Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 101

ভ্যানে লাশের স্তূপ করছে পুলিশ, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

ভ্যানের ওপর কয়েকটি মরদেহের স্তূপ ঢেকে রাখা হয়েছে জীর্ণ একটি চাদর দিয়ে। সেখানে আরও মরদেহ উঠাচ্ছে পুলিশের হেলমেট ও ভেস্ট পরিহিত দুই পুলিশ সদস্য। চাদরের পাশ দিয়ে নিহতদের ঝুঁলে থাকা সারি সারি হাত দেখা যাচ্ছে। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বার্তা সংস্থার এএফপির ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দিন শিশির।

তিনি জানান, ঘটনাটি গত ৫ আগস্টের। ঢাকা উত্তরের আশুলিয়া থানার নিকটবর্তী বাইপাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের গলি দিয়ে ভেতরে ঢোকার পর থানার ভবনের আগের জায়গায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার ১২ টার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে গিয়ে ঘটনাস্থলের সঙ্গে ভাইরাল ওই ভিডিওর হুবহু মিল খুঁজে পান স্থানীয় সাংবাদিকরা।

এছাড়া ভিডিওটির শেষের দিকে একটি পোস্টার দেখা যায়, যা স্থানীয় যুবলীগের ধামসোনা ইউনিয়ন সভাপতি ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আবুল হোসেনের। সেই পোস্টারটি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ভিডিওটির ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার পাশে।

স্থানীয় কয়েকজন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সকাল থেকেই নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনকারীরা। শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের খবরে আন্দোলনকারীরা থানার চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশ মসজিদের মাইক ও হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের পরেও আন্দোলনকারী থানার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এসময় পুলিশ গুলি চালাতে থাকে। তখন তারা দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

আশুলিয়া থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ মুখ খোলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিকাল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিকাল ৪টার দিকে থানায় হামলার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা।

এ সময় পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বিকাল পৌনে ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলেন তিনি। তবে ভ্যানে লাশ স্তূপ করার ঘটনাটি তিনি দেখেননি বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আশুলিয়া থানা মুখে অগ্রসর হলে নির্বিচারে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে সেই লাশগুলো একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে একটি পিকআপে স্থানান্তর করার পরে গণহত্যার চিত্র মুছে ফেলতে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হতভাগ্যদের মধ্যে ছিলেন সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়া স্কুলছাত্র আস-সাবুর (১৬)।

তিনি আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা এনাফ নায়েদকর ছেলে। আস-সাবুর স্থানীয় শাহীন স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের গণহত্যার নিষ্ঠুর ও নৃশংস এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় সাহিদ হাসান ওরফে মিঠু বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদসহ আওয়ামী লীগের ১১৯ নেতাকর্মীকে আসামি করে সবার আগে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে মামলাটি দায়ের করার অভিযোগ এনে নিহত আস-সাবুরের মা রাহেন জান্নাত ফেরদৌসী বাদি হয়ে সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন।

ভিডিওতে ভ্যানে তোলা কয়েকটি মরদেহের স্তূপের পাশে পুলিশকে হাঁটাহাঁটি করতেও দেখা গেছে। তাদের একজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেছে।

তিনি ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। প্রায় দুই বছর আগে ঢাকা জেলার গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন আরাফাত।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিপ্লব ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সেদিন ‘ঢাকা জেলা পুলিশের এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত আব্দুল্লা হিল কাফী স্যারের নির্দেশে আমরা আশুলিয়ায় ছিলাম। আল্লাহর রহমতে ৫ আগস্ট আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলাম। নইলে আমাদেরকেও মরতে হতো।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিডিও চিত্রে থাকা ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সরকারি মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভিসার কাজে যাওয়া হলো না ঢাকায়, সড়কেই ঝরল মা-মেয়ের প্রাণ

