Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 106

রিমান্ডের তৃতীয় দিন, প্রশ্ন করলেই হাসেন আনিসুল হক

সরকারের ব্যর্থতায় পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর দলের মন্ত্রী-এমপিরা কেউ পালিয়ে গেছেন আবার কেউ আছেন আত্মগোপনে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রিমান্ডে আছেন। তাদেরই একজন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে আছেন তিনি। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) আনিসুল হকের রিমান্ডের তৃতীয় দিন ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্নেরই উত্তর দেননি তিনি।

জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে শুনে মুচকি হেসেছেন তিনি। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের অবস্থা জানতে চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে। কারা নতুন করে বিচারক হিসাবে নিয়োগ পেলেন সে বিষয়েও জানতে চান আনিসুল হক। জিজ্ঞাসাবাদে একেবারেই স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। পুলিশের কোনো প্রশ্নের উত্তরই দেননি সাবেক এই আইনমন্ত্রী। প্রশ্ন করা হলে শুধু হেসেছেন।

ডিএমপি নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া হকার শাহজাহান আলী হত্যা মামলায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হককে। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তারা এখন ডিবি হেফাজতে আছেন। যে মামলায় তারা রিমান্ডে আছেন ওই মামলায় কোনো আসামির নাম নেই। তবে অজ্ঞাতনামা হিসাবে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী সরকার আমলে গত ১৬ জুলাই করা মামলায় গ্রেপ্তার হন সদ্য বিদায়ী সরকারের প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা ও মন্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির জন্য দায় চাপিয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ওপর।

ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্রেপ্তাররকৃতদের অপরাধ শুধু পুলিশ কেইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেয়ারবাজারসহ অনেক অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত সালমান এফ রহমান। সরকারের অনেক অপকর্মকে আইনি বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন আনিসুল হক। তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হত্যা মামলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও আইনগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রেপ্তার সালমান ও আনিসুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে ডিএমপির (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মহা. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যদি কিছু থাকে-আমার যেটা বলার আপনাদের আমি দাওয়াত দিয়ে বলব।’

সাবেক সচিব শাহ কামালের বাসা থেকে ৩ কোটি টাকা, বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামালের বাসা থেকে নগদ ৩ কোটির বেশি টাকা এবং ১০ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে শাহ কামালের বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাবর রোডের এফ ব্লকের ২৯/২ ও ৩ নম্বর বাড়ি থেকে এসব টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। ওই বাসা থেকে নগদ ৩ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ টাকা, ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা দামের ১০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং ১০ লাখ ৩ হাজার ৩০৬ টাকা মূল্যমানের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ৩ হাজার মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩২০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২ হাজার ৯৬৯ সৌদি রিয়াল, ৪ হাজার ১২২ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার, ১ হাজার ৯১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ৩৫ হাজার কোরিয়ান ইউয়ান ও ১৯৯ চীনা ইউয়ান মুদ্রা পাওয়া গেছে।

শাহ কামাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে বদলি, কেনাকাটা, উন্নয়ন কাজসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ছিল। তিনি ২০২০ সালের ২৯ জুন সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন।

১৯ দিন শুটিং করেছি, মামুন মাত্র ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন : এলিনা

নির্মাতা অনন্য মামুনের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না দেওয়ারসহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী। বুধবার রাতে প্রথমে ফেসবুকে নাম প্রকাশ না করে একজন নির্মাতা বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসেন তিনি।

শাম্মী লেখেন, ‘যে নির্মাতা সাবেক সরকারের আমলে দালালি, চাটুকারিতা, তোষামোদি করে টিকে থেকেছে, শিল্পীদের দিয়ে কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক দেয়নি, তার মুখে নীতিবাক্য মানায় না। কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছে সব সময়, চাপাবাজিতে সে বদ্ধপরিকর।’ নির্মাতাকে ‘চাটুকার’, ‘দালাল’ বলে সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী।

এলিনা শাম্মীর এমন পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে সেই পরিচালকের নাম জানতে চান অনেকে। ওই রাতেই অনন্য মামুন লেখেন, ‘একজন অদক্ষ অভিনেতা আমার সিনেমায় কাজ না করতে পেরে এখন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। টিজারে নিজের মুখটা না দেখতে পারাই কি কষ্ট?’

