Monday, April 6, 2026
Home Blog Page 110

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর শপথ

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে শপথ নিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা শপথ বাক্য পাঠ করেন।

শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব আলী খান।

নেতারা সমবেত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শপথ করছি যে, যত দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে না আনবে তত দিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবে না।

আমি আরও শপথ করছি যে, তাঁর উপর ঘটে যাওয়া সকল প্রকার অন্যায়ের প্রতিশোধ নিব। আজ থেকে আমাদের আন্দোলন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদীর পাশে দাঁড়িয়ে আমি এই শপথ বাক্য পাঠ করছি। আমাদের এই শপথ মহান রাব্বুল আলআমীন কবুল করুক। আমিন, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

শপথ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহাব উদ্দিন আজম, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গোপালগঞ্জ থেকে মিছিল সহকারে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তাঁরা বেদীর পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কোথায় আছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। রুপালি পর্দায় দাপিয়ে বেড়ানোর পর সক্রিয় হন রাজনীতির মাঠে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনের পর এক বছরও সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার সৌভাগ্য হলো না ফেরদৌসের। ছাত্র-জনতার এক দফা দাবির জেরে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুধু তিনিই নন, তার দেশত্যাগের খবরের পর সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপিরাও দেশ ছাড়েন। সেই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয় সংসদও। এমতাবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে মন্ত্রিসভার যারা দেশে রয়ে গেছেন, তারা এখন কে কোথায় আছেন?

বিশেষ করে চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ এখন কোথায় রয়েছেন? তিনিও কি দেশ ছেড়েছেন, নাকি দেশেই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে আছেন?

সূত্র হতে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট রাত পর্যন্ত ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন ফেরদৌস। এর দুইদিন আগে বিটিভিতে হাজির হয়ে টেলিভিশন চ্যানেলটির ওপর হামলা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু গত ৫ আগস্ট থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ফেরদৌসকে। এমনিক তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও ৪ আগস্টের পর কোনো স্ট্যাটাস শেয়ার করতে দেখা যায়নি।

এসবের মাঝেই গুঞ্জন উঠেছে, পরিবার নিয়ে নাকি দেশ ছেড়েছেন ফেরদৌস। যদিও নায়কের দেশ ছাড়ার খবরের এখনও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তার বন্ধ রয়েছে পিএসের নাম্বারও।

এদিকে ফেরদৌস গা ঢাকা দিলেও গত ৬ আগস্ট চিত্রনায়ক রিয়াজকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ফেরত পাঠায় তাকে। মূলত এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল রিয়াজের।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে কিছু রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ বেশ কয়েকজনের তালিকা চেক-ইন এবং ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেওয়া রয়েছে। পাশাপাশি প্লেনে যাত্রী ওঠা ও ফ্লাইট উড্ডয়নের ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। বিকেলে রিয়াজ বিমানবন্দরে আসলে সম্ভবত তালিকায় নাম থাকার কারণে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে।

আটকে দেওয়া হয়েছে চিত্রনায়ক রিয়াজকে, যেতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রে

এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রিয়াজের। তবে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে রিয়াজকে আটকে দেওয়া হয় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এরপর তাকে ফেরত পাঠায় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে কিছু রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ বেশ কয়েকজনের তালিকা চেক-ইন এবং ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেওয়া রয়েছে। পাশাপাশি প্লেনে যাত্রী ওঠা ও ফ্লাইট উড্ডয়নের ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। রিয়াজ বিকেলে বিমানবন্দরে আসেন। সম্ভবত তালিকায় নাম থাকার কারণে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবী নেই রিয়াজের। তবে দলটির হয়ে সরব ছিলেন। যেকোনো কর্মসূচীতে দেখা যেত প্রথম সারিতে। আওয়ামী ঘরানার শিল্পীদের সঙ্গেই ছিল তার ওঠাবসা।

দ্বিতীয় দিনেও সূচকে লাফ, লেনদেনেও গতি

দুই দিনে বাজার মূলধন বেড়েছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
তুমুল গণ আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর পুঁজিবাজারের উল্লম্ফন বজায় ছিল দ্বিতীয় দিনেও; বেশির ভাগ শেয়ারের দর বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ১৯২ পয়েন্ট।