প্রবাসী স্বামী ইতালির গ্রিন পাসপোর্ট পেয়েছেন। আট বছরের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে প্রবাসী স্বামীর কাছে যাবেন তানিয়া আফরোজ (২৮)। সবকিছু ঠিকঠাক। ভিসার কাজে মা তহুরা বেগমকে (৫৫) নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তানিয়া। পথিমধ্যে সাতসকালেই মহাসড়কে সলিলসমাধি হলো মা-মেয়ের।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ অংশের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতি এলাকায় তাদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১০ জন।

নিহত তানিয়া আফরোজ খুলনা শহরের শিপইয়ার্ড স্কুলের সাবেক শিক্ষক আবু হাসানের মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তার স্বামীর নাম আসলাম উদ্দিন কুদ্দুস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ইতালির গ্রিন পাসপোর্ট পেয়েছেন।

রোববার দুপুরে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতদের মরদেহ বুঝে নিতে এসে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন তানিয়া আফরোজের স্বজন রেজা। তিনি বলেন, তানিয়া আমার কাজিন। ওর আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ওর স্বামী ইতালিতে সদ্য গ্রিন পাসপোর্ট পেয়েছে। তানিয়া তার স্বামীর কাছে চলে যাবে কিছুদিনের মধ্যে এমন কথা ছিল। সব ঠিকঠাক। আজকে ঢাকায় যাচ্ছিল ভিসার কাজে। ওর মেয়েকে বাবার বাসায় রেখে মাকে সঙ্গে করে ঢাকায় যাচ্ছিল। সকালে সাড়ে ৬টায় ইমাদ পরিবহনের একটি গাড়িতে রওনা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৮টার পর আমরা খবর পাই তাদের গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। তখনো জানতাম না তানিয়া কিংবা তার মা মারা গেছে। আমরা প্রথম সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিলাম তানিয়ার মা মারা গেছেন। এখানে এসে জানতে পারলাম ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তানিয়া মারা গেছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় কাজ শেষ করে বিকেলেই ফেরার কথা ছিল তাদের। এখন ফিরছে লাশ হয়ে।

এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরও ১০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসারত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিয়ানী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রেজাউল মাওলা ও কাশিয়ানী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সেলিম মিয়া।

নিহতের মধ্যে বাকি চারজন হলেন- গোপালগঞ্জ সদরের সুলতানশাহী গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে রহিজ শেখ (২৪), সাতক্ষীরা সদরের সাতালী গ্রামের সৈয়দ এরশাদ আলীর ছেলে সৈয়দ সামাদ আলী (৩১), বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের আ. সামাদ গাজীর ছেলে সাইদুর রহমান (৪৪) ও একই জেলার মোল্লাহাট উপজেলার সারুলিয়া গ্রামের হাছির মোল্যার ছেলে মো. সাগর মোল্যা (২৪)।

কাশিয়ানী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রেজাউল মাওলা বলেন, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতি এলাকায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের সঙ্গে বিপরীতগামী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ পাঁচজন নিহত হন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে নিহত তানিয়া আফরোজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, সকালে বিকট আওয়াজ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখি ইমাদ পরিবহনের বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। বাসের একপাশ দুমড়েমুচড়ে গেছে ও পাশের খাদে পড়ে আছে। ভেতরে উঁকি দিতেই দেখি ডানপাশের পাঁচটি সিটের পাঁচজন যাত্রীই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। বাকি যাত্রীদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে।

কাশিয়ানী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক সেলিম মিয়া বলেন, আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতি এলাকায় ইমাদ পরিবহন ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ চালাই। এ সময় বাসে থাকা পাঁচ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করি। গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। দুপুরের দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ছয়জনে। নিহতের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যুবদলের নামে চাঁদাবাজি, ছাত্রলীগ নেতা ধরা

জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে গুলশান-২ এর ৬২ নম্বর রোডে মোস্তাফিজুর রহমান সিজারের বাসায় চাঁদাবাজি করতে যান গুলশান থানা ছাত্রলীগ নেতা সাব্বিরসহ ৫ জন।