এরপরেই অনেকে ধারণা করেন অনন্য মামুনের বিরুদ্ধেই এমন পোস্ট দিয়েছেন এলিনা। কারণ মুক্তির অপেক্ষায় আছে মামুনের ‘দরদ’।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে এলিনা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দরদ সিনেমায় ভারতে ১৯ দিন শুটিং করেছি। মামুন আমাকে মাত্র ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা চাইলেই ক্রাইসিসের কথা জানান। “রেডিও” সিনেমাতেও আমাকে কোনো পারিশ্রমিক দেননি। এমনকি কয়েক বছর আগে মুক্তি পাওয়া “কসাই” সিনেমার সব পারিশ্রমিক বুঝে পাইনি।’

এলিনা শাম্মী
এলিনা শাম্মী

এত দিন কেন চুপ থেকেছেন; এমন প্রশ্নের উত্তরে এলিনা বলেন, ‘দরদ সিনেমার জন্য কোনো কথা বলিনি। ভেবেছি কথা বললে সিনেমার ক্ষতি হবে। এ ছাড়া অনন্য মামুনকে আমার নিজের ভাইয়ের মতো মনে করি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আমাকে ন্যায্য পাওনাটুকু দেননি। উল্টো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আমি নাকি অদক্ষ অভিনেতা। আমি কখনোই লবিং করে কাজ করিনি। আমার যোগ্যতা বলেই তিনি তাঁর কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করিয়েছেন। আর টিজারে দেখা যায়নি বলে আমার কষ্টের কথা বললেন। হ্যাঁ, আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি গুরুত্বহীন কোনো চরিত্রে অভিনয় করিনি যে আমাকে রাখা যাবে না। আমি তো নায়িকা নই, চরিত্রাভিনেতা। আমার তো কাজ দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়।’

এলিনা শাম্মী আরও বলেন, ‘এবারই প্রথম নয়। পারিশ্রমিক নিয়ে অনন্য মামুন কী করেন, তা প্রায় সব শিল্পীই জানেন। উনি এসব জেনেবুঝেই করেন। তিনি আপাদমস্তক একজন ব্যবসায়ী। আমি অন্য পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছি। অনন্য মামুনের মধ্যে পরিচালকের কোনো ছাপ পাই না। তাঁর মধ্যে সব সময় ধান্দাবাজি করার পাঁয়তারা কাজ করে।’

এলিনা জানান, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য ডেকেছেন মামুনের সহকারী। এলিনা বলেন, ‘তাঁর অফিসে গিয়ে টাকা আনতে আমি নিরাপদ বোধ করছি না। এ ছাড়া স্ট্যাটাস দেওয়ার পর অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারাও মামুনের কাছে টাকা পায়। আমাদের সবার পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দিতে হবে।’

বাবা মুক্তিযোদ্ধা না হলেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন ডিবি হারুন

গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কারীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে হেফাজতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর– শেষবারের মতো আলোচনায় আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ। সমোলোচিত এ সাবেক ডিবি প্রধান বিসিএস চাকরিতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৬ আগষ্ট) একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আবদুল হাসেম ও মা জহুরা খাতুন। সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এর প্রয়াত পিতা আব্দুল হাশেম ঘাগড়া বাজারে চালের কারবার করতেন। হাওরের সেচ প্রকল্পেও শ্রম দিতেন।

হারুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স, এমএসএস করেন। লেখাপড়া শেষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরি পান। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার এসে তাঁর পদায়ন আটকে দেয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় হারুনের চাকরি স্থায়ী হয়।