বুধবার সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। দ্বিতীয় দিনের মত সাতশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে লেনদেন। গত দুই দিনে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় বাজার মূলধন ফিরে এসেছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মন্দার মধ্যে থাকা পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন পর জেগে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্বিতীয় দিনের মত বুধবারও বড় মূলধনের কোম্পানির ওপর ভর করে সকাল থেকে টানা বাড়তে থাকে ‍সূচক। এক সময় তা ১২০ পয়েন্ট পেরিয়ে যায় দ্রুতেই।

তবে দিনের মাঝামাঝি সময়ে সূচক কমতে থাকলে অনেকে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করে। তখন সূচক কমে ৫০ পয়েন্টের নিচে নামে। এরপর আবার কেনার চাপ বাড়লে সূচক ঘুরে দাঁড়ায়।

দুই দিনের লেনদেন ও সূচকের উত্থান বলছে, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বুধবার দিনে শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে।

ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনের দীর্ঘ সময় পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পরের দুই দিনে ডিএসই সূচকে যোগ হল ৩৮৯ পয়েন্ট। এতে তিন মাস আগের অবস্থানে গেছে সূচক। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ডিএসই প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৬৩৩ পয়েন্টে।

সূচকের উত্থান ছিল শেষ সময় পর্যন্ত

সকালে ৫ হাজার ৪২৬ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করলে ৮ মিনিট পরে তাতে যোগ হয় ১২০ পয়েন্ট। এর পর কিছুটা দর সংশোধনে গিয়ে বাড়তে থাকে লেনদেনের পরিমাণ। বেলা ১১টায় লেনদেন আর বেড়ে গিয়ে সূচক নেমে যায় ৫ হাজার ৪৮০ পয়েন্টে।

ক্রয় চাপ বাড়তে থাকলে গতিতে ফেরে সূচকের উত্থান প্রবণতাও। ধীরে ধীরে সেই গতিতে আরও টান লাগে সময় বাড়তে থাকলে। এভাবে লেনদেন শেষ করে বেলা আড়াইটায়। এ সময়ে সূচক কখনও নিচে নামেনি।

দিনশেষে লেনদেন হয় ৭৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। আগের দিন যা ছিল ৭৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

গত তিন মাসের মধ্যে সূচক সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ পয়েন্টে উঠেছিল গত ৯ জুলাই। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচকের সঙ্গে অন্য দুই সূচকও এগিয়ে যায়। আগের দিনের চেয়ে শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২১৯ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ সূচক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২ পয়েন্ট।

এদিন শেয়ারদর বেড়েছে ২৬৬টি কোম্পানির, কমেছে ১১৪টিরে এবং আগের দরে লেনদেন শেষ করে ১৬টি।

একদিন বিরতি দিয়ে ফের লেনদেনে শীর্ষে উঠে এসেছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দিন শেষে মোট লেনদেনের প্রায় ১৬ দশমিক ১৭ শতাংশ অবদান রাখে এ খাতে তালিকাভুক্ত ৩৩টি কোম্পানি। এরপর ব্যাংক খাতের অংশ ছিল ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে দর বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ বেড়ছে এসিআই ফরমুলেশনস, আফতাব অটোস ও মুন্নু সিরামিকসের।

দর হারানোর শীর্ষে ছিল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার ও সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

হাসিনার পতনের দিন সন্তানের জন্ম, নাম রাখা হলো ‘আন্দোলন’

ছাত্রজনতার তোপের মুখে সরকার থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গত সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা থেকে দিল্লিতে উড়াল দেন তিনি।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবরে উল্লাসে মেতে ওঠেন সাধারণ জনতা। যেই স্রোতে গা ভাসান তারকা থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

এরই মাঝে ভক্তদের সঙ্গে নিজের জীবনের অন্যতম এক সুখবর শেয়ার করেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ অভিনেত্রী নাবিলা ইসলাম।

শেখ হাসিনার পতনের দিনেই প্রথমবারের মতো মা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার সংসার আলো করে এসেছে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান।