পরে তাদেরকে ধরে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মাধ্যমে তিনি চাঁদাদাবির বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, এরপর চাঁদাবাজদের ধরতে তাৎক্ষণিকভাবে গুলশান ও বনানী থানার যুবদল নেতাদের সেখানে পাঠাই। দেখা যায়, গুলশান থানা ছাত্রলীগ নেতা সাব্বিরের নেতৃত্বে মোট ৫ জন মোস্তাফিজুর রহমান সিজারের বাড়িতে গিয়ে যুবদলের নামে চাঁদা দাবি করেছে। পরে তাদেরকে ধরে গুলশান থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) আনোয়ার হোসেন খান।

তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ভারতে পালানোর সময় পান্নার কাছে প্রায় দুই কোটি ডলার ছিল: দাবি স্বজনদের

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালানোর সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ডলার ছিল বলে দাবি করেছে তার স্বজনরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই)। তবে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় কোনো মুদ্রা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলা পুলিশের প্রধান গিরি প্রসাদ।

তিনি বলেন, অর্থকড়ির বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা যখন লাশ উদ্ধার করি, তখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও স্মার্টওয়াচ ছাড়া কোনো অর্থকড়ি পাওয়া যায়নি। পান্নার মৃতদেহ বর্তমানে খেইহরিয়াত সিভিল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

লাশ নিতে এখনো কেউ যোগাযোগ করেনি জানিয়ে প্রসাদ বলেছেন, মৃতদেহ পেতে পরিবারের সদস্যদের মেঘালয় সরকারের কাছে যেতে হবে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পান্নার লাশ উদ্ধারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ভারতের মেঘালয় পুলিশ। সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ের দোনা ভোই গ্রামের একটি সুপারি বাগান থেকে পান্নার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকাটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে।

পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, ওই মৃতদেহে পাওয়া পাসপোর্ট থেকে পান্নার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। কপালে ছিলে যাওয়া ও ক্ষতচিহ্নের কথা বলা হয়েছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। তার মৃতদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, পান্নার পরিবারের এক সদস্য ইউএনআইকে বলেছেন, মৃতদেহ বাংলাদেশ আনতে ইতোমধ্যে তারা ভারতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মেঘালয় পুলিশ পান্নার লাশ ২৬ আগস্ট উদ্ধারের কথা জানালেও তার ভাগ্নে লাইকুজ্জামান তালুকদার মিন্টু ২৪ আগস্ট দাবি করেছিলেন- তার মামার সঙ্গে থাকা অন্যরা জানিয়েছেন, ওইদিন সকালে শিলংয়ে একটি পাহাড় থেকে পা পিছলে পড়ে মারা গেছেন তার মামা।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বাসিন্দা ইসহাক আলী খান পান্না ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর তিনি দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক হন। পান্নার স্ত্রী আইরীন পারভীন বাঁধন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালে মারা যান। আইরিন উপসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হলের ভিপি ছিলেন। এ দম্পতির ইফতেশাম আফতারি আরিয়ান নামে এক ছেলে আছে।

জ্বালানি তেলের দাম কমলো

দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমালো অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার।

শনিবার (৩১ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এ খবর জানিয়েছেন।

এদিন বেলা ১১টার দিকে খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত নির্মাণাধীন রুপসা ৮০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প পরিদর্শনের আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।’

জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, ডিজেলের দাম ১০৬.৭৫ টাকা থেকে ১.২৫ টাকা কমিয়ে ১০৫.২৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৩১ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ১২৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১২৭ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলার আলোকে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের বর্তমান বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৫ টাকা থেকে ১ দশমিক ২৫ টাকা কমিয়ে ডিজেল ১০৫ দশমিক ৫০ টাকা ও কেরোসিন ১০৫ দশমিক ৫০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পেট্রোলের বর্তমান মূল্য ১২৭ টাকা থেকে ছয় টাকা কমিয়ে ১২১ টাকা এবং অকটেনের মূল্য ১৩১ টাকা থেকে ছয় টাকা কমিয়ে ১২৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করা হয়েছে।