এলাকাবাসী জানায়, হারুনের বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। আর তাঁর বাবার চাচা ইদ্রিস ওরফে ইদু মোল্লা ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গাজীপুরের এসপি থাকাকালীনই হারুনের ‘ভাগ্যবদল’ ঘটে। সূত্রগুলো জানায়, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের এসপি থাকার সময় থেকেই হারুন তাঁর পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ির পাশের হাওরে জমি কিনতে শুরু করেন। নামে-বেনামে তাঁর কমপক্ষে ১০০ একর জমি রয়েছে। আবার শতাধিক একর অন্যের জমি তাঁর দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও হারুনের শতকোটি টাকার সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে।

২০১১ সালের জুলাইয়ে জাতীয় সংসদের সামনে এক মিছিলে তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে মারধর করে প্রথম আ লোচনায় আসা হারুন এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। গোয়েন্দা পুলিশের মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভাত খাইয়ে ভিডিও ছেড়ে দেয়া, বিরোধী দলের প্রতিটি আন্দোলনে বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে ‘বোমা ও বাঁশের লাঠিসোটা’ উদ্ধার, প্রতিদিনই সাংবাদিকদের একাধিকবার ব্রিফিং করা, তারকাদের সাথে ফটোসেশন, যাকে তাকে ডিবিতে তুলে নিয়ে আসা, হেফাজতে নির্যাতন, আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়–এমন নানান নেতিবাচক কাজে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত এই কর্মকর্তা।

ধানমন্ডিতে হেনস্তার শিকার সেই ব্যক্তি বললেন আমি জীবিত আছি

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভে ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে হেনস্তার শিকার ওই ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার ঘটনা সত্য নয়। তার মৃত্যুর খবর নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

হেনস্তার শিকার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবদুল কুদ্দুস মাখন। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার নারায়ণখোলা এলাকায়।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আবদুল কুদ্দুস মাখন মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি প্রতিবছর শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২-এ তার বাসভবনে যাই। গতকাল সকালে আমি আমার বাসা থেকে বের হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এ গেলে আমার ওপর তারা হামলা করে এবং অনেক মারধর করে। আমি বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক। বর্তমানে আমার কোনো পদবি নেই। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ নামে একটি সংগঠন করেছিলাম। আমরা এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতিচারণ করতাম। আমি ওই সংগঠনের একজন প্রতিষ্ঠাতা ছিলাম, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি ৯০-র দশকে ময়মনসিংহ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। এটা আমাকে দিয়েছিলেন আলহাজ মতিউর রহমান প্রিন্সিপাল। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির লালন করি। আমাকে যারা গতকাল লাঞ্ছিত করেছে আল্লাহ সবার সঠিক বিচার করবেন। আর আমি জীবিত আছি, ভালো আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে মৃত্যুর গুজব নিয়ে তার বড় ছেলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ভিডিওতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, উনার নাম আবদুল কুদ্দুস মাখন। আমি উনার বড় ছেলে সিরাজ উল কুদ্দুস ইমরান। আমার বাবা মারা যায়নি, এটা গুজব। আমার বাবা জীবিত আছেন, এখন পর্যন্ত অনেকটাই সুস্থ আছেন। তাকে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে তার মোবাইল ও সব টাকা নিয়ে গেছে। বাসায় তার চিকিৎসা চলছে। এখন আপনাদের যদি মনে হয় তাকে মেরে ফেলবেন তাহলে বাসায় আসতে পারেন। আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারেন। আমাদের পরিবারের সবাই মরার জন্য প্রস্তুত। তার অপরাধ কি ছিল জানেন? স্বাধীনতার সময় তার, তার বাবা ও তার বোনের অংশগ্রহণ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে মিথ্যা মামলায় ৭ মাস ২৪ দিন জেল খাটা, তার অন্য অপরাধ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়া, কালো পাঞ্জাবি পরিধান করা এবং বাংলাদেশের পতাকার টুপি পরিধান করা (একটা কথা আপনাদের অবগতির জন্য বলে রাখা ভালো উনার মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য উনি কখনো চেষ্টাই করেন নাই, কারণ আমার বাবা সার্টিফিকেটের জন্য অংশগ্রহণ করেন নাই)। এই যদি তার অপরাধ হয় তাহলে রাষ্ট্র আমাদের পুরো পরিবারকে ফাঁসি দিতে পারেন।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে এই জঘন্য কাজের পরও আমাদের দেশের মানুষ থেমে যায়নি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে হামলা করা হয়েছে। আমার মেজো চাচাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাকে জবাই করবে। এই সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে আর বিচার চাওয়ার কিছু নেই। লাভও হবে না। বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেকে হয়ত কখনো পরিচয় দিতে পারব না। যারা আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, আব্বা কিছুটা সুস্থ হলে আমি আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেব। তবে অন্য কারও বাবার সঙ্গে যেন এমন অন্যায় না হয় আপনাদের কাছে এই অনুরোধ রইলো। আমার বাবার মতো অনেকেই আছেন যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, কারণ তারা ৭১ দেখেছেন। এই অপরাধের জন্য দয়া করে আর কাউকে লাঞ্ছিত করবেন না প্লিজ।’