৫ আগস্টকে ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশ উল্লেখ করে মেয়ের আগমনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের কারণে মেয়ের নামও ভালোবেসে ‘আন্দোলন’ রেখেছেন নাবিলা।

বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো নবজাতকের একটি ছবি প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিল আমার মেয়ে ‘আন্দোলন’।

মা হওয়ার খবরে ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন নাবিলা। অভিনেত্রী মনিরা মিঠু এক মন্তব্য বলেন, আহা, মা-মেয়েকে বিজয়ের শুভেচ্ছা। অনেক অনেক দোয়া রইলো।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন নাবিলা। গোপনেই বিয়ে করেছিলেন এই অভিনেত্রী। এবার জানালেন তার মা হওয়ার খবর।

রাজধানীতে ট্রাফিকের দায়িত্বে আনসার ও শিক্ষার্থীরা

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর তৃতীয় দিনে রাজধানীতে সকাল থেকে বেড়েছে যান চলাচল। রাস্তায় বের হয়েছে কর্মজীবী, চাকুরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। ঢাকার বাইরে হাইওয়েতেও চলছে যানবাহন। এতে করে কোথাও কোথাও যানজট তৈরি হয়েছে। তবে সকাল থেকে পুলিশ না থাকায় আনসার সদস্যদের সাথে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে।

আজ বুধবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ি মোড়ে দেখা যায়, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়েতে যানবাহন চলাচল করছে। এ ছাড়া রাজধানীর পুরান ঢাকা, গুলিস্তান, পল্টন, ধানমন্ডি, কলাবাগান, মিরপুর রোড, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকাসহ পুরো রাজধানীতে ছাত্রছাত্রীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন।

কাওরান বাজারে ট্রাফিকের দায়িত্বে পালনরত মার্জান নামের এক শিক্ষার্থী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘দেশ নতুন করে স্বাধীনতা লাভ করেছে। এ সময়ে দেশের জন্য কিছু করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’

যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, ‘দেশে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দেশকে নতুন করে সাজাতে আমরা মাদ্রাসার ছাত্ররা নেমে এসেছি। যাত্রাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করছি।’

রাজধানীতে শঙ্ক-ভয় কাটিয়ে আজ মানুষ তুলনামুলক বেশি বের হয়েছেন। বাসের সংখ্যা অন্য সময়ের মতো না হলেও গতকাল মঙ্গলবারের চেয়ে আজ বেশি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল বেড়েছে।

ঢাকার রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায়নি। তবে গতকালের মতো আজও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। সিগন্যালগুলোতে শিক্ষার্থীরা পালা করে দায়িত্বপালন করছেন। কয়েক জায়গায় তাদের সঙ্গে আনসার সদস্যরাও রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কিছু সদস্যদেরও বিভিন্ন সিগন্যালে দায়িত্বপালন করতে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন, সড়কের আবর্জনা সরিয়ে ফেলছেন।

এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কবে নাগাদ স্থগিত এ পরীক্ষাগুলোর সময়সূচি প্রকাশ করা হবে, তা সম্পর্কেও কিছুই জানানো হয়নি।

বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী।

আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১১ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসমূহ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো। স্থগিত পরীক্ষাসমূহের নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‌‌”আসলে এখন পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সেজন্য স্থগিত পরীক্ষাগুলো নতুন সময়সূচিতেও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়কে আমরা পরিস্থিতি জানিয়েছি। তারা সে অনুযায়ী আদেশ জারি করে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন।”

এর কিছুক্ষণ পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হলো।

শেখ পরিবারের কেউ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসছেন না: জয়

এই মুহূর্তে শেখ পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কিংবা রাজনীতিতে আসছেন না বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