পুনর্নির্ধারিত বা সমন্বয়কৃত এই মূল্য ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত গ্যাজেটও প্রকাশিত হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফৃীতি নিয়ন্ত্রণে বিপিসি মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। ফলে সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকরা কমমূল্যে বাজারে জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে লাইব্রেরিতে বন্যার পানি ঢুকে নষ্ট ১১৯ কোটি টাকা মূল্যের বই

বন্যার কারণে বাংলাদেশের বহু জেলা এখন-ও পানির নীচে। প্রাণহানির সাথে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ-ও ব্যাপক। ঠিক তেমনি, সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টেট-ও।

সম্প্রতি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ স্মিথ টাউন লাইব্রেরির সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করে দেশটির গণমাধ্যম সিএনএন নিউজ। ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে পানি লাইব্রেরির দেয়াল ভেঙে ঢুকে পড়ে। পানি লাইব্রেরির নীচের স্তর বাথটাবের মতন প্রবেশ করতে থাকে।

লাইব্রেরির কর্মকর্তারা বলছেন যে এই ঘটনায় অমূল্য ঐতিহাসিক নথিসহ প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় ১১৯ কোটি টাকার-ও বেশি।

প্রচন্ড বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড়ের কারণে সৃষ্টি হয় এই বন্যা। পানি শহরের যেখান দিয়েই প্রবেশ করেছে, সব কিছু গিলে ফেলেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শরীরে বুলেট নিয়ে ৩৯ দিন পর সোহানের মৃত্যু, হয়েছেন আসামি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শোহান শাহ (২৯)। দীর্ঘ ৩৯ দিন বুকে বুলেট নিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে শ্রীপুর সদরে আলতাফ হোসেন মহিলা কলেজ রোডে শোহানদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়িতে মাতম চলছে। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন শোহানের মা। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বাবা। শোহানের স্ত্রীর বিলাপ কিছুতেই থামছে না।

শোহানের স্ত্রী শম্পা বেগম বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। এরপর মধ্যে তিন বছর দুজন একসঙ্গে ঢাকায় সংসার পেতেছিলেন। বাকি সময় স্ত্রীকে গ্রামে পরিবারের সঙ্গে রেখে ঢাকায় চাকরি করেছেন শোহান। আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার। অর্থসংকটের কারণে ও একা ঢাকায় থাকত। অর্থের কারণে দুজন একসঙ্গেও থাকতে পারিনি। গত এক বছর বাড়িতে একটা নতুন ঘর দিচ্ছিল। সে আমাকে বলেছিল, শম্পা, আমি আর তুমি এই ঘরে থাকব।

মঙ্গলবার ঢাকায় সিএমএইচে শোহান শম্পাকে বলেছিলেন, তুমি কেঁদো না। আমার কিছুই হবে না। তবে শোহান আর ফেরেননি। অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে বুলেট বের করা গেলেও রক্ত বন্ধ করা যায়নি। ১৮ ব্যাগ রক্ত দিয়েও বাঁচানো যায়নি শোহানকে। সংসারে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কমতি ছিল না। স্বামী ছাড়া কেউ ছিল না আমার। সে সবসময় সব ধরনের পরিস্থিতিতে আমার পাশে থেকেছে। সে বলত, চিন্তা করো না, আমি তোমার পাশে আছি। আল্লাহ আমাকে একটা সন্তানও দেননি। আমি এখন কীভাবে বাঁচব?