বাবার লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে মামলা করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে সিরাজ উল কুদ্দুস ইমরান মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন যে পরিস্থিতি এই পরিস্থিতিতে কোথাও সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না। তাই এখন মামলা করে কোনো লাভ নেই। আমাদের একটাই কথা আমার বাবা যেমন লাঞ্ছিত হয়েছে আর কেউ যাতে এরকম লাঞ্ছিত না হয়। দেশবাসীর কাছে আমার বাবার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। আরেকটি বিষয়, আমার বাবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। দয়া করে এ বিষয়টি আপনারা (সাংবাদিক) তুলে ধরবেন।

আবদুল কুদ্দুস মাখন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বরেণ্য রাজনীতিবিদ কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার সঙ্গে রাজনীতি করতেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল কুদ্দুস মাখন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা আর আমি একসঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমাকে তিনি খুব স্নেহ করতেন। তিনি আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তিনি নালিতাবাড়ীর বিষয় দেখতেন আর আমি নকলার বিষয় দেখতাম।

‘আরাফাতকে খুঁজছি, সে আমার জেতা আসন ছিনতাই করেছে’

ঢাকা-১৭ আসনে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে খুঁজছেন আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম। প্রার্থী হওয়ায় সে সময় তাকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জিতে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন আরাফাত।

সেদিন তার ওপর হামলাকারীদের মোহাম্মদ আলী আরাফাতের লোক বলে দাবি করেছিলেন আলম। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রতিমন্ত্রী আরাফাতের নির্দেশে কিছু লোক আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। দায়িত্বরত পুলিশও আমার পাশে দাঁড়ায়নি। কোনো মতে বেঁচে ফিরেছিলাম। সেই বিচার আমি আজও পাইনি। এখন আমি আরাফাতকে খুঁজছি, তাকে পেলে ধরে মামলা করবো। সে আমার জেতা আসন ছিনতাই করেছে।

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন হিরো আলম। নৌকা প্রতীক নিয়ে আরাফাত পেয়েছিলেন ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট, এবং হিরো আলম পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৬০৯ ভোট। গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসন। এই দুই প্রতীদ্বন্দ্বী ছাড়াও বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে ৮ প্রার্থী অংশ নিলেও উপনির্বাচনে ছিল না বিএনপির কোনো প্রার্থী।

বাংলাদেশ আমাদের শেখায় স্বাধীনতা কতটা জরুরি : ভারতের প্রধান বিচারপতি

ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতা কতটা জরুরি, আমাদের এসব অধিকারের কতটা মূল্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দেওয়া ভাষণে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। দেশটির গণমাধ্যম দ্য হিন্দু এমন খবর প্রকাশ করেছে।

ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস আমাদের দেশের জনগণের একে অপরের প্রতি যে দায়িত্ব আছে, তা আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছে এবং জাতি সংবিধানের মূল্যবোধগুলোকে বুঝতে পারছে।’

ভারতের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকে যা ঘটছে, তা পরিষ্কারভাবে আমাদের জন্য স্বাধীনতা যে কতটা মূল্যবান, তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তি লাভ সহজ। কিন্তু এ বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য অতীতের ঘটনাগুলো জানা–বোঝা দরকার।’

এ সময় দেশটির আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, ‘ভারতীয় সংবিধানে গণতন্ত্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। যদি এটি আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের নিয়মে চলে, তাহলে ভারত উন্নত দেশ হবে।’

দুই দফা বাধা, গোসল ও কাফন ছাড়াই দাফন

‘আমার সন্তান শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন। সে ছিল মেধাবী শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার বুক। দুনিয়া-আখেরাত উভয় বিচারে আমার সন্তান শহীদ। তাকে গোসল করানো হয়নি। কাফন দেওয়া হয়নি। যে কাপড়ে শহীদ হয়েছে, সে কাপড়েই জানাজার পর দাফন করেছি আমার কলিজার টুকরোকে।’

সন্তানের ছবি দেখিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলছিলেন কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনের বাবা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। তিনি মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত ১৮ জুলাই সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা পয়েন্টে অহিংস আন্দোলনে থাকা নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে পুলিশের সাঁজোয়া যানের সামনেই রুখে দাঁড়ান ইয়ামিন। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার বুক। তার পর সেই সাজোয়া যানে করেই মুমূর্ষ ইয়ামিনকে নির্দয়ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একপর্যায়ে টেনে ফেলে দেওয়া হয় সড়কে। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ফলাও করে প্রচারিত হয় ইয়ামিন হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য।

কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা জানান, ইয়ামিনকে পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যার পরের দৃশ্য নৃশংস বর্বরতা। তাঁদের দাবি, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামানের নির্দেশ ও নেতৃত্ব খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় তাঁকে। তারপর আন্দোলনকারীদের ‘শিক্ষা’ দিতে গুলিবিদ্ধ মুমূর্ষু ইয়ামিনকে সাঁজায়া যানে তুলে নিয়ে ঘুরিয়ে নির্দয়ভাবে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তায়।
দুই দফা বাধা, গোসল ও কাফন ছাড়াই দাফন
ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইয়ামিনকে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় প্রথমে দাফনের চেষ্টা করি। সব প্রস্তুতি নেওয়ার পর সেখানকার থানা থেকে জানানো হয়, ময়নাতদন্ত ছাড়া কোনো মরদেহ সেখানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। অতঃপর সাভারের তালবাগে কবরস্থানে দাফন করার চেষ্টা করলে সেখানেও একই অজুহাতে বাধা দেওয়া হয়। শেষমেষ ব্যাংক টাউন কবরস্থানের সভাপতির আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমার সন্তানকে সেখানেই চির নিন্দ্রায় শায়িত করার সুযোগ পাই।’

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মো. মহিউদ্দিন আরও বলেন, সন্তান হারানোর শোকে আমরা যখন কাতর তখন আমাদের রাজনৈতিক ভাবনা কী! আমাদের ইয়ামিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না- সেসব বিষয়ে নিবিড়ভাবে খোঁজ নেওয়া হয়। অথচ আমরা কোনো রাজনৈতিক করি না। আমাদের পরিবার অত্যন্ত ধার্মিক। স্ত্রী নাসরিন সুলতানা গৃহিণী। একমাত্র মেয়ে শাইখ আশহাবুল জান্নাত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমাদের গোটা পরিবারই রাজনীতির বাইরে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়েও কোটারবিরোধী ছিল ইয়ামিন।

সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে অসাধারণ রেজাল্ট করা ইয়ামিন চান্স পেয়েছিলেন বুয়েটে। গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আবরার ফাহাদকে সেখানে ছাত্রলীগ পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ভর্তি হননি ইয়ামিন। বেছে নিয়েছিলেন ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে। কারণ সেখানে কোনো রাজনীতি নেই। স্বপ্ন ছিল ওখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। কিন্তু সব স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে বিষাদে।

