যাবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নগরীর প্রধান সড়ক ও মার্কেটের সামনে ফুটপাত অবশ্যই হকারমুক্ত রাখতে হবে। কোনো দোকান বা মার্কেটের সামনে হকার দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট হকার ও দোকান মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ বাড়ানো হলে ০১৩৩৯৯১১৭৪২ নম্বরে পুলিশ কল সেন্টারে অভিযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই নম্বরে যোগাযোগ করে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া ‘জিনিয়া’ অ্যাপ ব্যবহার করেও সহায়তা চাওয়া যাবে।

সিলেটে দোকানপাট খোলা নিয়ে নতুন ঘোষনা

সিলেটে রাত ৯ টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধে দেয়া পূর্বের নির্দেশনা শিথিল করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে আজ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত তৈরি পোশাক ও বিপণিবিতানের দোকান বন্ধ রাখার পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়া দোকান খোলা রাখা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নগরীর প্রধান সড়ক ও মার্কেটের সামনে ফুটপাত অবশ্যই হকারমুক্ত রাখতে হবে। কোনো দোকান বা মার্কেটের সামনে হকার দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট হকার ও দোকান মালিক উভয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ বাড়ানো হলে ০১৩৩৯৯১১৭৪২ নম্বরে পুলিশ কল সেন্টারে অভিযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই নম্বরে যোগাযোগ করে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জিনিয়া’ অ্যাপ ব্যবহার করেও সহায়তা চাওয়া যাবে।

রমজানে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইফতারের পর থেকে ভোর পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি না করতেও সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া দলবদ্ধভাবে চলাচল করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর অযথা ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিয়ানীবাজারে চোরাই গরুসহ সিএনজি জব্দ, গ্রেপ্তার ২

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই গরুসহ একটি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে থানা পুলিশ জানায়, সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুকের নির্দেশনায়, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ ছবেদ আলীর সহযোগিতায় এসআই (নিঃ) মোঃ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে লাউতা ইউপির নন্দীরফল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১ টি চোরাই গরু ও চোরাই কাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি অটোরিক্সা জব্দের পাশাপাশি ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল-মাটিকাটা গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে সুমেল আহমদ (৩০) ও বাহাদুরপুর উত্তর গাংপারের আব্দুল গফুরের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫)।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, গ্রেফতার সুমেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি এবং সাইফুলের বিরুদ্ধে আরোও ২টি মামলা রয়েছে। আসামীদ্বয় পেশাদার গরুচোর।

সিলেটের যে এলাকায় ‘ইফতারি’ দিলেই জরিমানা

সিলেটের এক উপজেলায় ইফতারি দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে সামাজিক আন্দোলন। কেউ ইফতারি দিলে বা গ্রহণ করলে উভয়কেই দিতে হবে জরিমানা।

সামাজিক এ আন্দোলন শুরু হয়েছে সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জে। তবে পুরো উপজেলায় নয়, একটি ইউনিয়নের ৪টি গ্রামে এ নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

এই সংগঠনের নাম আলফালাহ পরিষদ, শেরুলিয়া। আর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত গ্রামগুলো হচ্ছে পশ্চিম গড়র গ্রাম, মধ্য গড়র গ্রাম, পূর্ব গড়র গ্রাম ও মাঝর গ্রাম। রমজান শুরুর কয়েকদিন আগ থেকেই এই ৪টি গ্রামে ইফতারির দেওয়া নেওয়া নিষেধের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

মাইকে চালানো প্রচারণায় বলা হচ্ছে, কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে স্থানীয় আল-ফালাহ পরিষদ তাদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করবে।

সিলেট অঞ্চলে যে ইফতারি প্রথা একসময় ছিল ভদ্রতা, সৌজন্যতা আর আভিজাত্যের প্রতীক, এখন সেটা রীতিমতো একটা আতঙ্কের নাম। গত কয়েক বছর সিলেট অঞ্চলে ইফতার দেওয়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতায় হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এরপর থেকে ইফতারির ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধিনিষেধের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং সর্বমহলে প্রচার হয় যে, এটা ধর্মীয় আইন বা বিধির কোনো অংশ নয়. স্রেফ সামাজিক নিয়ম।

কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই সামাজিক নিয়মটাই একটা সময় ‘সামাজিক অত্যাচারে’ রূপান্তর হলে আস্তে আস্তে ইফতারির প্রচলন বন্ধের ব্যাপারে মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠেন।