শোহানের বাবা শাহ সেকেন্দার বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই স্মার্ট, কর্মঠ আর দায়িত্বশীল। ছোটবেলা থেকেই ইনকাম করে। বিশেষ করে বিয়ের পর একদিনও বসে থাকেনি। চাকরি না থাকলে বাড়িতে এসে রাজমিস্ত্রির কাজও করেছে। আমার পকেটখরচও সে দিত। যেদিন মারা গেল সেদিন সকালেও বিকাশে আমাকে এক হাজার টাকা পাঠিয়ে বলল, এই টাকাটা তুলে চলে আসেন।

ছেলে হারানোর শোকে বিলাপ করতে করতে শোহানের মা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে আমার মনের কথা বুঝত। কোনো কথা লুকালে ও বুঝে ফেলত। টাকা পাঠিয়ে বলত, মা তুমি আঁচলে গুঁজে রেখো না, যা লাগে কিনে খাও আমি আছি তো। আমার ইনকাম না খেয়ে তোমাদের মরতে দেব না। সুফিয়া বেগম বলেন, এখন এই কথা আমাকে কে বলবে? সবাই আছে শুধু আমার ছেলে নেই।

জানা গেছে, মাগুরার শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে প্রায় ১০ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে চাকরিতে যান শোহান। সবশেষ ঢাকার রামপুরা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। তার বাবা শাহ সেকেন্দার এক দশকের বেশি সময় আগে নিজের ব্যবসা গুটিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। তার একমাত্র ছোট ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মা-বাবা, স্ত্রী ও স্কুলছাত্র ছোট ভাইয়ের সব খরচের জোগান আসত একজনের বেতন থেকেই। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য স্ত্রীকে বাড়িতে মা-বাবার কাছে রেখে ঢাকায় মেসে থেকে চাকরি করছিলেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। যেখানে স্ত্রীর সঙ্গে সুখের সংসার পাততে চেয়েছিলেন শোহান। তবে তাদের সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না। গত ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শোহান। এর ৩৯ দিন পর ২৭ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শোহানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন বিকেলে শ্রীপুর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই শ্রীপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল খালেক। সেখানে আসামি হিসেবে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে। মামলার এজাহারে ১৮ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে শাহ সেকেন্দারের (এজাহারে সেকেন্দার শাহ লেখা হয়েছে) ছেলে শোহানের। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে শ্রীপুরের আলতাফ হোসেন মহিলা কলেজ মাঠে জড়ো হয়ে ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির করছিলেন আসামিরা।

এ বিষয়ে শাহ সেকেন্দার বলেন, আমার ধারণা, ওর গুলি লেগেছে, এটা জেনেই এলাকার লোকজন ও পুলিশ ষড়যন্ত্র করে মামলায় তাকে আসামি করেছে। আমার ছেলেকে গুলি করা থেকে শুরু করে চিকিৎসায় বাধা দেওয়া, মিথ্যা মামলা দেওয়া সব অপরাধের ন্যায়বিচার চাই আমি।

স্বস্তি ফিরেছে মাংসের বাজারে

আগস্টের শুরুতে চড়া দাম থাকলেও দুই সপ্তাহ ধরে কমতে শুরু করে মাংসের বাজার। ভোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে গরুর মাংসের বাজার। কেজিতে কমেছে অন্তত ১০০ টাকা। দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগীরও। এতে স্বস্তি এসেছে নাগরিকদের মাঝে।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একাধিক বাজার থেকে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি আগস্টের শুরুতে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। দাম কমেছে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে।

মোহাম্মদপুরের মাংস বিক্রেতা মো. খাজা ঢাকা মেইলকে বলেন, গরুর দাম আগের তুলনায় কম। তাই মাংসের দাম কমছে।

সহসাই গরুর মাংসের দাম বাড়ছে না বলেও মনে করেন এই মাংস বিক্রেতা।
স্বস্তি ফিরেছে মাংসের বাজারে
এদিকে দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। শুক্রবার সকালে নগরীর ঢাকা উদ্যান হাজী জয়নাল আবেদীন বাজারের গরুর মাংসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো।

মিলন হোসেন নামে একজন ক্রেতা ঢাকা মেইলকে বলেন, কয়েকদিন আগেও ৮০০ টাকা, সাড়ে আটশো টাকায় গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। এখন সাতশ টাকা। দাম যেহেতু কমেছে, এটা আমাদের জন্য ভালো। আমরা চাই দামটা আর না বাড়ুক।