বাংলাদেশসহ ১২৬ টি দেশের জন্য পাকিস্তানের ভিসা ফ্রি

ভ্রমণ প্রেমিদের জন্যে সুখবর পাকিস্তানের ফ্রি ভিসা পাবে ১২৬ দেশ, তালিকায় বাংলাদেশও। ১২৬টা দেশের জন্যে ভিসা করে দেয়া হয়েছে বিনামূল্যে! অনলাইনে একদম সহজ ৩০ প্রশ্নের উত্তর দিয়েই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হয়ে যাবে ই-ভিসা। খবর ভিসা নিউজ ডট কমের।

গত জুলাই পাকিস্তান ভিসা কর্তৃপক্ষ ১২৬ দেশের জন্য এমনি একটি ঘোষণা আসতে পারে বলে জানায়।

বুধবার (১৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সকলের কাছে এ নতুন ভিসা নীতি উন্মোচন করেন।

তিনি বলেন, আজ ১৪ আগস্ট থেকে ১২৬টি দেশের দর্শনার্থীদের জন্য ইলেকট্রনিক ভিসা (ই-ভিসা) ফি বাতিল করা হয়েছে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও খুব সহজ করা হয়েছে। দেশগুলো থেকে ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক উভয় কাজেই বিনামূল্যে ৯০ দিনের ভিসা পাওয়া যাবে।

এছাড়া মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান ও কাতারের নাগরিকরা পাকিস্তানে প্রবেশ করে পাসপোর্ট দেখানোর মাধ্যমেই অন-এরাইভাল ভিসা পেয়ে যাবেন।

আন্দোলনে যেতে চাওয়ায় মেয়েকে যা বলেছিলেন মাশরাফী

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যাদের কথায় বা কাজে বেশ প্রভাবিত হয়, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তাদেরই একজন ছিলেন। কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলনের পুরোটা সময়জুড়ে নিশ্চুপ ছিলেন জাতীয় দলের এই সাবেক ক্রিকেটার। যা বেশ অবাক করেছে ভক্তদের। তাইতো তার ওপর বেশ ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আওয়ামী লীগের এই সাবেক সংসদ সদস্য।

গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাশরাফী জানান, নিজে আন্দোলনে অংশ নিতে না পারলেও মেয়ে হুমায়রাকে এই আন্দোলনে যুক্ত হতে উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি হুমায়রা আন্দোলনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু স্ট্যাটাসও দিয়েছিল বলে জানান মাশরাফী।

এই প্রসঙ্গে মাশরাফী বলেন, ‘আমার মেয়ে হুমায়রা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে। আমার সেখানে অ্যাকাউন্ট থাকলেও সেভাবে দেখতাম না, ওকেও ফলো করতাম না। আমাকে আমার এক ছোট ভাই জানাল যে, হুমায়রা ইনস্টাগ্রামে অনেক কিছু দিচ্ছে বা শেয়ার করছে। ১৭ জুলাই থেকেই দিচ্ছে।’

মাশরাফী আরও যোগ করেন, ‘আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম। ও বলল, হ্যাঁ, আমি এসব দিচ্ছি। তোমার কি আপত্তি আছে?’ আমি বললাম, না, আমার সমস্যা নেই। তোমার স্কুল থেকে বা বন্ধুরা আন্দোলনে গেলে তুমিও সঙ্গে থেকো। আমার পদের জন্য বা চেয়ারের জন্য তাকে বাধা পেতে হবে, এটা কখনো চাইনি।’

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে আন্দেলনে অংশ না নেওয়া প্রসঙ্গে মাশরাফী বলেন, ‘শুধু আমি নই, আমার মনে হয়, এই আন্দোলন নিয়ে যা কিছু লিখতে বা করতে পারেনি, তাদের সবাইকেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নিজের পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে। আমি আমার অবস্থান বলেছি। কেউ একমত হয়েছে, কেউ হয়নি।’