Sunday, April 5, 2026
Home Blog Page 11

৯ দিন পর সিলেটে আবার ভূকম্পন

সিলেটে আবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে জেলার বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। সিলেট ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যের বরাতে আজ দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদ শাহ সজীব হোসাইন।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এ ছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি আরও একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গোয়াইনঘাট।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন, ঢাকার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল উত্তর-পূর্ব দিকে। গবেষণাকেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ১৮৭ কিলোমিটার।

একই দিনে সড়কে ঝরল বিয়ানীবাজারের দু’জনের প্রাণ

তাদের দুজনের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার একই ইউনিয়নে। তবে মৃত্যু হয়েছে গোলাপগঞ্জের পৃথক দুটি স্থানে। আর দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। একজন ছিলেন অটোরিকশার যাত্রী। অপরজন ছিলেন মোটরসাইকেল চালক।

একজনের নাম কামাল আহমদ, আর আরেকজনের নাম ফরহাদ হাসান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের আছিরগঞ্জ বাজারের খাগাইল সুপার মার্কেটের সামনে বসন্তপুর-কটলিপাড়া সড়কে একটি হাইড্রোলিক ট্রাক্টরের সাথে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো. কামাল আহমদ (৪২)। তিনি বিয়ানীবাজার থানার তিলপাড়া ইউনিয়নের ভরাউট গ্রামের মৃত মক্তার আলীর ছেলে। তিনি একজন বাকপ্রতিবন্ধী দিনমজুর ছিলেন।

স্থানীয়দের সহযোগীতায় পুলিশ ট্রাক্টরটি আটক করতে সক্ষম হলেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানাপুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাটের চেষ্টা চলছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অপর দুর্ঘটনাটি কখন ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি এলাকার সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে এক যুবকের নিথর দেহ ও একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা গোলাপগঞ্জ থানাপুলিশকে খবর দেন। তারা লাশ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠায়।

জানা গেছে, ওই যুবকের নাম মো. ফরহাদ হাসান (৩০)। তিনি বিয়ানীবাজার থানার তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে।

এই দুই দুর্ঘটনার খবরে তিলপাড়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিয়ানীবাজারের যুবক সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়কে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ফরহাদ হাসান (৩০) এর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফরহাদ বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটিজুরা গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে

খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সকালে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও চালকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। কিভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা পুলিশ জানাতে পারেনি। তবে সড়কে পড়েছিলো সিলেট-ল ১২-৭১৬৪ নাম্বারের মোটরসাইকেলটি।

গোলাপঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন- নিহতের পরিচয় জানার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

বিয়ানীবাজারে ট্রাক্টর ও টমটমের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যাত্রীর

সিলেটের বিয়ানীবাজার থানাধীন আছিরগঞ্জ এলাকায় হাইড্রোলিক ট্রাক্টর ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় এক টমটম যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বুধবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে আছিরগঞ্জস্থ বসন্তপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ট্রাক্টর আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়।

নিহত কামাল হোসেন (৪২) বিয়ানীবাজারের তিলপাড়া ইউনিয়নের বড়াউট গ্রামের মক্তার আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাক্টর আটক করলেও ঘটনাস্থল থেকে চালক পালিয়ে যায়।

সিলেটের কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী- রূপকথার গল্পের মতো উত্থান আরিফের

ছিলেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, পরে আওয়ামী লীগের আমলেই টানা দুবার নির্বাচিত হন সিটি মেয়র। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। আর মঙ্গলবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

শপথ গ্রহণের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এই বিএনপি নেতা। আরিফুল হক, যিনি আরিফ নামেই সিলেটের সবার কাছে পরিচিত, তার রাজনৈতিক জীবন নানা উত্থান-পতনে ভরপুর; যেন রূপকথার গল্পের মতো।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন আরিফ। সাইফুর তাকে বলতেন ‘ডিপ্লোমেটিক লিডার’। সাইফুরের আস্থাভাজন হয়ে গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেটের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদে পরিণত হন আরিফ।

এরপর দেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকায় নাম আসা, জেল খাটা, সেখান থেকে ফিরে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া, এরপর আরেক সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় জেলে যাওয়া, তারপর আবার মেয়র হওয়া, নিজে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়া, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও সবশেষ মন্ত্রী হিসেবে শপথ—আরিফের রাজনৈতিক জীবন এমন নানা উত্থান-পতনে ভরপুর।

ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু আরিফের। ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতিও। এখন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন। আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার (বর্তমান পদের নাম কাউন্সিলর) হিসেবে প্রথম জনপ্রতিনিধি হন। এরপর টানা দুইবার ছিলেন মেয়র। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি (সংসদ সদস্য) হয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ার আগে আরিফুল হক দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তবে তাঁর উত্থান মূলত বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং তখনকার বিএনপি-দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বদৌলতে। ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফ। তবে সাইফুর রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে নগরের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরিফই ছিলেন প্রধান ব্যক্তি। কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির দায়িত্ব পান। তবে তখন তাকে বলা হতো ‘ছায়া মেয়র’। কেউ কেউ ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ও বলতেন।

তবে ২০০৭ সালে ‘ওয়ান ইলেভেন সরকার’ হিসেবে পরিচিত সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ছন্দপতন ঘটে আরিফের এই উত্থানে। তখন দেশের শীর্ষ ৫০ দুর্নীতিবাজের তালিকায় উঠে আসে আরিফুল হকের নাম। পরে কারাগারেও যেতে হয় তাকে। এরপর সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে আরও বেকায়দায় পড়েন আরিফ। দলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। তখন অনেকেই আরিফুল হকের রাজনীতির শেষ দেখে ফেলেছিলেন।

তবে ২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রবল আপত্তির মুখেও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পান আরিফ। ওই নির্বাচনে সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন। ২০১৮ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র সিলেটে বিএনপি থেকে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হন।

বিএনপির মনোনয়নে আরিফুল টানা দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নকাজের জন্য প্রশংসিত হন। সব মহলের কাছে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। তবে সবশেষ ২০২৩ সালের ২১ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলের আপত্তির কারণে অংশ নেননি তিনি। দলীয় নির্দেশনা মেনে প্রার্থী না হওয়ায় বিএনপিতে পুরস্কৃত হন আরিফ। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ পান।

সিলেট বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে এ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা (নতুন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী) খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আর দলীয় প্রার্থিতা ঘোষণার প্রথম দফায় আরিফের নাম ছিল না।

পরে নানা নাটকীয়তা শেষে আরিফকে নগরের বাইরে সিলেটের সীমান্তঘেঁষা সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী করা হয়। তবে নগর ছেড়ে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে রাজি ছিলেন না তিনি। গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের হাইকমান্ড তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশনা দেয়। পরে ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। আর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

বেশি আসন দিয়েও কম মন্ত্রি পেল সিলেট

সিলেট বিভাগে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা মোট ১৯টি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। কোনো আসনে ভোটের ব্যবধানও ছিল বিশাল।

অথচ নতুন সরকারের পথচলা শুরুতেই বঞ্চিত হল এই বিভাগ। মাত্র ২জনকে মন্ত্রি পেয়েছে সিলেট।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।

এই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া সিলেটের দুই ভাগ্যবান বিএনপি নেতা সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাকে বাণিজ্য শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অপরজন হলেন সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রনালয়ের।

এই দুই মন্ত্রি পেয়ে বৃহত্তর সিলেটবাসী আনন্দিত হলেও তাদের প্রত্যাশা ছিল অন্তত আরও ২/১ জন মন্ত্রি পাচ্ছে সিলেট। তা না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা।

উল্লেখ্য, সিলেটের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কেবলমাত্র সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনটিতে জয়লাভ করেছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দেয়ালঘড়ি প্রতিকের মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। অন্য ১৮টি আসনেই জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থীরা।

ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে একই পরিবারের ৫ জনসহ ছয় বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে আভা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওমরাহ পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- রামগঞ্জ উপজেলার নলচারা বেপারী বাড়ির মিজান, তার স্ত্রী ও তাদের তিন কন্যা সন্তান। একই দুর্ঘটনায় তাদের আরও একজন স্বজন নিহত হয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সিলেটে ক্যাম্পাসে ‘মুক্তাদীরের প্রচারে আপত্তি জানানোয়’ স্কলার্সহোমের শিক্ষককে বহিস্কার!

সিলেটে ক্যাম্পাসের ভেতরে নির্বাচনী প্রচারে আপত্তি জানানোয় নগরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম-এর এক শিক্ষককে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক নিজেই এ অভিযোগ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানান সম্ভব হয়নি।

বরখাস্তকৃত শিক্ষক মো. নিয়াজ উদ্দিন ওই প্রতিষ্ঠানের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের রিলিজিয়াস স্টাডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল লে. ক. (অব.) মুনির আহমেদ কাদেরী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রভাষক রিয়াজকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

নিজেকে বরখাস্তের তথ্য জানিয়ে রিয়াজ আহমদ ফেসবুকে লিখেন- ‘আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আজ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম থেকে। নির্বাচনের ৩ দিন আগে স্কলার্সহোমের টিচারদের বোকা বানিয়ে সিলেট-১ এর মাননীয় এমপি মুক্তাদীর সাহেবকে নিয়ে এসে প্রচারের সুযোগ করে দেয় শিক্ষকদের মাঝে। সেই টিচাররা এই আসনের নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন। যেটা নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাষ্ট্রিয় আইনের পরিপন্থী। আমি সেই ঘটনার প্রতিবাদ করি সাথেসাথে। আজকে আমাকে এ ঘটনার জের ধরে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

নিয়াজ উদ্দিন জানান, তিনি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে স্কলার্সহোমের শাহী ইদগাহ শাখায় শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানার সাথে বলেন, ‘প্রভাষক নিয়াজ উদ্দিন আমাদের কাছে এ ব্যাপারে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে আসলে আমরা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপাারে স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অব.)-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, স্কলার্সহোম হাফিজ আহমদ মজুমদার ট্রাস্ট পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হাফিক আহমদ আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র:sylhettoday24.news

সিলেটে ১৫টি পাওয়ার জেল ও ১৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫টি পাওয়ার জেল এবং ১৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার।

বিজিবি জানায়, রবিবার দিবাগত রাতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) ও র‌্যাব-৯ এর সমন্বয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন কাজলসার ইউনিয়নের রায়গঞ্জ এলাকার আটগ্রাম পেট্রোবাংলা পয়েন্টের রায়গ্রাম যাত্রী ছাউনির পেছনে পলিথিন দিয়ে মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫টি পাওয়ার জেল এবং ১৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজিবি ও র‍্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার পাওয়ার জেল ও ইলেকট্রিক ডেটোনেটরগুলো জিডি মূলে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিয়ানীবাজারে সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ তুলেছেন।

শনিবার রাতে জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি সমর্থক ও তাদের ছত্রছায়ায় মাথাচাড়া দিয়েও উঠা অপশক্তি উত্তেজিত হয়ে এলাকার জামায়াত সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করেছে। তিলপারা ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের শরিফা বেগমের উপর শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের মোস্তফা উদ্দিন, আইয়্যুব ও সাহেদ আহমেদের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।”

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে এলাকায় বসবাস করছেন। অনেকের ফোনে কিংবা সামনাসামনি মারধরের হুমকি দেওয়া অভিযোগ করা হয়।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “(বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে) দাঁড়িপাল্লার জনপ্রিয়তার ভয়ে ভীত হয়ে অনেকে এক হয়ে যেকোনো মূল্যে দাঁড়িপাল্লা সেলিম উদ্দিনকে হারানোর জন্য সবাই এক হয়ে কাজ করেছেন। তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাদের মামলা তুলে নেওয়া হবে। নির্বাচন পরবর্তী দেখছি অনেক এজাহারভুক্ত আসামী প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে। বিভিন্নভাবে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এটি একটি অশনিসংকেত। এমন যদি হয় নতুন বাংলাদেশের অবস্থা তবে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হবে যা মোটেই কাম্য না।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের যতটুকু আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল তার অনেকটা ঘাটতি দেখা গেছে। আমরা তো ইলেকশন মেনে নিয়েছি। সারাদেশে ভোটের রেশিও অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী একটা বড় বিরোধী দল হিসেবে সরকারে আসছে। এখনো সরকাই গঠন হয় নাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েগেছে এরই মধ্যে এমন আচরণ দুঃখজনক। আমর দেখেছি সরকার দলের সবসময় বিরোধী দলের প্রতি আন্তরিক কথা তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে সেটা তো সরকারের বিরুদ্ধে যায়। আমরা বিএনপির কাছে একটি সংযত দল হিসবে আচরণ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একজন মাকে মারধর করা হয়েছে শুধু তার বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার উঠান বৈঠক হয়েছিল বলে এটা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।”

বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হামলার শিকার আহত পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের সুষ্ঠু বিচারের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী দল হিসবে যতটুকু প্রয়োজন সহযোগিতা করবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, সেক্রেটারি কাজী আবুল কাশেম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি ফাতেহুল ইসলাম।