এদিকে গরুর মাংসের পাশাপাশি কমেছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। আগস্টের শুরুর দিকে দুইশোর ঘর অতিক্রম করেছিল ব্রয়লার। সে দাম এখন বেশ কমেছে।

শুক্রবার ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগী। সেখানেও বেশ স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে ক্রেতাদের মাঝে।

‘আমি হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি’ :রুকাইয়া জাহান চমক

মাস তিনেক আগে হঠাৎ বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন মডেল ও অভিনয়শিল্পী রুকাইয়া জাহান চমক। বিয়ের খবর প্রকাশিত হতে না হতে চমক ও তাঁর স্বামী আজমান নাসিরকে নিয়ে চর্চা হতে থাকে। এর মধ্যে কেউ কেউ বলেন, নাসিরের এটি তৃতীয় বিয়ে আর চমকের দ্বিতীয়। বিয়ে প্রসঙ্গে নাসির তাঁর অবস্থান আগে পরিষ্কার করলেও এত দিন কিছুই বলেননি চমক। গত মঙ্গলবার কথা প্রসঙ্গে চমক বললেন, ‘সবাই এত কিছু লিখছিল, এটা আমার মোটেও পছন্দ হচ্ছিল না। এটা তো আমার একান্ত ব্যক্তিগত।’

রুকাইয়া জাহান চমক
রুকাইয়া জাহান চমক

তিন মাস আগেও বিয়ের খবর নিজে থেকে কাউকে জানাতে চাননি চমক। যখন খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্বামীকে নিয়ে কথা বলেন চমক। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘মানুষটার সম্পদ বলতে কিছুই নেই, অতীতও খুব একটা মধুর নয়! কিন্তু রাজার মতো একটা মন আছে, যেখানে সে আমাকে রানির মতো রেখেছে। আমি সুখী। এ মুহূর্তে আমার মতো সুখী কজন আছে জানি না। আবার এই সুখ কত দিন টিকবে তা-ও জানি না।’

চমকবললেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি। আমার কিন্তু আগে কোনো বিয়ে হয়নি, তারপরও এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল শুধু শুধু। এটা ঠিক, আমার একটা সিরিয়াস প্রেম ছিল। এরপর আরও দুই–তিনটা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছি।’
চমকের অভিনয়জীবন চার বছর হতে চলেছে। নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্রও বানিয়েছেন। প্রেমকে কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে করেন চমক। তিনি বললেন, ‘আমরা শিল্পী, শিল্পীদের জীবনে দুই–তিনটা প্রেম থাকবে না, এটা হতেই পারে না। প্রেম হচ্ছে বিশাল অনুপ্রেরণা। প্রেম থেকে আমরা শিখি, প্রেমে কষ্ট পেলে সেখান থেকেও শিখি, আরও আসে অনুপ্রেরণা। আমার যদি কাউকে ভালো লাগে, তিনি যদি ক্রিমিনালও হন, তাঁর খারাপ দিকটা ঠিক করে প্রেমের সম্পর্কে থাকতে পেরে ভালো লাগে।’

রুকাইয়া জাহান চমক
রুকাইয়া জাহান চমক

বিয়ের পর অনেকে চমকের স্বামীকে ধনকুবেরও বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে চমক বললেন, ‘আমার স্বামীর কথা বলছিল, সে ধনকুবের। বিশ্বাস করেন, আমি তার চেয়ে বেশি আয় করি। আমার স্বামী সত্যি নো বডি। আরেকটা কথা, আমার স্বামীর এটি তৃতীয় বিয়ে হলেও কার কি, আমার তো সমস্যা না। আমার না হেরে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। এই মানুষটা বারবার হেরে যাচ্ছিল, কিছুই পায়নি জীবনে, তার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন যদি আমি হই, তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় সুখটা যদি আমি দিতে পারি, কেন নয়। আমি তাঁকে অত কিছু জিজ্ঞেস করতে যাইওনি। সে আমার প্রতি লয়্যাল, প্রচণ্ড ভালোবাসে, কেয়ার করে—এটাই আমার কাছে অনেক।’
জীবনসঙ্গী টাকাপয়সা দিয়ে বিচার করার বিষয় নয় উল্লেখ করে চমক বললেন, ‘কেউ হাজার কোটি টাকার মালিক, কিন্তু মানুষ ঠিক না হলে ক্যামনে কি! এর আগে আমি একজন অসম্ভব ধনীকে ডেট করেছিলাম। তখন সুখী হতে পারিনি। ওর সঙ্গে আমার মনে হয়েছে, হ্যাপি, পরিপূর্ণ।
রুকাইয়া জাহান চমক
রুকাইয়া জাহান চমক

আবারও বলছি, আমাকে পাওয়া যদি কারও জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন হয়, তখন সেই মানুষটার সঙ্গে থেকে যাওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে। আর আমি হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি। কারণ, যে জীবনে অনেক জিতেছে, তাঁর জীবনে তো আমাকে দরকার নাই। গুরুত্বও কম পাব। সে মানুষের সঙ্গে থাকাটা আমার ইচ্ছাও না।’

চমকের জন্ম বরিশালে; তবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা ঢাকায়। ঢাকায় সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশব থেকেই নাচের তালিম নিয়েছেন। চমকের মা-বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ে চিকিৎসক হবে। মা-বাবার সে ইচ্ছাও পূরণ করেছেন তিনি। তাঁর তথ্যমতে, তিনি মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু চমকের। লেখাপড়ার বিরতি শেষে ২০২০ সালে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও সিরিজ হলো ‘হায়দার’, ‘হাউজ নং ৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসমাপ্ত’ ও ‘ভাইরাল হাজব্যান্ড’।

বন্যার্তদের কাছ থেকে দেখে কষ্ট দ্বিগুণ অনুভব হলো: বুবলী

ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের ১১ জেলা। বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় যে যেভাবে পারছেন ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

গুগল নিউজে ফলো করুন আরটিভি অনলাইন
এমন পরিস্থিতিতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। সশরীরে গিয়ে নোয়াখালী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

ক্যাপশনে লিখেছেন, বন্যার্ত মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখে কষ্টগুলো আরও দ্বিগুণ অনুভব হলো। আমার মতো করে আমি সবসময় চেষ্টা করি এই ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকতে। কারণ, এটা আমার মানসিক শান্তি।

তিনি আরও লিখেছেন, সত্যিকার অর্থে সবার একাত্মতা ও ভালোবাসায় বন্যায় বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর জন্য ঢাকায় প্রচুর উপহার সামগ্রী জমা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে এসব পৌঁছানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার খুব নাজুক অবস্থা গ্রামের দিকে।

সবশেষে অভিনেত্রী লিখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করবো বন্যার্তদের কাছে যেনো তাদের প্রাপ্য উপহার সামগ্রীগুলো পৌঁছায়, সেদিকে সবাই মিলে সহযোগিতা করি।
বন্যার্তদের কাছ থেকে দেখে কষ্ট দ্বিগুণ অনুভব হলো: বুবলী
ভক্ত-অনুরাগীরা বুবলীর এই পোস্টে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।

রিদওয়ান রামিম নামে একজন লিখেছেন, খুব ভালো লাগলো দেখে। মাশাআল্লাহ দোয়া করি এভাবেই মানুষের সঙ্গে থাকুন সবসময়।

আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর কাজ করেছেন।

শেখ উজ্জ্বল হোসাইন লিখেছেন, ভালোবাসা রইলো আপু, সামনে এগিয়ে যান।

জান্নাতুল মৌমি নামে আরেকজন লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ আপু অনেক মহৎ কাজ করেছেন। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আমিন।