বাংলাদেশে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদত্যাগের সিদ্ধান্ত একদিন আগে নেওয়া হলেও তা তখন ঘোষণা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তার পুত্র।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে ডয়চেভেলের বাংলা বিভাগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন একদিন আগে। আমরা কয়েকজন শুধুমাত্র জানতাম যে তিনি ঘোষণা দেবেন, তিনি পদত্যাগ করছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী যাতে একটি ট্রানজিশন অব পাওয়ার হয় সেটাই ছিল ওনার প্ল্যান। তবে যখন তারা ঐ গণভবনের দিকে মার্চ করা শুরু করলো। তখন আমরা ভয়ে বললাম যে, আর সময় নেই। তোমার এখনই বেরিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন একপর্যায়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং বেশ কয়েকশত প্রাণহানি হয়। হাসিনা সরকার আন্দোলনকারীদের দমনে বাড়াবাড়ি রকম শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে নানা মহল থেকে। তীব্র আন্দোলনের মুখে দ্রুত বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, বর্তমানে তার রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। শেখ পরিবারের কোনো সদস্যরই রাজনীতিতে আসার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, তিনবারের মতো আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ক্যু হলো। তিনবারের মতো সবকিছু হারিয়ে বিদেশে থাকতে হলো। আমি আর আমার মা বাদে আমরা সবাই বিদেশে অনেকদিন ধরে আছি। আমরা এখানে সেটেলড। আমাদের এখানে জীবনের কোনো অসুবিধা নেই। আমরা এখানে থাকতে অভ্যস্ত।

শেখ হাসিনা ভারত থেকে অন্য কোথাও যাবেন এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভালো আছেন, এখন দিল্লিতে আছেন। আমার বোন ওনার কাছে আছেন। আমার বোনতো দিল্লিতে থাকেন। তিনি ভালো আছেন, তবে তার খুবই মন খারাপ।

জয় বলেন, তিনি খুবই দুঃখিত যে দেশের জন্য ওনার বাবা জান দিয়েছেন, পুরো পরিবার জান হারিয়েছে। যেই দেশের জন্য তিনি জেল খেটেছেন, এত পরিশ্রম করেছেন, এত উন্নয়ন করেছেন, সেই দেশের মানুষ তাকে এভাবে অপমান করে বের করে দেবে, তার উপর আক্রমণ করতে যাবে, এটা আমরা কেউ কল্পনা করতে পারিনি।

মায়ের সঙ্গে দিল্লিতে শিগগিরই দেখা করবেন বলেও জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।

বোরকা পরে পালাতে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি যুবলীগ নেতার

ফেনীর সোনাগাজীতে বোরকা পরে পালানোর সময় যুবলীগ নেতা মুশফিকুর রহিম মিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সফরপুর গ্রামের কইন্নাখাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মুশফিকুর রহিম মিশু ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মুন্সির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সোমবার শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে আত্মগোপন করেন। এরপর সন্ধ্যায় একদল দুর্বৃত্ত মিশুর বাড়িতে হামলা চালালে তিনি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যান। প্রাণ বাঁচাতে মিশু বোরকা পরে পালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাকে আটক করে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

সফরপুর গ্রামের আবুল বারি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর মিশুর স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনাস্থলে পুলিশ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ আসেনি।’

সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদ্বীপ রায় জানান, ‘যে স্থানে মরদেহ পাওয়া গেছে সেটি ফেনী মডেল থানার আওতাধীন। তাই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’

এ বিষয়ে জানতে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব এস এম রাহাত হাসনাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিন বাহিনীর প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ সমন্বয়ক।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এ সংকট উত্তরণে যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা জরুরি। উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যান্য সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মনোনয়ন দেওয়ার পরামর্শ দেন। রাষ্ট্রপতি সংকট উত্তরণে দেশবাসীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ জন সমন্বয়ক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা ঠিক করতে বৈঠকে বসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি কোস্টার বাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ জন সমন্বয়কসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন।

এর ঠিক এক ঘণ্টা ৩৩ মিনিটে পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা একটি গাড়ি বহর নিয়ে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। বহরে ১০টির বেশি গাড়ি ছিল।

এরপরই শুরু হয় বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে বৈঠক। বৈঠক শেষে রাত ১২টায় বঙ্গভবন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বের হয়ে আসেন।

আর তিন বাহিনীর প্রধানরা রাত ১২টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবন থেকে বের হন।