তবে, বিষয়টি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

সিলেটে রমজানে জুয়া খেলা, ৩ জন গ্রেফতার

রমজানে জুয়া খেলার সময় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দক্ষিণ সুরমা থানাধীন চাঁদনীঘাট পয়েন্ট এলাকায় এ অভিযান চালায়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় মহানগরী আইনে ননএফআইর মামলা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, কুমল্লিা জেলার ব্রাক্ষণশাসন থানাধীন ছাতিয়ানি গ্রামের মৃত রাজ্জাক মিয়ার ছেলে মনির হোনে (৪২), দক্ষিণ সুরমা থানাথীন স্বর্নালী ভার্থখলা এলাকার হাফিজ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪০) ও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানাধীন রাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আক্তার হোসেন (৪৫)।

প্রেমের টানে মৌলভীবাজারে চীনা তরুণী

প্রেমের টানে মৌলভীবাজারের রাজনগরে ছুটে এসেছেন ক্রিস হুই নামের এক চীনা নাগরিক। আগামীকাল (শনিবার) তারা বিয়ের পিড়িতে বসবেন। তাদের আগমন উপলক্ষে বরের পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামে হেলিকপ্টারে করেক্রিস হুইকে নিয়ে আসেন প্রেমিক সুকান্ত সেন।

সুকান্ত সেন চীন প্রবাসী টিকরপাড়ার সেন বাড়ির প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে। আর কনে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই।

স্থানীয়রা জানান, হবু বর-কনেকে একনজর দেখতে গ্রামের অনেকে ছুটে আসছেন। বিদেশি তরুণীর সঙ্গে প্রতিবেশী ছেলের বিয়ে হবে—এ কারণে বর-কনেকে একসঙ্গে দেখতে এসেছেন তারা।

সিলেটের ‘আগুন পাহাড়’ ঘিরে বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সিলেট। জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের উৎলারপার গ্রামে অবস্থিত এক ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক নিদর্শন ‘আগুন টিলা’ যা স্থানীয়দের কাছে ‘আগুন পাহাড়’ নামেই বেশি পরিচিত।

মাঝারি উচ্চতার এ টিলায় বছরের পর বছর ধরে জ্বলছে আগুন। বিরল এই দৃশ্য দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।

টিলার পাদদেশজুড়ে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি গর্ত। সেখানে একটি দেশলাই কাঠি ছোঁয়ালেই দপ করে জ্বলে ওঠে আগুন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ বছর ধরে এভাবে জ্বলছে আগুনের শিখা। দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা এ প্রাকৃতিক আগুনই এলাকাটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

দর্শনার্থীরা প্রথমে গর্তে জ্বলতে থাকা আগুনের দৃশ্য উপভোগ করেন। পাশাপাশি টিলার নির্দিষ্ট আরেক স্থানে কাঠি ধরালেই নীলাভ শিখায় ছুপছুপ করে আগুন জ্বলে ওঠে, যা পর্যটকদের বাড়তি বিস্ময়ে ভরিয়ে তোলে। স্থানীয়দের সহায়তায় এমন ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপভোগ করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন অনেকে।

জানা গেছে, উৎলারপার গ্রামে অবস্থিত হরিপুর গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপ এলাকার একটি টিলা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস নির্গত হয়। এ গ্যাসের কারণেই টিলার বিভিন্ন গর্তে আগুন জ্বলে ওঠে। দিনের আলোতে শিখা স্পষ্টভাবে চোখে না পড়লেও রাতের আঁধারে তা পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়। রাতের অন্ধকারে জ্বলতে থাকা আগুনের দৃশ্য দেখতে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় বাড়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ আগুন টিলা দেখতে আসেন। কোনো টিকিট ছাড়াই এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আগুন টিলা ভ্রমণে দেশবাসীকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সিলেটে লেবুর হালি ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩শ

পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই সিলেটের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। শাক-সবজি থেকে শুরু করে মসলা ও ভোজ্যতেল—প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে দাম। বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

নগরীর আম্বরখানা, বন্দরবাজার, কাজিরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় সবজির দোকানগুলোতে বাড়তি দাম।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন- এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কাঁচামরিচ ৩শ টাকা কেজি। শসার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গাজরসহ অন্যান্য সবজির দামেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।

তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিম আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবু ইফতার-সংশ্লিষ্ট পণ্যের চাহিদা বাড়ার আগেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

মসলা ও নিত্যপণ্যের বাজারেও একই চিত্র। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়ে এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি ১৭০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। ফলে খুচরায় বাড়তি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই।

ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২০০ টাকায় উঠেছে। কিছু দোকানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

আম্বরখানা বাজারে কথা হয় ক্রেতা সোলেমান আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, রমজান এলে বাজারে মূল্য বাড়ে কেন তা খতিয়ে দেখা জরুরি। মধ্যবিত্তের সংসার দিশেহারা হয়ে উঠে রমজান আসলেই।

একই বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিম মিয়া জানান, রমজানে সালাদজাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। তাই খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদা বাড়ার আগেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না বাড়লে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রত্যাশা সাধারণ ক্রেতাদের। ভোক্তাদের দাবি, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার।